মা

হামিম কামাল




এপ্রিলের ৬ তারিখ সকাল। আমি আর মা নাশতা করার পর ফাইরুজের ঘরে এসেছি। ফাইরুজ বাইরে পড়তে যাওয়ার পর থেকে এ ঘরটা ফাঁকা। লাগোয়া বারান্দা দিয়ে প্রচুর আলো আর হাওয়া আসে।

টেবিলে চা নামিয়ে রেখে ডায়রি-কলম খুলেছি, চুমুক দিতে দিতে কিছু লিখব, হঠাৎ মায়ের সাড়া নেই কেন দেখতে পেছনে তাকিয়ে মোহিত হয়ে গেলাম।

বিছানার ওপর মা ব’সে। কোলের ওপর দুটো হাত। আমাকে পাশ কাটিয়ে জানালার দিকে চোখ। দেহের একপাশ আলো, আরেকপাশে অন্ধকার। কপালে চিন্তার রেখা, চোখে উদ্বেগ ছায়া ফেলে রেখেছে। মনে হলো, লেখা বরং পরে শুরু করি। আগে আঁকি মাকে।

প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা আর আনুষঙ্গিক নানান খবরে মা ভীষণ আক্রান্ত হন। নিজের কথা আড়াল করে আমাদের কথা ভাবেন, চট্টগ্রামে গাঁয়ের বাড়িতে থাকা তাঁর নব্বইয়োর্ধ্ব বাবার কথা ভাবেন। প্রথম তার মানসিক ভাঙন দেখি যেদিন মৃতের সংখ্যা তেরো হাজারে পৌঁছয়। সেদিন তেরো হাজার তেরো হাজার বলে মা ঝরঝর করে কেঁদেছেন।

এ ছবির আগের দিন মানে ৫ এপ্রিল মৃতের সংখ্যা ছেষট্টি হাজার ছাড়িয়েছে। এখন আর মা কাঁদেন না। তবে মাঝে মাঝে এমনি বসে থাকেন। আনমনা। বিপন্ন।