উদ্ভ্রান্ডু

তামিমৌ ত্রমি

উদ্ভ্রান্ডু যদি তার পেট খসানো মা কর্তৃক ডাস্টবিনে পরিত্যক্ত না হোত, মাসিকের ন্যাকড়া তার নাকের উপর পড়ে যাওয়ায় যদি সে না কেঁদে উঠতো, ভিখিরি লোচ্চা দাদু যদি তাকে আবিষ্কার না করত, ভিখিরি দাদু যদি তাকে দেখিয়ে দু চার পয়সা বেশি না কামাত এবং এভাবেই ভিখিরি দাদুর বরাত খুলিয়ে, নিজেকে তার ঘাড়ে ঝুলিয়ে বুদ্ধি, অন্ডকোষ তিলে তিলে বাড়িয়ে ক্রমে ডাস্টবিনের জীব না হয়ে যেত, তাহলে সে ঠিক টের পেতো, তার এনোসমিয়া আছে। সে নাকে কোন কিছুর গন্ধ পায় না। যেমন এই মুহুর্তে সে ডাস্টবিনে চারটে কুকুরের সঙ্গে যাবতীয় হাড়ের বোঝাপড়া সেরে দাশগুপ্তদের বাড়ির ছোট ডবকা ছুঁড়ির জন্মদিনের বাড়তি এঁটো ফেলে দেওয়া বিরিয়ানির ভাত খাচ্ছে। দুটো বিরিয়ানির আলু কুকুরের হাগার পাশেই গড়িয়ে পড়েছিল। উদ্ভ্রান্ডু অনায়াস অলৌকিকতায় তাদের একটা তুলে চেখে নিতে নিতে দেখল, ঝ্যাঁটা হাতে কুলো নিয়ে একদল মুখে রুমাল বাঁধা লোক তার সামনে মোবাইলে উত্তেজিত কথা বলতে বলতে মোড়ের মাথায় অদৃশ্য হয়ে গেল। কুকুররা ততক্ষণে দারচিনি শুঁকে ছ্যা ছ্যা করতে শুরু করেছে। হাগার পাশ থেকে দ্বিতীয় আলুটা নিয়ে যেই উদ্ভ্রান্ডু কামড় দিতে যাবে, অমনি সিঁথি পাতলা হয়ে আসা উদ্ভ্রান্টি আর মাংকিক্যাপ উদ্ভ্রাঙ্কল বাজারের বস্তা হাতে দুপুরে ফুলকপির ডালনা হবে না ছানার ডালনা - এই মর্মে পাড়া মাথায় করতে করতে ক্ষয়াটে নিম গাছের ছায়ায় ঢেকে যাওয়া তিনশো বছরের লাল রঙ্গের বাড়িটায় গজগজিয়ে ঢুকে দড়াম দরজা বন্ধ করে দিল, মহাকালের উপর।
আসলে উদ্ভ্রান্ডু যেহেতু এবং বস্তুতঃ উদ্ভ্রান্ডু, তাই সে জানে না উদ্ভ্রান্টি আর উদ্ভ্রাঙ্কেলেরও তার মতো এনোসমিয়া আছে। ভালো দিন, খারাপ দিনের গন্ধ তাদের নাকে ঢোকে না।
উদ্ভ্রান্ডু যেহেতু উদ্ভ্রান্ডু, তাই সে টের পেল না, একটু বাদেই ফুলকপি ভাজার গন্ধে গোটা পাড়া ম ম ঘনিয়ে উঠল।