কবিতাগুচ্ছ

তানিয়া চক্রবর্তী

পার্কস্ট্রিট


দাঁড়িয়েছিলাম,
হয়ত আর কখনো দাঁড়াবো না
কফির গন্ধ মদ মেখে
উড়ে যাচ্ছিল হিসেব নিতে,
এরকম সময় প্রজাপতি এসে বসে
তারপর ফুলেল ভ্রম নিয়ে পালায় দূরদেশে---
যে আলো গায়ে ফুটেছিলে
তুমি তার দায়সারা পাহারাদার
তাই বাঘ আসে,
পার্ক্সস্ট্রিট নাম শুনে
ঢুকে যায় ব্রা এর ভেতরে
তারপর আশমানি রং নিয়ে
ফড়িং জন্ম নেয় ভোরবেলা
শরীরেরা পাশ ফিরে শোয়
মাঝখানে পড়ে থাকে কফিশপ,বই
আলোকিত পার্কস্ট্রিট,গোপন পোশাক ও বাঘছাল---



সুইচ অফ


ফোন ঢুকছিল না ফোনে
অগত্যা আমরা নর-নারী
মাংস ছেড়ে দিয়ে ধরেছি ক্ষমার খেলা
অভিমানে কত কত নীল ব্যাটারি
মরে গেল উষ্ণ অনাদরে ,
আমরা তাদের জন্মক্ষণ হারিয়ে
ঢুকলাম লাল আলোর পানশালায়
বোতলের মুখ ছিঁড়ে
হাতে হাতে তুলে নিলাম ভাঙা ভাঙা দেশ---
দুটি সাম্ভাব্য প্রেম মুখোমুখি রাজনীতি চোষে
মাংসমুলুকে চুমু দেয় ,শরীরে ডাক আসে
তারা পালিয়ে যায় ভাঙা ভাঙা দেশ নিয়ে
বোতলের মুখ মরে বেরিয়ে আসে ফেনা
দেশ ও প্রেম একজন্মে মরে যায়
মিলনের আগে---



ফিরে আসা ট্যাক্সি


যেখানে যাব না ভাবি
সেখানে নিয়তি উল বুনে রাখে
আতর মাখা কব্জি ও আদরের লোভে
হামাগুড়ি শেখে মন
ট্যাক্সি ফিরে ফিরে আসে
যুবকের পাশে বসে উড়ে যাই রহস্য ব্রিজে
ভয় করে, তবু ভয় ছুঁয়ে দেখি স্বপ্ন---
পাতার কিনারে ধার আছে জানি
তবু পাতা তো, দ্রাক্ষা ঢেলে নিই !
ঘোর আসে কাস্তে চাঁদের রাতে
ইন্দ্রিয়ে এসে বসে গ্রহ
গ্রহকে ভেংচি কাটি, জিতে যাব জানি
নায়িকার ছল শিখেছি কিছুকাল হল
গ্রহের মুখ এসে নেমে যায় জলে
জলে তে গলা-বুক ভেসে ভেসে ওঠে
নেমে গেছি মাঝপথে, বাঁচিয়েছি অজুহাত
এত এত জলের প্রলোভন
কখনো দেখাব না আর !
ডুবুরি শিল্প নিয়ে আসুক
যদি জাদু জানে, সে নেমে যাবে নিবিড় অতলে



যা যা হল না


যা হল না তা কেয়াপাতায় রেখো
যা হল তা চন্দনে মুড়ে রেখো দুপুরে
গলায় লেগেছে আঁচড়
সে আঁচড়ে তুলসী দিই রোজ
নদীতে নেমো না যেন
মৃত সমুদ্রে ভেসে থেকো রোজ---
নদীতে কান্না লুকানো থাকে
ভেসে গেলে পাথরে লাগে চামড়া
রক্তদাগ লোকে দেখে না ভালো চোখে
যা যা হল না তাকে কল্পনায় হইয়ো না আর
ছাতিমের গন্ধ নিয়ে উড়ে এসো মোহোনায়
যা হয়েছে তাকে হল না এর বিনিময়ে
কিনে নেব মালা দিয়ে
এখনো সময় অনেক
এসে বসো, বোতলের মুখ খোলো
ফেনা বেরোনোর আগে নেশাকে শুদ্ধ করি চলো---