ব্যুমেরাং

শিবু মণ্ডল

ঘূর্ণনের চারপাশে ছড়িয়ে শুধু অনিবার্য বিস্মৃতি। বিষাদ ভঙ্গিতে শুদ্ধ নীল শান্তির ঊর্ধ্বে বিরাজ করেছিল; আমি কি সেখানে ছিলাম? লীলার মঞ্চস্থ আবহে মেঘের আবির্ভাব ছিল নৈঋতে! ছিল আবহসঙ্গীত ! ছিল কিছু কাঠপুতুলের ভিড়। আমি ভাবছি একটা কবিতার মধ্যে এরা কি করছিলো? তারপর শুধু নাটকের রিহার্সালের জন্য প্রম্পটার হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম মঞ্চের পিছনে- মনে পড়ে!
তারপর কিছুটা রাস্তা স্মৃতিভ্রংশ বালিনো গতিতে আঘাত লেগে; ঝম্‌ঝম্‌ বৃষ্টির মতো রাত্রি ঢেউ খেলে পথে নামে। অনন্ত বিস্মৃতির মধ্যেই ঢুকে পড়ি সংরক্ষিত বনে। এখানে নাকি স্মৃতিদের বীজ পুঁতে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা আছে! আমি ভাবছি এই যে এত গাছ, গাছে গাছে ফল- এই কি তবে স্মৃতিফল! সেই থেকে খুঁজে চলেছি একটি বনভোজনের স্মৃতি ! মাটন-চাপের ধোঁয়া !
তারপর বনফায়ার ঘিরে ধরে আমাকে। তন্দুর রঙের সব কাঠের পুতুল আমাকে ঘিরে নাচতে থাকে। আয় আমরা সখা হই, আয় আমরা সখি হই, আয় আমরা ঝাঁপ দিই আগুনে! এখানে নাকি স্মৃতির মধ্যে একবার ঢুকে পড়লে আর বেঁচে থাকা নেই। স্মৃতির সাথে মরণপণ লড়াই করে কোনমতে বেরিয়ে আসি আবার বিস্মৃতির পথে। সেই থেকেই কি আমি বৃক্ষচ্ছেদ শিখে গেছি...