মূক ও মুখরতা

সুজন সুপান্থ

বকুলের কোনো কথা নেই। ব্যক্তিগত ঘ্রাণ আছে। আছে অজস্র গল্পের ডানা। অহেতু গুঞ্জনের দিকে ছুটে চলা কোনো কথা জানা নেই তার। তাই আকাশের দিকে বনমৌরির ঘ্রাণ উড়িয়ে সে জানতে চায় কেমন আছি। ধূপের ঘ্রাণ হাতের তালুতে ঘষে ঘষে নাকে লাগিয়ে দিলে বুঝতে পারি, আমার সঙ্গে যেতে চায় নাচনির বিল, শ্মশান অবদি। তুলসির ঘ্রাণ মানে বাড়ি ফেরা। কখনো ইশারায় বুঝিয়ে দিতে পারে সব। আমরা মানে বকুল আর আমি তাই ঘ্রাণের রেওয়াজ করি। ঘ্রাণ বিনিময়ে করি কথার যাতায়াত। এসব কথায় কোনো খেলাপের কারসাজি নেই।

ফুলতি বালা মানে ফুলমাসির মেয়ে বকুল। বকুল—অসুখলতার ফুল। বকুলের বাবা বাণী মেসো গ্রামে বিয়ের আসরে সানাই বাজান। ওস্তাদ বিসমিল্লাহর নাম তাঁর জানা নেই। তবু যখন ঠাকুরের নামে শুরু করেন তখন পাগলের মতো সানাই বাজাতে থাকেন। বোঝা যায় না ঠিক, তাঁর সানাই থেকে বিচ্ছেদ নাকি মিলনের সুর ভেসে যায়।
মুখে মুখে ফেরে, জন্মের চার বছর পর বকুলের অসহ্য জ্বর। এর আগে সে সব কথাই বলত। মেয়ের এমন জ্বরে বাণী মেসো খুব মুষড়ে পড়েছিলেন। সেদিন কারও বিয়ে ছিল না। ছোট্ট বকুলের যন্ত্রণা ছিল। এই যন্ত্রণা গেঁথে গিয়েছিল মেসোর বুকে। যন্ত্রণা তাড়াতে মেসো সারা রাত সানাইয়ে সুর তুলেছেন, অন্তর ছিঁড়ে যাওয়া সুর। অন্তর ছিঁড়ে মেসোর মুখে রক্ত উঠে গিয়েছিল। ওই সানাইয়ের সুরের অভিশাপে নাকি বকুলের কথা ছিঁড়ে গেছে। শোনে, শুধু বলতে পারে না বকুল।

বকুলের সঙ্গে সখ্য হয়েছিল সরষে ফুলের আলোর ভেতর। ভীষণ আলোয় সরষে ফুলের মধু চুষে ফুলকারি জামার কোঁচড়ে রাখছে ফুল। ইশারায় দেখিয়েছিল বহুদূর। বুঝিনি। নাকে লেবুপাতার ঘ্রাণ লাগিয়ে তার পিছু পিছু এগোতে বলেছিল। পায়ের ছাপ ধরে এগোতে থাকি। বিন্নি ধানের খেত, আলপথ, বড়পুল পেরিয়ে আনন্দলোক শ্মশান। পাশ দিয়েই বয়ে গেছে নাচনির বিল। ভরা বর্ষায় এই বিলে পেখমতোলা নৌকা চলে। এখন নেই। সুনসান শ্মশান। এই শ্মশানেই কেবল বসন্ত ফুটে থাকে। চারদিকে বাঁশঝাড়, কিছু জংলি ফুলের গান আর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা বেল ও শিমুল গাছের ডালে পাখিদের ঠাট। আমরা চুপচাপ শুনি পাখি ও জংলি ফুলের গান। মুখ ফুটে অনেক কথাই বলতে চায় বকুল। কিন্তু বলতে না পারা কথার ব্যথায় কুঁকড়ে যায়। বকুল কাঁদতে পারে না, তবু তার চোখে জল আসে। তার কান্নার কোনো সুর নেই। সে জানিয়েছে ভাঁটফুলের ঘ্রাণে—তার সমস্ত কথা কেমন দলা হয়ে আটকে থাকে গলার ভেতর, মাথার ভেতর। বকুল সুর করে কাঁদতে পারে না বলে আমার কান্না কান্না লাগে। বুঝতে দিই না। আকাশ দেখি। মেঘ এসে শুষে নেয় চোখ। তারপর হেসে দিই বকুলের মুখে। চোখের ভেতরে হেসে ওঠে বকুল, শব্দহীন। তারপর একজন আরজনের দিকে চেয়ে থাকি বহুক্ষণ। আরাম লাগে আদরের মতো। ভেতরে-ভেতরে আরও কী যেন লাগে।

ফুলমাসি ধূপ ও আগর বিক্রি করেন। ঘ্রাণ নিয়ে কাজ। এই সব ঘ্রাণের কাজ দেখতে দেখতে বকুল শিখে ফেলেছে ঘ্রাণের ভাষা। সে জানিয়েছে একেক ঘ্রাণের একেক অর্থ। আমাকেও শিখিয়েছে ঘ্রাণের মানে। বান্নিমেলার আগে আগে ফুলমাসি মাটির পুতুল তৈরি করেন। শুকানোর পর রং লাগিয়ে বিক্রি করেন। বকুল প্রায়ই তার মায়ের কাছে জেদ ধরে, এই সব পুতুলের মুখে ভাষা দাও, কথা দাও। পুতুলেরা বলে উঠুক বকুলের না বলা কথা। ফুলমাসি বিরক্ত হয়ে ওঠেন, বোবা হয়ে ওঠেন। ফোঁপাতে ফোঁপাতে ঢুকে যান উলুঘরে। চোখ মুছে ঘণ্টি বাজাতে উলুধ্বনি দিতে থাকেন। ঠাকুরের কাছে মানত করেন বকুলের কথা। ফুলমাসির সামনে ঠাকুর বকুলের মতোই ভাষাহীন। উলুধ্বনি শুনলেই বকুল দৌড়ে ঘরছাড়া হয়। চোখ মুছতে মুছতে আগরের বন পেরিয়ে ছুটে যায় শ্মশানের দিকে। শ্মশানের দিকে গেলেই বকুলকে দেখতে পাওয়া যায়। ঘাসের ওপর চিৎ হয়ে শুয়ে চুপচাপ আকাশ দেখছে। আকাশ দেখছে মানে জমে থাকা সমূহ অভিমান ছুড়ে দিচ্ছে পৃথিবীর চোখের ভেতর।

বকুলের কোঁচড়ে কথা জমানো থাকে। কথা মানে নানা ফুল, পাতা আর মসলার ঘ্রাণ। যেদিন খুব প্রেম পায় সেদিন বকুলের চুলে থাকে রজনীগন্ধা নারিকেল তেলের ঘ্রাণ। বকুল শিখিয়েছে ঘ্রাণের কথা। আমি তাকে শিখিয়েছি জিরাফের ব্যাকরণ। বলেছি তাকে, দেখো এই নাচনির বিলে জলের ওপরে কেমন শান্ত ঘুমিয়ে থাকে আর সব জল। বয়ে যাওয়ার শব্দ ছাড়া জলের আর কোনো ভাষা নেই। কুঁড়ি থেকে ফুটে উঠছে ফুল তারও তো কোনো ভাষা নেই, কথা নেই। পতঙ্গের কথা ভাবো। ভাবো ঘাসের ওপর শিশিরের মায়া, ভাবো হাওয়া-জল-ছায়া, ভাবো গাছ-ফুল, ভাবো চাঁদ-তারা-অন্ধকার, ভাবো মন, মাছেদের প্রেম-প্রজাপতি। শোনো, এই সব ভাবনা আমাদের সমস্ত যৌথ ব্যথার মাঝে একদিন ফুল হয়ে ফুটে সন্ধ্যায় ঝরে যাবে, বকুল!

এসব ঠিক বিশ্বাস করতে পারেনি বকুল। তাই চালতা ফুলের সৌরভ ছড়িয়েছিল। সৌরভে সৌরভে বলেছিল, বলতে না পারা কথার ব্যথার মতো তুমিও কেমন বুকের কোথাও জড়িয়ে যাচ্ছ ব্যাখ্যাহীনভাবে। তার’চে ভাবনা ফেলে চলো হাত ধরে চুপচাপ শুনে নিই ফুল ফোটার শব্দ। আমরা হেঁটে যাই নাচনির বিলে। তীরে হাত ধরে উপুড় হয়ে শুয়ে দেখি চাঁদমালা ফুল। কতকটা ফুটে আছে, কতকটা অপেক্ষায়। অপেক্ষার কাছে কান পেতে রাখি। চুপচাপ। দীর্ঘক্ষণ। শব্দ বলতে কেবল হাওয়ার সঙ্গে নিশ্বাস মিশে যাওয়া। বিকেল গড়িয়ে ভিন পাড়ার দিকে দিকে ছুটে যাচ্ছে দুপুর, আমাদের সমূহ অপেক্ষা। তবু ফুল ফোটার কোনো শব্দ আসেনি কানে। এদিকে ঘন সন্ধ্যায় ভারী হয়ে উঠছে একা একা বাড়ি ফেরার পথ। বাড়ি ফেরা মানে নিদারুণ একা। আর ঘুমের ভেতর চেপে ধরে বোবা ধরা মুখ। ঘুমের ভেতর থেকে চিৎকার করি, কেউ শোনে না কিছুই। বকুলের মতো লাগে, কষ্ট হয়। মনে হয়, রোজ রাতে বকুলের বলতে না পারার ব্যথা আমার ভেতরে ভাগ হয়ে আসে। বোবা ধরা মুখের স্মৃতি নিয়ে এসে পরদিন দেখিয়েছি শব্দ ছাড়াই কীভাবে ফোটা শেষে ঝরে গেছে হাসির মতো চাঁদমালা ফুল। বকুলের খুব মন খারাপ হয়। তার মন খারাপের ভেতর ছিটিয়ে দিই শটি ফুলে জমে থাকা জল। চমকে ওঠে বকুল।

দুপুরের দিকে হরিধ্বনি তুলে ফলনার শবযাত্রা চলেছে আনন্দলোক শ্মশানের দিকে। পথে ছড়িয়ে পড়ছে কয়েনের হাসি। আমরা দুজন শবযাত্রার পেছনে শ্মশান সরণি ধরে হেঁটে পথ থেকে কুড়িয়ে নিই হাসি। মৃত মানুষের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ছড়ানো কয়েন দিয়ে টস করি—কথা যদি ফিরে আসে কোনো দিন। হেরে যাই। বুঝি যে, বকুলের বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠে। কুড়ানো কয়েনের হাসি দিয়ে মেরি বিস্কুট কিনে বড়পুলের ওপরে বসি। শান্ত হয় বকুল। পুল থেকে পা ছড়িয়ে দিই নিচে। পা ঝোলাতে ঝোলাতে বিস্কুট খাই। কিছুটা ছিটিয়ে দিচ্ছি জলে। বিস্কুটের লোভে ঘাই মারছে তিতপুঁটি আর টাকি মাছের ঝাঁক। মাঝে মাঝে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে ডুবে যাচ্ছে জলের তলে। আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিই মাছেদের নিশ্চুপ আদর। ইশারায় চুপ বলে বকুল। পাছে ছিঁড়ে যায় মাছেদের প্রেম। মাছ ডুবে গেলে ব্যথা নিয়ে হেসে ওঠে বকুল। ভেসে আসে এলাচের ঘ্রাণ। ওই ঘ্রাণে কান পেতে শুনি, তার সমূহ ব্যথা কেবল হারিয়ে ফেলা সুর আর আমার কথা বলে। আমার কেমন যেন লাগে।

একটু দূরে দাহ হচ্ছে ফলনার দেহ। নিভে যাচ্ছে আগুন, ভারী হচ্ছে ধোঁয়া। নিমেষেই নাই হয়ে গেল একটা লোক। এদিকে চোখের জল ফেলে ধীরে, লঘু হচ্ছে শোক। এসব দেখতে দেখতে বকুল হাতের তালু ঘষে ঘষে বলেছিল, আগর পুড়ে গেলে ঘরজুড়ে ঘ্রাণ ভেসে থাকে। অথচ এই যে নাম না জানা মানুষটা পুড়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তে কিছুই বলতে পারল না। তার কোনো ঘ্রাণ নেই, শুধু দুঃসহ স্মৃতি ছাড়া। সেটাও মুছে যাবে একদিন। এর চেয়ে ধূপ হয়ে পুড়ে যাওয়া ভালো। এ কথা শুনে বুঝেছিলাম ভেতরে-ভেতরে স্বেচ্ছামৃত্যুর কী বিপুল বাসনা পুষে রেখেছে বকুল। আমি প্রতিরোধ করি প্রেমে। প্রেমিকের মন, তাকে বাঁচতে শেখাই হাওয়াদের মতো।

ধীর পায়ে শ্মশানের দিকে এগোই। একটু একটু জ্বলছে চিতার ছাই। এই ছাই হাওয়া হয়ে উড়ে যাবে আকাশে। এই ছাই মিশে যাবে নাচনির জলে। জল হাওয়া হয়ে মিশে যাবে হাওয়ায় হাওয়ায়। এই হাওয়া দূরে উড়ে উড়ে মেঘ হয়ে যাবে। তাই আধো জ্বলন্ত ছাইয়ের কাছে হাঁটু গেড়ে বসি। চোখ বন্ধ করে বলি, ঠাকুর, বকুলের অসহ্য অসুখ দাও। অসুখের ঘোরে তার অপরূপ মুখে কথা ফুটে উঠুক। স্বর দাও ঠাকুর স্বর দাও, কণ্ঠে দাও তোমার প্রসাদ। দীর্ঘদিন চুপ করে থাকা বকুল কথাদের নিয়ে খিলখিল হেসে উঠুক, দয়াল। এই প্রার্থনাতেও বকুলের মন খারাপ হয়। বিকেলের আলো সরিয়ে তার ছায়া অন্ধকারের দিকে যেতে থাকে। বকুলই আমার দেখা একমাত্র অন্ধকর। কেমন নিজের ছায়া থেকে সে অন্ধকার রাত্রি নামিয়ে আনে। আর রাত হলেই তার জমে থাকা ব্যথা অজান্তেই ভাগ হয়ে ফিরে আসে আমার কাছে।

বকুল তারাদের পাহারাদার। রাত হলেই জোনাকির আলো চুপ দিয়ে গুণ করে আকাশের তারা গুণে রাখে। সে আমাকে জানিয়েছে, আকাশ থেকে ছুটে যাওয়া তারাদের মৃতদেহ তার বুকে তিল হয়ে থাকে। বলেছি তাকে, জানো তো, তিল মানে অজানার দরজা! শক্ত করে হাত ধরে চোখ ফিরিয়ে নিয়েছিল বকুল। বলেছিল, দেখো একদিন হুট করে খুলে যেতে পারে হুড়কো।

সুনসান শ্মশানে পাখিদের গান। দীর্ঘদিন বলতে না পারা কথার সুর বকুল মেলে দিয়েছে নানাবিধ ফুলেদের ঘ্রাণে। চুল থেকে ভেসে যাচ্ছে রজনীগন্ধা নারিকেল তেলের সুবাস। ঠোঁটে শিশুমালতির চকচকে আলো। পুঁইমেটুলি টিপে টিপে পায়ে আলতা পরছে বকুল। সামনে আয়না হয়ে বসে আছি আমি। তার কপালে আটকানো জবা ফুলের কেশর। কোঁচড় থেকে বের করেছে লুকিয়ে আনা শাঁখ। শাঁখে কান পেতে শুনছি সমুদ্রের কথা। এই সব কথা শুনতে শুনতে তলিয়ে যাচ্ছি সমুদ্রের ভেতর, তুমুল আদরের ভেতর। ফিরে এসে এই ঠোঁটে বকুল ছুঁয়ে দিয়েছে শিশুমালতির ঘ্রাণ। সমূহ নীরবতা নিয়ে আমরা বদলে ফেলি জমজ ঠোঁটের স্মৃতি। তারপর তিরতির কেঁপে ওঠা বাঁশপাতার দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দে চিৎকার করে ওঠে বকুল। যেন আজ এই পৃথিবীর ভেতর সে ছুড়ে দিতে চায় সীমাহীন চিৎকার।

নুনিয়া ফুল ছড়িয়ে ছড়িয়ে চিতার ছাই পর্যন্ত পথ করেছিল বকুল। ঘ্রাণে ঘ্রাণে বলেছিল, চলো বড়দের মতো ঘুরে আসি সাতপাক। কানে বেজে উঠুক বাবার পাগলা সানাই। তারপর ফুলফুল খেলে হব পাগল অপার। তার আঙুলে আঙুল ধরে রাখি। চিতার ছাইয়ের চারপাশে ঘুরে এলে বেজে ওঠে বহুদিনের অনুচ্চারিত গান। তার সুরে কেঁপে উঠছে মূক হাওয়া। কেঁপে উঠছে বকুলের রক্তজবার মতো মুখ। কেঁপে উঠছে তার বুকে তিল হয়ে থাকা তারাদের মৃতদেহ। সেই তিলের গোপনে যে আলো, তা আজ আশ্চর্য পথের ঠিকানা জানাল।
শিমুল ফুলের আলোয় এই প্রথম হুট করে খুলে যায় হুড়কো। অবাকের মতো বকুলের তিল এই বুকে এসে বিঁধে যায়। দূর থেকে দেখি, তিলের গভীরে তার বুকে ফুটে আছে কুয়াশার হিম। কমে আসছে কথোপকথন, ঘ্রাণের অনুবাদ। হিম পেরিয়ে ধীরে, শান্তভাবে পেখম মেলে দিচ্ছে অচেনা ময়ূর। আমি শুনি পেখম মেলার সুর। ইশারায় বলেছে, ছুঁয়ে দেখো কীভাবে বুকে ধরে আছি পৃথিবীর কোমল ডানা। ছুঁয়ে দাও, ছুঁয়ে দাও। যেভাবে আটকে আছে কথা, সেভাবে সমস্ত সুর নিয়ে ছুঁয়ে থাকো। ছুঁয়ে থাকো নাচনির বিলে জলের ওপরে যেমন করে শান্ত ঘুমিয়ে থাকে আর সব জল। দূরে উড়ে যাক সমুদয় যৌথ ব্যথা। এই ইশারার কাছে নতজানু আমি, ছুঁয়ে দিই পৃথিবীর কোমল ডানা। দেখি নিরাময়ের মতো ডানা থেকে আরও দূরে লেগে আছে নিমপাতার ঘ্রাণ। অথচ আমি তার অসহ্য অসুখ চেয়েছিলাম।

ব্যথা থেকে বকুল আরও নিরাময় চেয়েছিল। বলেছি তাকে, এই মুখরতাটুকু থাক। তার’চে বরং কোঁচড়ে জমাও আরও আরও ঘ্রাণ, জমাও আলো, জমাও তারও বেশি ছায়া। আসছে শীতে প্রজাপতির কাছে জমা রেখে দেব আমার সকল কথা। তোমার বুকে এঁকে দেব বৃষ্টির মায়া। তারপর সমূহ মুখরতা নিয়ে ডালিমের বন পেরিয়ে পথ হারানো পাখির ডানার ভেতর চুপচাপ কাটিয়ে দেব পুরোটা সময়। যদি চাও তবে এভাবেই হোক, তোমার আমার বাসনার বিপুল নিরাময়...