তার প্রেমিক প্রৌঢ়

বহতা অংশুমালী মুখোপাধ্যায়

তার প্রেমিক প্রৌঢ়, চশমার পুরু পরকলা
এক চিলতে বাগানে গাছেদের পিপাসা মেটাতে
পাইপ নিয়ে দাঁড়িয়েছেন
জলের ধোঁয়ায়
চশমা একটি আয়নাই
বাইরেটা ঢেকে গিয়ে ভিতরে আয়না এক তয়ের করেছে
আয়না আতস কাঁচ বুঝি?
সমস্ত জীবন তাতে প্রসারিত হয়ে
বিন্দুতে বিন্দুতে থেমে যাচ্ছে
ছোট বড় ভাবে

কোভিড-উনিশ এক আশীর্বাদের মতো
অলিভ রিডলি টার্টলদের কাছে
যারা লাখে লাখে সব জনহীন বালুকাবেলায়
বিয়োতে এসেছে
আকাশ সুনীল
কুকুরেরা রাত্রির জনশূন্য রাস্তা্র একেবারে মধ্যে শুয়ে থাকে
সমস্ত পৃথিবী স্তব্ধ
যানবাহনের শব্দ নেই
সিসমোগ্রাফে ধরা পরছে মৃদু ভূকম্পন
শান্ত আদর হলে ছুঁচপড়া রাত্রে যেমন
প্রেমিকার নিঃশ্বাসে ওঠাপড়া বোঝা যায়
সেরকমই উচ্চাশী এই প্রাণী কয়েদে থাকায়
স্বস্তি পৃথিবী

তবে এই প্রাণী ভালোবাসে
প্রৌঢ় পড়েন বসে
মাঝরাতে কাতরে ওঠেন
নিঃশ্বাস ভারি হয়ে এলে
মাঝখানে প্লেন নেই, না কোন জাহাজ
কেবল তরঙ্গ ঘোরে পৃথিবীর এপাশে ওপাশে
মেয়েটি আকুল হয়ে বলে
কিচ্ছু হয় নি কিচ্ছু না
তারপরে আরো বলে - যদি
যদি ফুসফুস ভরে ওঠে বেনো জলে
ভেবো সেও আমি
বুকের ভিতর ঢুকে আছি
নিশ্চিত জেনো
নোয়ার নৌকো নিয়ে
চুল ধরে তোমায় বাঁচাবো
কোভিডের ঐপারে নিয়ে ভেসে যাবো

পৃথিবীতে যারা
এতদিন শস্য বুনেছিলো
তাদের প্রমত্ত ঝড় তুলে নিয়ে যাবে?
মেয়েটির জীবনের তিন বিন্দু মা, বাবা ও তিনি
কেন্দ্রে আছে শিশু
কেন্দ্রে চুমো খায় আর তিন বৃত্তে ঘুরেফিরে আসে
একটি যুবতী
আসন্ন ঝড়ের মুখে একটি ত্রিভুজ আগলে রাখে