এই অবেলায়

চিত্রালী ভট্টাচার্য

তুমি বলছ- ভয় নেই , অথচ বার বার কেঁপে উঠছি। বার বার কারা যেন কাঁদছে!দূর থেকে ভেসে আসা একটা অদ্ভুত আর্তনাদ ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে- টের পাচ্ছো?
হেসে উঠছ তুমি ? বলছ এ আমার বিভ্রম! কিন্তু আমার কথা শোনো – এ কোনো ব্যাক্তিগত বিকার নয়, এটা একটা সমষ্টিগত ধংসের কাঠামো, যার ওপর অনবরত লেপা হচ্ছে আলো , লেপা হচ্ছে উদ্দামতা, গড়া হচ্ছে অনাবশ্যক সুখের বাজার। কারা যেন চিৎকার করে বলছে- তুমি--,তুমি--,তুমি—বাদ। আমরা--- আমরা--। আমরা আইন, আমরা ভাষা , আমরা ধর্ম,আমরা প্রত্যয়, আমরাই দেশ।
আর অন্যদিকে পলায়নপর জনগণ পথ খুঁজছে। সুড়ঙ্গে সুড়ঙ্গে সান্ত্রি, রাস্তায় রাস্তায় ব্যরিকেড। এখানে ধন্যা,ওখানে লাশ। থক্‌থকে গুটখার পিকে পিছলে যাচ্ছে পথ।সূর্য আর সেভাবে উঠছে না বহুদিন। দূষণদুষ্ট আবহাওয়া ভেদ করে অস্পষ্ট আলো আলো ভোর। আমরা আলস্য জড়ানো গলায় উচ্চারণ করছি- ওম, জবাকুসুম----। কিন্তু আমরা যা উচ্চারণ করছি তা কোন ভাষায়? এই কি আমাদের মাতৃভাষা? আহারে, এত রুগ্ন! কি হয়েছে! কে মেশালো জল? কে বোঝাল- এ ভাষায় কাজ হবে না? কে গড়ে তুলল মিশ্র ভাষার কারখানা? কিন্তু একদিন এই ভাষার জন্যই তো প্রাণ দিয়েছিল কিছু উন্মাদ! তাদের আত্মত্যাগের কি হবে? ওদের জন্য কি আমরা একবারও গেয়ে উঠব না শুদ্ধ মাতৃভাষায়? নাকি ক্রমাগত বিদেশী উচ্চারণের ফলে বেঁকে যাওয়া ঠোঁট মা বলতে গিয়ে মম্‌ বলে উঠবে? আর অদ্ভুত এক দোটানায় আটকে যাবে নতুন প্রজন্ম।তাদের শরীরে আধুনিক কোনো ভাইরাসের মত জেগে উঠবে schizophrenic withdrawal. তখন হয়ত আমরা উত্তর খুঁজবো এই অবক্ষয়ের। এ ওকে দোষ দিতে দিতে বলব- আমরা নয় ওরা।নির্লজ্জের মত বলব- ওরা যখন ঊনিশশো নব্বই এ----, তার কি হবে?
এইভাবে গোটা সিস্টেমটাই একদিন পচে উঠবে ধীরে ধীরে। আর সেই অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আমরাও আমেরিকান মনস্তত্ত্ববিদ আর- ডি লেইংগ এর মত বলব-“ the behavior of diagnosed patient is part of a much larger network of disturbed behavior, of disturbed and disturbing patterns of communication. There is no schizophrenic person ;there is only a schizophrenic system.”
বড্ড কান্না পাবে তখন।