কাঠপুত্‌লির বৈতরণী

তানিয়া চক্রবর্তী

--- তাৎপর্য অনেক আছে , থাকলেই যে তা খাটি শ্লোক তা কিন্তু নয় , আসলে কোথাও কোনো সূত্র নেই , সবাই এক একটা ( ! ) জ্বলজ্যান্ত ভুল ।আপেক্ষিক বার্তবহ ... ঈশ্বরীয় সুতো ধরে মঞ্চে নাচছে কাঠপুত্‌লি ... মাঝে মাঝে সুতোয় ভুল টান পড়ছে কারণ ঈশ্বরীয় সমীকরণের মধ্যে ঢুকে পড়ছে কাকুধ্বনি। ঈশ্বরের আড়াল ঈশ্বরই ভুলে যাচ্ছেন ... ধরে নিই “ + ” “ _ ” মিশে গিয়ে একটা নিয়ন্ত্রক শক্তির নাম ঈশ্বর ..যেন পৃথিবীর চৌম্বক কেন্দ্র..(পৃথিবী গোল নয় কেন্দ্রটাই একটা “ ! ” ) প্রশম ও নিরপেক্ষ ।
কাঠপুত্‌লি “ ক ” – তে ভগবান সুতো ছেড়েছেন ... কাঠপুত্‌লি “ ক ” পুলকারে চেপে স্কুলে যায় ...সাড়ে চার বছরে ওরা একটা পিলার পড়ে যায় ... ওর মাও তাই কাঠপুত্‌লি --- কাঠপুত্‌লি নম্বরের কথা ভাবছে --- ভাবছে অনেক নম্বর রোজগার করবে সে যাতে নম্বরী সমাজ ওদের সেলামি দিতে আসে ... ও শূন্য কে ভয় পায় --(শূন্য একা অসহায় , কারোর পিঠে চড়লে তাকে দ্যাখে কে ...শূন্যকে একক ভাবাও
ভুল “ ! ” ) তাই শূন্যের মতো দামি হয়ে উঠতে চায় তবু আকাশের ঘরে , মেঝের পাথরে , ছাদের হাওয়ায় , ল্যাম্পের আলোয় , শরীরের বৃদ্ধিতে কাঠপুত্‌লি সংখ্যা ভুলে ঋতুর কথা ভাবে ... ঋতু ওকে ঋতু দেয় , এতো ঋতু যে ওর পুলকের ভয় লাগে মনে ... ঋতু ভুল করেছে --- প্রকৃতিকে আড়াল দিতে নেয় যে ! কাঠপুত্‌লি “ ক ” জলপরাগী , পক্ষীপরাগী ,
শম্বুকপরাগী , বায়ুপরাগী ,কোন পরাগী হলে তার নিষেকের ভুল ধরবে না কেউ তা সে বোঝে না --- কেন এই “ ইতরপরাগযোগ ” তাও বোঝে না ! “ ক ” প্রাণ আর শরীর সিন্দুকে ভরে রেখেছে নিন্দুকের ভয়ে । ঈশ্বর ঘুমিয়ে পড়েছেন বলে রাক্ষস “ জ্যাক দ্য রিপারের ” মতো আসে অন্ধগলি থেকে থোকা থোকা গোলাপের বোকে নিয়ে “ ক ” কে দেয় --- “ ক ” রং দেখে ভুলে যায় চোরাবালির তলায় অনুন্মীলনের জন্য সুড়ঙ্গ আছে ... মানুষের রোবোটিক্স ল পেরোনো রোবোটের মতো
“ ক ” জেদী হয়ে যায় ... নিষ্পাপ জেদ --- সিংহদুয়ার ভেঙ্গে রাক্ষস ঢোকে --- সিন্দুক খুলে বার করে সমস্ত শর্করা ...কাঠপুতলির হাত পা রাস্তায় পড়ে থাকে ... একঝাক চিল উড়ে যায় ... কাঠপুত্‌লি নম্বরের জীবাশ্ম হয়ে গেছে --- এখন অনেকে বলবে কাঠপুত্‌লি কিরকম যেন জামা পড়ত ... ওর স্তন , গা , পেট উঁকি দিত তাই কাঠপুতলির এমন হোলো ... রাক্ষস যে খালি গায়ে ঘোরে তাতে অবশ্য কিছু এসে
যায় না ...
তৃণ শরীর ভুগছে চামড়া
নারকেলে নারকীয় খোল
অধঃগামী ঈশ্বরী বৃন্ত লোকায়
যোনিমুখ থেকে একান্ত আধিভৌতিক ...
ক্রপ স্তন মিলে গেছে
দু’জনে বিপ্রতীপ ডাইনিবিদ্যায়
খাবলাও – খুবলাও
পাটাতনে মৃত জরায়ুর আঁশ
তবে কেন ফুল দিনে উজ্জ্বল রং নিয়ে জাগে ! কেন এত তীব্র মকরন্দ তার ! রাতে কেন তারা সুগন্ধে আকীর্ণ হয় ! এত তবে সৃষ্টির ভুল ! ! ! কাঠপুত্‌লি দেখাত রূপ --- তাকে ঈশ্বর দিয়েছে মুদ্রা ও বিভঙ্গ --- উন্নত সৃষ্টির সমকালে --- দ্যাখো পতঙ্গরা কেমন সুশীল ... ফুলে বসে ... তবু তাকে ছিঁড়ে দিয়ে যায় কি ! !
শেয়ালকাঁটা , সন্ধ্যামালতী তাই সমপরিণতি (HOMOGAMY) বেছেছে ... তাতেও ক্যামন চারচক্ষুর ভুল নিয়ে বায়ুচড়া ! ! !
কাঠপুত্‌লি “ খ ” এক ঈশ্বরের সেবক পেয়েছে ... যে ওকে সাদা প্লেটে আইসক্রিম কেটে দেয় ... কাঠপুতলির কাছে এক কুমোর এসেছিল যে মাটির ভাষা জানত না , ভুল সুতোর টানে নকল কুমোর এসে “ খ ” কে স্বপ্নের সুড়সুড়ি দিয়েছিল ... সমস্ত কাঠে সে যেই মাটি আর রং দিল সে নিজেই পাগল হোলো --- বোধনের দিনে শোষণের কল্পচিত্র বানানো ছিল তার ... নেত্রদানের আগে কুপির আলোয় সে লুকিয়ে দেখেছে অলঙ্কার , অজস্র দেবত্রের লোভ --- কাঠপুত্‌লির ঝুরঝুর মাটিতে জেগে ওঠে বিগ্রহ --- ত্র্যহস্পর্শে সে রত্নির জোরে জাগায় আকাশ --- “ খ ” যে মৌরুসী নয় --- সমস্ত শ্রমিক আর মজুরকে সে ভেবেছে এক --- ভুল পার্থক্য এখানেই --- এই কষ্টে সুন্দরী আর পারে না শ্বাস নিতে উল্টোপিঠে বেরিয়ে আসে শিকড়... ভুল দিকে মূল। কুমোর বলেছিল সে এসরেণুতে ভরে দেবে বাতাস--- এখন সে চিমনির মুখে বসে কালো ধোঁয়া মেশায় বাতাসে ---দোয়াবে বসে ভুল মাপে “খ”, ঘুমের সময় তাকে যে সাপ মারতে হবে---চারিদিকে সমস্ত সাপকে সে দড়ি ভেবেছিল --- বীতং চাই --- কুমোরের শরীরে পশু গোঙাচ্ছে --- কুমোর সায়শনে বসে অধ্যাসে পোষে নীল নদের তটে অবৈধ প্রাপ্তির ফানুসের স্বপ্ন---কাঠপুত্‌লির দেবত্র জরায়ু তার গমনের নয় ভেবে ভয়ঙ্কর ওষধি কুড়ায় সে --- ছিবড়ে ছিবড়ে মাংস --- অসৎ অসৎ প্রেরণা --- কাঠপুত্‌লিদের কপালে অশালীন দুর্বোধ্য লিপি ফুটে ওঠে ...
গেরুয়া বসনে সে অনুকৃতি
সে বাধ্য করায় হাড় খেতে
ভিন্নমুখ রসে শাখের করাত হতে হয়
দীর্ঘদিন শর্করা রুগীর অতৃপ্তিতে সেতুবন্ধ বানিয়েছি
এখন কাঠপুত্‌লিরা পেরেকের মার খেতে শিখেছে
কপালে খোদাই টিপ
গলার মাৎসর্যভঙ্গে ঘরে কেউকেটা
পুরুষের বাড়ি মেসোপটেমিয়া
নীল নদ , একজোড়া চুমু , আর জমি নিয়ে
বিবাহ হয় বেলে মাটিতে
ওরা আমাদের কাঠপুত্‌লি বলে
পতিত বা আবাদ যাই হই ---
কাঠপুত্‌লিরা “ক” / “খ” কেউ নয় ... কাঠপুত্‌লিরা যাপনের নারী শ্রমিক ... যুগের মাংসাশী গাছ দেখে এই ক / খ -রা মারমেড হয়ে গেছে ... যাদের নাকি ঘন সমুদ্রে দেখা যায় ... সমস্ত – প্রতারণার উত্তর কাঠপুত্‌লিরা যদি অনাবাদী হয়ে দেয় ! ওরা এখন মঞ্জরী পত্রের “ ফাই ঘটনার ” নামান্তর
[ ( PHI-PHENOMENON --নিশ্চল বস্তুতে গতি প্রত্যক্ষ করা / আপাতগতি ] --- চেতনার কেন্দ্রস্থল , চেতনার ক্ষেত্র সব যদি উদ্দীপকের ভান্ডার হয়ে যায় ... মানুষ তো তাৎক্ষণিক পাবে --- বেশীটাই হারাবে --- যা পাবে তা শুধু ভুল ... তাই তো যে অশ্রু দুঃখের নামান্তর --- সে আবার কখনো কখনো আনন্দাশ্রু হয়েও বেরিয়ে আসে --- যে দু ’ একজন ঈশ্বরের সেবক মেলে তারাও যেন বিরতিতে এক একটা ভুল হয়ে ওঠেন ! !
সেবক মন্ত্র দেয় কাঠপুত্‌লিদের “ শব্দ বিক্রি করে সাহিত্য রচনা নয় ”
“ শরীর বিক্রি করে বিবাহ রচনা নয় ”
সেবক সাদা তেলে ভাজা ময়দার পরিণতিতে ঝুড়ি চাপা দেয় ... বড় পাখা হাতে মাছি ওড়ায় --- জলের আদরে ক্ষার শক্তি মাখতে বলে কাঠপুত্‌লিদের ।
এক পূর্ণশশী রাতে সেবক এসে দাঁড়ায় --- কোথাও তার সিন্দুক লোভ নেই --- তবে আছে প্রশ্ন
“ তোমার এত দীর্ঘঘেরাটোপে কোনো রাক্ষস বা কুমোরের দাগ লাগেনি তো কাঠপুত্‌লি ” ... পর্দায় কতখানি বৃষ্টির স্তর ---সেবক তবে প্রমাণ চায় ? কোথায় ভালবাসা তবে কাঠপুত্‌লি --- তোমার কাঠের শরীর --- শরীর নিধান --- সেবক যে মন্ত্র দেয় গলায় রেখো তাকে ,
ঈশ্বরের ঘুম ভাঙলে বোলো ... সম্পত্তিরা সুখের পথের আলেয়া কেনো এত !! --- কোন রক্ষকে খাটি রং --- কোন রক্ষক খিদেহীন ---কোন রক্ষকের
পূজো তুমি !!!
পুরুষ হাসে - প্রকৃতিরা নাচে - ঈশ্বরীয় ঘুম - সুতোর খাঁজে টান - রাক্ষস আসে যায় - শ্রমিক / মজুর জন্মায় - এরাই ধরে কুমোর কুমোর খেলা - বিশ্বকর্মা পুতুল হয়ে গ্যাছে - নকল কুমোর দৈত্যমানব - সেবক আসে ফুলের বৃষ্টিতে - ফুলের মধ্যে জড়িয়ে থাকে মিহি মিহি পোকা - সেবক আবার পুরুষ
হয়ে আসে - প্রকৃতিরা বাঈজি নামক কাঠপুত্‌লির নাচ
শূন্য শুরু শূন্যে গিয়ে মেলে --- কোথাও কোনো সাদা নেয় ...সাদারা সব রং ঠেলে দেয় --- কালো সব রং শুষে নেয় ---কালোকে বলে লোকে “ এই তাপের উত্তম শোষক---এই তাপের উত্তম প্রতিফলক ”
কোথায় তবে ঠিকের ধারারেখা ----! ! !
এখন কাঠপুত্‌লিরা ভুল আর পাপের জন্য জলসত্র খোঁজে ... বৈতরণী নদীর পলিতে লুকিয়ে রাখে সমস্ত অধ্যাস ... মিথ কামী পুণ্যের জল নিয়ে আসে ... তারা একটা অবগাহন খোঁজে যেখানে সূত্র কাউকে কামড়ায় না -- কাঠপুত্‌লিরা বৈতরণীতে মজ্জা ভিজিয়ে রাখেছে -- কারণ আজ যা লাল -- কাল তা হলুদ ...