ফর্দ

আসমা চৌধুরী

লম্বা কাগজটায় শেষবারের মতো মিলিয়ে নিচ্ছে শিউলি বেগম, সবকিছু ঠিক আছে কি না।তিন মাসের বজারের ফর্দ তৈরি করছে।যেভাবে করোনা ছড়িয়ে যাচ্ছে তাতে সামনে আর বাজারেও যাওয়া যাবে না।রান্নার ফর্দ শেষ করে এখন ঔষধের ফর্দ তৈরি করতে বসেছে।তিন মাসের ঔষধ অন্তত ছয় প্রকারের,দামও অনেক।ভাতের চেয়ে ঔষধ বেশি।
ছেলে বলে,মা কী করছ?
---ঔষধ আর বাজারের ফর্দ করছি।
---সরকার তো বেশি জিনিস কিনতে নিষেধ করেছে।
---প্রতিদিন ঘর থেকে বের হবে কে?তাছাড়া রাস্তা ঘাটও নিরাপদ নয়।পায়ের জুতায়ও ভাইরাস চলে আসতে পারে।
---ঠিক আছে আনো।আমি কিন্তু বাজারে যেতে পারব না।
---আমি রিক্সায় করে নিয়ে আসবো।
---রিক্সা ওয়ালারা নানা জায়গায় যায় ওরা নিরাপদ নয়।
---তাহলে দোকানের ছেলেটাকে নিয়ে আনব।বেশি তো দূরে নয়,কিছু বকশিস দিলেই হব।
---মা,দোকানে কতরকম লোক আসে ওরাও নিরাপদ নয়।
---তাহলে কী আমি মাথায় করে আনব?তোর ওসব ভাবতে হবে না,অনেক বাজার করতে হবে।আমার কাছে যা আছে আরো কিছু লাগবে।তুই পাঁচহাজার টাকা দে।
---আমার কাছে অত টাকা নেই।
---বৌমার কাছ থেকে নিয়ে দে,পরে আমি দিয়ে দিব।
পাশের ঘর থেকে বিরক্তিমিশিয়ে জোরে চিৎকার করে বৌমা বলছে,কে কদিন বাঁচে ঠিক নাই,তিন মাসের ফর্দ করে বসে আছে!