পিতৃতর্পণ

সৌমনা দাশগুপ্ত

গড়িয়ে পড়ছে রক্ত; গাছের হৃদয় থেকে টুপটাপ
শ্বেতকণিকার দিন
#
ঊর্ধ্বমুখ ক্ষতরেখা। পিতামহ শরের শয্যায়
#
এই কি শুশ্রূষা তবে; হানছো কুঠার এ-বল্কলে
বর্মহীন পাঠিয়েছ সমরে ঝঞ্ঝায় তাকে অবিরত
এ কেমন ষড়যন্ত্র ঘুণ লাগা স্বপ্নগাছে বিদ্যুৎ-আরক
ঢেলে ঢেলে পুড়িয়েছ স্নেহের পুত্তলী তুমি তার
মারী ও হত্যার দিন। কেড়ে নাও কবচ-কুণ্ডল
#
এই মুখ ঘাতকের এই মনে চতুর শৃগাল
গর্তের ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে লকলকে জিভ
বণিকের ছলাকলা গিলে খায় ধবল মনন
#
কোথায় লুকাবে মুখ, এ এক আয়নালেখা ঘর
সারাদিন ঘুরে চলে যাঁতাকল
#
ভ্রমের বাগানে ছিল সুখপোকা
#
এই হাতে টুঁটি টিপে এহাতেই সেরেছ পিতৃতর্পণ
গূঢ় অভিনেতা তুমি; জারিয়ে তুলছ সেঁকোবিষ
ধন্য এ মনুষ্যজন্ম তুমি এক আজব স্পিসিস
#
বিচ্ছেদের দিনে ব্যাঘ্রশাবকেরও চোখে আসে জল
#
সময়ে রয়েছে কত কালশিটে দাগ
#
ডুব দাও, দেখো এই মা পাখিকে
দেখো এই পাখির বাসায় কতো ওম
#
তুমিও তো ভেসে ছিলে
কী অপার অন্ধকারে কী আদিম সেই গর্ভস্রোতে
#
কুয়াশার দিনরাত। মগজের কোষে কোষে কীট
রসদ গোছাও শুধু হীন ব্যক্তিগত
#
এসকলই রক্তপাত; ভুল করে ফেলে আসা ছাতা
ছিন্নমস্তার মতন কাঁপছে বসুধা দিনরাত
ফসল পড়ছে ঝরে অবিরাম
#
ব্যাধি ও বিভ্রমকালে বিনিময় বলে কিছু নেই
#
এসো বসো এইখানে; তাকাও গভীর এই ক্ষতে
ঢালো জল মায়াবৃক্ষে। গল্প বলো ফল ও বীজের