স্বপ্নে পাওয়া শব্দ আর শব্দের স্বপ্নবাস্তবে এলোমেলো কিছু

প্রবুদ্ধ ঘোষ


আমরা ঘুমিয়ে ছিলুম
আর, নদী মুছে যাচ্ছিল শহরের পাশ থেকে
গাছগুলো ন্যাড়া হয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছিল ভেঙেচুরে
হাওয়ায় হাওয়ায় যত আর্তনাদ, গান হয়ে যাচ্ছিল
বাড়িগুলো ফেটে যাচ্ছিল সাইরেনের ঘেয়ো সুরে

এত যুদ্ধ হয়ে যাচ্ছিল
হাড়পাঁজরে, রক্তপুঁজে, বোধে-অবচেতনে?
সযত্নসেতু খুলে খুলে কারা বানিয়ে নিচ্ছিল হাতিয়ার

ওলোটপালোট ঘরদোর জুড়ে দেয়াল শুধু
মানুষে মানুষে দেয়াল, তাতে আঁকা ছবি চমৎকার-
আমরা ঘুমিয়ে ছিলুম।

বাসিমুখে চুমুস্বপ্নে জেগে উঠে হাতড়াই আনাচকানাচ।
রক্তস্বাদ লেগে আছে, যুদ্ধের পরে; সময়ের থেকে
চুঁইয়ে আসছে বিপন্ন আশাবরী।

যে বিড়াল ছেড়ে যাচ্ছে ঘর, এতদিন ঘুমিয়ে থাকার নরম চাদর, রান্নাঘরের কোণ, জানলার গ্রিলে পেতে রাখা কাঠের টুকরোর ওপরে ঘুম, কী ফেলে যাচ্ছে সে? মৃত্যুর আগে আদুরে বিড়াল ছেড়ে যায় সব প্রিয়সুখ, যাবৎ জীবনের প্রিয় সব কিছু ছেড়ে অনন্ত পরিযানে যায়। আর খুঁজে পাওয়া যায় না তাকে। প্রতিদিন রাত ১১টা ১০ মিনিটে বাইরে থেকে ঘুরে এসে গাছ বেয়ে উঠে জানলার শার্সিতে আঁচড়, খাওয়ার টেবিলে থাবা ও চার আঙ্গুলের ছাপ, বিছানায় লেগে থাকা সাদা-সোনালি লোম আর অভিমানে সরে সরে যাওয়া বাড়ানো হাতের থেকে দূরে- এগুলো থেকে যায়। সময় হয়ে গেছে ওর যাওয়ার, আর খুঁজে পাওয়া যাবে না বিষাদটুকরোয়। সময়ই তাকে রেখে দিয়েছিল। অনাদরের মুহূর্তে, বকা খাওয়া আহত চোখে যে ভাষা জেগে থাকে, তার শব্দ-অক্ষর আমার চেনা নয়। অথবা হয়তো চেনা, অসমকথনে সামান্য পড়ে নিতে শেখা ওর চাওয়া। ধীরে ধীরে তাও হারিয়ে যায়। শুধু জানা যায়, ভোরবেলা বাড়ির পেছনে গন্ধরাজ গাছের নিচে দেখা গেছে তাকে, প্রবল অসুস্থতা নিয়েও ঘর ছেড়ে ওই গাছের নিচে; তারপর আর খুঁজে পাওয়া যায়নি কোত্থাও। সময়ের এও তো এক ব্যথা, যখন সেতু ভেঙে ভেঙে যায়, ফিরে আসবার।

#
অনেক সামনে উঁচু একটা বাঁশের মাথায় ওড়ে রক্তমাখা শার্টের লাল ঝাণ্ডা... এই পাগলপারা জনস্রোতকে আজ সামলায় কে? কাল ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েদের ওপর অত্যাচার করলো সিএএ চাওয়া মোদি-শাহের পুলিস, এত বড়ো বিক্ষোভ ঘটে যায়, ইমতিয়াজ কিছুই দেখতে পারলো না! বেচারা কোথায় যে গেলো! ইমতিয়াজ কি জানে যে কলকাতা এত মানুষকে ঠাঁই দিতে পারে? প্রীতমের বুক ছমছম করে- এত মানুষ, সবাই কি তার মতো শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া মাছ-ভাত খাওয়া সাধারণ মানুষ? এই যে জনপ্রবাহ, এর অনেকের কাপড়চোপড়, চেহারা তার কাছে অপরিচিত ঠেকছে? এরা কে? তার মানে অনেক কাল আগেকার মানুষও কি মিছিলে যোগ দিয়েছে? ঐ তো মিছিলের মাঝখানে ইসলাম খাঁর আমলের খাটো-ধুতি পরা গৌড়বাসী! খড়-বিচালি ভরা নৌকা নিয়ে যারা বিচালি ঘাটে যাতায়াত করতো, তারাও এসেছে। আলিবর্দি খানের সময়ে কাটা মারহাট্টা ডিচের আশেপাশে বাস করা মানুষ প্রায়-লুপ্ত-খালের হিম হৃদপিণ্ড থেকে উঠে এসেছে? শায়েস্তা খাঁ-র টাকায়-আট-মণ-চালের আমলে না-খেয়ে-মরা মানুষ দেখে প্রীতম আঁতকে ওঠে। ৩৫০ বছর ধরে তাদের খাওয়া নাই- কালো চুলের তরঙ্গ উড়িয়ে তারা এগিয়ে চলে পায়ে পায়ে। মোগলের হাতে মার-খাওয়া, মগের হাতে মার-খাওয়া, কোম্পানীর বেনেদের হাতে মার-খাওয়া, ১৯৪৭-র পরের সব শাসকের হাতে মার-খাওয়া - সব মানুষ না এলে এই মিছিল কি এত বড়ো হয়? পুঁটে কালীবাড়ির ইঁটের শুকনো পরত খুলে খাঁড়া হাতে নেমে এসেছে তান্ত্রিক পুরুত, মজনু শাহের ফকিররা এসেছে, ঐ তো ঘর-বাড়ি পুড়ে যাওয়া, বুকে-পিঠে চাবুকের ঘা খাওয়া নীল চাষীরা বুক চেতিয়ে যাচ্ছে, তাদের কালো কালো খালি গা রোদে ঝলসায়। শেঠপুকুরের ভোসড়ি শাহ্‌ মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিন আর ভবানী পাঠকের গিরি সন্ন্যাসীরা আজ হুঙ্কার দিচ্ছে, 'এনআরসি হতে দেবো না!' যুগান্তর অনুশীলনের বেনিয়ান ও ধুতি-পরা মাতৃভক্ত যুবকেরা আসে, তাদের মধ্যে মুরারিপুকুরে নিহত ছেলে ৩টিকে আলাদা করে চেনা যায়। পেটে-পিঠে মিশে যাওয়া হাড্ডিসার চেহারা আর ফ্যানটুকু চেয়ে না-পাওয়ার ক্ষোভ নিয়ে জেগে উঠেছে মন্বন্তরের মানুষগুলো। রাজাবাজারের ট্রাম ডিপো থেকে স্রেফ ইঁট আর খেটো লাঠি নিয়ে দাঙ্গাবাজদের মহড়া নিতে আসে মহম্মদ ইসমাইল। বৌবাজার মোড়ের পাশ থেকে কলেজস্ট্রিটের রক্তাক্ত ঢেউ মাথায় নিয়ে চলে আসে লতিকা সেন, প্রতিভা গাঙ্গুলি। ঐ তো ধনেশ্বরী দেবী! বেলিয়াহাট্টা আর বরানগরের ছেলেগুলোর মাথার খুলি উড়ে গেছে, দেখে একটু ভয় পেলেও প্রীতম সামলে ওঠে। সীমাহীন কাল সীমাহীন স্থান অধিকারের জন্যে কলকাতা শহর আজ একাগ্রচিত্ত। এ অবিচ্ছিন্ন স্রোতধারার ক্ষুদ্রতম ১টি কণা হয়েও তো সে এই হৃৎপিণ্ডে তাপ বোধ করতে পারছে। তাই বা কম কি? ভরা-বুকে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে প্রীতম হুঙ্কার দেয়- 'সিএএ হতে দেবো না।'
‘প্রীতম!’
প্রীতম প্রথমে এই ডাক শোনেনি। আরেকবার ডাকলে সে চমকে ওঠে, কে ডাকে? মজনু ফকির বা ভবানী পাঠকের কোনো কর্মী তাকে চেনে? নাকি ধূলো ঝেড়ে উঠে আসা আসা বেরিলি-মীরাটের সেপাই? শেঠপুকুর মসজিদের মোয়াজ্জিন নাকি মহম্মদ রমজান লেনের বুড়ো শিবের থুড়থুড়ে পুরুত? নাকি নেতাইতে বুকে গুলি লাগা কেউ? নাকি জামিয়া-আলিগড়ের মাথাফাটা-ছাত্র কোনো? নাকি মহম্মদ ইসমাইল বা সোমেন চন্দ?- কে ডাকে? তার শরীর শিরশির করে। তাকে মিছিলের কে কে চেনে?
ওসমানের সঙ্গে প্রীতম, আনোয়ারের সঙ্গে ইমতিয়াজ মিশে যেতে থাকে। আমার সময়ের ‘চিলেকোঠার সেপাই’ লেখা হতে থাকে...

#
এ পাড়ার গাছগুলোর পাতা ঝরে গেছে। শুকনো গাছের নিচে জড়ো কিছু লোক, জ্বালিয়ে রেখেছে শুকনো পাতা আর কাঠের আগুন। দু-একটা টায়ার আর অল্প কেরোসিন। আলোচনা হচ্ছে জেগে থাকা নিয়ে। কবে যুদ্ধ আসবে, তার গল্প। কবে শত্রুদের চেনা যাবে, তার খোঁজ। কবে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে আরও। কবে অন্নজলসুখ আরও নিশ্চয়তা পাবে। আগুন খুঁচিয়ে তুলছে বারবার। যারা বসে আছে, তাদের মুখ নেই কারো, ধর্ম আছে। ধর্মের ইঙ্গিত আছে। নিজেকে চেনার চেয়ে বেশি অন্যকে চিহ্নিত করার বীভৎস মজা। সব পাড়াতেই আগুন জ্বলে আছে। আগুন ঘিরে মানুষ। একটাই রাষ্ট্র ফুঁ দিয়ে দিয়ে উস্কে চলেছে আগুন। গাছেদের পাতা নেই আর। শুকনো ডালে বাঁধা চোঙা, যেখানে সাইরেন শোনা যাবে শুধু।

আলোর মহড়া জুড়ে ছায়াস্বর ঘন
দেশের নুন থেকে যুদ্ধগন্ধ উঠে আসে
জাতীয়সঙ্গীতে জুড়ে হত্যাউৎসাহ গাঢ়
জ্বলে ওঠে শাসকবয়ান, জ্বলে জনপদ
বন্ধুর পদবীতে রক্তছিটে
বন্ধুর ঠোঁটে জমে অভিশাপ
শাসক বীজাণুর মতো ছড়িয়ে আমাদের মাথার ভিতর

এ সময়ে কোন ছন্দে কাব্য সমীচীন?
কোন সভাগৃহে সাজানো ফুল-চন্দন?
পদ্মের উৎসবে রজনীগন্ধার শোক মিশে
গোঙানির শব্দে নেই গায়ত্রী, অনুষ্টুভ

কোনওখানে কাব্য নেই, কবিতারা মৃত
লকলকে ঘৃণায় ছোঁয়া বন্ধুর ডাকনাম-
এখানে কি ভোর হয় কোনও গল্পের মতো?

তবু এ হননসময়ে আমাদের মিশে থাকা
অন্নসুখভোর খুঁজে জেগে থাকা,
যখন আলোর মহড়া জুড়ে ছায়াস্বর গাঢ়

#
কোনও কোনও সময়ে আমাদের ঘাড় উঁচু করে নজর রাখতে হয় সামনের দিকে। কখনও পেছনের পথে। পেছনের পথে দেয়াল উঠতে থাকে, দৃষ্টি ঢেকে দেয়। তবু সে আড়ালের ওপারে থেকে যায় না-পোড়া কথন আর দৃশ্য-অবয়ব। কেউ লিখে রাখেন, ‘ভাই, এমন দিন কি হইবে, মসজিদ ভাঙিয়া রাধামাধবের মন্দির গড়িব?’; কী আশ্চর্য দাবানলে অন্য সব পরিচয় পুড়িয়ে শুধু ধর্মধুয়োয় মেতে এই আকাঙ্খা সত্যি ক’রে তোলে কিছু লোক। মসজিদের সময়, স্থাপত্য, ইতিহাসবোধ দুমড়ে চলে যায় রথচক্র শববেলা। সে লেখক কী জানতেন যে, ১৮৮২ সালে লেখা কোনও এক মন্ত্র হননশব্দ হয়ে উঠবে ১০০ বছর? আর, ওভাবেই ভাঙতে চেয়ে বীভৎসতায় মেতে ওঠা হয়ে যাবে স্বাভাবিক আখ্যান? সময়ের এই পারাপার, অবাধ ভাঙ্গননেশা তবুও তো থমকায় চাপা পড়ে থাকা মিথ-গল্পে হোঁচট খেয়ে। মজনু শাহ্‌ যখন ভবানী পাঠককে সঙ্গে নিয়ে ইংরেজের শাসনবোধকে ছিন্নভিন্ন করেন। কোনও লেখক সেই পেছনের পথে ওঠা দেয়াল ভেঙে ভেঙে তুলে আনেন দ্রোহের ভাষ্য আর ধর্মনেশার বিপরীতে রেখে দেন অন্যচেতনার স্বর; ভাঙা সেতু জুড়ে নেন অলৌকিক লৌকিকতায়।

এখন এ-গলি ও-গলি থেকে মানুষ আসতে শুরু করেছে। ক্যানাল স্ট্রিটের পেছনদিকের বস্তি দিয়ে টুটাফাটা কাঁথা, বেঢপ কোট আর রঙজ্বলা জামা গায়ে বেরিয়ে আসে ৫০-৬০ জন মানুষের একটি দল। নোনাপুকুর ট্রামডিপোর পাশের কারখানার লোকেরা বেরিয়ে আসছে ওম ছেড়ে। খিজিরদের মিছিলে শহরের ভদ্র হিন্দুবাবুরা হাঁটছে বাঙালি মুসলমানের তালে তাল মিলিয়ে। তালতলা লেনের পাশ থেকে যারা মিছিল দেখছিল নীরবে, তারা সরব হয়ে ওঠে কলুটোলার মানুষের মিছিলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে। শীতের উত্তুরে হাওয়ার সঙ্গে চলকে ওঠা রোদে মানুষের সারি ক্রমে দীর্ঘ হয়। খিজিরের গা একেকবার ছমছম করে ওঠে, সে নিশ্চিত যে মহল্লার বহুকালের পুরনো বাসিন্দারা তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। বোসপাড়া লেনের মানুষ আসে আলিয়া ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সঙ্গে। মিউনিসিপ্যালিটি অফিসের পাশের মুচিপাড়ার এতো ছেলে এসেছে! আজাদগড় কলোনির বাঙাল আর ভবানীপুর বলরাম বোস লেনের ঘটি গলা মেলাচ্ছে, 'সিএএ চাই না'। মেয়েদের সংখ্যা দেখে খিজির অবাক হয়ে যায়, নাচোলের রানী আর তারামন বিবিরাও কি মিছিলে এসেছে? সামনে পেছনে মিছিল কেবল বেড়েই চলে। এতে খিজির পড়ে মিছিলের মাঝামাঝি। হঠাৎ এক মুহূর্তের জন্যে চোখে পড়ে জুম্মনকে; হাত উঁচু করে 'আজাদি' স্লোগান দিচ্ছে, তার পাশে আরও কয়েকটা পিচ্চি। দমদমের একটা বখাটে ছোঁড়ার দল উঁচু করে পোস্টার ধরেছে, 'জিন্দেগি জিনেকি দো তরিকা...'- আমির খানের ছবি, যে সিনেমায় চন্দ্রশেখর আজাদ সেজেছিল। এর মধ্যেও জুম্মনের হাতে স্ক্রু ড্রাইভার দেখে খিজিরের হাসি পায়। হাওয়ায় শোনা যায় নদিয়া, বীরভূম, ক্যানিং, মসলন্দপুর থেকে, রায়গঞ্জ, শান্তিপুর, জাঙ্গিপুর থেকে হাজার হাজার মানুষ পতাকা নিয়ে ছুটে যাচ্ছে- 'এদেশ আমাদের'। মিছিলে লাল পতাকার সঙ্গে মিশে উড়ছে সাতরঙা পতাকা। ডিটেনশন ক্যাম্প ভেঙে ফেলার স্লোগান জাগছে; বিশাল সমাবেশের সমবেত আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে ডিটেনশন ক্যাম্প, মোদি-শাহের হাতিয়ার।
অদূরে ময়দানের গাছপালা তাদের স্লোগানের জবাবে জোরে জোরে মাথা নাড়ে। অর্জুনগাছের মাথা থেকে গলার ফাঁস খুলে নেমে আসছে কবেকার কোন সেপাইয়ের দল। গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসছে পিঠে গুলি লাগা, গলা কেটে রক্ত ঝরা পাঁচ দশক আগেকার তরুণের দল।
'চিলেকোঠার সেপাই'-তে এর’মই এক মিছিল হয়েছিল, মিছিলের শেষে খিজির মরে যায়। মিলিটারির গুলিতে। তার হাতের স্ক্রু ড্রাইভার আর প্লায়ার আসে ওসমানের হাতে, হাড্ডি খিজির ওসমান গনির চেতনায় আধিপত্য করে। মধ্যবিত্ত, দুধে-ভাতে নিশ্চিন্ত থাকা, গণআন্দোলনের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে চলা ওসমান এরপরে পুলিশ-মিলিটারি দেখে মিছিলে এগোতে ভয় পেতেই খিজির বলে, 'মিলিটারির মায়েরে বাপ। রাস্তা অগো জমিন্দারি?... দেশ আমাগো হক্কলের।' ওসমান কারফ্যু অগ্রাহ্য ক'রে রাস্তায় নামে। এরপর ওসমানের ভয়ডর কেটে যায়, তার সামনের পথ খুলে যায়...

আর, আমাদের সময়ের পথ? জেগে থাকে আরও আরও দ্রোহকামী মিছিলের অপেক্ষায়