পেতল রঙের টিকটিকি

স্মৃতি ভদ্র

শব্দটা কানে আসতেই মেয়েটির তন্দ্রা ফুরিয়ে গেলো। আতঙ্কে চোখ খুললো সে। শব্দটার উৎস খুঁজতে তাকাতে লাগলো এদিক ওদিক।

রাত দু'টো বেজে দশ। বেডসাইড টেবিলের ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকওয়ালা ঘড়িটা থেকে আলো ছড়িয়ে পড়ছে সারাঘরে। আলোর রঙ সবুজ।

সে আলোয় দেয়ালে ছায়া পড়ে। অনেকরকম ছায়া।

আবার শব্দটি এলো। খুব কাছ থেকে। মেয়েটা চমকে মাথার দিকের দেয়ালে তাকালো। ঘড়ির পেছনদিক হওয়ায় সেখানটায় আবছায়া। কিছু একটা নড়ে উঠলো। শেষ সাহসটুকু নিয়ে মেয়েটি তাকালো সেখানে। আবছায়া হাতরে শব্দটার উৎস খুঁজতে।

আর তখনি পুঞ্জীভূত সব সাহস হারিয়ে মেয়েটির শরীর কেঁপে উঠলো। আছড়ে পড়লো চিলের মতো তীক্ষ্ণ আওয়াজ ঘরের দেয়ালগুলোয় ।

ঘরের সবুজ আলো নিভে গেলো।

' কী হলো তোমার?'

কিঙ্করের স্বরের উৎকন্ঠা বা বিরক্তি ঠাওর করতে পারে না মেয়েটি। শুধু বিছানায় ছাদর আঁকড়ে উপুড় হয়ে মুখ গুঁজে দিল।

ততক্ষণে কিঙ্কর ঘরের আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে। ঝিঁঝিঁপোকার শব্দ করা ঘড়িটার নব ঘুরিয়ে থামিয়ে দিয়েছে। এরপর আলগোছে মেয়েটির মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,

' দেখো, আমার দিকে তাকাও। আমি সব দেয়াল দেখেছি।
কিচ্ছু নেই সেখানে।'

কিঙ্ককের কথায় মেয়েটি আশ্বস্ত হলো কিনা বোঝা গেলো না। তবে দমকে কেঁদে উঠলো। আর কেঁপে কেঁপে বললো,

'কেনো প্রতিটি রাত এমন যন্ত্রণাকর ?'

কিঙ্কর বিপন্ন বোধ করলো। স্ত্রীকে এমন অবস্থায় দেখে। তবুও প্রবোধ দেবার সুরে বললো,

' না, না। আর এমন হবে না। এরপর থেকে রাতে আলো জ্বালিয়ে রাখবো। অন্ধকারে সবাই ভুলভাল দেখে।'

এ কথায় মেয়েটি কতটুকু আশ্বস্ত হলো তা বোঝা গেলো না। তবে মেয়েটির কান্নার বেগ কমে এলো। কেঁপে কেঁপে ওঠা বন্ধ হয়ে গেলো।

কিঙ্কর মৃদূস্বরে বললো, ওঠো। একটু পানি খাও। ভাল লাগবে।

পানি কিঙ্কর নিজেই আনতে গেলো। ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা জলের বোতল বের করতে করতেই সে ভেবে নিলো,

' বড় মামাকে জানাতে হবে ব্যাপারটি।'

আজ নিয়ে বেশ ক'রাত এমন হলো মেয়েটির। প্রথম যে রাতে এটা শুরু হলো সে রাতের কথা স্পষ্ট মনে আছে তার।

সে আর কিঙ্কর সেদিন বাইরে ডিনারে গিয়েছিলো। 'কালারস্ অফ স্পাইস' নামের সদ্য ওপেন হওয়া দামী রেস্টুরেন্ট ছিল সেটি। মেইন খাবারের অর্ডার মেয়েটিই করেছিলো। আর খাবার শেষে ডেজার্টে তিরামিশু ছিল কিঙ্করের পছন্দে।

সে পর্যন্ত সব ঠিক ছিল।

এরপর বাড়িতে ফিরে কিঙ্করের ফেলে রাখা অফিসের কাজ শেষ করার ছিল।

কিঙ্কর বসেওছিল কাজ শেষ করতে বাসায় ফিরে। প্রায় মধ্যরাত তখন। কিন্তু শেষ হয়নি কাজ। খুব মন দিয়ে পাওয়ারপয়েন্টে প্রেজেন্টেশন তৈরী করছে। কম্পিউটারের কীবোর্ডের আওয়াজ ছাড়া আর কিছু নেই। হঠাৎ ঘরগুলোতে আছড়ে পড়লো ভয়ংকর এক চিৎকার। কী হলো, বোঝার জন্য কয়েক সেকেন্ড সময় নিলো কিঙ্কর। তখনই চোখ চলে গেলো বেডরুমের দিকে।

বাতি নেভানো সে ঘরে অন্ধকার গাঢ় নয়, আবছায়া। কিঙ্কর হন্তদন্ত হয়ে ছুটলো সেদিকে।

কিঙ্করের সেদিনের হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসা মেয়েটির মনে পড়ে না। শুধু মনে পড়ে এক অন্ধকার সুরঙ্গ থেকে কিঙ্কর তাকে টেনে বের করে এনেছিলো সেদিন।

'সুরঙ্গ নাকি গুহা?'

কিঙ্করের এই প্রশ্নে মেয়েটি দ্বিধায় পড়ে গেলো। মনে করার চেষ্টা করলো পুরো ঘটনা।

যার শুরুটা এমন ছিল-------

বাইরে থেকে ডিনার করে আসার পরেই কিঙ্কর বসে গয়েছিলো ল্যাপটপে। স্টাডি রুমে। আর মেয়েটি রাতের স্কিন কেয়ার শেষ করে অভ্যাসমতো একটি বই হাতে নিয়েছিলো।

' দ্যা গার্ল বিফোর'

বইটি চুম্বকের মতো টেনে রেখেছিলো তাকে। পড়তে পড়তে কখন যে মধ্যরাত হয়ে গিয়েছিলো বুঝতে পারেনি সে। হঠাৎ খুট করে একটি আওয়াজ হলো। আর বেডসাইড টেবিলের আলোটা দপ করে নিভে গেলো। প্রথমে মেয়েটি অবাক হলো। এরপর একটু দ্বিধা নিয়ে বিছানা ছেড়ে নামলো।

আর তখনি ঘরের সব অন্ধকার ফ্যাকাশে হয়ে গেলো, টেবিল ঘড়ির সবুজ আলোয়। শুধু ঝিঁ ঝিঁ পোকার শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। উঁহু, একটি শব্দ হলো। টিকটিকি ডেকে উঠলো মেয়েটির পেছনের দেয়ালে। সে ঘুরে তাকালো। একটি পেতল রঙের টিকটিকি সেখানে। আর সে টিকটিকি দেয়াল বেয়ে নেমে এলো মেয়েটির পায়ের কাছে। তারপর পায়ের বুড়ো আঙুলের উপর। এরপর.....

এরপর তো মনে নেই। এরপর অন্ধকার একটি গুহা.....

'তাহলে সেটা গুহা ছিল?'

কিঙ্করের প্রশ্নের উত্তর দেবার জন্য মেয়েটি আর নিজের স্মৃতিশক্তিতে জোর দিতে পারলো না।

' তুমি বিশ্বাস করছো না আমার কথা?'

মেয়েটির এই প্রশ্নে কিঙ্করের মুখের সুক্ষ্ম হাসি ফুরিয়ে গেলো। মুখে চিন্তার রেখা ফুটিয়ে বললো,

' কে বললো বিশ্বাস করিনি। করেছি তো। আর বিশ্বাস থেকেই বলছি ওটা স্বপ্ন ছিল। তুমি দু:স্বপ্ন দেখেছো।'

এরপর 'হা হা' শব্দের হাসিটা বাড়ি খেতে থাকে এই এপার্টমেন্টের প্রতিটি দেয়ালে। আর এই হাসির শব্দে এক পা দু'পা করে সরে যায় মেয়েটি কিঙ্করের কাছ থেকে।

সেদিনই শুরু। এরপর প্রায় প্রতিরাতেই মেয়েটি জেগে ওঠে 'খুট' করে হওয়া একটি শব্দে। আর ঝিঁ ঝিঁ পোকাডাকা ঘড়িতে তখন বেজে থাকে রাত দু'টো বেজে দশ।

কিঙ্কর প্রথম প্রথম এই ঘটনাকে উচ্ছহাসি দিয়ে গুরুত্বহীন করে দিতো। এর কিছুদিন পর সুক্ষ্ম হাসি দিয়ে উপেক্ষা করতো। আর তারও পরে অর্থাৎ এখন প্রতিক্রিয়াহীন হয়ে ঘটনাকে মিথ্যে বলছে।

কিঙ্কর জানে প্রতিদিন রাতে একই সময়ে একজন মানুষের একই ঘটনা ঘটতে পারে না।

সে ভাবে, তার স্ত্রী মিথ্যে বলছে।

কিন্তু মেয়েটির এই চিৎকার, এই আতঙ্ক, এই কান্না মিথ্যে নয়। মেয়েটি জানে, রাত হলেই দেয়ালের ছায়াগুলো একটি সুরঙ্গ বানায়। আর সুযোগ পেলেই সেই পেতল রঙের টিকটিকি তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় সুরঙ্গের ভেতর। তার দম আটকে আসে। একটু বাতাসের জন্য আছাড়িবিছাড়ি করে সে।

আর তখনি কিঙ্কর এসে দাঁড়ায় সেখানে। তাকে টেনে বের করে আনে সুরঙ্গ থেকে। সে বেঁচে যায়। কিঙ্কর তাকে বাঁচিয়ে দেয়।

তবে কিঙ্করের এমন মনে হয় না। তার মনে হয়, এগুলো ওইসব থ্রিলার পড়ার দোষ। নয়তো, সারাদিন যে মেয়েটি উচ্ছ্বল, চঞ্চল প্রজাপতি হয়ে উড়ে বেড়ায়, সে কেন রাত হলেই এমন আতংকিত হয়ে পড়বে।

' তুমি এবার থ্রিলার পড়া বন্ধ করো।'

মেয়েটি প্রশ্নহীন চোখ নিয়ে তাকায় কিঙ্করের দিকে। উত্তরে বলে,

' বইকে প্রতিযোগী ভাবার কারণ নেই।'

মেয়েটি জানে শুরু থেকেই কিঙ্কর বই পড়া খুব একটা ভালভাবে নেয়নি। বইয়ের ভেতর ডুব দেওয়াকে কিঙ্কর তাকে ফাঁকি দেওয়া ভাবে।

কিঙ্করের মনে হয় ওই বইগুলোর একটি নিঃস্তব্ধ কুঠুরি আছে। তাকে উপেক্ষা করতেই স্ত্রী প্রবেশ করে সেই কুঠুরিতে । সেখানে কিঙ্করের জায়গা নেই।

উঁহু, তবে আজ সেসব কথা ভাবেনি কিঙ্কর। আজ সে স্ত্রীকে যন্ত্রণামুক্ত করতে চায়। ইচ্ছে করে বাঁধানো এসব রোগ থেকে মুক্ত করতে চায়।

' আমি আগেই তোমাকে বলেছিলাম ও একটু অসুস্থ। তুমি বিশ্বাস করোনি তখন।'

এটুকু বলেই টিভির ভলিউম বাড়িয়ে সেদিক মনোযোগী হয় বড় মামা। কিঙ্করের বাকী কথায় তার আগ্রহ নেই।

' অসুস্থ হলে তো চিকিৎসা করাতে হয়।'

বড় মামি চায়ের কাপ কিঙ্করের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলেন।

বড় মামি মেয়েটিকে দেখছেন কিশোরী বয়স থেকে। বাবা-মা হারিয়ে মেয়েটি যখন তাদের জিম্মায় এলো তখন বয়স চৌদ্দ। মেয়েটি শোকগ্রস্ত হলেও পুরোপুরি সুস্থ তখন। এর কিছুদিন পর আস্তে আস্তে সে শোক কাটিয়ে মেয়েটি এ বাড়িতে উড়ে বেড়াতে শুরু করলো।

' সে সুস্থ, শুধু একটু ভীতু। বাপ-মা হারা মেয়ে তো। অন্ধকার ভয় পায়।'

মেয়েটার জন্য বড় মামির স্নেহসুর অবশ্য কিঙ্কর অব্দি পৌঁছালো না।

' ওসব ভয় না, ওসব রোগ। বংশগত রোগ।'

কিঙ্কর জানে বড় মামার এই ইঙ্গিত তার মৃত শ্বশুরের প্রতি।

এবার বড়মামির প্রতিবাদী সুর মামাকে চুপ করিয়ে দিল।

' উনি ছিলেন সৎ মানুষ। বড় অফিসারদের দূর্নীতি ধরে ফেলেছিলেন। তাই মিথ্যে অপবাদ দিয়ে তাঁকে ছাটাই করেছিল। অপমানে মাথাটা একটু ওলোটপালট হয়ে গিয়েছিলো।'

কিঙ্কর এইগল্প অনেক শুনেছে তার স্ত্রীর কাছে। এসবে তার আগ্রহ নেই। সে এসেছে তার স্ত্রীর গার্ডিয়ানদের পরামর্শ নিতে।

' আরেহ্! পরামর্শ আবার কী? একটু ভয় পেলেই কী তাকে অসুস্থ বলা যায়? ও সুস্থ।'

বড় মামি চায়ের কাপ নিয়ে হনহন করে ভেতরে চলে গেলেন। বড় মামা গভীর মন দিয়ে রাত ন'টার নিউজ দেখছেন।

' আজ ইরানের এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের একটি যাত্রীবিমান বিধ্বংস হয়েছে।'

কিঙ্কর উঠে দাঁড়ালো বাড়ি ফেরবার জন্য। বড় মামাকে পিছনে ফেলে দরজার নব ঘোরালো খোলার জন্য।

' এসব অসুখ চিকিৎসায় ঠিক হয় না।'

আচমকা শব্দগুলো ছুটে এলো। কিঙ্কর হুট করে ঘুরে তাকাতে গেলো। আর তখনি তাড়াহুড়োতে পাশের কর্ণার টেবিলে থাক্কা খেলো।

টেবিলে সাজানো কিছু শোপিস নীচে পড়ে গেলো।

বড় মামা তখনো মন দিয়ে খবর শুনছেন।

না, তার স্ত্রী আগে থেকে অসুস্থ ছিল না, কিঙ্কর জানে। বিয়ের আগে যে ক'বার দেখা হয়েছে তাতে তার স্ত্রীকে একজন সুশিক্ষিত, রুচিশীল মেয়ে বলেই মনে হয়েছে।

কিঙ্কর তার রুচিশীল স্ত্রীর জন্য একগুচ্ছ দোলনচাঁপা ফিরলো আজ।

দোলনচাঁপার আড়ালে থাকা কিঙ্করের ভালবাসা মেয়েটির ভাল লাগে।

মেয়েটি রাতের খাবারের টেবিলে সারাদিনের গল্প বলে কিঙ্করকে। অফিসের গল্প, শপিং এর গল্প।

কিঙ্কর দেখে তার স্ত্রী আর পাঁচটা সুস্থ মানুষের মতোই। তার গল্প বা আচরণে কোনো অসংলগ্নতা নেই।

কিঙ্কর নির্ভার হয়।

মেয়েটি জানে তার এই নির্ভার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। মধ্যরাতের দিকে সে নির্বোধের মতো এগিয়ে চলেছে।

' টিকটিকির রঙ কি ছিল?'

মেয়েটি অবাক হয় কিঙ্করের প্রশ্নে। তবুও স্মৃতিতে জোর দেয়।

' পেতল রঙের '

'সত্যি বলছো? রঙটা ঠিকঠাক মনে করতে পারছো তো?'

মেয়েটি কিঙ্করের দিকে গভীরভাবে তাকায়।

কিঙ্করের চোখ মাটির দিকে। কিঙ্করের ভেতর কোনো অসহিষ্ণুতা নেই। খুব শান্তভাবে আবার প্রশ্ন করে,

' তোমার এই অসুখটা কতদিনের?'

মেয়েটির মনে হলো কিঙ্কর তার দিকে তাকাতে গিয়েও চোখ নামিয়ে নিলো।

মেয়েটি ভাবতে শুরু করলো। খুঁজে বের করতে চেষ্টা করলো একদম সঠিক সময়। বয়স তখন বারো নাকি তেরো ছিল? মেয়েটি ভাবনায় ডুবে গেলো।

কিঙ্কর তাকালো তার স্ত্রীর দিকে। আশপাশের রাস্তা থেকে দু'একটি গাড়ির হর্ণ, বসার ঘরের টিভির একঘেয়েমি টক শো আর শোবার ঘরের ঘড়িটার ঝিঁঝিঁ ডাক----এই সব স্বাভাবিকতার মধ্যে তার স্ত্রীকে খুব অস্বাভাবিক মনে হলো। আর তা এখনই প্রথম মনে হলো।

মেয়েটি ঘেমে উঠছে। অন করা এসি রুমেও সে ঘেমে উঠছে। মেয়েটি কিছুতেই মনে করতে পারছে না তখন তার বয়স বারো নাকি তেরো?

কিঙ্কর তার স্ত্রীকে ভাবার সুযোগ দিয়ে খাবার টেবিল থেকে উঠে এলো। মোবাইল থেকে ফোন নম্বরটা বের করে কার্ডের সাথে মিলিয়ে নিলো।

আগামীকাল ফোন করে সাইক্রিয়েটিস্টের এপোয়েন্টম্যান্ট কনফার্ম করতে হবে।

মেয়েটির ভেতর অস্থিরতা বাড়ছে। তখনকার বয়সটা ঠিকঠিক মনে করতে পারছে না। শুধু মনে পড়ছে বড় মামার বিশাল ওই বাড়িতে তারা মাত্র তিনজন ছিল। না, ভুল হলো। অধিকাংশ সময় বড় মামা বাইরে থাকতো। চাকরির জন্য। সপ্তাহে একবার আসতেন। যখন আসতেন বড় মামি সবসময় মামার সাথে সাথে থাকতেন।

তবে এই সাথে থাকার ব্যত্যয় হয়েছিলো একবার। বড়মামির মা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি তখন। একমাত্র মেয়ে বড়মামি। তাই মায়ের সেবা করতে হাসপাতালে রাতে থেকে গিয়েছিলেন।

আর সেদিন রাতেই বড় মামা তাকে ডেকেছিলেন বসার ঘরে। পড়াশুনার খোঁজখবর নিতে। টিভিতে তখন রাত দশটার খবর হচ্ছিলো।

সেদিন টিভির আওয়াজ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশী।

মেয়েটি সব মনে করতে পারছে, শুধু বয়সটা মনে আসছে না তার। কত বয়স হবে তখন বারো নাকি তেরো?

কিঙ্কর ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালো। ঘাড় ঘুরিয়ে একবার তার স্ত্রীকে দেখলো। বোঝার চেষ্টা করলো নতুন কোনো অসংলগ্নতা। দেখলো, তার স্ত্রীর কিছু বিড়বিড় করছে আর মাথা নাড়ছে।

কিঙ্কর নিশ্চিত হলো। তার স্ত্রী আগে থেকেই অসুস্থ ছিল।

মনের সবটুকু দ্বিধা দূর হতেই কিঙ্কর গুনগুন করে উঠলো,

' লেটস স্ট্যা টুগেদার.....'

এরপর পকেট থেকে বের করে আনে একটি টিকটিকি। পেতলের টিকটিকি।

এটি কিঙ্কর পেয়েছে বড় মামার বসার ঘরের কর্ণার টেবিলে।