“বলছি দিয়ে তাকিয়ে আছি”

অমিতাভ প্রহরাজ

“বলছি দিয়ে তাকিয়ে আছি”

{মিসটেকের একটি ননফেনোমেনন}


বাংলা ভাষায় মিসটেক সংক্রান্ত এক পূর্ণাঙ্গ স্বরচিত তদন্ত। অবগবেষণা রূপে অভিহিত করা যেতে পারে ।
প্রোজেক্ট ননফেনোমেননের অন্তর্গত দ্বিতীয় রিপোর্ট
( বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন অমিতাভ প্রহরাজ ফেসবুকে অথবা amitavapraharaj@gmail.com/amitavapraharaj@yahoo.com
amitavapraharaj@outlook.com)
এই লেখাটির সময়সূচী - ২৪ শে জুলাই ২০১৪ - ২৮ শে আগস্ট ২০১৪
( ১৪ টি বৃষ্টিদিন, ৮ টি শুষ্কদিন ও ২টি বিশেষদিন সহযোগে সম্পূর্ণ )



নুষ









লেখা মিসটেক সংখ্যার -

অজুহাতে আমার হাতের বদলে মাথা কাজ করে । ফলে সেখানে টেক্কা দেওয়া মুশকিল ।

তমালদার পত্রিকার মিসটেক সংখ্যা ঘটনাটা ভারি ভালো লেগেছিল । তমালদা যখন শুধুলে " বেবী সাবজেক্টওয়াইজ ভাগ করেছি , অমুক অমুক অমুক বিষয় আছে , তোমার ওপেন কল , কোন বিষয় নিয়ে লিখবে ঠিক করো " । আমি তো ইন্তেলেকচুয়া - দ্য -বিগিনিওয়ানা হয়ে উর্ধ্ববাহু ( মানে সাঁতলানোতেই আঁতলামো / কড়ায় ফেললেই ছ্যাঁক ছ্যাঁক ইত্যাদি ) হয়ে বললুম ( বাই দ্য ওয়ে , এটা কোন মিসটেক নয় , আমার যে কোন দিন " হালাম " এর থেকে " হালুম " বাংলার বাঘের ডাক হিসেবে বেশী পছন্দ ) তো বললুম , " তমালদা , বুঝলে আমার বেসিক্যালি এই সাবজেক্ট ডিভিসান বিষয়টাকে চরম মিসটেক এবং স্পেশালি ক্রিয়েটিভিটির পক্ষে অস্বাস্থ্যকর বলে বোধ হয় "... " অস্বাস্থ্যকর " শব্দটি প্রয়োগের মধ্য দিয়ে আমি পুরো লিওনার্দোর তুলির টানে আঁকা ধনুক ভ্রু পাঠিয়ে দিলুম ফোনের
মধ্য দিয়ে । পাঠিয়ে নিজের পিঠে নিজের থাবা বসানোর নিমেষটুকুও পাইনি , ওপার থেকে তমালকণ্ঠ , তরু বলে কথা , আছড়ে পড়লো " তুমি তাহলে ওই নিয়েই
লেখো " ..... ব্যাস , আমার খতম ......

পথ টু পথভ্রষ্ট -

নাঃ , হে বাছাধন । যারা ভাবছো খতম মানে জারিজুরি খতম বা না লেখার অজুহাত দেওয়া খতম , তারা অত্যন্ত্য ভুল , মিসটেক মিসটেক । আমার এই সরল অথচ গভীর মিসটেকের স্বীকারোক্তি দিয়ে এই লেখা শুরু করবো । আমি মোটেও লিখবো না বলে ওই কথোপকখন করিনি । আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিষয়ে আটকে থাকবোনা । এই খেলাটি আমি গত মাস আষ্টেক হলো শুরু করেছি এক মহোপলব্ধির পর । তার আগে আমি নির্দ্দিষ্ট কোন বিষয়ক লেখা লিখতাম না , ভ্যানতাড়া বাদ দিয়ে বললে যা দাঁড়ায় তা হলো আমি কোন নির্দ্দিষ্ট বিষয়ে লেখা লিখতে পারতাম না । এবং " মহাজন যে পথে করেছেন গমন " সেই পথাবলম্বনে আমার না পারাকে না - করা জাতীয় অক্রিয়াপদে রূপান্তরিত করেছিলাম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ( উঠতি লেখকদের জন্য এটি এক অমূল্য উপদেশ ) নিজেকে সেই রূপান্তরে বিশ্বস্ত করিয়েছিলাম ।
(এই 'করিয়ানো ', " জানিয়ানো ', এইসব 'ইয়ে ', ' ইয়া ' জাতীয় ক্রিয়াপদ লেখকের পক্ষে অত্যন্ত্য গুরুত্বপূর্ণ । কোনদিন কিছুই হবেনা , কিন্তু কন্টিনুয়াসলি ' হওয়াইতে ' হবে । এটি ধ্রুব অথচ পুরাণ নয় । সত্যনবসত্য )। যখন ইতিহাসেই উঠেছি তখন এই ধারণার উৎপত্তিস্থল হতে ঘুরে আসা যাক । না , এর উৎপত্তিস্থল কখনোই লাকাবস্তু কথিত " সাবজেক্ট ইজ
ডেড " নয় । আদিম লাকাবস্তু , প্রাচীন পোস্টমডার্নিটি , এইসব আমরা জেনেছি বিষয়কে অবিশ্বাসে বিশ্বস্ত হওয়ার পর । আমার দেখা কোন পণ্ডিত নেই ( আকাদেমী ব্যাতীত ) যে লাকা কথিত " দ্য সাবজেক্ট ইজ ডেড " পাঠান্তে " ভাইরে , তোর আর আমার কোন বিষয় নাই , আষয় আছে মাত্র " বলে উল্লসিত হয়ে উঠেছে । এই বিষয়হীনতা ছিল এক অনুভূতি ও উপলব্ধি যা দু - তিন প্রজন্ম বাঙালী লেখককে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল । এবং এর পেছনে ক্রিয়াশীল ছিলেন লাকার থেকেও অত্যধিক পরিমানে সৃষ্টিশীল বারীন ঘোষাল , ব্যক্তি । না তাঁর অতিচেতনার কথা নয় । তাঁর লেখা অজস্র গদ্য , কবিতার ভবিষ্যৎ , এবং সর্বোপরি এই থিসিসের প্রয়োগনৈপুণ্য হাতেকলমে । আজ এইখানে আমি ঘোষণা করছি , লাকার সাবজেক্ট ইজ ডেড আর বাঙালীর বিষয়হীনতা যারা এক বলে মনে করেন তাঁরা ভয়ঙ্কর মিসটেকার ( প্রায় আন্ডারটেকারের সমতুল )। বাঙালীর বিষয়হীনতা ছিল দ্য এন্ড বিষয়হীনতা । এর আগে পরে কিছু নেই । মূলতঃ শুরু বিষয়হীন কবিতা দিয়ে , এবং কবিতাকে বিষয়হীন করার পথে যেসব যাত্রী ছিলেন ,
( নাম করার এক বিশাল মিসটেক আছে , তাই দ্রষ্টব্য শিরোনাম " লেখা মিসটেক সংখ্যার" , সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করি ) সত্তরের কিয়দংশ , আশি দলকে দল , নব্বই-এর কিয়দংশ আর শূন্যের দলকে দলকে দলকে দল ... এদের প্রত্যেকের যাত্রা ছিল বিষয়হীনতা থেকে নানা জায়গা ... নানা রকম ট্রেক , নানারকম ছড়ি ... কখনো ধ্বনি অংশ , কখনো না - মানে বা অমানেবিকতা , কখনো বিষয়হীনতা থেকে উৎস কবিতায় ট্রেক ( এটি ক্যাপ্টেনের সবচেয়ে পছন্দের ট্রেক ছিল ), কখনো বিষয়হীনতা থেকে বিষয় ( আর্যনীল মুখো , সব্যসাচী , রাদ , সুব্রত অগাস্টিন , শুভ্র প্রমূখের পরিবিষয় ) ... এরূপ নানাবিধ যাত্রায় আমরা পূর্ণ হয়েছিলাম ... এই যে আমি পাস্ট টেন্স ইউজ করে যাচ্ছি একটানা , এটা কি মিসটেক কোন ??? এমনভাবে বলছি যেন বিষয়হীন আন্দোলন ( আন্দোলনই বটে , সবচেয়ে সুসংবদ্ধ ও সুসংহত
আন্দোলন বাংলা ভাষার ) কোন একটি মিসটেক ? ? ইয়েস ইট ওয়াজ এ মিসটেক । এ ভেরি নেসেসারি মিসটেক । এটিই একমাত্র মিল লাকা কথিত দ্য সাবজেক্ট ইজ ডেড আর বাংলার বিষয়হীনতার মধ্যে । দুটোই তার তার নিজস্ব ভুখন্ডে নিজস্ব নেসেসারি মিসটেক । লাকার সাবজেক্ট ইজ ডেড এ্যাজিট প্রপ থিয়েটারের মতো স্লোগানমেকিং সফটওয়ার এর মতো কাজ করেছিল । ফলে গড়ে উঠেছিল হাজারো স্লোগান The subject is
dead , the female is the new subject - springer , The subject is dead , the politics of loss - latino studies , The subject is dead , the statement is alive . Long live the statement . এক্কেবারে শেষোক্ত উক্তিটি লাকান বিষয়মৃত্যুর সাথে আমাদের বিষয়হীনতার
" কমপ্যারেটিভ " স্টাডির নির্বোধতার আখাম্বা পরিচয় দেয় । কিন্তু দুটিই ছিল
মিসটেক , যেখানে ভাই ভাই । আসলে এটা আমি হাতেকলমে বুঝেছি যে যেকোন থিসিস পূর্ণতা পায় মিসটেক প্রতিপন্ন হওয়াতে । এই যে আমি গত বছর চারেক ধরে আমার জীবনে ঘটিত ঘটনা , অঘটিত অঘটনা ইত্যাদি নিয়ে একটা নতুন থিসিস তৈরী করার চেষ্টা চালিয়েছিলাম “ ননফেনোমেনন ” নামে ( এটি সেই ননফেনোমেনন সিরিজের দ্বিতীয় লেখা , বস্তুত ননফেনোমেনন পরিপূর্ণ লেখব্য বস্তু নয় , ওতে অনেক কিছু মিক্স আছে । পরে আসবো ও বিষয়ে )। যে মুহূর্তে বুঝতে পেরেছি ওটি একটি ভয়ানক মিসটেক
ছিল , সেই মুহূর্তে আমি ওটির থিসিসায়ন সমাপ্তি ঘটিয়ে ডকুমেন্টেশানে নেমেছি । এ সবই ইতিহাস দেখে শেখা , যেকোন থিসিসের পূর্ণতা তার মিসটেকময়তায় । না হলে পৃথিবীর ধ্রুব সঠিক একটি “ স্থা ” হয়ে যায় , “ চল ” থাকেনা । যেকোন স্থা-বিরোধী কে ধ্রুব ধরে নিয়ে সচরাচর আমরা চলা শুরু করি । না হলে তো এক জায়গায় বসে থেকেই দিব্যি সময় কেটে যেত ।

ভ্রষ্টপথ-১

পথভ্রষ্ট হয়ে গেছি । যেখানে ছিলাম , বিষয়হীনতা । শুধুমাত্র বারীন ঘোষাল ও আমরা অর্থাৎ আনন্দবাজারীয় ভাষায় সো কলড দ্রোহাভ্যাসী দের এর পরিপূর্ণ ক্রেডিট দেওয়া যেতে পারেনা । এর মূল ক্রেডিট এর পাওনাদার থাকবেন রাজীব গান্ধী বা আরো ছুঁচোলো করে বললে পি ভি নরসিমহা রাও । নাঃ হে , আমার মাথার মিসটেক হয়নি , আর গিমিক দিতে গিয়ে অনুপাতবোধও হারায়নি । এ এক অতি সত্য কথা । পি ভি নরসিমহা রাও এর কাছে আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত তিনি আমাদের একটা যাপন দিয়ে গেছিলেন বলে । শূন্য দশক বলে একটি বস্তু নির্মাণ করে গেছিলেন বলে । এ সেই সময় যখন জয়েন্টে শেষ কয়েক বছর দু - হাজার অবধি র্যাঙ্ক বেরোয় এবং হাজারের ওপর র্যাঙ্কধারীরা আত্মহত্যা পর্যন্ত করে । এ সেই সময় যখন ক্যাম্পাস ইন্টারভিউ বলে একটি বস্তু এসেছে , তার স্বরূপ দেখিনি , শুনেছি সব কিছু দারুণ হয়ে যায় তাতে । যেমন ধারনা কম্পিউটারের সম্বন্ধে ছিল তার কয়েক দশক আগে । কম্পিউটার অঙ্গাঙ্গী তখনই , অরকূট হামলা না হলেও রিডিফবোল , ইয়াহু মেসেঞ্জারে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্যারানর্মাল গ্রুপ যে যার মহিলা যোগাড় করতে ব্যস্ত ( খুব রুড শোনাচ্ছে ? ? ফ্যাক্ট , সরি ) । এবং , এবং এবং এর খরচ ঘন্টায় ষাট টাকা । নিজস্ব কম্পিউটার হিন্দি সিনেমাতেও দেখা যায়না । এখানেই পি ভি নরসিমহা রাও এর মিসটেক থুড়ি ক্যালি
ছিল । পুরো দু জেনারেশন একটা নন - লজিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে গেছিল । যেখানে আদর্শবাদ মানে নিজস্বতাকে না হারানো এবং ভোগ নামক ভেগ কনসেপ্টটির কোন অবস্থানই নেই । ফলে প্র - আধুনিক মনস্ক একটা জেনারেশান , টু বি ভেরি প্রিসাইজ ক্রিয়েটিভ জেনারেশান , তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কর্মযোগ্যতার মধ্যে সেতুস্থাপনের বিন্দুমাত্র চেষ্টা না করেই তৈরী হয়েছিল … শিক্ষাগত যোগ্যতা পর্যবসিত হয়েছিল একটা পড়ে পাওয়া ( টু বি ভেরি প্রিসাইজ , বাবায় দেওয়া ) বস্তু অত্যন্ত্য গুরুত্বহীন… কর্মযোগ্যতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় , কর্মহীন আদর্শবাদ নামক ভেগনেস আর প্রলুব্ধ করতো
না , অর্থমূল্য না বুঝলেও পিভি নরসিমহা রাও আমাদের অর্থসঙ্কটের মূল্য হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে ছেড়েছিলেন … আর নিজস্বতা বা আদর্শ যা আবশ্যিক । একটি অপ্রয়োজন যা ঘাড়ে বা পরিচয়ে চেপেছে / চাপাতে হয় , একটি প্রয়োজন যা না হলে লেখাও যায় না , সঙ্গীও জোটেনা , আর একটি আবশ্যিক … এই তিনের জাগলারি খেলতে খেলতে আসা প্রজন্ম বিষয় আষয়ে বিশ্বাস করবে এটা কোন ভূত ভাবে ? ? ? ? হ্যাঁ , বারীন ঘোষাল এটা ভাবতে পেরেছিলেন কুড়ি বছর আগে … জলপাইগুড়ি ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজ চিরকাল ভালো ইঞ্জিনীয়ারের বদলে ভালো পোঁদপাকা আর ভালো দূরদ্রষ্টা সাপ্লাই করে গেছে বাংলায় , তার এটুকু দোষ নিশ্চয়ই অভিনন্দনার্হ । বারীন ঘোষালের ভাবনা আর সময়ের কারুকাজ মিলে বিষয়হীনতা পার্ফেক্ট মিসটেক রূপে মূর্ত হলো শূন্য দশকে । অর্থাৎ থিসিসটির নন মিসটেক পার্ট চলেছিল সত্তর শেষ , আশির পুরো আর নব্বই এর কিছুটা জুড়ে । আর ক্লাইম্যাক্স বা মিসটেক পার্ট এ এসেছিলাম আমরা । বিষয়হীনতার চরম উল্লাসটিতে আমরা লয়ে - ল হয়ে ছিলাম এতটাই যে এটিরও যে মিসটেকপর্ব চালু হয়েছে তা চক্ষুলব্ধি করতে ভুলে গেছিলাম । মিসটেক , খুব স্বাভাবিক মিসটেক । পঞ্চাশের শেষেই সুররিয়ালের মিসটেকপর্ব শুরু হয়ে গেছিল , কিন্তু তাতে রয়ে - র হয়ে থাকা লোকজন ঝাঁকে ঝাঁকে সত্তর অবধি দেখা গেছে ।





ভ্রষ্টপথ-২ / প্রয়োজনীয় একটু অতিরিক্ত কথা, একটি মিসটেক সংশোধনার্থে -

প্রসঙ্গতঃ নব্বইতে সুররিয়াল খুঁজে পেয়েছিলেন যারা , সেটা তাদের খোঁজার মিসটেক
ছিল । মাথায় রাখতে হতো তিনটি গুরুতর আততায়ী হানা , তিনটি সাজানো ইঁটের
মতো , তাতে পা দিয়ে নব্বই এসেছিল । সঞ্জয় , ইন্দিরা , রাজীব । এবং মহান সহকর্মী সহমর্মী হিসেবে শ্রীরাম ও বাবর এমনকি হজরত মহম্মদ অবধি ছিলেন
( হজরতবাল )!! যাদের কার্যকলাপ দেখে যাওয়া ছাড়া আর কিছু করা যায়না । চিরাচরিত আদর্শবাদের চাকনাচুরন , এই দেখে যাওয়ার নিষ্ফলতা … তার সাথে নতুন আদর্শবাদ হিসেবে স্বকীয়তা ও নিজস্বতার জোরতোড় হাঁকডাক এর প্রতি ছোঁব - কি-ছোঁবনা - বাদ খুবই স্বাভাবিক । কারন , আলটিমেট হলো স্বকীয়তা ও নিজস্বতা , এই হুঙ্কার এর গায়ে চূড়ান্ত স্বার্থপরতার ও স্বকেন্দ্রিক মানসিকতার আঁশটে গন্ধটাতো রাতারাতি অস্বীকার করা খুবই কঠিন । সহজ নয় এর সুযোগ্য নির্লজ্জ হয়ে ওঠা রাতারাতি । এই আলটিমেটামে পা রাখা মানে সঙ্ঘসাহিত্যের মৃত্যুরসিদ কেটে ফেলা । এটা কি এতই দুধভাত ? জয়েন্ট ফ্যামিলি কি দুড়ুম করে ভেঙ্গে ফেলা যায় ?? এই আঙ্গিক থেকে দেখলে নব্বইতে একটা অসাধারন ডিসকোর্স দেখতে পাই । মরার আগে শেষবারের মতো তেড়েফুড়ে বেঁচে ওঠার লক্ষণ দেখিয়েছিল সংঘসাহিত্য নব্বইতে । তুঙ্গে উঠেছিল ক্রমশঃ মিলিয়ে যাবে অতি পরম যে বস্তুটি , যাপন । সংঘযাপন । বিজল্প , কুরুক্ষেত্র , এরকা, প্রবীরদার শ্যামলছায়া বাড়ি , বইমেলায় ঢাক ঢোল নিয়ে গান , কতো আরো কতো … এগুলিকে অত ছোট চোখে দেখলে এক বিশাল মিসটেক হয়ে যাবে যে । কোথায় কোরাস গান করা কোন কবির দল এখন ? সময়ের নিয়মে বিলীয়মান হয়ে গেছে । কোথায় এখন যাপন ? ? কোনটা অনুপম মুখোপাধ্যায়ের যাপন ? ? কোনটা অমিতাভ প্রহরাজের
যাপন ? ? কোনটা দেবাঞ্জন দাসের যাপন ? ? কোনটা অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের
যাপন ? ? কোনটা ইন্দ্রনীল ঘোষের যাপন ? ? কোনটা অরূপরতনের যাপন ? ? একটিও যাপন নেই … যা আছে তা স্বতন্ত্র এবং স্বকীয় কিছু লাইফস্টাইল … টু বি ভেরি প্রিসাইজ এ্যাটিটিউড টুওয়ার্ডস লাইফ । যে কটি সংঘসাহিত্য পত্রিকা এখনো লালবাতির আগে জ্বলছে , তার প্রত্যেকটিই শুরুয়াদি নব্বইতে । এই লালবাতি জ্বলা সংঘসাহিত্য বা ঢিঁচক্যাঁউ হয়ে যাওয়া যাপন মোটেই লজ্জার কিছু নয় । এটা সময়ের সাথে আসা নেসেসারি ইভিল । এ অমোঘ । সরি বস সত্তর , আশি ও শূন্য , তোমাদের যাপন অনেক পলিটিক্যালি কারেক্ট , ডেমোক্র্যাটিক্যালি পারফেক্ট । কিন্তু এতোলবেতোল , আলতামাতাল যাপন যদি পঞ্চাশ ষাটের পর কেউ তুঙ্গ দেখিয়ে থাকে তা হচ্ছে নব্বই । ভয়ানক মিসটেক ছিল জয় গোস্বামী ও তার প্রভাবকে সরলীকৃত করে দেওয়া ধান্দাবাজি ও প্রতিষ্ঠালোভ এর সাথে , ও সেইভাবে দেখা । আমরাও দেখেছিলাম । একইভাবে । পরে স্বচিন্তা গজালে একটা প্রশ্ন মাথায় এসেছে , তা হলো আমরা কোন মহানপ্রাণ সাধুপুরুষ যে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ধান্দাবাদ ও প্রতিষ্ঠালোভ নির্মূল হয়ে মুছে ফেললাম । সমাজতাত্ত্বিকের দৃষ্টিতে এটা তো মিসটেক । পয়েন্ট রঙ টেকেন । তাহলে জয়বাদ
( মোটেও ব্যাঙার্থে নয় ) ওই প্রতিষ্ঠান লোভ বা ধান্দাবাজ এর ফসল নয় । আসলে সেটি ছিল শেষবারের মতো গুরু শিষ্য পরম্পরা , যা বিলীন হয়ে যাবে আর ক বছর বাদে আর গজিয়ে উঠবে গন্ডা গন্ডা আমার মতো স্বরচিত মানুষ অর্থাৎ নুষ , সেই গুরু শিষ্য পরম্পরাকে শেষবারের মতো আঁকড়ে ধরা । ওই যে বলেছিলাম প্রথমে , স্বকীয়তার আলটিমেটাম ও তার সুযোগ্য নির্লজ্জ হয়ে ওঠা । আমাদের ওই সুযোগ্য নির্লজ্জ হয়ে ওঠার অবসরটুকু দিয়েছিল নব্বই এক অমানুষিক স্যাক্রিফাইস করে । নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখার লোভ সংঘের স্বার্থে ছেড়ে দেওয়া , স্যাক্রিফাইস নয় ?? আজ ওহে দ্য গ্রেটেস্ট ইনভেনটর ফেসবুক , যাপনের বদলে এক কল্পযাপন , কল্পপাগলামি , কল্পকিলার , কল্পনেশেল সাপ্লায়ার , এখনো খাঁটি তুঙ্গ যাপনের গল্প চাইতে গেলে নব্বই ভরোসা । কবির সাথে তুমুল পাঠক চাইতে গেলে নব্বই ভরোসা । নব্বই পাঠক না থাকলে শূণ্য কবি বড়ো হতো কি শুধু কমপ্ল্যান খেয়ে ?? আমি নুষ এই স্থানে নব্বই সম্পর্কিত কিছু চালু মিসটেকধারণা সংশোধনের চেষ্টা করলাম । বলা ভালো নতুন মিসটেকউন্মুখ করে রাখলাম ।










ভ্রষ্টপথ টু পথ-

পথ টু পথভ্রষ্ট হওয়ার সময় যেখানে ছিলাম সেখানে পৌঁছোনো দরকার । বলছিলাম আমার মিসটেকের কথা । তমালদাকে বলা “ আমি বিষয়ভাগ ব্যাপারটাকেই মিসটেক মনে
করি … ” ইত্যাদি। এই উক্তির সাহায্যে আমি আছোলা নামক বস্তু অনুচ্চারিত অঙ্গে নিয়ে নিয়েছিলাম । সেইমুহূর্তে বুঝিনি । বলছিলাম না একটা সময় অবধি বাই সোল এতটাই বিষয়হীনতা কাজ করতো যে নির্দ্দিষ্ট বিষয়ে লেখার ক্ষমতাই জন্মায়নি । আমাদের নিজের পত্রিকার বিষয়ভিত্তিক একটি সংখ্যাতেও আমার লেখা নেই ( বৈখরীভাষ্য ) । কারন সিম্পল , লিখতে পারিনি যার প্রকাশ্য ফর্ম ছিল “ লিখিনি ” । লিখি তো প্রতিদিন নিয়ম করে মিনিমাম আটঘন্টা ( গুলতাপ্পি নয় ) । ভার্সেটাইল নামক গুলবাগিচা মেইনটেইন করতে করতে ২০০৫ থেকে ২০১১ অবধি ছ বছরের ছেয়শো করোড় ছানা পোনা নিয়ে এক হেস্তনেস্ত করলাম বিষয়হীনতার “ অন্যব্যাপারে ” । এমন বই যা যেখান থেকে খুশী খুলে পড়তে পারো । ব্যাস তারপর ?? তারপর মর্মে সেঁধুলো বিষয়হীনতার মিস্টেক । বুঝতে পারলুম বিষয়হীনতার প্রয়োজন ফুরিয়েছে । তার মানে এই নয় যে বিষয়ের মহা প্রয়োজন পড়ে গেছে । “ নির্দ্দিষ্ট বিষয় ” কে আমি আমার অভ্যেসের রাস্তা দিয়ে এ্যাপ্রোচ করতে শুরু করলুম । একটা নতুন প্রক্রিয়া বানালাম নির্দ্দিষ্ট বিষয়ে লেখার । কারণ প্রক্রিয়া ' স্থা ' নয় , চলন্ত । ওটিই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ , স্থির এন্ডপ্রোডাক্টটি নয় । কিন্তু একইসাথে চাহনেওয়ালার সাথে অসততামো করবো না । চাইলে ফুটবল , দিলুম চটকল বা বল - রে - বল নিয়ে বস্তু আর সাহায্যস্বার্থে হাত বাড়িয়ে দিলুম আদিম ল অফ এ্যাবস্ট্রাকশান অফ ক্রিয়েটিভিটির দিকে , ইটি হবেক লাই । ফুটবল তো ফুটবল , ভূত তো ভূত , মিসটেক তো মিসটেক । কিন্তু এতদিনের চর্চিত বিষয়হীনতার অভ্যেস কে সম্পূর্ণ দুচ্ছাই করে দেওয়া তো পারম্পরিক বোকামি । এখানে আমাকে সাহায্য করলো রিসার্চ ওরফে তথ্য ওরফে ইন্টারনেট । এতদিনে টাইপ করা ছাড়া ইন্টারনেটকে সক্রিয় ভূমিকায় আনতে পারলাম লেখন প্রক্রিয়ায় । প্রক্রিয়াটি বলা উচিত । আমি ব্যাবহার করলাম কগনিশান আর মাইন্ড ম্যাপিং । বুঝিয়ে বলি । আমাদের স্মৃতি দু প্রকার , পিরিওডিক আর সেমান্টিক । পিরিওডিক মেমারি তে আমরা স্থানীয় সংবাদের মতো স্থানীয় ঘটনা বা কার্যকারন মনে রাখি । আমি এখন ইলিশ মাছ খাচ্ছি মানে আমাকে কাঁটা বাছতে হবে , এই ইন্সটিংটিভ রিয়্যাকশান আসে পিরিওডিক মেমারি । কিন্তু ইলিশখেকো যখন কমলকুমারের মতো পদ্মার ইলিশ আর গঙ্গার ইলিশ স্বাদের পার্থক্য করতে গিয়ে বলে “ দেখতে হবে বাবু গঙ্গার ইলিশ কতশো বছর ধরে কোম্পানীর স্টীমারের তেল খাচ্ছে , এর স্বাদ তুমি পদ্মার ইলিশে কোথায় পাবে ?? ” তখন যে স্মৃতি কাজ করে তা হচ্ছে সেমান্টিক । সেমান্টিক বস্তুটি কি ?? তা হলে একটি গল্প বলতে হয় । এক বিখ্যাত মিস্টেকের গল্প …

ভ্রষ্টপথ টু পথ / বিখ্যাত মিসটেক-

১৯৬০ এর দশক । কম্পিউটার তখন বেশ কিছু পারে । শব্দ ভুল ঠিক , টেন্স ভুল ঠিক, এক ভাষার শব্দের অন্য ভাষার প্রতিশব্দ , এরকম বহু কিছু । এমতাবস্থায় আমেরিকান বিজ্ঞানী কুইলিয়ানের (Quillian) এর শখ হল এমন একটি কম্পিউটার তৈরী করবেন যা প্রাথমিক পড়াশুনোর কাজ , মানে রোজকার পেপার পড়া , টু ডু
লিস্ট , আবহাওয়া সংক্রান্ত প্রতিবেদন , ক্যাটালগ ইত্যাদি পড়াশোনা করা ইত্যাদি । খুবই সাধু সংকল্প , তাতে বিশ্বচরাচর নিয়ে মাথা ঘামানোর জন্য বিজ্ঞানীর কাছে উদবৃত্ত সময় থাকে । তো সেই যন্ত্র তৈরীর পথে একটি রাশিয়ান বাক্যের পাঠ বেরোল the spirit was willing but the flesh was weak… ঠান্ডা যুদ্ধের ডিসেম্বর , সেখানে এ হেন নরখাদক বাক্য সোভিয়েত সংবাদপত্রের রিপোর্ট থেকে চোখ কপালে তোলার মতো … বিস্তারনে দেখা গেল কম্পিউটার মহোদয়ের কোন ভুল হয়নি , অত্যন্ত ভালো ছাত্রের মতো উনি রাশিয়ান বাক্য the vodka was fine but the meat was tasteless এর অনুবাদ করেছেন । ওই “ দশরথের পুত্র রাম গোদাবরীর জলের ধারে ” “ ten chariots ’ son rum with water Godavari ’ s ” কেস … কেঁচো খুঁড়তে কেউটের মতো এই তুচ্ছ ত্রুটি থেকে বেরিয়ে এল ভবিষ্যতের এক সুবিশাল সাবজেক্ট এ আই বা আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স । বোঝা গেল প্রাথমিক বুদ্ধিবৃত্তির ব্যবহার সোজা কেস নয় হে চাঁদু । তার মধ্যে বহু কিছু আছে , প্রবলেম সলভিং থেকে ল্যাংগুয়েজ প্রোসেসিং । সেখানে কম্পু মেমরি কে মানব মেমরির কাজ করাতে গেলে আগে মানব মেমারি স্টেশানে ট্রেণ কি প্রকার আসে ও কিরূপ থামা প্রদর্শণ করে তা বিস্তার করতে হবে । কুইলিয়ান ও কলিন্স মিলে ( 1969 ) Hierarchical network model এবং Smith , Shoben , and Rip এর ( 1974 ) Semantic memary -Feature comparison model এই দুই বস্তু তৈরী করেছিলেন ।
( এইসব নাম ছোঁড়াছুঁড়ি স্তব্ধ হোক । আমি যেভাবে বিষয়টি আবিষ্কার করেছিলাম সেটি বলি । কুইলিয়ান সাহেবের আগে নয় , কুইলিয়ান , স্মিথ , শবেন , রিপ ইত্যাদি জানবার আগে । যা ঠাহর করে বুঝে বার করেছিলুম তা কুইলিয়ান সাহেবদের ফান্ডার থেকে মোটেও দূরে নয় , বরং সমাপতন বলা যায় । কিন্তু হা ভাগ্য , এক কুইলিয়ান সাহেবের গবেষণার ৯ বছর পরে আমি জন্মেছি । দুই ১৯৬৯ বা ১৯৭৪ সালে কুইলিয়ান সাহেবদের কম্পু আমি পেলুম ২০০০ সালে । ভাবটা যেন , নইলে আম্মো … )

আমার ভ্রষ্টপথ -

আমি শুরু করেছিলুম মিসটেক দিয়ে । আমি একটি বিষয়হীন ভুল সজ্ঞানে করার চেষ্টা করছিলুম । বিষয়হীনতার প্র্যাকটিস থেকে উদ্ভুত গদ্য যদি বিষয়হীন হতে পারে , কবিতা যদি বিষয়হীন হতে পারে তবে ভুল ও নিশ্চয় বিষয়হীন হবে । সেটি কেমন ?? সেটি নিশ্চয় নিরাকার হবেনা । ফলে আমি প্রোজেক্ট ননফেনমেননে নানারকম ভুল করতে চেষ্টা করতে লাগলাম ( সেসব গপ্পো ননফেনোমেননের ব্লগে হবে ) , তার সাথে চিরাচরিত যত ভুল আছে তার সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ ইন্টারনেটের মাধ্যমে । শব্দগত ভুল , অর্থগত ভুল , মিথ , এথিক্যাল ভুল , জীবনগত ভুল , বাক্যগত ভুল , সিদ্ধান্তগত ভুল , চরিত্রগত ভুল । তার টোটাল তালিকা এবং সমান্তরাল আমার সজ্ঞানে কৃত ভুল । সেটার এ্যানালিসিস দিয়ে দেখলাম
ক) আমি বিশ্ব সম্পর্কে যা জ্ঞান আহরণ করছি তা বোদা দু ভাগে ভাগ করে স্মৃতির প্রকোষ্ঠে রাখছি । এক , কনসেপচুয়াল প্রকোষ্ঠ আর দুই , শব্দগত বা লেক্সিকাল প্রকোষ্ঠ
খ) বিশ্বজ্ঞানের সাথে আমার ডীলিংস হচ্ছে কনসেপচুয়াল প্রকোষ্ঠ দ্বারা , সেখানে শব্দের প্রয়োজন নেই । নিরাকার কনসেপ্ট যথেষ্ট । কি করে এক ও শূণ্যের বাইনারি মাল্টিনারীপ্রদায়ক চ্যাটরুম হয়ে যেতে পারে তা বোঝার জন্য আমার শব্দের প্রয়োজন
নেই । আমি কনসেপচুয়াল ইউনিট দিয়ে বুঝে নেব । বরং শব্দ দিয়ে করতে গেলে বিস্তর অসুবিধে । এবার বিশ্বজ্ঞানের সাথে আমার ডীলিংস যখন আমি সঙ্গিনী বা গিনি যাকে হোক বোঝাতে যাবো , আমি শিফ্ট করে যাই শব্দগত প্রকোষ্ঠে । লেক্সিকনের সাহায্য নি ।

এখান থেকে বেরোল শব্দ আর কনসেপ্টের এক অভূতপূর্ব সম্পর্ক , যা অর্থহীনতাকে এক সহি ম্যায়না দিল । আমার হাতে বেসিক ইউনিট থাকছে শব্দ , কনসেপ্ট আর সম্পর্ক , এই তিন এর খেল । এর মধ্যে বিশ্বচরাচর এঁটে যায় । ছবি দিয়ে বোঝাচ্ছি ।




আরেকটু বোঝাই , ধরা যাক আমি পঞ্চভূত মানে ক্ষিতি , অপ , তেজ , মর্যুৎ , ব্যোম থেকে প্লেটো তে আসবো । কারন সবকিছু যদি পঞ্চভূতে তৈরী তো প্লেটো ও পঞ্চভূতে তৈরী । কিভাবে আসতে পারি দেখা যাক





এখানে সাইডের গুলো পরে লেখা । জাস্ট ধাপগুলিকে সায়েন্টিফিক নাম যে লজিকে হয় বায়োলজিতে , একইভাবে লিখে যাওয়া জাস্ট বায়োলজিক্যাল সিঁড়িগুলো । প্রসঙ্গতঃ বলি , প্রথমের ছবিটি কুইলিয়ান সাহেবের মডেলের ওপর দমাস করে পড়ে আর দ্বিতীয় ছবিটি স্মিথ , শবেন , রিপের মডেলে । খুব ভুল পথে হাঁটিনি তাহলে । এখনো গন্ডগোল লাগলে দুটো মাইন্ডম্যাপ দেখাই … একটি নির্দ্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘটনাকে কি করে বিষয়হীনতার প্র্যাক্টিস দিয়ে এ্যাড্রেস করা যায় … আমি করলাম বর্ত্তমান গাজা পরিস্থিতি …





ইমেজটি ডাউনলোড করে নিয়ে যত খুশী বড় করে দেখুন … দেখুন কিভাবে কনসেপ্ট থেকে শব্দ সম্পর্ক নিজেই খুঁজে নিচ্ছে … আমি চুড়ান্ত বিষয়হীন অভ্যেস থেকে গাজা নিয়ে একটি সার্কাস্টিক নিদ্দিষ্ট বিষয় রচনার খসড়া তৈরী করলাম । বলেছিলাম না, হা ভাগ্য, কুইলিয়ান সাহেবের মডেলে ক্লিন্টন যুগে একটি সমরূপ ছক কষা হয়েছিল , সার্বিয়া , মিলোসেভি সমস্যা নিয়ে … তুলে দিলাম নীচে …


এই নিয়ে বেশী কচকচি আর করবো না । আমার প্রোজেক্ট ননফেনোমেনন এর উৎস এক ধরনের মিসটেক থেকেই । কমপিউটারে টাইপ করে লিখতে গেলে দু ধরণের মিসটেক হয় ভাষাগত ভাবে । এক) ওয়ার্ড মিসটেক ( উদাহরণ- “ আমি জল বাখো ” আমি
“ খাবো ” শব্দটিকে ভুল টাইপ করেছি “ বাখো ”) দুই) নন - ওয়ার্ড মিসটেক
( “ আমি বারে গিয়েছিলে ” … এখানে “ গিয়েছিলাম ” বা “ গিয়েছিলুম ” বা
“ গিয়েছিলেম ” অথবা শুধু “ গিয়েছিল ” লিখতে গিয়ে লিখেছি “ গিয়েছিলে ”… যা একটি সঠিক পরিপূর্ণ শব্দ। ফলে এটি নন ওয়ার্ড মিসটেক যার সঠিকের সম্ভাবনা অনন্ত। কিন্তু “ বাখো ” তে সঠিকের সম্ভাবনা একটাই “ খাবো ” ) …… কি সরল ভুলের থেকে কত বড় কনসেপ্ট বেরিয়ে এলো না ???? মিসটেক বিগ ব্যাং এর চেয়েও গভীর ও নিহিত অসীম । এই মিসটেকগুলো থেকে এমন কনসেপ্ট হাতে লেখা যুগে বেরোনো অসম্ভব ছিল । এটা টাইপিং এরর এর যুগেই বেরোনো সম্ভব । যারা বলেন এখনো হাতে লেখা আর কম্পিউটারে লেখা একই জিনিস , তারা নিজের মিসটেকের গভীরতাটা একবার লক্ষ্য করুন । ২০১১ থেকে ২০১৪ আমি কাজ করে গেছি সজ্ঞান ভুল
নিয়ে । আর অজ্ঞান ভুল অর্থাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির সমস্ত ডেটা কালেকশান করেছি তার সাপেক্ষে । মানবিক ভুল এর সাথে যান্ত্রিক ভুল বা যান্ত্রিক প্রকাশের সম্পর্ক নিয়ে রিসার্চ প্রোজেক্ট ননফেনোমেনন খতম হয়েছে মাস ছয়েক । এখন তৈরী হচ্ছে প্রোজেক্ট এর প্রকাশ , যার একটি ক্ষুদ্র অংশ এই অবোধগড়ন প্রবন্ধ । সাধে আমি খুশী হয়েছিলাম তমালদা যখন মিসটেক সংখ্যা করছে শুনেছিলাম । যাক , প্রোজেক্ট ননফেনোমেনন নিয়ে বাকি বিস্তার তার ওয়েবসাইটে হবে www.nonphenomenon.wordpress.com এখন ফিরে আসি মিসটেকে ।

লাস্ট একটা এই সময়ের সংকট নিয়ে খুব জটিল নয় একটি সেমান্টিক নেটওয়ার্ক । দেখতে ভয়ের লাগে , আসলে শব্দ , কনসেপ্ট আর সম্পর্ক ...


আমার মিসটেক, ও মাই মিসটেক -
বাঁশ কেন খেয়েছিলাম বলি । যে মুহূর্তে তমালদাকে বলেছি আমি বিষয়ভাগের বিষয়টিকেই চরম মিসটেক মনে করি , সেই মুহূর্তে আমি নিজেকে একটি নির্দ্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যেও আরো নির্দ্দিষ্ট বিষয়ে আবদ্ধ করে দিয়েছিলুম । এই হয় , ভাবলুম খাটাচ্ছি মাথা আর অজান্তে তুলে ফেললুম কড়ে আঙুলে গোবর্ধন । ফলে প্রোজেক্ট মিসটেক গ্রহণ করার সময় থেকে শুরু করে বারবার গোঁত্তা খাচ্ছি আমার বিষয়হীনতার অভ্যেস আর নির্দ্দিষ্ট বিষয়ের সুনির্দ্দিষ্ট বিষয় নিয়ে লেখা দেবার সততামো দ্বারা । যাক , বিষয়ভাগ কেন মিসটেক তা নিয়ে এককালে ভার্ষাস নামে বিস্তর লেখা লিখেছিলাম । ওগুলি সব পাওয়া যাবে www.baby.postach.io আর www.anyomanosko.wordpress.com এ । সে বিষয়ে একটি অংশ তুলে দেওয়াই এখানে যথেষ্ট -

" ......... আমরা যখন কোনো শিক্ষিত বাঙালীর কাছে বাংলাভাষা নিয়ে কথা বলতে যাই , প্রায়শই তাঁরা বলেন , ‘ ও সব তো ভাষাতত্ত্বের ব্যাপার , ভাষাতাত্ত্বিকরা বলতে পারবেন । আমি ভাষার বিষয়ে কী জানি । ’ কেননা , তিনি রসায়নের কিংবা অঙ্কের বা ভূগোলের অধ্যাপক কিংবা ভাষাতত্ত্ব বাদে অন্য কোনো বিষয়ে ব্যাচিলর বা মাস্টার ডিগ্রি করেছেন । আসলে মহামূর্খদের পরিচালিত আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা মানুষের জ্ঞানের দুনিয়াটাকে কেবল হাজার ভাগে ভাগই করে রাখেনি , এক একজন মানুষকে এক একটি বিষয়ে ‘ শিক্ষিত ’ বানিয়ে ৯৯৯টি বিষয়ে মূর্খ বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছে । তার মানে , একালে উচ্চশিক্ষিত কথাটির মানেই হল , যিনি ৯৯৯টি বিষয়ে মূর্খ । তবে সেখানেই মহামূর্খদের দুষ্কর্মটি থেমে থাকলেও কথা ছিল ; তারা তাদের শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে সমস্ত শিক্ষিত বাঙালীর মনের ঠ্যাংটাই ভেঙে ছেড়ে দেয় । অ্যাকাডেমি শিক্ষা দ্বারা খর্ব -মনুষ্যত্ববান এই মানসিক খঞ্জরা আর বিশ্বাসই করতে পারে না যে , তাদের পক্ষে অন্যান্য বিষয়েও জানা সম্ভব । ফলে , একালের শিক্ষিত বাঙালী নিজেই ঘোষণা করে যে , সে কেবল একটি বিষয়ে জানে এবং বাকি ৯৯৯ টি বিষয়ে মূর্খ এবং একথা বলতে তার লজ্জাও করে না , দুঃখও হয় না । অথচ আকাট - মূর্খ ( আনকাট ডায়মণ্ড ) হলে এই সহজ কথাটি সে সহজেই বুঝে নিতে পারত যে , তার সব জ্ঞানই কমবেশি
লাগে – বাজারে গেলে অর্থনীতি লাগে , পাড়ায় ঝামেলা হলে রাজনীতি লাগে , ছেলের অসুখ করলে চিকিৎসাবিদ্যা লাগে … সবই লাগে এবং সে সবের জন্য ছুটোছুটি করে তাকে সব প্রয়োজনীয় জ্ঞানই কমবেশি অর্জন করতে হয় , করতে হয়েছে ; নইলে তার জীবনযাত্রাই আটকে যেত । … মহামূর্খদের শিক্ষাব্যবস্থা কিন্তু নিদান দিয়ে রেখেছে , ভূগোল পড়লে বিজ্ঞান পড়তে পারবেন না , ইতিহাস পড়লে অঙ্ক পড়তে পারবেন
না … ইত্যাদি ইত্যাদি । " - কলিম খান

এখানে আমাকৃত মিস্টেক থেকে কি করে রক্ষা পেলাম বলি ।
এর দুটো উপায় ছিল । এক্সটেন্ডেড মিসটেক সম্পর্কীয় রিসার্চের পর ।
( যার মধ্যে কুমুদিনী বসুর লেখা ১৯২২ সালের “ বোঝবার ভুল ” বইটি এবং ১৮৮২ সালে নিত্যনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের লেখা “ ভুল ” বইটি আছে … পড়তে চাইলে লিংক দিয়ে দিচ্ছি , মজাদার অভিজ্ঞতা হবে )
প্রথম , ও মিস্টেকের মাইন্ডম্যাপের মতো আমি একটি তথ্য বার করলাম ইংরেজি mistake শব্দটি নিয়ে যা ভুল হবার যো নেই কোনমতে , অমোঘ নির্ভূল । সেটি হল, mistake শব্দটিতে ৭ টি অক্ষর !!!
সুতরাং সাতটি অক্ষরের একটি ফ্যামিলিতে আমি মিস্টেককে ফেললাম এবং আর একটি শব্দ বার করলাম একই ফ্যামিলির অর্থাৎ Kolkata.
এবার kolkata র সাতটি অক্ষর কি ধ্রুব সত্য ?? এর পেছনে কি মিস্টেক নেই ??? খুঁজতে বেরিয়ে পড়লো খাজানা ……
দুই মহা পণ্ডিতের কোন্দল , একে অপরকে “ মিসটেকার কোথাকার ” বলে খিস্তি খিস্তব্য এবং সর্বশেষ একটি সজ্ঞান মিস্টেকের ফসল আমাদের সাত অক্ষরের কলকাতা বা Kalikata ( calcutta পরবর্তী বানান ) । কলকাতা নামের ইতিহাস নিয়ে বিস্তর গল্প ও কোন্দল আছে । মনোহর গল্পগুলি এইরূপ
১) এক ব্রিটিশ ঘোড়সওয়ার এক নেটিভ যে ঘাস কেটে আনছিল গোরুর জন্য , তাকে জিজ্ঞেস করে এই স্থানের নাম । নেটিভ ভাবে সাহেব বুঝি জিজ্ঞেস করছে ঘাসগুলো কবে কাটা , আর আজকের ঘাস তাজা তাজা কাটলে বিলেতে বোধহয় শাস্তি দেয় , তাই বলে “ কাল কাটা সাহেব ”। সেই থেকে নাম হয় ক্যালকাটা ।
২) বর্গী আক্রমণ করতে পারে ভেবে নগরবাসী দ্য গ্রেট মারাঠা ডিচ নামে একটি পরিখা কাটতে শুরু করে জনসাধারণ মিলে , যেটি বুজিয়ে তার ওপর দিয়ে রাজা দীনেন্দ্র স্ট্রীট গিয়েছে । সেই খাল কাটা থেকে ক্যালকাটা
৩) কালী ক্ষেত্র থেকে ক্যালকাটা ( এটি বেশ ওজনদার ছিল )
৪) কলি চুনের ভাঁটি ছিল , ভাঁটিকে বলে কাতা তাই কলি চুনের কাতা থেকে কলিকাতা ( এটি সুকুমার সেন মশায়ের বেশ মনে ধরেছিল কিছুদিন )

কাহিনী ছেড়ে এবার রিসার্চে আসি । খ্রীস্টীয় ষোল শতাব্দীতে কবিরাম এর লেখা
“ দিগ্বিজয় প্রকাশ ” এ “ কিলকিলা ” দেশের কথা বলা হয়েছিল ; কিলকিলা শব্দের অর্থ চ্যাপ্টা অঞ্চল , ওটি কলকাতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ধরা হয় । এটি বেশ চালু
ছিল , এখনো উইকিতে এর দেখা পাবেন , কিন্তু রাধারমণ বাবু , সুকুমার সেন বাবু এবং তারাপদ সাঁতরা বাবু ওটিকে উড়িয়ে দিয়েছেন । তারপর মাইকেলের বন্ধু গৌরহরি বসাক ক্যালকাটা রিভিউ তে কলকাতার নামকরণ নিয়ে একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধে
“ কোল কি হাতা ” বা “ কোলি কি হাতা ” মানে কোল জাতীয় উপজাতিদের বাসস্থান থেকে কলকাতা শব্দের উৎপত্তি বলে মতামত দেন । স্বাধীনতা অবধি এটাই মোটামুটি গৃহীত বা চালু ছিল , প্রাণকৃষ্ণ দত্ত এবং হরিসাধন মুখোপাধ্যায় এতেই সম্মতি দেন । এবং উত্তর কলকাতার বনেদিরা যারা নিজেদের কোল দের উত্তরপুরুষ ভাবতে মোটেই রাজি ছিলেন না তাঁরা কলি চুনের কাতা বা কালী ক্ষেত্র থেকে কলকাতা এই ফান্ডাদুটিতে বেশী স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন ।
মাঝখানে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় খুঁজে বের করলেন হাওড়া ও ঢাকা জেলায় আরো দুটি কলকাতা । একটি রসপুর - কলিকাতা , আরেকটি ডিহি - কলিকাতা । দুটো
ক্ষেত্রেই , স্পেশালি হাওড়ার রসপুর - কলিকাতা র কাছাকাছি কলিচুনের কাতা বা আড়ত দেখা গেল । এবং কলকাতার চুনকাম নামেতিহাসটি মোটামুটি সর্বজনস্বীকৃত হয়ে উঠেছিল বলতে গেলে । কিন্তু এইবার ময়দানে নামলেন তাঁর সুযোগ্য শিষ্য সুকুমার সেন , তাঁর অগাধ আরবী ফারসী জ্ঞান সহ । এবং পাওয়া গেল এক উৎকট ফান্ডা । যার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন আর এক কালাপাহাড় তারাপদ সাঁতরা । তারাপদ বাবুর কলমেই সুকুমার সেনের নামের ফান্ডাটি ও তাঁর নিজস্ব মতামতটি জানাই । ভারি আমোদ হবে।

“ বর্তমানে কলকাতার নামকরণ সমস্যায় ভাষাতত্ত্ববিদ সুকুমার সেন আলোকপাত করে লিখেছেন যে , কলকাতা “ নামটি আরবী ( এবং ফারসীতে ব্যাবহৃত শব্দে গড়া ) … আরবী শব্দ ( quali ) মানে নির্বোধ আর কত্তা ( qatte ) মানে দস্যু , হত্যাকারী ( বহুবচন )। তাহলে স্থান নামটির মানে হয় “ বোকা বজ্জাতের আড্ডা ” ” … শ্রদ্ধেয় ভাষাতাত্ত্বিকের এ উদ্ভট থিওরী সম্পর্কে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন ”… তারাপদ সাঁতরা /কীর্তিবাস কলকাতা

সুকুমার সেনের আত্মজীবনী পড়লে অবশ্য ওনার রাগের কারণ কলকাতার ওপরে , টের পাওয়া যায় । উনি দৃড়ভাবে মনে করতেন লক্ষ্ণৌ এবং আগ্রার পরেই নির্মানসৌকর্যে , সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে ওনার পিতৃভূমি বর্ধমান ই উল্লেখযোগ্য । খামোখা একটা সেদিনের উটকো চ্যাংড়া কলকাতা এসে বর্ধমানকে মফস্বল করে বেরিয়ে গেছে এটা মানা খুব কষ্টকর ছিল সুকুমারবাবুর পক্ষে । ফলতঃ বোকা বজ্জাতের আড্ডা প্রমাণ করার তাগিদটা অনুভব করা যায় । কিন্তু এহ বাহ্য । মিস্টেকের সাথে সম্পর্ক কোথায় ??
শ্রী নিখিল সরকার মশাই বা শ্রীপান্থ অসাধারণ ল্যাটারেল থিংকিং প্রয়োগ করে কলকাতা নামের উৎপত্তি নিয়ে হীরকসম কারন দিয়ে গেছেন । যেটিকে আমি ব্যাক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ মোক্ষম বলে ধরে থাকি । ওনার ভার্সনে সামান্য হেরফেরে বলি
ঐতিহাসিক মুচকি হেসে বললেন “ কালিকটকে মনে পড়ে তোমাদের ? দক্ষিণ উপকূলের কালিকট ?? ”
- “ আলবাত । ওইখানেই তো প্রথম ঠেকেছিল ইউরোপের জাহাজ । পর্তুগীজ দিয়ে শুরু । কি ঐশ্বর্য । ইউরোপে যা যেত সব তো মেড ইন কালিকট , রেশম , হাতির দাঁত , মসলীন …”
- “ হ্যাঁ ওই কালিকটই হলো কলকাতার আদি , কালিকট নয় , কালিকটের ঐশ্বর্য ”
- “ কি ভাবে ? ”
- “ সাহেব তো এসে ঠেকেছেন সুতানুটিতে । কিন্তু “ মেড ইন সুতানুটি ” বা “ মেড ইন হুগলি ” বললে তো জিনিস বিকোয় না । “ মেড ইন ফরাসডাঙা ” আর “ মেড ইন চন্দননগর ” ফ্রেঞ্চরা দখলে নিয়ে নিয়েছে । ইউরোপে ইন্ডিয়া মানেই কালিকট । টু বি ভেরি প্রিসাইজ “ মেড ইন কালিকট ” বললেই বিকোয় । সাহেব বললেন কুছ পরোয়া নেই । নামাও মাল । দিয়ে সার সার প্যাকিং এর ওপরে লিখে গেলেন MADE IN KALIKAT শুধু লাস্টে একটা A । কে আর লক্ষ করছে MADE IN KALIKAT আর MADE IN KALIKATA র সুক্ষ্ম পার্থক্য !! নোকিয়ার রোকিয়া ফোন আমরা
দেখিনা ???!!! সেই থেকে সুতানুটি হলো কলিকাতা বা কলকাতা , শুধুমাত্র কালিকটের সাথে ধ্বনিনৈকট্য কাজে লাগিয়ে বানিয়ার ব্যাবসাবুদ্ধির ফসল !!!

অমোঘ , অসাম না এই স্বেচ্ছামিস্টেক থেকে কলকাতার নাম ???!!! এই মিস্টেকের কোন তুলনা হয় ??? ইয়ার্কি বর্তমানে কলকাতা নামোৎপত্তির থিওরিগুলির মধ্যে এটিই সবচেয়ে জবরদস্ত পজিশনে । এগুলো উইকিসঞ্জাত বস্তু নয় , খাঁটি চিন্তাশক্তি ও এ্যানালিসিসের ফসল এই মিস্টেক কল্পনা


দ্বিতীয় উপায় ছিল , এতকিছু রিসার্চ করে তমালদাকে বাই মিস্টেক লেখাটা না দেওয়া । কিন্তু ওতে আমার বিস্তর হিংসে হচ্ছিল তোমাদের ওপর , যারা পড়ছো । ওটিই ভালো ছিল নাকি ??? অজুহাতে আমার হাতের বদলে মাথা কাজ করে । ফলে সেখানে টেক্কা দেওয়া মুশকিল ।