সময়ের ভাষ্য

সুমন্ত পাল

২০২০ সালে দাঁড়িয়ে আছি।। বুকে এই সময়ের কথা, মনে সেই সময়ের ভাবনা। চারিদিকে যুদ্ধ, মহামারী, দেশভাগ, সমাজ সংস্কার কিছুই নেই। বাংলা ভাষার প্রান্তিক অবস্থান দপদপ করছে। আমি বিভূতিভূষণ পড়ি, আমার ছেলে পড়ে না। এই সময়ের ভাষ্য?

এই ‘পড়ে না’ থেকেই শুরু আমার উজান পথ। সমগ্র ভারতবর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেকে দেখা। দেখার শুরু। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা এতটাই করুণ, বলে বোঝানো যায় না। এখন এর নাম ‘বেঙ্গল’ করতে চান অনেকে। নাম বদল হলে কি আত্মার সুগতি হবে। এই বাংলায় স্বস্তি নেমে আসবে?

এই হল প্রশ্ন। যেভাবে, আ কোয়েশ্চেন ইজ আ কোয়েশ্চেন ইজ আ কোয়েশ্চেন – অনির্দিষ্টকাল উচ্চারণ অব্দি। আমি পারিবারিক বিরোধে প্রলেপ দিলাম। একমাত্র ছেলে ভর্তি হল ‘জুলিয়ান ডে স্কুল’-এ। সেখানে বাংলা হল দ্বিতীয় ভাষা। কিন্তু আমি তো বাংলাকে প্রথম ভাষা হিসেবে চেয়েছিলাম। উত্তপ্ত ছিলাম, উদ্দীপ্ত ছিলাম। কোথায় গেল সেই উত্তাপ, সেই উদ্দীপনা।

আমি তো বাংলা পড়ি। আমি বাংলা পড়াবো - কখন? আমার জ্বর এল সেইদিন থেকে। ম্যালেরিয়ার মতন ঘুরে ফিরে আসা জ্বর। সাময়িক ছাড়ে, কিন্তু সারে না। আমি মধ্যমগ্রামে থাকি, আমার পরিচিতরা কেউ বাংলা পড়ে না। জ্বর গায়ে আমি কারোর সঙ্গে কথা বলতে পারি না। একমাত্র মুরলীদার সঙ্গে কথা হয়। এই স্নেহশীল দাদা চিঠি লেখেন, বনগাঁ লাইনের মধ্যমগ্রামেই থাকেন।

প্রিয় মুরলীদা,
আজ তোমার চিঠি পেয়ে জ্বরজ্বর মনটা বেশ একটু ঝরঝরে হয়ে উঠল। দুটো কথাতেই তোমার যে প্রীতি উপচে পড়েছে, তা আমার হৃদয়-দেশ পর্যন্ত গড়িয়ে এসেচে! দিন ছয়েক থেকে ১০৩, ৪, ৫ ডিগ্রি করে জ্বরে ভুগে আজ একটু অ-জ্বর হয়ে বসেছি। পঞ্চাশ গ্রেন কুইনাইন মস্তিষ্কে ঊনপঞ্চাশ বায়ুর ভিড় জমিয়েছে। আমার একটা মাথাই এখন হয়ে উঠেছে দশমুণ্ড রাবণের মতো ভারি, হাত দুটো নিশপিশ করছে – সেই সঙ্গে যদি বিশটা হাতও হয়ে উঠত। তাহলে আগে দেবতাগুষ্ঠির নিকুচি করে আমাদের ভাঙা ঘরে সত্যিকারের চাঁদের আলো আসে কি-না দেখিয়ে দিতাম। মুশকিল হয়েছে মুরলীদা, আমরা কুম্ভকর্ণ হতে পারি, বিভীষণ হতে পারি – হতে পারি নে শুধু রাবণ। দেবতা হবার লোভ আমার কোনো দিনই নেই – আমি হতে চাই তাজা রক্ত মাংসের শক্ত হাড্ডিওয়ালা দানব-অসুর! দেখেছ কুইনাইনের গুণ!... [১]

চিঠি? ওহ্‌, আপনি বুঝি আর চিঠি দেন না। পান না কারোর। আমি কিন্তু চিঠি দিই।

আমার ‘সময়ের ভাষ্য’-এর প্রথম প্রস্তাব। একটা মাথা নিয়ে আমি আর পারছি না। আমি জ্বরহীন আরও মাথা চাই। পারলে দশটাই। জ্বরটা ভাগ হয়ে গেলে যদি কমে যায়!



সেও এক ‘মে’ মাস। কমিউনিস্ট বঙ্গে ‘মে’ মাসের প্রভা –চারিদিক লাল। এই লাল তো আমাদের জন্মের পরের ব্যাপার। তার আগে ‘মে’ মাস ছিল না?

সেই এক ‘মে’ মাসে - ১৯৪৭ সাল -সোহরাওয়ার্দি, শরৎচন্দ্র বসু এবং আবুল কাশেম স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য শেষ চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। সোহরাওয়ার্দি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিনিয়ত ভুল ব্যাখাত হচ্ছেন, দিল্লিতে কেন্দ্রীয় কংগ্রেসের হাতে এবং এদেশে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির হাতে। জিন্নার দ্বিজাতি তত্ত্বের ভূত ঘাড়ে বয়ে বেড়াচ্ছেন।

১২ দিনের বইমেলা শেষ হল করুণাময়ীর সেন্ট্রাল পার্কে। ছেলেকে বললাম, তোকে কলকাতা বইমেলা নিয়ে যাবো। রাজি হল। কি বই চাস? জুলিয়ান ডে বলতে পারল না। হয়ত, আমার ছেলেটা অত স্মার্ট নয়।

২রা মে ১৯৪৭, বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির সভাপতি সুরেন্দ্রমোহন ঘোষ বিবৃতি দিলেন, ‘বিভক্ত ভারতে যা অসম্ভব তা হল অবিভক্ত বাংলাদেশ।’ [২]

৭ই মে ১৯৪৭, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তারবার্তা পাঠালেন লর্ড লিস্টওয়েল, সেক্রেটারি অফ স্টেট ফর ইণ্ডিয়া-র কাছে – ‘আমাদের দাবী অন্তর্বর্তী সময়কালে এখনই দুটো আঞ্চলিক মন্ত্রীসভার গঠন করতে হবে।’ [৩]
কলকাতার প্রথম সারির বুদ্ধিজীবীরা উঠে পড়ে লাগলেন, সুবিশাল বেঙ্গল প্রভিন্স থেকে বেঙ্গলকে কেটে বের করে নেওয়ার জন্য। এক ক্ষুদ্র আঞ্চলিক রাজ্যে পরিণত করার জন্য। স্যার যদুনাথ সরকার, ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার, ডঃ মেঘনাদ সাহা, ডঃ শিশির মিত্র এবং ডঃ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় এঁরাও একযোগে তারবার্তা পাঠালেন লর্ড লিস্টওয়েলকে, ঐ একই দিনে। একই বার্তা, আরও জোরালো ভাষা – ‘উই স্ট্রংলি সাপোর্ট দি ইমিডিয়েট ফরমেশন অফ আ সেপারেট ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রভিন্স...’ [৪]

ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রভিন্স? এতদিনে আমরা বুঝে গেছি, বেঙ্গল-এর ওয়েস্ট চাই, সাথে আবার প্রভিন্সের গরিমাও চাই – এই চাওয়ার মধ্যে কতখানি অবুদ্ধি, কতখানি অসহিষ্ণুতা, কতখানি অদূরদর্শিতা।

স্বাধীনতা লাভের পনেরো বছর পরে হিন্দী রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গৃহীত হবে এই সংকল্প ভারতীয় সংবিধানে গৃহীত হল – ১৯৪৭ সালের মে মাসে কেউ এর আন্দাজ পায় নি। যদি হিন্দী রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গৃহীত হয়, তাহলে প্রাদেশিক শুধু নয়, নিতান্ত আঞ্চলিক হয়ে পড়া ভাষা সংস্কৃতিগুলোর কি হবে - কেউ আন্দাজ পায় নি।

রাজশেখর বসু ১৯৫১ সালে লিখলেন,‘দুটির জায়গায় তিনটি ভাষা শিখতে হবে এতে ভয় পাবার কিছু নেই।’ [৫] তোমরা সবাই শুনলে তো। হ্যাঁ হ্যাঁ, শুনলাম। এবারে কি করতে হবে? কেউ কিছু বলতে পারল না। হয়ত, তখন আমরা অত স্মার্ট হই নি। তাহলে এখন, আমরা কি করে স্মার্ট হব, আমাদের রামা শ্যামারা কি করে স্মার্ট হবে!

আমার ‘সময়ের ভাষ্য’-এর দ্বিতীয় প্রস্তাব। শান্তিনিকেতন ঘুরতে গিয়ে ‘হিন্দি ভবন’ বিল্ডিংটা শুধু একটা দর্শনীয় বাড়ি না ভাবি। কিছু ভাবনা এলেই পরশুরামের মতন ফুঁসে ওঠা বদঅভ্যাস। অত কুঠারের সাপ্লাই পুরাণেও ছিল না, আজও নেই।



আজকের সময়ের মধ্যে যে যন্ত্রণা লুকিয়ে আছে, তা প্রবাহিত হয়ে আসছে আমাদের জন্মের আগের সময় থেকে। আমার বইয়ের টেবিলে সারি দিয়ে ওঠা বই, কে পড়বে? বইয়ের র‍্যাকে ঠাসা বইপত্তর, কে ধুলো ঝাড়বে? কানে আসছে লিটল ম্যাগাজিনের মৃত্যুঘন্টা। কে বলছে, নিশ্চয়ই ভুল শুনছি। আচ্ছা, তুইও কি একইরকম শুনছিস, আমাকে বলতো?

এই হল প্রশ্ন। একক এবং নিরুত্তর। যেভাবে, আ কোয়েশ্চেন ইজ আ কোয়েশ্চেন ইজ আ কোয়েশ্চেন – সেইভাবে অনির্দিষ্টকাল উচ্চারণ অব্দি।

সেও ছিল এক ‘মে’ মাস, যখন রবি ঠাকুর দীর্ঘ নীরবতা ভঙ্গ করে [৬] লিখলেন, ‘আমাদের নিজের দিকে যদি সম্পূর্ণ ফিরিয়া দাঁড়াইতে পারি, তবে নৈরাশ্যের লেশমাত্র কারণ দেখি না। বাহিরের কিছুতে আমাদিগকে বিচ্ছিন্ন করিবে এ কথা আমরা কোনোমতেই স্বীকার করিব না।’(বঙ্গবিভাগ / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) [৭]

এই প্রবন্ধটি একটি না-প্রবন্ধের উদাহরণ। ১৯০৪ সালে লেখা বঙ্গবিভাগ-এর ঢেউ ১৯৪৭ সালে কেউ জানত না। স্যার যদুনাথ সরকার জানত না, ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার জানত না, ডঃ মেঘনাদ সাহা জানত না, ডঃ শিশির মিত্র জানত না এবং ডঃ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় জানত না। ১৯৪১-এর পরে রবীন্দ্রনাথ আর নেই। না জানার ব্যাপারটা সহজ।

আজও আমরা না জেনে চলছি। না জেনে চলা সহজ।

আমরা সহজ পথে চলছি। আমরা নিয়ম মেনে চলছি। নিয়মটা হল, দুটো ভাষার উপর নির্ভর করে চলা। রাজশেখরটা কে, যে তিনটে ভাষার কথা কইছিল? ইংরেজির প্রতাপ তো ছিলই, যোগ হল সুবিপুল হিন্দী বলয়ের প্রতাপ। সংবিধান সম্মত হিন্দির আঁচ আঞ্চলিক ভাষার গায়ে এসে লাগল অহোরাত্র। বাংলা ভাষার অনাদর ও অবহেলা ঘুরছে, কখনও অবহেলা আগে, কখনও অনাদর আগে।

এই ঘুরপাক তো চলবেই, ‘কোনোমতেই স্বীকার করিব না’-কে আমরা তুড়ি মেরেছি। আমরা আঞ্চলিক হতে জানি এবং পারি, আমরা প্রান্তিক হতে জানি এবং পারি। আমরা পেরেছি। আমরা গায়ে ছাই মেখে দেখিয়ে দিচ্ছি কি করে আস্ত ঘুঁটেকে ভ্যানিশ করতে হয়। নেক্সট, কি করে ভুলতে হয়। জাতি হিসেবে এ আমাদের এক উজ্জ্বল অর্জন।

আমার ‘সময়ের ভাষ্য’-এর তৃতীয় প্রস্তাব। মাভৈঃ!



নিজের ছেলেকে বই কিনে দিতে না পারা কি বেদনার? ভরা বইমেলায় দাঁড়িয়ে কথাটা মাথায় এল, অতর্কিতে। আমি কি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছি ওকে বই কিনে দেবার? আমি কি চমকে উঠলাম। আমার দ্বিচারিতা আমাকে চোখের আড়াল করে না।

‘এ কথা কোনোমতেই বলিব না যে গবর্মেন্ট একটা কী করিলেন বা না করিলেন বলিয়াই অমনি আমাদের সকল দিকে সর্বনাশ হইয়া গেল -’ [৮]

এখন তবে অন্যের ছেলেকে বই কিনে দিয়ে শান্তি। তাকে বিভুতিভূষণ পড়িয়ে, তার কাছে বিভূতিভূষণ শুনে আমার আনন্দ। হে দ্বিচারক, অন্য উপায় কি। উপায় আছে, ভুলে যাওয়া। ছেলের কাছে সত্যি, মিথ্যে, কাহিনী, কল্পনা সব মুছে দিয়ে ভুলে যাওয়া।

বইমেলা থেকে ঘুরে এসে হাত পা ধুই নি। ছাদের রেলিং-এ হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। তরিকা ভাবছি, কিভাবে এই সময়ের ভাষ্যকে ধরব।

দেখতে পাচ্ছি, ১৯৪২ সালে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে নজরুল মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। লুম্বিনী পার্ক ও রাঁচির হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যর্থ হল। কথা বলা কমে গেল, লেখনী স্তব্ধ হয়ে গেল। এই স্তব্ধতার মধ্যেও তাঁকে ভুলে থাকা গেল না, ১৯৬০ সালে ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ উপাধি দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করল। কিন্তু ভারত সরকার সম্মান দেখালে কি হয়, আমরা ভারত সরকার নই। আমরা নির্বিকার। আমরা ভুলে থাকি। ১৯৭২ সালের ২৪শে মে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রভিন্সের প্রতিরোধহীন, প্রতিবাদহীন কলকাতা থেকে নজরুলকে নিয়ে চলে গেলেন ঢাকায়।

সেই শুরু হয়েছে চলে যাওয়া। আজও চলে যাওয়া চলছে। যা কিছু বাংলা অতি ধীর ও নিশ্চিন্ত গতিতে চলে যাচ্ছে ঢাকায়। তিনি নিয়ে-চলে-যাওয়ার প্রতীক, তিনি শেখ মুজিবর রহমান। এ বছর তাঁর জন্ম শতবর্ষ।

ছাদে হিম পড়ুক, মাথায় ঠাণ্ডা লাগুক, আমাকে কেউ ডাকে না। চলে যেতে হলে স্বেচ্ছায় যেতে হবে। ছাদের রেলিং-এ হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। তরিকা ভাবছি, কিভাবে এই সময়ের ভাষ্যকে ধরব।

আমার ছেলেকে আজও জানাই নি আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নাম।




##

১। নজরুল ইসলামের লেখা চিঠির প্রথমাংশ। হুগলী, ২৫ নভেম্বর ’২৫।
এই চিঠি মাসিক ‘কালিকলম’ পত্রিকার অন্যতম সম্পাদক মুরলীধর বসুকে লেখা। (নজরুলের পত্রাবলি, সম্পাদনাঃ শাহাবুদ্দীন আহ্‌মদ, নজরুল ইনস্টিটিটিউট, ঢাকা। প্রথম মুদ্রণঃ ১৯৯৫।)

২। Dr. S P Mookherjee’s rejoinder to Suhrawardy and Statement by Surendra Mohan Ghosh in Statesman, Friday, 2 May, 1947, p.8 ‘...An undivided Bengal in a divided India is an impossibility. ...’
সূত্রঃ স্বাধীন বঙ্গভূমি গঠনের পরিকল্পনা প্রয়াস ও পরিণতি / অমলেন্দু দে, পৃ ৫৩ (১ম সং ১৯৭৫, ১ম বিগ বুকস সং ২০১৭)
৩। Dr. S P Mookherjee’s Cable to Lord Listowel, in Statesman, Thursday, 8 May, 1947, p.8 সূত্রঃ ঐ
৪। Cable to Lord Listowel by Sir Jadunath Sarkar and others, in Statesman, Thursday, 8May, 1947, p.8 সূত্রঃ ঐ
৫। ‘বাঙালীর হিন্দীচর্চা’, প্রবন্ধাবলী / রাজশেখর বসু, পৃ ১৪৯ (মিত্র ও ঘোষ, ১ম সং ২০০১)
৬। লেফটেনান্ট গবর্নরের অধীন বাংলাকে বিভক্ত করার উদ্দেশ্যে রিজলে-পেপার প্রকাশিত হয় ৩ ডিসে ১৯০৩ (১৭ অগ্র ১৩১০)।
৭। বঙ্গবিভাগ / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৩১১ / ১৯০৪, রবি ২ জ্যৈষ্ঠ-১৫ই মে সংখ্যা ‘বঙ্গদর্শন’, সাময়িক প্রসঙ্গ।
‘বঙ্গবিভাগ’ প্রসঙ্গে ‘রবিজীবনী’-তে প্রশান্তকুমার পাল বলেছেন, ‘‘বঙ্গবিভাগ’ ও ‘য়ুনিভার্সিটি বিল’ দুটি বিষয়েই তিনি নিজস্ব মত ব্যক্ত করলেন ‘সাময়িক প্রসঙ্গ’-এর আকারে। জাতীয় জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাববিস্তারকারী দুটি প্রস্তাবকে ‘সাময়িক’-রূপে চিহ্নিত করা ও ‘বঙ্গবিভাগ’ প্রবন্ধটিকে ১৩১৫-এর প্রকাশিত ‘সমূহ’ বা অন্য কোনো গদ্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত না করাও কম আশ্চর্যের নয়।’ (রবিজীবনী ৫ম খণ্ড, পৃ ১৮৬)
৮। বঙ্গবিভাগ / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৩১১ / ১৯০৪, রবি ২ জ্যৈষ্ঠ-১৫ই মে সংখ্যা ‘বঙ্গদর্শন’, সাময়িক প্রসঙ্গ।