যুদ্ধোত্তর শহর

আকতার জাভেদ

যুদ্ধোত্তর শহর (২০০৬ইং)

পুরো শহরটা অসময়ের বৃষ্টিতে একবার ভিজে গেছে। এই বিকেলে যুদ্ধোত্তর একটা ভাঙ্গা-গড়ার খেলা শুরু হলে মহাসড়কগুলোর গর্তে গর্তে বেহাল কবিতা। কোথাও চুপচাপ, সাঁজোয়া যানের ক্লান্ত শরীর। কোথাও ভেঙ্গে যাওয়া পাটাতনে বিধ্বস্থ ট্যাংক - চেইনের পর চেইন উপড়ে পরা। কোথাও শত্রু বিমানের রেখে যাওয়া চুম্বন - কোথাও ক্লাস্টার বোমার আতিথেয়তা।

পোড়া যান আর পোড়া মানুষ
খোড়া বাড়ী আর যুদ্ধাহত ছোড়া
কোথাও উত্তপ্ত হচ্ছিলো অলি-গলি
কার্বন আর মনোক্সাইডে - এমন সময় বৃষ্টি এলো -

কেউ ভিজলো ? না, মনে হয়।

যন্ত্রদানবগুলো শীতল হতে হতে শুনি পতিত দেয়ালগুলো দাঁড়াতে শুরু করে। ভাবছি, অগ্রহায়নের বিকেলে এমন বৃষ্টি!

কেন? কেন এই মেঘহীন বৃষ্টি? কেন এই রক্ত বৃষ্টি?

চৌবাচ্চার উপর থকথকে রক্তের ভেসে থাকা, প্রস্তরযুগ শেষে যেন ভায়েলীন গণহত্যা। সাবলীল সব বৃষ্টি-ফোঁটা মহাসড়কের গলিত আলকাতরা ছোঁয়। ছুঁয়ে ছুঁয়ে তপ্ত মহাসড়কজুড়ে ধোঁয়া ওঠে। এক প্রস্থ ছেড়া দেহ নিয়ে ঠিক তখুনি শহরটা জাগতে শুরু করে - পথে পথে খেলা করে পুরোনো গ্রেনেড আর রাইফেলের নলে ফুঁ দিয়ে বাঁশি বাজাতে বাজাতে চলে যায় কোন এক জলপাই দল - একদল হানাদার ভাঙ্গা বিউগলে ক্রমাগত ছুঁয়ে দেয় নগ্ন দেহ, টুকরো পায়ের ক্রন্দন- গলিত বুকের মাঝে ভুলে যায় কে ছিল কোথায় – কার নিদর্শন।

ধূসর আকাশ দেখি- নিজের আকাশে দেখি যেন শকুনের ওড়া। যেমনটা যুদ্ধোত্তর শহর জেগে উঠলে কংক্রিট হয় বাগান। মনে পড়ে এই ক্ষত বিক্ষত পথে বহু আগে পথ পার করে গেছেন – শতাব্দীর বাঁশিওয়ালা। তার সুরে সুরে লাখো লাখো প্রাণ এঁকে গেছে জীবনের জয়গান।

আমরা ভুলি না! আমাদের শহরে এ ভোলার নয় - যুদ্ধোত্তর শহরে যে ফিরে আসে মুক্তির প্রাণ।