চেতন ও চ্যুতি ...

রমিত দে

“ তোমার শূন্যতার অজ্ঞাত গহ্বর থেকে নবজন্মের জন্যে
প্রার্থনা করো , প্রতীক্ষা করো , প্রস্তুত হও ... ”
আমি কেন আমি ! এর উত্তর কে দেবে ? না না আমি চাইছি না এ মূহূর্তে কেউ এসে কানে কানে আমায় মারফতি কিংবা ফকিরালি শুনিয়ে বলুক – “ আমার এ ঘরখানায় কে বিরাজ করে / আমি জনম ভরে একদিন না দেখিলাম তারে ” , এটা তো সত্যি , দুটো চোখ দুটো কান দুটো নাসারন্ধ্র একটা মুখ একটা পায়ু আর উপাস্থ নিয়ে নবদ্বারী হয়ে আমি তো রয়েছি । দিব্যি রয়েছি । হাঁটু আছে গোড়ালী আছে হাঁটা আছে গতি আছে । তবে ও কে ? ফল কুড়োচ্ছে তো কুড়োচ্ছেই ! হাঁসের পালক নিয়ে খেলছে তো
খেলছেই ! ও কে ! ডালার ভেতর বাবু হয়ে লক্ষীটি হয়ে বসে আছে ? ও কে ? ও কি তবে সংকোচন ! সমূহন ! গুটিয়ে আসা ! ছোট হতে হতে শূন্য হয়ে যাওয়া ? আর এই যে বাইরে চারিদিকে হাত-পা চারিদিকে কিচকিচ চারদিকে কাদা চারিদিকে ষড়রিপুর কুহুস্বর চারিদিকে বিষন্নতার বকলস পরানো মুখ আর মুখ ফেরানো মুখের দিকে – এই যে কথাজিজ্ঞাসা কাটা কইমাছের মত ধড়ফড় করছে ওর ভেতর প্রেয়রই তো কেবল পাকা রাস্তা ! শ্রেয়রই কানাগলিটা কই ? তবে কি ভেতরের ‘ বচনম অবচনম ’ অর্থাৎ না বলাটাই সত্যি ? বাকি সব ভুল !
কে জানে !
প্রশ্ন তো একটাই , কোনটা ঠিক , কোনটা ভুল ! ভুলের দিকেই কি মানুষগুলো নৌকো বেঁধেছে ! ভুলের দিকেই কি মানুষগুলো একটু ঘুমোচ্ছে !
কে জানে !
এক একটা জন্মসমগ্রের সামনে মাঝে সাঝে বসে থাকলেই মনে হয় একটানা একটা ডাক কোথা থেকে যেন আসছে , কারা যেন বলছে আয় আয় আয়-কিন্তু কোথায় যাব ? বেউড় বাঁশের বাঁশী তো নেই আমার হাতে ! ধানী নৌকাও নেই । কিন্তু মাঝে মাঝে রোদ্দুর ঝিকিয়ে উঠলে আর পিঁপড়েদের সাথে পথগুলো পালিয়ে গেলে সংরক্ষণ রেখে ভিক্ষে রেখে আমার কাছে আসি । ভেতরের আমি তে একা তো আমি হই, অনেকদূর অবধি গিয়ে থেমে তো যাই । দেখি গানের খাতাটি আখড়া থেকে হারিয়ে গিয়েছে সেই কবেই আর তার ভেতরে কেবল নকল আর নকল, মুখের মিথ্যার ভুলের নকল। প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যেই কি এমন একটা এলাকা নেই যেখানে ভুলগুলোকে জড়ো করতে করতে সে একটা ভ্রম তৈরী করে ফেলেছে ! তার থাকার ভ্রম তার দৌড়বার ভ্রম তার পৌঁছবার ভ্রম তার পাওয়ার ভ্রম তার হারাবার ভ্রম । ডিম ফুটে বেরোতে না বেরোতেই কারা যেন পরিয়ে দিয়েছে নকল নামের নীল ফতুয়া । মনে পড়ে আজ থেকে ষাট বছর আগে বদ্রিলার যে বলেছিলেন - “ আজকের বিশ্ব আসলে কুহকবিশ্ব , এই বিশ্বে আসল বলে আর কিছু নেই , সবই নকল , সবটাই নকল , ... একটা সময় আসবে যখন কোনটা আসল আর কোনটা নকল , এই পার্থক্য করবার বোধটাও আমাদের আর থাকবে না ; নকলের মধ্যে ক্রমাগত থাকতে থাকতে অদ্ভুত ছায়াভ্রমে মনে হবে নকলটাই বুঝিবা আসল ” এবং বেঁচে থাকার এটাই সবচেয়ে বড় ভুল – বদ্রিলার হয়ত প্রোডাকশন , অবজেক্ট , কনস্যুমার সোসাইটি কিংবা ভোক্তা ও ভোগীর মায়ার জগত প্রসঙ্গেই আসল আর নকলের সংজ্ঞা নির্ধারনের প্রয়াস করেছিলেন । কিন্তু এই যে থাকা এই যে মানুষ হিসেবে উপস্থিতি এর থেকে বড় নকল আর কি হতে পারে ? এই যে পথে মাঠে জলের কিনারায় আবহমান অন্তকাল হেঁটে হেঁটে মুখ খুঁজে বেড়ানো এর থেকে ভুল আর কি হতে পারে ?
জন্মটাই প্রকৃত সখ্য, সকলের সাথে এক থাকা , আবার দেখ এই জন্মতেই কেমন থিরথির করছে একরকমের বিচ্ছেদ, দুটো পাখি ডাক দিচ্ছে রোজ, একটানা ডাক রোদ্দুরে ভিজছে । আসলে পুরো জন্মটাই একটা ফিলজফিকাল মিসটেক । একটা জন্মের চারিদিকে কতরকমের ফাঁদ পাতা ! আনন্দের । দুঃখের । যন্ত্রনার । ভালোবাসার । ... বার্থ শব্দটার সাথেই যেন অব্যর্থভাবে লেগে রয়েছে একধরনের আনচুজেন মিসটেক । টোয়েন একবার বলেছিলেন জীবনের দুটোই গুরুত্বপূর্ণ দিন ,এক যেদিন তুমি জন্মালে আর যে দিন তুমি খুঁজে পাবে ‘ কেন জন্মেছ ’ প্রশ্নটার একটা যুতসই উত্তর । আচ্ছা সত্যিই তো মানুষ হয়েই বা কেন জন্মালাম ? কি কান্ড দেখ ২৩ জোড়া ক্রোমোজমের ওপর যেই ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ল ফোঁটা ফোঁটা অন্ধকার পড়ল অমনি দূরন্তিকা বেজে উঠল পাঁউরুটি আর চীজ সাজানো একটা রান্নাঘরের , বিছানা তোলার, ধূলোঝাড়ার , পরিবেশনের , পালনের । যেন অনেকগুলো গুনফল জড়িয়ে আছে ,অথচ আসলে সে কিন্তু একধরনের গসাগু , শূন্যতার গসাগু। যে মুহুর্ত থেকে জীবন শুরু হল সেমূহূর্ত থেকে পুনরাবর্তন ঘটতে থাকল ভুলের । একটু উলটে গিয়ে ৩২ জোড়া হলেই কিন্তু তোমার হ্রেষাডাক হতে
পারত ; ক্রোমোজনাল রিঅ্যারেঞ্জমেন্টের জন্য মানুষ হতে কি ঘোড়া সে প্রশ্ন বিজ্ঞানের , কিন্তু মানুষ হয়ে জন্মাবার সাথে সাথেই ব্যক্তিসত্ত্বার কাছে আশ্রয় খোঁজার মত ভুলটা মানুষের নিজেরই ; সে জানে অবলুপ্তি নিশ্চিত অথচ মিনিং অফ এক্সিজটেন্স তাকে আশঙ্কিত করে রাখে সবসময় । একাধিক ভুলের গনগন আঁচে গুঁজে রেখে যায় । “ joyful wisdom ” এ নীটশে লিখছেন - “ Everyone wants to be foremost in this future and yet death and the stillness of death are the only things certain and common to all in this future ! How strange that this sole thing that is certain and common to all has almost no influence to men ”
ঠিকই তো । আমরা জানি আমরা নেই অথচ আঁকড়ে ধরার ভুল ! কি অসহায় ভাবে নৌকোয় উঠে পড়ার ভুল ! জীবনের লাগোয়া উঠোনে শুরু থেকেই জল , কেবলমাত্র ভেসে থাকার ভুল তাকে চিনতে দিচ্ছেনা । আসলে চিনতে দিচ্ছেনা তা নয় বরং আমরা অবচেতনে প্রথম থেকেই ক্যাপচার করে রেখেছি একধরনের মেন্টাল মিউটেশন । প্রশ্ন উঠতেই পারে সেটা আবার কি ? ন্যাচারাল সিলেকশন তো মোটামুটি আমরা সবাই জানি। লম্বা গলাওয়ালা জিরাফের সংখ্যা খাটো গলাওয়ালা জিরাফের সংখ্যার তুলনায় বাড়তে থাকল কেন ? আসলে পরিবেশের সাথে মানানসই বিশেষ প্রকরণ বা ভ্যারিয়েশন আর এই প্রাকৃতিক নির্বাচনটির সাথে সরাসরি যুক্ত তার বেঁচে থাকার প্রশ্নটি।ঠিক তেমনি মনেরও একটা ক্রম আছে একধরনের মিউটেশন আছে যা তাকে বারবার প্রোৎসাহন দিয়ে যাচ্ছে মিথ্যের সাহচর্য আর সমর্থন দিয়ে । বারবার ভুল করাচ্ছে অমরতাকে মান্যতা দিয়ে । এ মিথ্যে পরিমাপযোগ্য নয় কারণ মন এ ভুলের থেকে কোনোদিনও মুক্তি চায়না বরং আরও ঝকঝকে তকতকে করে রাখে , যা নেই তাকেই সে দরজা দেওয়াল তুলে বেঁধে রাখে, জানলা খোলে না ধুলো ঢুকে যাবার ভয়ে । এক ধরনের অনির্দেশ্য চাহিদা মানুষকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় এক জন্ম থেকে অন্য জন্ম আর এ চাহিদা বদ্রিয়ার যাকে বলছেন ভোগের হিস্টিরিয়া আদতে তা ভুলের হিস্টিরিয়া । আর এখানেই বেঁচে থাকার গভীর দার্শনিক সমস্যার ফাঁদ পাতা । কায়াকে ছেড়ে ছায়া নিয়ে ব্যস্ত থাকা । সিডাকশন আর প্রোডাকশন - জীবন জুড়ে কেবল উদ্বৃত্ত আখ্যানেরই আর্তনাদ । কোথাও কিছু নেই তবু দেখ ‘ মেরুদন্ড ভাঁজ করা ’ কিছু ভুলের দ্বন্ধযুদ্ধ আছে। এবং শেষমেশ তুমি অচেনা , এই প্রতীত সময়ের মত প্রকৃত অর্থেই তুমি অচেনা ।
“ It was a great mistake , my being born a man , I would have been much more successful as a seagull or a fish . As it is , I will always be a stranger who never feels at home , who does not really want and is not really wanted , who can never belong , who must be a little in love with death ! ” মানুষ কি সত্যি জানে সে কি চায় ! জানে না আর জানেনা বলেই এতটুকু ফাঁক না রাখার ভুল করে ।সত্যিই তো একটা সিগ্যাল বা একটা মাছ হলে কি এমন ক্ষতি হত ? “ When a fish swims, he swims on and on , and there is no end to the water ” - সত্যিই তো , সীমার মত ভুল কিছু থাকত না কিংবা ভুল দিয়ে সীমাকরন করার মত কিছু তরল তৃষ্ণা । আর কিছু না হোক মাটির পৃথিবীতে ডেজায়রস অফ ম্যান খোঁজার মত ভুল থেকে তো মুক্তি পাওয়া যেত । যেখানে মৃত্যুই একমাত্র সার্টেন ও সিম্বলিক যেখানে ফেরাতেই একমাত্র পাখীর প্রানের উল্লাস সেখানে মুঠোর ভিতর চেপে ধরছি থাকার মত একটা ক্রমঅংকুরিত ভুল । তার চারধারে একটা গোল বেষ্টনী করে স্তব্ধ হতবাক হয়ে বসে রয়েছি , বীজগাছ খুঁজছি , গোঙাচ্ছি ... ধোয়া মোছা কাচা পাট করা , কাচের মধ্যে দিয়ে দেখলে জীবনের মধ্যে কত শ্রমবিভাগ আর জীবনটাই একটা শূন্যের সংস্করন ।
জীবন কি তবে প্রাকৃতিক ছদ্মবেশ ! পোকামাকড়ের ফাঁস ! ইজ দ্য এক্সিজটেন্স ইজ আ ব্লাইন্ড মিসটেক ? শূন্যতা থেকেই সত্ত্বা আকার ধারন করে আবার শূন্যতাতেই সত্ত্বার সমাপতন !
কে জানে !
“ শুধু যখন চুল খুলে আয়নার সামনে গুনগুন গান কর / ঘাসের জঙ্গল থেকে তোমাদের মুখ বেরিয়ে
আসে ” - হ্যাঁ জীবনকে ঘিরে যাপনকে ঘিরে এই ঘাসের জঙ্গল আসলে একটা প্রস্তাবনা , চুপিসারে লুকিয়ে রাখা ভুলগুলো , ঠিকের ধারনাগুলো ; ধারনাই তো , তোমার ও ঘর তুমি বহু যতন করে কেবল ধারনা দিয়ে সাজিয়েছ । “ It is only ideas in one’s own mind that anyone is ever directly aware of during any act of consciousness ”-John Locke এর তথ্যের অতিব্যাখানে না গিয়ে কেবল তার মধ্যবর্তী পারমিয়েবল মেমব্রেনটাকে তুলে নিলে দেখা যাবে এই যে আমি আছি চিন্তা করছি আমার থাকার সম্ভারকে নিংড়ে নিচ্ছি অজস্রতা দিয়ে সে মুহুর্তে আমরা কিন্তু বাস্তবকে ছেঁচে নিচ্ছিনা বরং তার ভেতরেই রয়েছে বড় বড় একধরনের ফাঁক আর ওই ফাঁক ধরে ধরে বুনে চলেছি বাস্তবের সমান্তরালে একধরনের মায়াবী ধারনাকে । পারসেপশনকে । থাকার ধারনাকে । অর্থাৎ প্রকৃত থাকাকে প্রতিমূর্হুতে ভুল প্রমাণ করে চলেছে থাকার ধারনা ! এই যে রচনার এত বছর পর দেখা গেল জুলিয়াস সীজারে একটা ঘড়ির উল্লেখ করেছিলেন শেক্সপীয়ার অথচ তার ১৪০০ বছর পর ঘড়ির উদ্ভাবন হয় , আবার হ্যামলেট নাটকের শুরুতে হ্যামলেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট এবং নাটকের শেষে বছর তিরিশের যুবক অথচ পুরো নাটকে তার এই বেড়ে ওঠার অন্তঃসাক্ষগুলিকে খুঁজে পাওয়া যায়না । কিংবা ‘ দ্য উইন্টার টেল ’ এ যে বোহেমিয়া (বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্রের অধীন ) প্রদেশের প্রসঙ্গ তুলেছেন শেক্সপীয়ার যার চারপাশে উপকূলের কথা বলেছেন সেখানে কিন্তু সেসময় আদৌ কোনো সমুদ্র বা উপকূল ছিলনা । তবে কি লেখক কেবল ধারনা করেছিলেন থাকাগুলোর ! বেড়ে ওঠাগুলোর ! ব্যক্তি মানুষের জগতটাকে নির্মিত করে তুলেছিলেন তার মায়াবী মিস্টেক দিয়ে !
কনটাক্ট ল বলছে -“ মিসটেক ইজ অ্যান এরোনিয়াস বিলিফ আবার ক্রিমিনাল ল বলছে -‘ মিসটেক ইজ দ্য মিসটেক অফ দ্য ফ্যাক্ট ’ । এখন তবে এই যুক্তিতে শেক্সপীয়ারকে আমরা কোন এজলাজে তুলতে পারি ? তিনি কি না জেনে ভুল করেছিলেন নাকি ভুলটাকেই বিশ্বাস করেছিলেন ! বিশ্বাস করিয়েছিলেন !
আসলে এই বিশ্বাসটুকুই গল্প; শূন্য বাড়িতে থাকার গল্প , ঠান্ডা সাদা বরফের কুঁচির মতন নিজের ‘আমি’টাকে খোঁজার গল্প । কী তীব্র ভুল ! ভুলের গল্প ।আসলে আমি কোথাও নেই । আমার এই থাকাটাই তো একটা মিসটেক । চোয়াল ফাঁক করে বল দেখি তো ‘ আমি ’ - দেখ বলতে পারবে না। তবু যেন বাত পিত্ত কফের অসাম্যে বারবার বলে চলেছি আছি আছি আছি আছি । থাকার সপক্ষে বৌদ্ধ সৃষ্টিতত্ত্ব বলছেঃ - জলময় অন্ধকার অবস্থা থেকে অনাদি শক্তি গড়ে উঠে এবং তাঁর ইচ্ছা থেকে কায়াধারী আদিনাথ ও নিরঞ্জনের উদ্ভব । আদি শক্তির ঘর্ম থেকে জল , জল থেকে কূর্ম, তারপর হংস , তারপর উলুক , তারপর হল বাসুকীর জন্ম এবং এর পর আদিনাথের মন থেকে আদ্যাশক্তির উদ্ভব । এই আদ্যাশক্তিই দিলেন শিব বিষ্ণু ও ব্রহ্মার জন্ম এবং শিব ও শক্তি থেকে ক্রমশ এল মানুষ নামের বিকারজনিত এই ভ্রান্ত শরীর । ঋগবেদের নৈষধ সূক্তও আদিতে সর্বত্র অন্ধকার ও জলের কথা বলে যার থেকে ক্রমাগত তপঃ প্রভাবে পরব্রহ্মের অর্থাৎ এই বিত্ত বিষয়ের স্থুল শরীরের আবির্ভাব । আবার জোরাষ্ট্রীয় মতে দেহে রয়েছে কনসায়েন্স , স্পিরিট ,সোল কিংবা রিজনের মত একাধিক অনুকারক । আর কিচ্ছু না । সৃষ্টির শসাখেতে ঢুকে ভারতীয় যোগ আবার তুলে ফেলল আরো কিছু ফসল - “ Plane of Physical body ’, ‘ Plane of Ethical Double ’ , ‘ Plane of vitality ” , ‘ Plane of Emotional Nature ’ ,
‘ Plane of thought ’, ‘ Plane of Spiritual soul ’ , ‘ Plane of Pure Spirit ” এইসব আর কি ! সুফীরা তাদেরই দিল নিজস্ব আলো নিজস্ব মোকাম ও মঞ্জিল , বলল দেহলোক বলে একটা কি যেন আছে মানে নাসুত আর কি কিমবা আরও একটু দর্শন যোগে বলা যেতে পারে ওয়ার্ল্ড অফ বডি; এর হাত ধরে ধরেই নাকি বৌদ্ধলোক বা মলকুত মানে ওয়ার্ল্ড অফ পাওয়ার , তারপর তার গভীর আমন্ত্রনে সাড়া দিলেই লাহুত বা ফানা বা আত্মবিলোপের পৃথিবী বা দ্য ওয়ার্ল্ড অফ নিগেশন; আর সব শেষে দ্য ওয়ার্ল্ড অফ অ্যাবসিলিউট সাইলেন্স বা হাহুত বা অদ্বয় অবস্থা । কিন্তু আমি এত বকছি কেন ? তবে কি আমার থাকার সমর্থন চাইছি ?
আসলে আমাদের জীবনের সাথেই একধরনের আস্তিক্য নীতি জড়িত ।সৃষ্টি হয়েছে হয়েছে , মহানন্দে আছি , সৃজনতরঙ্গে আছি , এই যে মানুষ তার তো আর নিজের সাথে মুখ দেখাদেখি বন্ধ নেই তবু মাঝে মাঝে নিজেকে গুটিয়ে এনেও আবার ছেড়ে দিচ্ছি কেন ! ভেতরে তলিয়ে যাচ্ছি কেন ! তবে কি মুখের ভেতর মিথের ব্যবহার এত বেশি যে মানুষ নামের মিশ্রণটির ঘনত্ব নির্ধারন অসম্ভব হয়ে পড়ছে ! আসলে এই সব মিথের সাথে আমাদের পরিচয় নেই অথচ এই অপরিচয়ের মত কিছু মিসটেকই আমাদের পথের সাথী আর এইসব মিথের সাথে আমাদের পরিচয় হবেও না ।
একটা দেহকে একটা থাকাকে আশ্রয় করে কেবল ঘনীভূত হতে থাকবে দ্য ওয়ার্ল্ড অফ মিসটেক।
এই যে একধরনের অথেনটিক লিভিং খুঁজে চলেছি আমরা রাতদিন দিনরাত এর ভেতর আসলে আমরা কিছু পসিবিলিটিস-এর আলো জ্বালিয়ে রেখেছি ,সেখানে পথ আছে ,কিছু সুনির্দিষ্ট যাওয়া এবং ফেরা আছে । কিন্তু পথভ্রষ্টতা নেই । এ প্রসংগে একটা জেন গল্পের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে; রিউতান নামে এক জেন গুরু ছিল আর তোকুসান ছিল তার ছাত্র । রাত বাড়লে ছাত্র বাড়ি ফিরবে বলে পর্দা সরিয়ে গুরু দেখলেন বাইরে খুব অন্ধকার ; আর তোকুসানকে পথ দেখে চলার জন্য রিউতান একটা মোমবাতি দিলেন । যেই তোকুসান বাতিটা নিয়ে দরজার বাইরে পা দিয়েছেন ওমনি গুরু রিউতান ফুঁ দিয়ে আলোটা নিভিয়ে দিলেন ।
আসলে রিউতান জানতেন আলোর ভেতর থাকাটাই মিথ্যে । চরম ভুল । আর সত্যিই একটা গোটা জীবনে আলোর চারধারে পেখম হারাতে পোকা আসে কিন্তু রিউতানের মত কেউ আসেনা যিনি ফুঁ দিয়ে আলোটা নিবিয়ে দেবেন! বলবেন ওই অন্ধকারেই
পথভ্রষ্ট হও । বলবেন আলোতে এতদিন ভ্রূণ খুঁজে ফিরলে , না হয় অন্ধকারেই এবার ভুল কর ।