না পাঠানো চিঠি

তমাল রায়

ওয়ান ফুল মুন নাইট উই ওয়ার অন দ ওয়ে ব্যাক হোম ফ্রম শ্রীনগর। ওয়াজ ইট ‘কোজাগরী’? দ্যাট ওয়াজ আ পূর্ণিমা। সক্কাল হতেই দৌড়ে গেছিলাম শ্রীনগর। ফর দি রিজন আই কান্ট রিমেম্বার নাও! মম ইনফর্মড আজ কোজাগরী পূর্ণিমা। আই স্টার্টেড ডিস্টার্বিং হার। কে কোজাগরী? কেন সে কোজাগরী? হু ইজ লক্ষ্মী? নিউ সি ইজ দ গডেস অব প্রসপারিটি এণ্ড ওয়েলথ। সো আই রিকুয়েস্টেড হার টু গিভ মি আ লক্ষ্মী ঠাকুর। কাশ্মীরে বসে লক্ষ্মী ঠাকুর চাই এ আবদার বোধ হয় শবনমই কেবল করতে পারে! আম্মি স্টিল ট্রায়েড। ফাইনালি গেটিং বোরড। চাইলেই কি আর পাওয়া যায়! সে তো আমিই জানি আজ! ফাইনালি উই গট ইট ফ্রম আ বেংগলি দুকানদার,হু হ্যাড আ গ্রসারি শপ বাই দ সাইড অব ন্যাশনাল হাইওয়ে। তার দুটো ছিলো৷ একটা দিয়ে দিলো। বললো দ্যাট ওয়াজ অব টু ইয়ারস ব্যাক। কাঁদছিলাম যে আমি৷,তার কি মনে হওয়াতেই দিয়েছিল। আম্মি সেটাকে লুকিয়ে ব্যাগে ভরে নিলো। দেন আই স্টপড। আর কিসব যেন স্টোরি আছে লক্ষ্মী পুজো নিয়ে! ডু ইউ নো? এট দ্যাট কোজাগরী নাইট না'কি ফেয়ারি নেমে আসে পৃথিবীর বুকে। আমাদের সেদিন ফিরতে দেরী হয়ে গেছিলো। তখন রাস্তা এখনকার মত ভালোও না। ড্রাইভার কাদের ভাই বহুত তাড়া দিচ্ছিলো। ফিনালি হোয়েন উই স্টার্টেড চাঁদ উঠেছে৷ ইটস মার্ভেলাস ভ্যালি অন দ ফুল মুন নাইট। ইট অটোমেটিকালি বিকামস দ ফেয়ারি ল্যান্ড। আর আমার আবার আবদার শুরু! আম্মি ফেয়ারি দেখাও তবে! কী মুশকিল! আমি খুব ন্যাগিং ও ছিলাম ইন মাই চাইল্ডহুড । আম্মি কোনো রকমে এদিকে ওদিকে আমার এটেনশন ডাইভার্ট করিয়ে দিত! সেদিন আম্মি পারেনি! আমিও স্মার্ট এনাফ! কিছুতেই ভুলিনা। আম্মি এদিকে দেখায় বলে দেখতো আছে কিনা! নো সি ইজ নট দেয়ার! এগেইন এমনটাই। এ করতে করতে যখন বারামুল্লা ঢুকবো,ন্যাশনাল হাই ওয়ে থেকে। সত্যি সত্যি ফেয়ারি এসে পড়লো আমাদের সামনে! সি ওয়াজ ফুললি কাভারড ইন হোয়াইট ড্রেসেস। মাথার চুল খোলা। আই ওয়াজ সো এক্সাইটেড। আম্মিকে জাপটে ধরেছি। হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে ফেয়ারি। সি ইজ পারফেক্টলি আ গডেস। বাট ওয়াজ ক্রাইং। সে কী কিছু বলতে চায়? আম্মি ইনস্ট্রাকটেড কাদের ভাই টু স্টপ দ কার। কাদের ভাই কিছুতেই শুনবে না। বলছিলো ভাবী ইটস ইহা রুকনা সহি নেহি! আম্মি আর আমি নামলাম। আমি ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছিলাম ফেয়ারিকে। বাট ফেয়ারি ওয়াজ রিকুয়েস্টইং উইদ ফোল্ডেড হ্যান্ডস টু সেভ হার! পেছন পেছন কতগুলো জওয়ান দৌড়ে আসছিলো। সেটা পরে বুঝলাম। আম্মি প্রেজেন্স অব মাইণ্ড কাজে লাগিয়ে ফেয়ারি কে গাড়িতে তুলে নিলো। আমি ফেয়ারিকে জিজ্ঞেস করছিলাম তুমি কি করে আকাশ থেকে এলে। তুমি এত সুন্দর কী করে! ব্লা ব্লা! আর জানো,ঘটনা চক্রে সে ফেয়ারির নাম ও লছমী। লছমী বাঈ! ডোন্ট থিংক অল বাঈ আর বাইজিস। সিপয় মিউটিনির লছমী বাঈ কি বাইজি ছিলো? উঁহু! এই লছমীকে জওয়ানরা কোথা থেকে উঠিয়ে এনেছিলো টু এনজয়। বিফোর গ্যাং রেপ সাম হাও সি এসকেপড। সেকথা সেদিন বুঝিনি। পরে বুঝি। পরে তাকে আম্মি বারামুল্লা থানায় হ্যান্ডওভার করলো। আব্বা তখন আই পি এস অফিসার। সো উই ইউজড টু গেট রেসপেক্ট বাই দ সাবোর্ডিনেটস। বাট লছমী ফেয়ারি বারবার অনুরোধ বলছিলো নট টু হ্যান্ডওভার টু পোলিস। মা শোনেনি৷ আমি খুব রেগে গেছিলাম মার ওপর! স্টপড টকিং উইদ আম্মি। আম্মি পরে বোঝালো যে এটা হয় না। এনিওয়েজ আম্মি ওয়াজ টু ভেরি কারেজিয়াস। পরে আব্বা বাড়ি ফিরলে আম্মিকে কনগ্রাচুলেট করেছিল। আমাদের এ দেশে বোধহয় লক্ষ্মীরা এভাবেই কাঁদে তাই না?

এখন তো তোমাদের দুর্গাপুজো চলছে,তাই না? লক্ষ্মী পুজো কবে? এজ ফার আই নো দুর্গাপুজোর ক'দিন পরেই একটা পূর্ণিমায় হয়। এণ্ড দ্যাট পূর্ণিমা ইজ কলড কোজাগরী পূর্ণিমা। এম আই রাইট? হোয়েন আই ওয়াজ কিড,আম্মির কাছে তোমাদের কলকাতার গল্প শুনতাম। দেয়ার ওয়ার সো মেনি বাঙাল এণ্ড বেংগলি ফ্রেণ্ডস অব মম ইন কলকাতা। ইজ বাঙাল এন্ড বেংগলিজ আর সেইম? হোপ সো! মার সাথে স্কুলে একসাথে পড়ত। তাদের বাড়িতে আম্মিকে ইনভাইট ও করতো লক্ষ্মীপুজোর ভোগ খিচুড়ি পায়েস কি কি সব খেতে। ইউ বেংগলিজ আর ভেরি লিবারাল ইন থিংকিং। উই ডু এপ্রিশিয়েট ইট ভেরি মাচ! আই এপ্রিশিয়েট ইউ টু! হোপ ইউ অল আর এনজয়িং ফেস্টিভাল। বাট আমরা পারিনি ইন লাস্ট ঈদে। ইন ফ্যাক্ট আমাদের আর ফেস্টিভাল কই! আমরা তো মানুষই নই! তোমরা স্বাধীন! বাট উই আর কেজড ফর আ লং লং টাইম। যদিও আমার শৈশবও কেটেছে তোমাদেরই মত! কবাডি, ইউ কল হাডুডু, এম আই রাইট? গোল্লাছুট, রুমাল চোর, আহ দোজ ওয়ার দ গোল্ডেন ডেজ মাই ডিয়ার! তোমার কাছে যখন কলকাতার গল্প শুনতাম ক'মাস আগেও। আই ইউজড টু রিউইন্ড মাই ডেজ টু! আই রিকল - জামাইকান ফেয়ার ওয়েল। হ্যারি বেলা ফল্টে!
‘ডাউন দ ওয়ে হোয়ার নাইটস আর গে, হোয়ার সানসাইন ডেলি অন দ মাউন্টেন টপ’ ৷ শুনবে আমাদের কথা? আমাদের এই ঝিলম নদীর ধারের কথা! তাহলে বলি!
বোরার মূলার। বোর মানে বন্য শূকর। আর মূল মানে দ অরিজিন! বোরার মূলার থেকেই নাকি বারামুল্লা। মানে ওয়াজ ইট দ প্লেস ফর বুনো শূয়োর? জানিনা! অবশ্য উই সারভাইভ লাইক পিগস! ইট ইজ ফ্রম স্যাংস্কৃট। বাট আই থিংক ইট ইজ ব্রহ্মাজ প্লেস। ইৎ ইজ হিজ মূলাধার। স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা এ তল্লাটে বাস করতেন! এ জায়গাটাই বা কৈলাস নয় কেন? ইফ ইট ইজ দ প্লেস লে লাদাখ,হাও ফার ইট ইজ ফ্রম কাশ্মীর? এরাউন্ড ৪০০ কিমি। দ এরিয়া ইজ সেইম। অল দ ডেইটিজ লিভড হিয়ার টু! আই থিংক সো। ফ্রম হিয়ার শ্রীনগর ইজ ৫৪ কিমি। এন্ড ফ্রম শ্রীনগর এরিয়াল ডিসট্যান্স অব লে লাদাখ ইজ সিম্পলি ২৯০ কিমি। ঈশ্বরদের তো ফ্লাইং সসারের মত নিজস্বযানবাহন ছিলো। এখানে ঈশ্বর থাকতেন! হাসছো? হেসোনা। কে বলতে পারে আমার এই ইনোভেশন একদিন একনলেজড হবে। নইলে এ জায়গা একই সাথে মুসলিমদের স্রাইন। শিখদের৷ বুদ্ধিস্টদের। হিন্দুদেরও। এমনি এমনি? দুটো বুদ্ধিস্ট স্তুপ আছে এখানে। ২৩০০ বিসিতে রাজা ভিমসিনা বারামুল্লা নগরের প্রতিষ্ঠা করেন। ইট ইজ জাস্ট আফটার বুদ্ধজ ডেথ। এণ্ড মহাবীরস টু। জৈন বুদ্ধিস্ট হিন্দুদের তীর্থস্থানও হল বারামুল্লা। সম্রাট আকবর বারামুল্লাতে এসে দিনের পর দিন থেকেছেন। তখন সিটির ডেভেলপমেন্ট হয়েছিল দেখবার মত। জাহাঙ্গীর তো এখানে এসে পাকাপাকি ছিলেন ও। ভূস্বর্গ কাশ্মীরের গেট ওয়ে হল বারামুল্লা। তাই অসংখ্য গ্লোব ট্রটার এখানে এসেছেন। জাওহুয়াং, হিউ এন সান তাদের লেখায় বারামুল্লার কথা বলেছিলেন। হজরত জানবাজ ওয়ালি নামে এক সুফি সাধক আসেন বারামুল্লায় ১৪২১ সালে। সাথে অজস্র ভক্ত,আরলিয়ার পারশিয়া, ইরান থেকে এসেছিলেন। ইন দিস এরিয়া হি স্প্রেড ইসলাম। হি ডায়েড হিয়ার টু। এন্ড হিজ সমাধি বিকেম আ তীর্থস্থান। অলমোস্ট এট দ সেইম টাইম গুরু হরগোবিন্দ সিং দ শিখ গুরু,অলসো কেম হিয়ার৷ ছোটোবেলায় দেখেছি এই বারামুল্লাও তোমাদের মতই এক কমিউনাল হারমনির এপিসেন্টার ছিলো। পরে তো সব পাল্টে গেল। মোস্টলি তার জন্য দায়ী ব্লাডি এডমিনিস্ট্রেশন! যদিও এ জেলাটা এল ও সি উরি সেক্টরের ঠিক পাশেই। আর সেটাই হয়ত মূল সমস্যার কারণ! আর কেনই বা হবে না? ইসলামাবাদ থেকে বারামুল্লার ডিসট্যান্স ১৩৩ কিমি মোটে! তো যত ঝামেলা বারামুল্লাতেই!
ইউ নো আওয়ার বারামুল্লা ইজ দ মোস্ট বিউটিফুল প্লেস ইন দিস আর্থ। ইন স্প্রিং কত রঙের ফুল ফোটে। সব ফুলের নামও আমরা জানিনা। ওক, ম্যাপল, ফার, রেইন ট্রি, পাইন। আর আপেল তো আছেই। আর লজ্জার কথা আমার গালগুলোও ছিলো আপেলের মত লাল। তাই নানাজান ডাকতো মিস এপল বলেই! নানাজান ওয়াজ আ ডক্টর ইন ইন্ডিয়ান আর্মি। দেন হি লেফট দ জব ইন প্রোটেস্ট এগেইনস্ট দ স্টেট স্পনসর্ড টেররিজম। অবভিয়াসলি হি ইউজড টু গেট অনার ফ্রম দ লোকাল পিপল। পরে কিছুদিন সেন্ট যোসেফ হসপিটালে কাজ করেন। সেটাও ছেড়ে দেন। বাড়িতেই চেম্বার খুলে বসেন। নানাজান পেসেন্ট দেখত৷ আর ছোট্ট আমি মিছি মিছি ওষুধ দিতাম রুগিদের। দোজ ওয়ার দ গোল্ডেন ডেজ অব মাই লাইফ। নানি মারা গেল। পাল্টাতে শুরু করেছিলো আমাদের জীবন। আমাদের জীবন তো চিরকালীন কন্টকময়। তা অবশ্য শুধু আমার একার নয়, যাদের বর্ডার ডিস্ট্রিক্টে বসবাস সকলেরই হয়ত! আমাদের মত এত খারাপ নয়ত! তোমাদের তেমনটা কখনোই হবেনা। কারণ ইউ ডোন্ট স্টে ইন দ বর্ডার এরিয়া। কিন্তু বনগাঁ বা লালগোলার লোকদের হবে। যদিও বাংলাদেশ বন্ধু রাষ্ট্র। তেমন সমস্যা হবার কথা নয়। বাট পাকিজ আর দ হার্ডকোর এনিমি অব ইন্ডিয়া। সো প্রবলেম হবেই। ভাবছো কি করে বাংলার কথা জানি! আমার মা তো কলকাতার মেয়ে। মেটিয়াবুরুজে থাকতেন,মার বাবা যাকে আমরা বড় আব্বুজান বলে ডাকতাম তার ছিল বদলীর চাকরি। সে সুবাদে মা ও ঘুরে বেড়িয়েছে সারা পশ্চিমবাংলাতেই। পরে ট্রান্সফার হয়ে চলে আসে চণ্ডিগড়। সেখানেই আব্বার সাথে আম্মির আলাপ। যা পরে বিয়েতে গড়ায়। মা'র কাছে বসে বসে কত শুনেছি সে সব গল্প। গঙ্গার ধারে ছিলো আম্মিদের বাসা। গঙ্গা নিয়ে কত কথা শুনেছি। বাট আই হ্যাভ নেভার বিন ইন ইওর সিটি। যাবো,যেতে চাই। নিয়ে যাবে? মা বলেন বাঙালিরা খুব ভালো। আর সে কারণেই হয়ত এতটা পছন্দ করি তোমায়। ব্লাশ করছো না'তো! সত্যিটা মুখ ফস্কে বেরিয়ে গেলো। থাকুক এখানে। কি জানি কতদিন আছি!


ভেবো না, তোমায় বারামুল্লার ইতিহাস ভুগোল বোঝাতে এই চিঠি! ভালোলাগার মানুষকে ভালোবাসার স্থানের কথা বলি। বলতে চাই চোখের সামনে কী করে একটা জায়গা বদলে যায়! রিমেম্বার দ্যাট সং?

আমি তো ছিলাম বেশ নিজের ছন্দে
সকালের রোদে আর মাটির গন্ধে,
জ্যৈষ্ঠের তাপে আর শ্রাবণের জলে
সবুজ শ্যাওলা ঘেরা দীঘির আকালে,
কোথাও ছিলেনা তুমি, কেন তুমি এলে ?
কেন গান এনে দিলে,
কেন এনে দিলে ?
কবীর সুমন তাই না? লিরিসিস্ট এন্ড মিউজিক কম্পোজ? আই এম টেরিবল ফ্যান অব হিম ফ্রম দ ডে আই নিউ পিট সিগার ইণ্ডিয়া এসেই তাকে ডাকলো! পিট সিগারেরও ফ্যান যে আমি! আই ফেল্ট টু মাচ ইন্টারেস্ট ইন ইওর ল্যানগুয়েজ,সেই ছোট্টবেলা থেকে মা’র কাছ থেকে শুনতে শুনতে বড় হয়েছি তো,তাই হয়ত! প্রব্যাবলি দিস সং ইজ ফ্রম ‘সেদিন চৈত্রমাস’! আমি একটু বাংলাও শিখেছি। লিটল বিট। আই মাস্ট নো দ ল্যাংগুয়েজ অব দ পারশন সামওয়ান আই লাভ! আমি বলবো,কেন তুমি এলে না কেন ‘বিষাদ’ এলে? আসলেই কিছু করার নেই ও হয়তোই। কিছু স্থানের হয়ত এমন বিষাদ মাহাত্ম্যই সঙ্গী হয়! তোমার দেশ স্বাধীন হল! হ্যাঁ দ্যাট ইজ ইওর কান্ট্রি! নট অব আস। উই আর ফোরসড টু স্টে উইদ ইউ। আমাদের স্বাধীনতা কই? তোমার দেশ স্বাধীন হল '৪৭ এর আগস্টে। আর অক্টোবরেই পাকিজ স্টার্টেড টু এন্টার কাশ্মীর। প্রব্যাবলি ২৪ অক্টোবর দে স্টার্টেড। নানাজানের কাছে শোনা। অল পাক আর্মিজ ওয়ার ইন ডিসগাইজ অব সিভিলিয়ানস। সো নো বডি সাসপেক্টেড। ফার্স্ট উরি রাওয়ালপিন্ডি মোজাফফরবাদ রোড ধরে দে এন্টার্ড বারামুল্লা। দে হ্যাড আ প্ল্যান টু অকুপাই শ্রীনগর। বাট সারপ্রাইজিংলি দে স্টেড হিয়ার। ফর ২৫ ডেজ। দে লুটেড দ সিভিলিয়ানস। রেপড থাউজ্যান্ড গার্লস ফ্রম হিয়ার৷ এমনকি ক্রিশ্চিয়ান নানেরাও ছাড় পায়নি! ক্যান ইউ ইমাজিন দ এট্রোসিটিজ! স্পয়েলড দ হিন্দু বুদ্ধিস্ট পিলগ্রিমেজস। যাকে বলে র‍্যামস্যাক। লেটার বিজু পট্টনায়ক অব ওড়িশা ফ্লিউ এন্ড ড্রপড ওভার শ্রীনগর এয়ারপোর্ট টু এসেস দ সিচুয়েশন। লেটার প্যাটেল সেন্ট এয়ারফোর্স টু কন্ট্রোল। কিন্তু সেও অনেক দেরীতেই। দেশ হয়ত বাঁচলো তোমাদের,আমাদের বারামুল্লা বাঁচেনি! একচুয়ালি এভাবেও বলা যেতে পারে টু সেভ ইওর কান্ট্রি বারামুল্লা নিজেকে সঁপে দিয়েছিলো ব্লাডি পাকি হুলিগানসদের সামনে! ক্ষতি যা হবার তা তো হল এই ছোট্ট সুন্দর মিষ্টি বারামুল্লার। ইন্ডিয়ার তাতে কিছু গেলও না, এলোও না! পাকিজদেরও। দ্যাটস হোয়াই ইকুয়ালি উই হেট বোথ দোজ কান্ট্রিজ। উই ওয়ান্ট আওয়ার ওন কাশ্মীর! আজাদ কাশ্মীর! ডু ইউ সাপোর্ট আওয়ার ভিউজ? আর না করলেই বা কী? উই নো হাউ টু ওয়াক এলং! বাট আজ এত কথা কিন্তু একা হাঁটতে নয়! অন্য কথা বলতেই এ চিঠি!

অম্লান,
এই প্রথম মেইল নয়,চ্যাট নয়,হোয়াটস এপ বা ভাইবার বা স্কাইপ নয় তোমায় চিঠি লিখছে তোমার শবনম কাগজে কলমে। কারণ তুমি জানো। আমরাও এখন এক কনসেনট্রশন ক্যাম্পের বাসিন্দা। উপায়হীনতাই হয়ত পথ দেখায়! সিন্স ১৯৪৭ উই আর কেজড! তবু তো খাঁচার পাখিও গান গায়! মায়া এঞ্জেলোর অটোবায়োগ্রাফি পড়েছ? I Know Why the Caged Bird Sings সেভাবেই হয়ত আমরাও।
আম্মি আম্মি ডাকতে ডাকতে গলা শেষ৷ কোথায় যে থাকে
কে জানে! বিকেল তো এখনও শেষ হয়নি। নিভে আসা রোদের শেষ ঝলক ঝিলম থেকে সোজা আমার চোখে! এক একটা বিকেলের চলে যাওয়া দেখি,আর এত মুগ্ধতা! আল্লাহ কি সত্যিই দারুণ এক চিত্রকর? এক সে বড়কর এক রঙে রঙে আঁকাশ আঁকছেন! কত আর সময়ের ফারাক! এত দ্রুত ক্যানভাস জুড়ে রঙের এত বাহার! তিনি পারেন, তিনিই! জানো,এই সময়েই নর্থের দিকের পার্কে আমরা যেতাম। সেখানে হরেক রঙোকা তিতলি ঘুমতো ফিরতো। আর আমি, শাওন আর নুসরত দৌড়ে দৌড়ে ধরতাম। ধরতে পারা কি অত সহজ! দৌড়তে দৌড়তে চলে যেতাম পার্কের এন্ড পার্টে। আম্মি হয়ত তখন খুঁজে পাচ্ছেনা তার পেয়ারি গুড়িয়াকে। আর কি টেনশন! হিজাব পরে তো বেশি দ্রুত চলাফেরা সম্ভবও না। ফলে আম্মি পারতোও না। আর পার্কটা বিশাল! আম্মুর সাথে হয়ত দৌড়চ্ছে শাওনের আম্মাও। তিতলি তো ধরতে পারিনি একটাও। কিন্তু আম্মুদের সাথে যে লুকোচুরি খেলছি,সেটা কিন্তু মজার খুব! শেষটা অবশ্য মজা আর থাকতো না। আম্মু কে রোতে মানে কাঁদতে দেখলে আমার খুব পেইন হত! বেরিয়ে আসতাম একটু একটু করে,আর দেখেই আম্মি চুমায় চুমায় ভরে দিতো। তখন দুজনেই কাঁদছি,মা আর বেটি। কি জ্বালা। গুড়িয়ার কান্না অবশ্য আম্মি দেখতে পারত না। সে যে আম্মির সব সে পেয়ারি গুড়িয়া। তাকে তখন ক্যাডবেরি, লজেন্স ললিপপ! অক্টোবর মাসটা এখানে খুব মজার! তেমন ঠাণ্ডা নেই! অথচ সন্ধ্যে পেরোলে একটা সোয়েটার গায়ে দিলে ভালো হয়! আমি অবশ্য এসব পরোয়া করিনা! আর বাড়িতেই তো সারাদিন! বাইরে বেরোলে তবে না ঠাণ্ডা! বাই দ ওয়ে অম্লান অনেক শপিং করেছ? আমার কিন্তু একটা বুটিকের শাড়ি লাগবে! হাউ ইজ লাইফ ওভার দেয়ার? এন আর সি কি ওখানেও চালু হচ্ছে? নিউজ পেপার নেই, টিভি, ইন্টারনেট অগত্যা কিছুই জানিনা। অম্লান আর ইউ অলরাইট?
কিন্তু আম্মি কোথায়! ওমা দেখি শুনতে ঠিকই পাচ্ছে। উত্তর দেয়না। দেবেই বা কি করে! নামাজে বসে গেছে এই এখনই। আম্মিকে নামাজে বসতে দেখলে এত স্নিগ্ধ লাগে! সম্পূর্ণ সফেদ রঙে নিজেকে মুড়ে নেয়! কথা আর বলবে কী! তার দুচোখ বেয়ে তো কেবল পানি নামছে! সন্ধ্যে হতে এখনও অনেকটা বাকি! এখনই নামাজ! আম্মির কাঁধে হাত রাখলাম! চোখ থেকে পানি মুছে দিলাম। আম্মি রৌ মাত! প্লিজ!
আম্মি মুখ তুলে তাকালো। উমরের তো খবর নেই নুসরত! মেরা লাডলা বেটা কেমন আছে,কি করে জানবো বল বিটিয়া!
উত্তর তো আমার কাছে নেই। থাকলে দিতাম। আম্মির গাউটের প্রবলেম! হাত ধরলাম। একটু কষ্ট করে উঠলো আম্মি। হাত ধরে আমরা চললাম ব্যালকনিতে। রেলিং নয় একটু দেওয়াল ঘেঁষে বসলাম। দূরের আকাশের দিকে হাত দেখিয়ে বললাম - দেখ। আম্মি তাকালো না। চোখ নামিয়ে নিলো- গুড়িয়া, আঁখো কা গড়বড়ি হায়! ম্যাঁইয় ক্যায়সি দেখু?
জানি দেখবে না। ফারুকের কথা মনে পড়ে যাবে আম্মির। ফারুকের খুব আকাশ দেখার নেশা ছিলো যে! ফারুক হামার মঝলা ভাই। উমর বড়। আর আমি ছোটো। আমাদের মধ্যে সব থেকে ব্রিলিয়ান্ট ফারুক! দেন উমর ভাইয়া,আর আমিতো ডালহেডেড। উমর ভাইয়া সেন্ট যোসেফেই পড়ত। আই এস সি দিলো। জয়েন্ট দিলো। মেডিকেলে চান্সও পেল। সেন্ট যোসেফের মেডিকেল কলেজটা নতুন হয়েছে কিছুদিন হল। কিন্তু বেশ ভালো। সেখানেই পড়লো এম বি বি এস। এম ডি করলো এইমসে। তারপর চাকরি নিয়ে উমর ভাইয়া চলে গেল দিল্লিতেই। লাস্ট টু ইয়ারস হি ইজ ইন দিল্লি। লোকমান্য তিলক হাস্পাতালে। ফারুক ভাইয়াও আই এস সি দিয়ে মেডিকেল এন্ট্রান্সে বসবে। আয়াম টকিং এবাউট থ্রি ইয়ারস ব্যাক। তখন তো মেডিকেলের প্রিপারেশন ছাড়া ফারুক ভাইয়ার আর কিছুই করার নেই৷ তাই জিমে যাওয়া,আড্ডা আর গপ সপ। জিমে কারা ওর বন্ধু ছিলো,সে’তো জানিনা আমরা কেউই। রাতে একটু আগে ডিনার করা,এটা আব্বুর বানানো কালচার। আর সবাইকে একসাথেই তা করতে হবে। তারপর তুমি ঘুমাও বা না ঘুমাও সে তোমার বিষয়। ডাইনিং টেবিলেই আমরা সব রাজা উজির মারি। আব্বু কট্টর ইসলাম বিসওয়াসি। লেকিন পলিটিকাল মতামত খুব যে জোরালো তা নয়। র‍্যাদার একটু স্কেপটিক। সকলকেই সন্দেহ করেন,খারাপ বলেন! উমর ভাই চুপ চাপ খেয়ে উঠে যেত। কিন্তু ফারুক ভাই আব্বুর সাথে প্রায়ই তর্কে মাততো। খুব রাগ ইন্ডিয়ার ওপর। এবং সব রাগই যে খুব লজিকাল যে তাও নয়। যেমন এখানের স্টেডিয়ামে কেন ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ হয় না? হলে ক্রিকেটটা ডেভেলপ করত। আব্বু বললো আদার কান্ট্রির যারা আসে তারাই হয়ত খেলতে চায় না। আপনা লাইফ তো সবকাই পেয়ারা হোতা হায়,হায় কেয়া নেহি? আসলে ফারুক ক্রিকেটটা খুব ভালো খেলতো। স্কুল লেভেলে স্টেট রিপ্রেজেন্ট করেছে।
ফারুক হয়ত চিৎকার করছে,
দেন হোয়াট দ হেল ফাকিং ইন্ডিয়ান আর্মি ডু? হোয়াই দে আর হিয়ার? আম্মি এসে দাঁড়িয়েছেন,বলছেন - সোর মাত করো বেটা ফারুক।
ব্যস এটুকুই এর বাইরে তেমন কিছুই তো জানিমা৷ জানতামও না৷ জানা কী সত্যি সম্ভব? তুমিই বল অম্লান! ছেলে মেয়ে বাইরে কি কোথায় কেন করছে কে জানবে! গাওরসে শোচো কিঁউ লিখছি এ কথা? এট ওয়ান নাইট আব্বুকে উঠিয়ে নিয়ে গেল ইণ্ডিয়ান আর্মিটু এনকোয়ার। সে রাতে ফারুক ফেরেনি। কেন জানিনা! উই অল আর টেনসড! রাত তখন একটা। এই ডিস্ট্রিকটে অত রাতে তেমন কেউ জেগে ভি থাকেনা। হামাদের অবস্থা শৌচো। একে ফারুক ভাইয়া লোউটে নেহি। আম্মি বিকেম সেন্সলেস। সি ওয়াজ ক্রাইং লাইক এনিথিং। আফটার দ্যাট আব্বুকে ভি… হামি নিকলতে যাচ্ছিলাম। উমর ভাইয়া আটকে দিলো। আম্মি ভি ফরবেড মি টু গো আউটসাইড। আমি আর বেরোইনি। আব্বু বাহপাশ এলো এরাউন্ড টেন নেক্সট মর্নিং। মে বি দ রিজন হি ইজ এক্স আই পি এস। ফারুক ভাইয়ার কোনো খবর মিললো না! আজতক ভি মিলা নেহি, ইন লাস্ট থ্রি এন্ড হাফ ইয়ারস। দিস ইজ দ লাইফ ইন ভ্যালি। এভরি ডে পারশনস ডিএপিয়ার! এভরিডে ২৫-৩০ পিপলস আর কিলড মে বি বাই টেররিস্টস,বাই আর্মি অর পোলিশ! কার্ফু আর কার্ফু। দোকান খুললেই মুহুর্তে আনাজ পাতি শেষ,লোক খাবে কী? পরবে কী? কেমন করে স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি সরকারি অফিস চলে! আর ধর খুলে দিলো স্কুল,কেউ পাঠাবে কারও সন্তানকে? এত্ত ঝামেলার মাঝে! উই হ্যাভ নো ফিউচার নো প্রেজেন্ট ওনলি গ্লোরিয়াস পাস্ট! আর তাই অতীতেই ফিরি বার বার!
জানো অম্লান উই ইউজড টু গো টু রিভার ঝিলম,এভরি আফটারনুন। ওখানে যে আমার শৈশব আঁকা আছে। সে কতদিনের কথা! নানাজান আর আমি বিকেল হলেই বের হতাম ঝিলমের ধারে। আমাদের পুরনো বাড়িটা সামান্য ভেতরে। মিনিট ৫ হেঁটে যেতে হত। সেখানেই আসতো রিয়াধ, মেরিলিন, মেরিলিনের কাজিন চার্লস। এখানে ক্রিশ্চানরাও যথেষ্ট পরিমাণে থাকতেন, এখন আর অত নেই!
আর সে কারণেই তো সেন্ট যোশেফ কলেজ। হাসপাতাল। এখন মেডিকেল কলেজও। উই ইউজড টু ওয়াচ সেটিং সান। নানাজান ওয়াজ আ বিউটিফুল পোয়েট টু ,এপার্ট ফ্রম হিজ মেডিকেল প্র্যাক্টিশ! উর্দুতে শায়রি লিখতেন। হি ওয়াজ ভেরি সাউন্ড ইন ফিলজফি। সো চলে যাওয়া সূর্য ,তার রঙ বদল,বদলতে হুয়া আশমান দেখতে দেখতে তিনি তার দর্শনের প্রজ্ঞা ঢুকিয়ে দিতেন আমার ভেতর। উইশডমের বাংলা দেখেছিলাম প্রজ্ঞা। গুগল ট্রান্সলেটর শিখিয়েছিলো। আর নানাজান হিউম্যান লাইফের সাথে রিসেম্বল্যান্স দেখাতো নেচারের। আমার অদ্ভুত ভাবেই শুনতেশুনতে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠতো। ওরাও শুনতো মেরিলিন চার্লস। একদিন এই অস্তগামী সূর্যকে সাক্ষী রেখে চার্লস প্রোপোজড মি,উইল ইউ ম্যারি মি শবনম? দেন আই ওয়াজ মিয়ার ইলেভেন! আই ফেল্ট গিলটি। এন্ড আফটার রিটার্নিং হোম আই স্টার্টেড ক্রাইং। দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। যাতে কেউ বুঝতে না পারে! আম্মি তো আমায় চেনে। খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ঠিক জেনে নিলো কি হয়েছে একচুয়ালি। আর আমার ঝিলমের পাড়ে গিয়ে বসা নিষেধ হয়ে গেল! প্রথম প্রেমের এসেন্সটা অনেকটাই পুরনো ব্যথার মত। আঘাত দেখা যায় না! কিন্তু চিন চিন করে ওঠে ঠিক জায়গাটা! তোমারও এমন আছে? এই যে লিখছি। এখনও চিন চিন করছে। চার্লস এরপরও ক'মাস আমার জন্য ঘুরেছে। দেন হি ওয়াজ থার্টিন। পায়নি খুঁজে৷ আমি ঠিকই দেখতাম ও বারান্দার নীচ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। কিন্তু দেখা দিতাম না। তারপর কি একটা ঝামেলা বাঁধলো৷ আবার কারফিউ। আবার আর্মি। ব্যস ওরা চলে গেল বারামুল্লা ছেড়ে কেরলে ওদের নেটিভ ল্যান্ডে।

“I become almost wild and shout at them: - To whom are you reciting Kaddish? Do you still believe? And what do you believe, whom are you thinking? Are you thanking the Lord for his mercy and taking away our brothers and sisters, our fathers and mothers? No, no! It is not true; there is no God. If there were a God, he would not allow such misfortune, such transgression, where innocent small children, only just born, or killed, by people who want only to to honest work and make themselves useful to the world are killed! and you, living witnesses of the great misfortune, remain thankful. Whom are you thanking?”
Chil Rajchman, The Last Jew of Treblinka

আর আমরা ঈশ্বর বিশ্বাসী নই। আর আমরা মানুষেও বিশ্বাসী নই। কি করে বিশ্বাস রাখা যায় তুমিই বল। আই হ্যাভ আ বাংলাদেশী ফ্রেন্ড,ফাতেমা। আই হ্যাভ হার্ড ফ্রম হার এবাউট দ ,মুক্তিযুদ্ধ। ওকেই বলেছিলাম ইউ সাফারড নাইন মন্থস। সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার লাস্টেড ফর সিক্স ইয়ারস। এন্ড উই সাফার ফর লাস্ট ৭২ ইয়ারস। ইজ দ্যাট দ ওয়ে আ পারশন ক্যান লিভ প্রপারলি? ঘরে ঘরে সকলেই তাই বিরক্ত! এমনকি একটা স্কুল গোয়িং বয় অব টেন ইয়ারস ইভেন হেট আর্মি ! কাউকে খাঁচায় পুরে রাখলে সে যখন ছাড়া পাবে,কিছুই বলবে না? এমন হয়? সে হয়ত স্টোন থ্রো করলো পুলিশের গাড়ির দিকে বা আর্মির দিকে,এন্ড ব্যস হয়ে গেল। হি উইল বি টরচারড! শুধু সে নয়,তার বাপ দাদা কাকা জেঠা সবাই চলে আসবে সাসপিশনের আওতায়! কাউকে জিপের সামনে বেঁধে ঘোরানো হবে যাতে আর কেউ এমন না করে! ইজ ইট ! আরও হেট্রেড বাড়বে। বাড়ছেও। উই ডোন্ট নো দ ওয়ে টু এগজিট ফ্রম দিস মিজারি! এর সাথে জুড়েছে টেররিস্টদের অর্গানাইজেশনগুলোও। তারা তাদের দলে নাম লেখালে টাকা দেয়,খাবার দেয়! মোটা টাকা দেয় ফিঁদায়ে হতে। এভাবে বাঁচার তো মানে হয় না। তাই এল ও সি পেরিয়ে অনেকেই চলে যায়! এ তো তাদের দোষ নয়! ফারুকও সে পথেই কি’না জানিনা। হয়ত মেরেই চিয়েছে তাকে! অথবা মরেছে এনকাউন্টারে। এখন জীবন খুব সস্তা যে অম্লান!

এ চিঠি তুমি পাবে কিনা জানিনা। কিন্তু যাকে দিয়েছি সে খুবই বিশ্বস্ত আমার। আমার ফুফার ছেলে। তোমরা যাকে শালওয়ালা বল সে তেমনই। এই সেপ্টেম্বর পড়লেই ওরা চলে যায় কলকাতা শহরে। ঘর ভাড়া নেয়। মার্চের গোড়ায় ফের ফিরে আসে। রিয়াধ ভাই এসেছিলো পরশু আমাদের বাড়িতে। কোনো জরুরী কাজেই। খুব তেমন জরুরত না থাকলে এ উপত্যকায় আর কেউ বেরোয়না। আর বেরুবেই বা কী করে! সারাক্ষণই তো কার্ফিউ। সামান্য সময়ের জন্য ওঠে কার্ফু। ফের লাগু হয়। নিজ গৃহে আমরা ঘর বন্দী সেই কোন আগস্ট মাস থেকেই। আর আমরা তো কোন ছাড়! আমাদের দুই এক্স চিফ মিনিস্টারই গৃহবন্দী! মোবাইল নেই। ইন্টারনেট নেই৷ খাবার নেই। ট্যুরিস্ট নেই। চলাফেরার স্বাধীনতা নেই। এই কী সভ্য জীবন? তুমিই বল অম্লান! তোমার সাথে কতদিন কথা নেই! উমর ভাই কেমন আছে জানিনা দিল্লিতে! আম্মি তো কেঁদে কেঁদে অন্ধ হবার দাখিল। নিউজপেপার নেই। বাইরের দুনিয়া থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন। আব্বার এর মাঝেই একদিন বুকে খুব পেইন উঠলো। হাস্পাতাল যাবো,একটাও গাড়ি পেলাম না! অগত্যা আমিই ড্রাইভ করে নিয়ে গেলাম! উপায় কী! তাও অন্তত দশটা চেক পোস্ট ক্রশ করতে হল। আর্মিরা নির্লজ্জের মত চেয়ে আমার দিকে। কী বলব! ইওর গভর্মেন্ট ওয়ান্টস আওয়ার ডেভেলপমেন্ট উইদড্রয়িং আর্টিকেল ৩৭০ এন্ড ৩৫ এ। বেশ তো! সেটাই কর! বাট ওন্ট ইউ টক উইদ আওয়ার এডমিনিস্ট্রেশন? সেই ১৯৫৪ এ যখন এই স্পেশাল পাওয়ার এনাক্ট করেছিলো,তার কোনো কারণ ছিল না? সব মিথ্যে সব বেকার! ইজ ইট! না'কি পাকিস্তান চীন ইন্ডিয়া কাশ্মীর নিয়ে তখনও কাগজে কলমে ফিজিকাল লড়াইতে ব্যস্ত। কাশ্মীর অলওয়েজ দ টক অব ইউনাইটেড নেশনস। টু মেক দেম সাইলেন্ট,টু প্যাসিফাই কাশ্মীর পিপল দে লঞ্চড দিজ ডেভেলপমেন্ট এক্টিভিটিজ এনাক্টিং দ আর্টিকেল। আজ কী তবে পরিস্থিতি বদলে গেছিল হঠাৎ? এত সহজ? ইফ আ গভর্মেন্ট ইজ বাই দ পিপল ফর দ পিপল অব দ পিপল যদি হয়,এ সিদ্ধান্তে কাশ্মীরি পিপল কই? আটারলি বিটারলি ফানি ডিসিশন! কাকে বলব? কে শুনবে? পুরো ভ্যালি আজ সাইলেন্টলি ক্রায়িং! বাট হুজ গনা লিসন অম্লান!

"If only I could say, it's over, you die only once... But I can't, because despite all these atrocities, I want to live, and wait for the following day."
রুক্তা লাসকিয়েরের ডায়েরি পড়েছ? অসিজ কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে মাত্র চোদ্দো বছর বয়সে যাকে মেরে ফেলা হয়।
আর এটা পড়। এ যেন আমার জীবনেরই কথা বলছে যদিও বয়সে অনেকটাই ছোটো আমার থেকে। তখন রেনিয়ার বয়স পনেরো। রেনিয়া স্পিগেল। পোলিশ জিউয়িশ গার্ল।

I used to live in a beautiful manor house on the Dniester River. I loved it there. There were storks on old linden trees. Apples glistened in the orchard, and I had a garden with neat, charming rows of flowers. But those days will never return…Now I live in Przemysl, at my grandmother’s house. But the truth is, I have no real home. That’s why sometimes I get so sad that I have to cry…But I also have joyous moments, and there are so many of them. So many!
তখন পোলান্ড রুশ আর জার্মান দুই শাসকে বিভক্ত। রেনিয়ার বোন আর মা পালিয়ে যেতে পেরেছিলেন ইউ এস এ তে। তারা পড়েইনি রেনিয়ার ডায়েরি। রেনিয়ার থেকে বয়সে ছোটো তার এক ভাইঝি সেটাকে বয়ে নিয়ে বেরিয়েছে দিনের পর দিন। ফাইনালি বইটা বের হল এই ২৯১৯ এই! সাতশো পাতা ধরে পনেরো থেকে আঠেরো,তিন বছর ধরে রেনিয়া লিখেই গেছে তার প্রতিটা দিনের অবজারভেশন। পালিয়েছে রাতের আঁধারে। কিন্তু যেখানে পৌঁছেছে সেখানে আবার রাশিয়ান আর্মি দখল নিচ্ছে। তা বলে জীবন তো থেমে থাকেনা। সে লিখছে তার ফ্রেঞ্চ পড়ার কথা। লিখছে তার স্বপ্নের কথা। যে যুদ্ধ থামলেই সে যাবে ফ্রান্সে। একটু ভালো জীবন হয়ত সে সেখানে পাবে। পাবে না? তার বোনের অভিনেত্রী হবার ইচ্ছে। আনা ফ্রাঙ্ক তো আমি আগেই পড়েছিলাম। কিন্তু সে তো বিষাদ গাঁথা। রেনিয়ার বইটা একেবারেই আলাদা! সে লিখছে তার প্রেমে পড়ার কথা৷ তার বেস্ট ফ্রেন্ড আর সে একই টিচারের প্রেমে! তাদের মধ্যে টানাপোড়েন আর যুদ্ধ! পরে সে এক রুশ সহপাঠীর প্রেমে পড়েছে। ছেলেটি তাকে বিয়ে করতে চায়। রেনিয়া বলছেঃ কিন্তু জীবনই তো অনিশ্চিত! কিসের বিয়ে কোথায় জীবন?
শেষ প্রায় সব আশাই! প্রেমিজেলে জার্মান ঘেটোতে তাকে নিয়ে যাওয়া হল। লিখছেঃ
Remember this day; remember it well. You will tell generations to come. Since 8 o’clock today we have been shut away in the ghetto. I live here now. The world is separated from me and I’m separated from the world.
৩০ জুলাই,১৯৪২। আগের দিন ২৯ জুলাই ছিলো তার আঠারো বছরের জন্মদিন। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়েছে তখনও তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। কিন্তু শেষ রক্ষা হল কই? ৩০ তারিখ তাকে মেরে ফেলা হল। নাজি হলোকস্ট! হলোকস্টের আসলেই কোনো দেশ হয়না। কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই! নইলে এত দিন পর আবার এই নাজি উত্থান...নয়? তুমিই বল অম্লান। ঠিক একভাবেই এসেছিলো হিটলার। দ গ্রেট ওয়ার্স্ট এডল্ফ হিটলার! তার উত্থানের আগেও ঠিক এভাবেই জাতীয়তাবাদ উস্কে দেওয়া হয়েছিলো। যেমন পুলওয়ামা এটাকের পর বালাকোট! প্রতিদিন নিউজ পেপারে এড আসতো। ফ্রন্ট পেজে। দ স্যাভিয়ার অব দ নেশন ইজ কামিং! লোকের মনে আগ্রহ তৈরি হল কে? কিভাবে? আত্মপ্রকাশ ঘটলো নাজি পার্টির। আগমন ঘটল ফুয়েরারের। কি জানি কেন! কিছুদিন ধরে এই হলোকস্টের কথাই পড়ছিলাম! তখনও আগস্ট,২০১৯ আসেনি। মানুষ কী আগে ভাগেই বুঝতে পারে তার এই অনিত্যতার কথা! আসলে আমরা তো বহুদিন ভালো নেই। কতদিন হিসেব করে বলতেও পারবোনা। জানো প্রতিদিন এ শহরের ৫ জন করে ছেলে মিসিং হয়ে যায়! এটা সরকারি হিসেব। বেসরকারি মতে অনেক বেশি। স্টেট তাদের ডাউট করে। আর ইউ এ পি এ চালু করার পর থেকে তো কাউকে ডাউট করলেই শুট অবধি করা যায়! গণ কবর খোঁড়ার আগে আইডেন্টিফাই করতে ডাকা হয়! লাভ কী! কেউ কেউ করতে পারে! অধিকাংশই যায় না! অত বীভৎস চেহারা কোনো নিকট জন নিতে পারে? অটোমেটিক মেশিনগানে হয়ত থেঁতলে গেছে তাদের মুখ! কি হয় চিনে? ফিরবে না তো কেউ ই।তাদের গার্জিয়ানরা মিসিং ডায়েরি করে,কেন জানো? তারা জানে তাদের সন্তান আর ফিরবে না। জাস্ট টু ইনক্রিজ দ নাম্বারস অব মিসিং পারশনস । ইফ ওয়ান ডে এমনেস্টি বা ইউ এন আসে। ইফ দে টেক একশন! ইফ দ কান্ট্রি ফিলস এশেমড ! ইফ ওয়ান ডে উই গট ফ্রিডম তাহলে তো এই এক শক্তিশালী রাষ্ট্রের সাথে সাধারণের লড়াইটাই হয়ে উঠবে স্বাধীনতার যুদ্ধ! টেররিস্টরা হয়ে উঠবে প্যাট্রিয়ট,ফ্রিডম ফাইটার! কিন্তু এখন? হারানো ভাইয়েরা ফিরবে? ফারুক ভাই ফিরবে? আর যারা এখনও জন্মাওয়নি,তারা যাতে না জন্মায় সে ব্যবস্থাও তো ছিলো,থাকেই! The holocaust against the unborn is the greatest sin they could ever do or even ever participate in.এ হলোকস্ট নয়? কী বল অম্লান৷
অম্লান উমর ভাইয়ার বন্ধুতো তুমি। তুমি কোনো খবর জানো ভাইয়ার! আব্বাজান বাঁচবে না। হয়ত বুকে এমন পেইন উঠবে,তখন কার্ফু। নিয়ে যেতেই পারবো না কোথাও। আম্মি মরবে ফারুক ভাইয়ার শোকে! আর আমি? আমি এ মৃতের উপত্যকায় একা বেঁচে কী করব? তুমি তো বলতে আমায় ভালোবাসো৷ আমায় নিয়ে যাবে তোমার কাছে? রেখে দেবে চিরকালের মত। একটু শ্বাস নিতে ইচ্ছে করে। না হয় ঝিলমের ধারে নাই বাঁচলাম। তোমার গঙ্গার ধারে তোমার হাত ধরেই একটু শ্বাস নিলাম। এখানে বাতাস ক্রমশ কমে আসছে। পারবে না? জানিও। আমি অপেক্ষায়...
তোমার শবনম
( যাকে একদিন সকালের শিশির বলে ডাকতে)। আজ না হয় রাতের রজনীগন্ধা বলেই চিনো। কিন্তু আমি রেনিয়া স্পিজেল হতে চাইনা,তুমি আসবেনা?

************************************************************ ************************************************************ *******
চিঠি অম্লানের কাছে হয়ত পৌঁছয়নি। হয়ত পৌঁছবে। কারণ রিয়াদ ওয়াজ এরেস্টেড বাই কাশ্মীর পোলিস। লেটার হ্যান্ডেড ওভার টু আর্মি। অপরাধ! অপরাধ হয়তো উপত্যকায় জন্মানোই! অথচ শবনম অম্লানের উত্তরের অপেক্ষায়!