সময়ের শিলালিপি

নাহার তৃণা

মানুষের চরিত্রের একাধিক মাত্রা থাকে। যার মধ্যে অন্যতম হলো তার সামাজিক এবং রাজনৈতিক চরিত্র। এই চরিত্রগুলো নির্ধারণ করে দেয় সময়ের ডাকে কে কিরকম সাড়া দেবে। কখনও কখনও সম্মিলিতভাবে মানুষ সময়ের স্বভাবে সঁপে দেয় নিজেদের, কখনও বা সময়ের প্রয়োজনেই বিশেষ কিছু মানুষের মুখে তুলে নেয়া ভাষায় আন্দোলিত হয় সময়। সে ভাষার জোরে সময়ের শিলালিপিতে লেখা হয় নতুন ইতিহাস। নীলরক্তের কৌলন্যের গর্বে মাটিতে পা না পড়া আর্যরা সম্পদ আর উর্ব্বর মাটির গন্ধ শুঁকে ভারতে এসেছিল প্রায় চার হাজার বছর আগে। ভারতে প্রবেশ করাটা তাদের পক্ষে সহজ সাধ্য হলেও বাংলার মাটি তাদের জন্য সহজসাধ্য নয় এই সত্যিটা বাংলায় নাক গলানোর প্রাথমিক চেষ্টার গোড়াতেই তারা হাড়ে হাড়ে বুঝে গিয়েছিল।

বাংলার লড়াকু যোদ্ধাদের অকুতোভয় মনোভাব আর্যদের এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল 'বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি', যা কব্জা করা তাদের পক্ষে বেশ কঠিন সাধ্য। সত্যিটা তারা মর্মে অনুভব করলেও কৌলন্যে আঁচ লাগার লজ্জা ঢাকতে 'বাংলা বর্বরদের আখড়া' বলে সময়কে গড়াতে দিয়েছিল। সম্ভবত বৈদিক যুগের শেষ পর্যায়ে কব্জা করার মহেন্দ্রক্ষণটি আসা মাত্র বর্বরদের আখড়ায় থাবা বসাতে আর্যদের দ্বিধা হয়নি।

বাংলার মাটি, মানুষ, আর বোল(ভাষা), এই তিনের উপর সময়ের খড়গ নেমে এসেছে বার বার। বিভিন্ন সময়ে হানা দেয়া হানাদারেরা ছিন্ন ভিন্ন করতে চেয়েছে মানুষের সাথে এ মাটির শেকড়ের নিবিড় বন্ধন। কেড়ে নিতে চেয়েছে তাদের আত্মপ্রকাশের মাধ্যম- আজন্ম পরিচিত ব্যবহৃত ভাষার অধিকার। ভাষার অধিকার কেড়ে নেয়া গেলে শাসকের পক্ষে নির্বিবাদে শোষণ করে যাওয়ার গ্যারান্টি থাকে। ভাষার মৃত্যু মানে একটি জনগোষ্ঠীর মৃত্যু। ১১ শতকে সে পথে প্রথম এগিয়েছিল সুদূর কর্ণাটকের মহীশূর ও তার সংলগ্ন অঞ্চল থেকে বাংলায় উড়ে এসে জুড়ে বসা সেন বংশ। যে কোনো দেশের মানুষকে ঋদ্ধ করে তার শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, আর সাহিত্য সংস্কৃতিকে ধারণ করে ভাষা। এই ভাষায় আঘাত করা মানে সংশ্লিষ্ট ভূখণ্ডের মানুষদের অনেকটা অন্ধকারে ঠেলে দেয়া। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির কথা মাথায় রেখে বহিরাগত সেন শাসকেরা বাংলার মানুষের ঐক্যে ফাটল ধরাতে ভাষার উপরই তাই প্রথম আঘাত হানে। সাধারণ বাঙালির মুখের ভাষা বাংলা ভাষা চর্চা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পাল বংশের সময় এই অঞ্চলের ভাষা সাহিত্য যতটা এগিয়েছিল বহিরাগত সেনরা এসে সেই বাড়া ভাতে ছাই ছিটিলো নির্বিচারে।

ব্রিটিশ কোম্পানী রাজত্বের সময় সরাসরি ভাষার উপর হস্তক্ষেপ না করে বেশ ঘুরিয়ে খেলাটা শুরু করে কূটবুদ্ধির ইংরেজরা। ফারসি ভাষার আধিপত্যে হুট করে নাক গলানোর ফল ইংরেজদের বিপক্ষে যেতে পারে এমন চিন্তা মাথায় রেখেই তারা ছক সাজায়। সময় গড়ানোর সাথে সাথে এমন সব বিধি ব্যবস্হা নেয়া শুরু করে যাতে বহুভাষী ভারতবর্ষের জনগণ নিজেদের প্রয়োজনেই ইংরেজ ভাষার দ্বারস্হ হয়। ভারতকে শোষণের হেন পন্থা ছিলো না বোধকরি যা ইংরেজেরা প্রয়োগ করেনি। শোষণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ব্যবসা বাণিজ্যের ভেক ধরে ইংরেজরা ভারতে পা রেখেছিল। তাদের থাবা থেকে সম্পদশালী বাংলা যে রক্ষা পাবে না সেটা বলাইবাহুল্য। ইংরেজদের নির্লজ্জ লুণ্ঠন আর নির্মম অত্যাচারে বাংলার উর্ব্বর মাটি আর সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে ওঠে রুক্ষ- রসহীন। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে রংপুর দিনাজপুর এলাকায় নেমে এসেছিল শ্মশানের কালো ছায়া। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া শোষিত নিরন্ন মানুষের সামনে দুটো পথই খোলা ছিল। হয় মহামারীতে নিজেকে সঁপে দেয়া, নয় ঘুরে দাঁড়ানো। ঘুরে দাঁড়াবার জন্য বিধ্বস্ত মৃত প্রায় মানুষগুলোর প্রয়োজন ছিল এমন একজনের যিনি বুক চিতিয়ে জীবন খুঁজে নেবার উদ্ধত আহ্বান জানাবেন গলা তুলে। 'জাগো বাহে কুনঠে সবাই' এমনই এক অমোঘ মন্ত্র উচ্চারণের স্পর্ধা দিয়ে সময় ঠিকই দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল সেরকম একজন কে। সময়ের ভাষা মুখে তুলে সাধারণের ভিড় ঠেলে সেই মুহূর্তে অসহায় মানুষগুলোর সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন নূরুলউদ্দিন। সময় যাঁর বুকে গুঁজে দিয়েছিল সাহস নামের তীব্র আগুন। কোম্পানীর তাবেদার সূর্যের চেয়ে বালি গরম ক্ষমতাশালী দেবী সিংহ পক্ষান্তরে ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর পরিণতি ভাবনায় আনেননি লড়াকু মানুষটা। নিজেদের সীমিত সামর্থের বৃত্তে দাঁড়িয়ে অসীম বীরত্বে নিপীড়িত জনপদে আওয়াজ তোলেন, তাদের সংঘবদ্ধ করে দেখিয়ে গেছেন লড়াকু বাঙালির বীরত্ব। ইংরেজদের বিরুদ্ধে ১৭৮৩ সালে নূরুলউদ্দিনের নেতৃত্বে সংঘটিত এই বিদ্রোহ 'রংপুর বিদ্রোহ নামে' ইতিহাস খ্যাত।


বছরের পর বছর ব্রিটিশ কোম্পানীর শোষণ আর শাসনের অধীনস্হ থাকা ভারতবাসীর মধ্যে একটা পর্যায়ে সময় ক্রমশ বুনে দিতে থাকে জাতীয়তাবাদী মনোভাবের বীজ। নানামুখি তৎপরতার উন্মেষ ঘটতে দেখা যায় বহুভাষী ভারতবর্ষে। বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলের যাবতীয় প্রতিক্রিয়া প্রকাশের মাধ্যম ছিলো বাংলা ভাষা। ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সেসব তৎপরতা কখনও সংঘবদ্ধভাবে হতে দেখা যায়; কখনওবা সেটি একক ব্যক্তির নিজস্ব প্রতিক্রিয়া প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ঘটে। কোনো রকম সশস্ত্র প্রক্রিয়ায় না গিয়ে নিজের মুখের ভাষাকে হাতিয়ার হিসেবেও যে শাসক শ্রেণীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা সম্ভব তার নজির রেখেছিলেন ইংরেজ শাসনের প্রতি মোহগ্রস্হ স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। '১৯০৮ সালে পাবনায় আয়োজিত কংগ্রেসের বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলনে সভাপতি হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৷ রেওয়াজ অনুযায়ী সম্মেলনের সভাপতি ভাষণ দিতেন ইংরেজিতে, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ সে প্রথা ভেঙে বাংলায় সভাপতির ভাষণ দিয়েছিলেন ৷' এটিকে ইংরেজ প্রশাসনের প্রতি তাঁর প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে চিহ্নিত করা যায় অনায়াসে।

আজন্ম ব্রিটিশ বিরোধী সুভাষ চন্দ্র বসুকে সময়ই যেন তৈরি করে নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে দিয়ে। দেশ-দেশের মানুষ, মাতৃভাষা সবের উপর ছিল তাঁর অগাধ ভালোবাসা। পরাধীন দেশটাকে মুক্ত করার দীর্ঘ পথযাত্রায় হাঁটতে হাঁটতে তিনি বুঝে গিয়েছিলেন সশস্ত্র বিপ্লবই পারে ব্রিটিশদের থাবা থেকে দেশটাকে মুক্ত করতে। ঠিক কি ভুল সে তর্কে না গিয়ে এটা বলা যায়, সময়ের ভাষাই হয়ত তিনি কন্ঠে তুলে নিয়েছিলেন। ব্রিটিশ শোষণ-শাসন থেকে পূর্ণ ও সত্বর স্বাধীনতার দাবী নিয়ে সুভাষ চন্দ্র বসু পরাধীন ভারতবাসীর প্রতি আহ্বান জানান- “ আপোষে স্বাধীনতা আসবে না, আসতে পারে না….তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।”

সময়ের পথ বেয়ে শাসনের নামে ভারতকে প্রায় ছিড়বে করে স্বাধীনতার নামে বিশাল দেশটা ভেঙে দু'টুকরো করে শেষমেশ সিন্দাবাদের ভূত ইংরেজরা ভারত ত্যাগ করে।

বহু ঐতিহাসিক ঘটনা আর রক্তপাতের পর ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশে ভারত আর পাকিস্তান দুটো আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়। ধর্ম নামের বালাই কাঁধে নিয়ে পূর্ববঙ্গ সাওয়ার হয় পাকিস্তান রাষ্ট্রে আর পশ্চিমবঙ্গ যায় ভারতের অংশে। ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। রাজনীতির সাথে যখন ধর্ম গাঁটছড়া বাঁধে তখন জটিলতা তৈরির হওয়ার একটা উজ্বল সম্ভাবনা সময় মতো স্বরূপে আবির্ভূত হওয়ার অপেক্ষায় থাকে। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। যে বাঙালি মুসলমানেরা অবাঙালি মুসলমান ভাইদের সাথে পাকিস্তান নামের নতুন রাষ্ট্রে 'মিলে মিশে থাকিবো মোরা আত্মীয় যেন'র আহ্লাদ নিয়ে পাকিস্তানের জন্য জান লড়িয়েছিল, ক্ষমতার বলয় থেকে তাদের শুধু দূরেই রাখা হলো না, নানা ভাবে তাদের উপর শাসন শোষণের তোড়জোড়টাও শুরু হয়ে যায়। এক্ষেত্রে প্রথম আঘাতটা আসে বাঙালির ভাষার উপর। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাঙালির কাঁধে চাপিয়ে দেবার সে চেষ্টা বীর বাঙালি যে নীরবে মেনে নেয়নি ইতিহাস তার গর্বিত সাক্ষী। বুকের রক্ত ঢেলে বাঙালি তার মুখের ভাষার অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হয়েছিল।

মাতৃভাষার উপর প্রথম আঘাতেই রুখে দাঁড়িয়েছিল সমগ্র পূর্ব পাকিস্তান। বাংলা যাদের প্রাণের ভাষা। পাকিস্তানী শাসকের অবিচারের বিরুদ্ধে সময়ের ডাকে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ তার স্বাধিকার চেতনার বহিপ্রকাশ ঘটিয়েছিল একুশে ফেব্রুয়ারীতে। কোন রাজনৈতিক সংগঠন কিংবা একক রাজনৈতিক নেতার কেন্দ্রীভূত আহবান ছাড়াই ভাষা আন্দোলনে ঝাঁঁপিয়ে পড়েছিল ছাত্র ও জনতা। সময় ছিল তখনকার প্রধান আহবায়ক। রাজপথে রক্ত ঢেলে দিয়ে সময়ের চাহিদাই পূরণ করেছে মানুষ। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেনি বলেই সেই চেতনা সাত কোটি মানুষকে এগিয়ে নিয়ে গেছে নিজস্ব ভাষা ও নিজস্ব সংস্কৃতির ভিত্তিতে নতুন একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্নযাত্রায়। ইতিহাসের পাতায় সময়ের ডাকই বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে ঠাঁই করে নিয়েছে।

সময়ের ডাকে সাড়া দিয়ে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান পেরিয়ে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়েছিল বাঙালি তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আপাত নিরীহ জনগণ। তাদের নেতৃত্বে এগিয়ে এসেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান নামের এক অকুতোভয় বাঙালি। সময়ের সাহসী সন্তান শেখ মুজিব ইথারে ইথারে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তাঁর জলদগম্ভীর ইশতেহার। পশ্চিম পাকিস্তানের থাবা থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার আকাঙক্ষায় উদগ্রীব বাঙালিদের উদ্দেশ্যে পয়েট অফ পলিটিক্স উচ্চারণ করেছিলেন সেই অবিস্মরণীয় পংক্তিমালা - “সাত কোটি মানুষকে আর দাবায়ে রাখতে পারবা না। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।” নির্মমতার চূড়ান্ত করেও শোষক পাকিস্তান বাঙালিদের দাবায়ে রাখতে পারেনি। রক্তনদী পেরিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঠিক মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।

***
বলা হয় পৃথিবী আজ অনেক এগিয়েছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার শীর্ষে অবস্থান করছে মানুষ। কিন্তু মানুষের মনের উৎকর্ষতা কতখানি হয়েছে? এখনো কি অপরাজনীতি প্রতি পদে মানুষকে অপদস্থ করছে না? ধনী দরিদ্রের ব্যবধান আকাশ ছুঁয়ে দিচ্ছে না? দেশে দেশে এখনো ধর্মের ষাড় মানুষকে তাড়া করছে না? সন্ত্রাসের বিষবাষ্পে পৃথিবীর জলবায়ু ভারী হয়ে উঠছে না? এখনকার সময় আমাদের কোন আহ্বান জানাচ্ছে? আমরা কী তা শুনতে পাচ্ছি? সময় কখন সর্বান্তকরণে ঘোষণা করবে চিরন্তন সুন্দর আর মানবিক বার্তা -

"ঠিক যেখানে দিনের শুরু ,অন্ধ কালো রাত্রি শেষ
মন যতদূর চাইছে যেতে, ঠিক ততদূর আমার দেশ।
এই কাঁটাতার জঙ্গি বিমান এই পতাকা রাষ্ট্র নয়
দেশ মানে বুক আকাশ জোড়া ইচ্ছে হাজার সূর্যোদয়।
এই মানচিত্র জ্বলছে জ্বলুক এই দাবানল পোড়াক চোখ
আমার কাছে দেশ মানে এক লোকের পাশে অন্য লোক ।
দেশ মানে কেউ ভোরের স্লেটে লিখছে প্রথম নিজের নাম
হাওয়ার বুকে দোলছে ফসল একটো বেচে থাকার দাম।
সব মানুষের স্বপ্ন তোমার চোখের তাঁরায় সত্যি হোক
আমার কাছে দেশ মানে এক লোকের পাশে অন্য লোক।
এই মানচিত্র জ্বলছে জ্বলুক এই দাবানল পোড়াক চোখ
আমার কাছে দেশ মানে এক লোকের পাশে অন্য লোক ।
সব মানুষের স্বপ্ন তোমার চোখের তাঁরায় সত্যি হোক
আমার কাছে দেশ মানে এক লোকের পাশে অন্য লোক
এই মানচিত্র জ্বলছে জ্বলুক এই দাবানল পোড়াক চোখ
আমার কাছে দেশ মানে এক লোকের পাশে অন্য লোক
সব মানুষের স্বপ্ন তোমার চোখের তাঁরায় সত্যি হোক
আমার কাছে দেশ মানে এক লোকের পাশে অন্য লোক।"