অভি না যাও ছোড় কর

স্বপন রায়


চারদিকে পাহাড়, একদিকে বয়ে চলা কোয়েল, মাঝখানে টাউনশিপ। পাহাড়ের ওপাশে ইস্পাত কারখানার লাগাতার উপস্থিতি, কখনো ব্লাস্ট ফার্নেসের ধোঁয়ায়, কখনো বা সান্ধ্যকালীন ব্লুমিং-এর লালচে বিগঠনে। এর ভেতরেই সবুজের ডাক বসানো ছিল প্রায় প্রতিটি সেক্টরের কোয়ার্টারসে। সাম্নে লন, 'হেজ'-এর ঘেরে থাকা ফুলের বাগান আর সরু পাইপে গাছে জল দেয়ার শব্দ, ব্লুক..ব্লুক...

স্কার্টে আজ জীবন্ত বাদাম, আজ রবিবার....আসবে তো মভ-স্কার্ট আর ক্রিম-টপের মালকিন টিয়া, যেমন রোজ এসে ওর বাবার সঙ্গে ফুল নিয়ে কথা বলে, ফুলের গায়ে জল কিভাবে মাঝে মাঝে শিশিরের মত হয়ে যায় এই বিস্ময় নিয়ে বকবক করে আর চোরা চাউনির তরঙ্গ পাঠিয়ে আমায় বিভ্রান্ত প্রাপক বানিয়ে রেখে দেয়, সেই টিয়া আসবে তো? আমি তো সেই কখন থেকে আড়চোখে ওদের কোয়ার্টারের দিকে তাকিয়ে আছি, দাঁড়ানোটা কৈশোরের অভ্যাস, তো দাঁড়িয়েই মেখে নিচ্ছি বিকেলের 'ক্লাবড' আলোয় পাখিফেরার নিভৃতিপনা, আমি সেই একায় একটু একটু বড় হচ্ছি আমার সাইকেলের সঙ্গে... আজ রবিবার, স্কার্টে জীবন্ত বাদাম নিয়ে ও কি একবারের জন্যও আসবে না? আর তখন সেই অপেক্ষার তড়পে ওঠা বিকেলকে সামান্য মেদুর করে দিয়ে আমার জন্যই যেন মাইকে বেজে উঠলো, 'এহসান তেরা হোগা মুঝ পর / দিল চাহতা হ্যায় উও কহনে দেও / মুঝে তুমসে মোহব্বত হো গই হ্যায় / মুঝে পলকোঁ কে ছাঁও মে রহনে দেও...'

-এই ইধরকো আও!

সেরেছে, টিয়ার বাবা! সাইকেল ঠেলে এগিয়ে গেলাম।

-কেয়া কাম হ্যায়, হামারা বাড়ি ইয়ে মানে ঘর কো তরফ দেখতা হ্যায় কিঁউ?

-কাকু, আমি বাঙালি

-ও বাঙালি? তা এখানমে দাঁড়ায়া কিঁউ?

-কাকু আপনি বাংলায় বলুন না

-হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক আছে...আমি কি বলবো কি বলবো না ইট ডিপেন্ডস অন মি। লেকিন তুম কা কেয়া কাম হ্যায়? কিঁউ হামারা বাড়ি, মানে ঘরকো দেখতা হ্যায়? মেরা মেয়ে হ্যায়...ও ইয়াং হ্যায়...মানে জওয়ানি হ্যায়...

এতো যাচ্ছেতাই হিন্দি বলে যাচ্ছে, জওয়ানি হ্যায়...খিক খিক করলাম মনে মনে! মুখে বললাম, কাকু আপনি বাংলায় বলুন না।

-চোপ রও বেয়াদপ! বোলতা হ্যায়, না পুলিশ ডাকেগা?

এইরে এতো বহুত খেপেছে, কি বলি এখন, কি যে বলি। কানে আসছে গানের শেষ অংশটা, 'চাহে বনা দো/ চাহে মিটা দো / মর ভি গয়ে তো দেঙ্গে দুয়ায়েঁ / ওড় ওড় কে কহেগি খাক সনম / ইয়ে দর্দ-এ-মোহব্বত সহনে দেও'....আচমকা মুখে এসে গেল, এই গানটা কাকু, ইয়ে এটা না আমার প্রিয় গান, কানে আসতেই সাইকেল থামিয়ে নেমে পড়লাম...

আর সেই বিরুদ্ধ বিকেলে হঠাৎই এক অত্যাশ্চর্য ঘটনা ঘটে গেল! কাকু, মানে টিয়ার বাবার হাত থেকে খসে পড়লো জলের পাইপ। চোখের মনিতে ঘনিয়ে উঠলো গ্লাস-কে-গ্লাস উল্লাস....তিনি চেঁচিয়ে বললেন, তুমি মহম্মদ রফির ভক্ত?


সেই অবসৃত বিকেলে আমি সসম্মানে টিয়াদের ড্রয়িংরুমে এসে বসলাম, টিয়ার বাবাই আমায় ‘আরে গেটের বাইরে কেন, ভেতরে এসো’ বলে সাদরে নিয়ে এসেছেন, আমার মুখে অবহেলিতের উন্নয়নোত্তর হাসি...মহম্মদ রফির সৌজন্যে টিয়ার গন্ধমাখা ঘরে আজ আমি বসে আছি আর ওই তো টিয়া বাবার পেছনে দাঁড়িয়ে ভ্রু বাঁকাচ্ছে, হাত নেড়ে জানতে চাইছে কিভাবে এটা সম্ভব হল...আমি ওই হাসি মুখে ছড়াতে ছড়াতে চুপচাপ দেখতে থাকি ওর ভ্রুবন ভরা বিস্ময়....

-তো এবার বলো

আমি চমকে উঠে তাকালাম!

-কী বলবো কাকু?

-রফিসাবকে নিয়ে বলো...বলো কি জানো ওঁর সম্পর্কে?

সেরেছে, আমি তখন সদ্য আঠারো! সিক্সটিজ মানেই রফি, চারদিকে রফির গান। বড় হওয়াতো ওই সুরদিব্য মানুষটার গান শুনে শুনেই, এই ইস্পাতনগরীতে হিন্দি গানই বেশি বাজে, সে সবই কানে আসে, ভেতরে রয়ে যায় কিছু কিছু। রফি, লতা। কিশোরকুমার তখনও আড়ালে। যাইহোক কোনরকমে বললাম, আমি আর কী বলবো, কতবড় গায়ক...কত গান!

টিয়ার বাবা মাথা নেড়ে বললেন, উঁহু এতো সবাই জানে...এভাবে রফিসাবকে নিয়ে আড্ডা হবে কী করে? তুমি চোখ বন্ধ করো। আমি একটু ঘাবড়ে গেলাম। চোখবন্ধ করিয়ে পেটাবে নাকি? না মুখ দেখে তো সেরকম কিছু মনে হচ্ছে না, গলাটা রাশভারী কিন্তু সারামুখেই ফুরফুরে হাসির আমেজ, বললেন, চোখ বন্ধ করেছ...বেশ এবার ভাবো... মনে মনে ভাবলাম, আমি কি র‍্যাগড হচ্ছি? মুখে বললাম, কী ভাববো কাকু?


টিয়া বাবার কথায় টিউব ল্যাম্পটা অফ করে একটা ডিম লাইট জ্বালিয়ে দিল আর আমার দিকে তাকিয়ে হাসিতে রহস্যডাক রেখে দিল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, বাবা এতে হবে না মোমবাতি নিয়ে আসবো? আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। মোমবাতি কেন? প্ল্যানচেটে লাগে শুনেছি। কিন্তু কার প্ল্যানচেট? রফিসাহেব তো বহাল তবিয়তে আছেন, তাহলে
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আসবে নাকি? রবীন্দ্রনাথ নিজে প্ল্যানচেট করতেন, উনি তাই আসতেই পারেন..এসে রফিকে গানের টিপস দিচ্ছেন, বলছেন রফি ওঁর সময়ে থাকলে কি কি গান গাওয়াতেন....দুত্তোর কিসব ভাবছি...রবীন্দ্রনাথ নিজে প্ল্যানচেট করতেন কিন্তু তা’ বলে....

-ভাবছ?

কিছু না ভেবেই বললাম বললাম, হ্যাঁ কাকু...

এরপর সেই আঁধারে আলোয় নিজের গলা ডুবিয়ে বললেন, এবার পিছিয়ে যাও!...লে হালুয়া কোথায় পিছবো?

-পিছোলে?

-হ্যাঁ, কাকু!

-১৯৪৪ সাল, লাহোর...

-হ্যাঁ কাকু!

-দেখো মাঠভর্তি দর্শক.) দেখতে পাচ্ছ?

-হ্যাঁ,কাকু!

-আর কাকে দেখতে পাচ্ছ!

আমি একটুও না ভেবে বলে দিলাম, মহম্মদ রফিকে কাকু...ওফ কি হ্যান্ডসাম চেহারা..

-আরে না....রফি নয়...কে.এল.সায়গল’কে দেখতে পাচ্ছ না?

-হ্যাঁ হ্যাঁ ওইতো হারমোনিয়াম বাজিয়ে “এক বাংলা বনেগা ন্যারা..” গাইছেন..

-আরে দূর...ওখানে পাওয়ার অফ হয়ে গেছে দেখতে পাচ্ছ না? সায়গল পাওয়ার না আসা অব্দি গাইবেন না....শ্রোতারা খেপে যাচ্ছে....রফিসাব তখন কুড়ির কোঠায়...গান শিখছেন ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলি খাঁ, ওস্তাদ আব্দুল ওয়াহিদ খাঁ, পণ্ডিত জীবনলাল মাট্টু আর ফিরোজ নিজামির কাছে। ১৯৩৫ সালে এগারো বছরের বালক রফি পরিবারের সঙ্গে অমৃতসর থেকে লাহোরে চলে আসেন আর কুড়ি বছর বয়সে তাঁর গলায় সহজেই খেলে যাচ্ছে কঠিনতম সুর, শুনতে পাচ্ছ?

-হ্যাঁ, কাকু!

-শোন শোন তরুন রফি কিভাবে খালি গলায় ক্ষুব্ধ জনতাকে মুগ্ধ করে দিচ্ছে পাওয়ারফুল সুরেলা কণ্ঠস্বর দিয়ে.....


আশ্চর্য আমি কিন্তু তখন সত্যি দেখছি এক তরুণ গায়কের আত্মপ্রকাশকালীন বিনম্র পেশকশ! আর কিছুদিনের মধ্যেই রফি পাঞ্জাবি ফিল্ম ‘গুল বালোচ’ এ প্রথম প্লে-ব্যাক করবেন, সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন, শ্যাম সুন্দর! এই ভদ্রলোক লাহোরের জলসায় রফিকে খালি গলায় গাইতে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন আর এঁর হাতেই মুম্বই ফিল্ম জগতে তাঁর প্লে-ব্যাক গানের হাতেখড়ি হয় ওই ১৯৪৪ সালে!ফিল্মের নাম ’গাঁও কি গোরি’, রফির সঙ্গে সে বছরই গাটছাড়া বাঁধেন নৌশাদ, ওঁর সুরে ‘পহেলে আপ’ ছবিতে প্লে-ব্যাক করেন রফি আর সারা ভারতজুড়ে ‘রফিয়ানা’ শুরু হয় যায় নুরজাঁহার সঙ্গে ১৯৪৭ সালে তাঁর গাওয়া “ইঁহা বদলা ওয়াফা কা..” গানটি হিট করার পরে পরেই। ছবির নাম জুগনু।

-আরে ঘুমিয়ে পড়লে নাকি?

আমি ফিরে আসি টিয়ার দুনিয়ায়, ড্রয়িংরুমে টিয়া আর টিয়ার বাবা। ওর বাবা ভুডু ফুডু জানে নাকি? আমি তো আরেকটু হলেই ওখানে সেট হয়ে যেতাম, সেই তখনকার মুম্বইতে, পঞ্চাশ আর ষাট দশক জুড়ে শঙ্কর জয়কিষণ, লক্ষ্মীকান্ত প্যারেলাল, এস.ডি আর আর.ডি বর্মণের হাত ধরে যেখানে রফিসাহেবের সাম্রাজ্য গড়ে উঠবে!


টিয়া চা নিয়ে এসেছে। মভ আর ক্রিমের আবেদনে মুগ্ধ আমি ওর দিকে তাকিয়ে ব’লে উঠতে চাইছি ‘মুঝে তুমসে মোহব্বত হো গই হ্যায় / মুঝে পলকোঁ কি ছাঁও মে রহনে দো..’ চায়ের কাপ হাতে নেয়ার সময় টিয়ার আঙুল স্পর্শ করল আমায়, আমি আঙুলাহত হয়ে স্পৃষ্টবৈদ্যুতিক আবহে তখন, মনে হচ্ছে আমি স্বপ্ন দেখছি নাতো? টিয়া আমায় ওর বাবার সাম্নে চা দিচ্ছে, আঙুলের ছোঁয়ায় দিচ্ছে সেই উষ্ণ আস্কারা যাতে আমিও গেয়ে উঠতে পারি, “ম্যায়নে একবার তেরি এক ঝলক দেখি হ্যায় / মেরি হসরত হ্যায় কে ম্যায় ফির তেরা দীদার করু / তেরে সায়ে কো সমঝ কর ম্যায় হসিঁ তাজমহল / চাঁদনী রাত মে নজরোঁসে তুঝে প্যার করু...” না গেয়ে উঠিনি, কিন্তু গানের অন্তর্দেশী চিঠির নালেখা তরঙ্গ পাঠিয়ে দিলাম তৎক্ষণাৎ আর টিয়াও চলে গেল সেই ব্লাশিং আবেশে যাকে বলা হয় ব্রীড়া! অবনতা টিয়াকে আমি দু চোখ ভ’রে দেখতে থাকি....


-এটা কোন রাগ জানো?

বলতে যাচ্ছিলাম অনুরাগ, সামলে নিয়ে বললাম, কোনটা কাকু?

-এহসান তেরা হোগা মুঝ পর?

-ই...ইয়ে

-হ্যাঁ, ঠিক ধরেছো ইমনকল্যান বা য়মনকল্যান। এই রাগেই আর একটা গান আছে রফিসাবের গলা আর দেবানন্দের অভিনয়ে, সুর বড়কর্তা এস.ডি. বর্মণের

আমি না বুঝে হাসলাম। আমার ইয়ে ‘ইমন’ হয়ে যাওয়াতে বেঁচেও গেলাম!

-টিয়া কিন্তু জানে গানটা।
কাকু বলল।

টিয়া তাকায় আমার দিকে, আমি তাকাই ওর দিকে। আমি জানি যে টিয়া জানে। আমি এও জানি যে গান আমার বিষয় নয়। আমি তো টিয়ার জন্যই এতদিন পথে বিপথে ঘুরে বেড়াতাম। মহম্মদ রফির গান আমায় টিয়ার কাছে নিয়ে এল। আমি রফির ভক্ত না হয়ে আর কীইবা হতাম! সন্ধ্যা নেমেছে বাইরে। অনুক্ত রাতের দিকে নাকি আমার দিকেই তাকিয়ে টিয়া খালি গলায় গেয়ে যাচ্ছে, “সিতারে ঝিলমিলা উঠ্‌ঠে, চরাগ জগমগা উঠ্‌ঠে / বস আব না মুঝকো টোকনা, না বঢ়কে রাহ রোকনা / অগর ম্যায় রুক গই অভি, তো যা না পাউঙ্গি কভি / এহি কহোগে তুম সদা, কে দিল অভি নহি ভরা / যো খত্ম হো কিসি জগহ, ইয়ে এইসি সিলসিলা নহি / অভি না যাও ছোড় কর কে দিল অভি ভরা নহি...”


কে আর কোথায় যাবে, এই ইস্পাতীয় শহরের বুকে কখনো কোয়েল, কখনো ইন্দিরা গান্ধী পার্ক, কখনো বা এয়ার স্ট্রিপের নির্জন রাস্তায় মহম্মদ রফির গানে গানে আমি টিয়াকে আবিষ্কার ক’রতে থাকলাম। আর একদিন সত্তর দশকের মুক্ত আবহে এয়ারস্ট্রিপের কাঁটাতারের সীমানায় লাগানো সূর্যাস্তে আমি না গেয়েই বলে ফেললাম, 'ছু লেনে দো নাজুক হোটোঁকো / কুছ অউর নহি বস জাম হ্যায় ইয়ে' আর সেই বিঘ্নপার ঠোঁটের ছোঁয়ায় শরীরের প্রতিটি অক্ষাংশ আর দ্রাঘিমাংশে কি থেকে যে কি হয়ে গেল..কেয়া সে কেয়া হো গয়া.... না বেওয়াফা ছিল না টিয়া...আমিও না... আমি এক কুয়াশামথিত সকালে রফি সাহাবের গলায় ওকে বলতে পেরেছিলাম, অব ক্যা মিশাল দুঁ ম্যায় তুমহারে শবাব কি / ইনসান বন গই হ্যায় কিরণ, মাহতাব কি.....


জুলাই ৩১, ১৯৮০, টিয়ার বাবাকে হসপিটালাইজড করতে হল। ভোর তখন সকালের দিকে। টিয়া মা’কে হারায় মাত্র ছ’ বছর বয়সে, তারপর থেকে বাবাই ওর আশ্রয়, আমি তো ওর জীবনে অনেক পরে এসেছি, ১৯৬৮ তখন, আমার আঠারো বছর, আমি রফির গানে ভর করে প্রথম ওদের বাড়িতে গেলাম, বিয়ে ১৯৭৮-এ! আমাদের প্রেমপর্ব চলার সময়েই টিয়া আমায় বলেছিল যে ওর বাবা বিভিন্ন চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে ওকে একাই বড় করে তুলেছেন, মানুষ করেছেন, আবার বিয়ের কথা ভাবেন নি। বেশি বললে বলতেন, মা মারা গেলে আর একটা মা আনা যায়না, বৌ মারা গেলে আরেকটা বৌ কেন আনতে হবে? আর টিয়াকে বলতেন, আমার তুই আছিস আর রফিসাহেব। অকেলা হুঁ ম্যায় ইস দুনিয়া মে / কোই সাথী হো তো মেরা সায়া....


ওঁকে বাঁচানো গেলনা! ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক।সন্ধ্যার মুখে একবার বুঁজে আসা গলায় জিগেগেস করলেন, রফিসাব কেমন আছেন? তারপর...

#

রাতে শ্মশান ফেরৎ শুনতে পেলাম , মহম্মদ রফি নেই, মারা গেছেন ।ওই ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকেই! সকালে খবরটা শুনেছিলাম রফি হাসপাতালে। সিরিয়াস। টিয়ার বাবা, আমার শ্বশুরমশাইকে কে বলেছিল আমি জানিনা, তবে আমায় যখন জিগগেস করেছিলেন, আমি বলেছিলাম, ভাল আছে। আমি দেখলাম সব যন্ত্রণা মুছে দিয়ে উনি শিশুর মত হেসে উঠতে চাইলেন। শেষ নিশ্বাস ফেলার পরেও কিন্তু ওই রফিসুলভ নির্মল হাসিটাই রয়ে গিয়েছিল ওঁর মুখে....



‘অভি না যাও ছোড় কর, কে দিল অভি ভরা নহি' এই গানটাই ঘুরেফিরে রেডিওতে বাজছিল সেদিন। টিয়া গভীর রাতে আমার কাঁধে মাথা রেখে শুধু বললো, দুজনেই একসাথে একদিনেই চলে গেল, আশ্চর্য না?