যে সময় শুধু পিছিয়ে পড়ে ঘড়ি

অগ্নিজিৎ

ঘড়ি থেকে সময় খূলে রাখছি কাঁটায় কাঁটায়। তোমরা দেওয়াল টাঙিয়ে রাখো। গোনান্তির পা পেরিয়ে যায় পা থেকে। যেভাবে পাহাড় থেকে নেমে এসে কেউ ভলভো ধরে। আর আমি কাউন্টার থেকে সরে দাড়াই। দলগাও ষ্টেশনের সেই সূর্যাস্ত এখনো প্লাটফর্ম পায় নি। কিলোমিটার শুধু দূরে দূরে করে দিচ্ছে কাঞ্চনকন্যা। এরপর পক্ষপাত শুধু হৃদয়ের। অতিকথন অমার্জনীয়।

সেবারের কবিতা পাঠ উত্তরবঙ্গের। তবু শৌভিক দার বাথরুম একটাই। করলা নদী বলেই অফুরন্ত যাতায়াত দিতো আমাদের। সেই বৃষ্টি জমিয়ে দিয়েছিল সার্কিট হাউস। আকাশের ছাদ ভেঙে পড়েছিল যেন। মুগ্ধ বন্ধুর মত ঢোলে পড়ছিল এ ওর লেখায়। মধ্যরাত্রির মেধারা তখন শোয়ার ঘরের বাইরে। যেন মাচা থেকে চাঁদ শিকারে নেমেছে। বেখেয়ালে কম্পাস বিগড়ে দিয়েছে দিক। লুটিয়ে পড়ছে ঠিকানা…বাসস্থান…। গড়িয়ে যাচ্ছে অস্থায়ী গল্পের চরিত্ররা। বড় পিছল তোমার গা জলপাইগুড়ি!!!

আমাদের ফেরা নিশ্চিত ছিল না। আমাদের ফেরা কোনদিন নিশ্চিত ছিল না। যেখানে ছিলাম সেখানে চরিত্রদের ছদ্মনাম থেকে ডাকনামে ফেরা হয় নি।

আর কিছু ভাববো না বলেই আমাদের অপেক্ষা বেড়ে গিয়েছিলো। একটা সময়ের দীর্ঘশ্বাস, কর্মসুচির মত দম ফেলছে। সিদ্ধান্তের কামরা এসে গিয়েছিলো আমাদের তুলে নেওয়ার তাগিদে।

ট্রেনের ভেতর সবাই সবাই কে যাত্রী ভেবেছিলাম। প্রতিটা ষ্টেশনেই কেউ নেমে যেতে পারত। খালি হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু হিসাব-ও তার ফলাফল পাল্টায়। আগত্যা চোখে চোখ লেগে যাওয়া কিছু। কত অসুখ নিয়ে যাচ্ছে মেয়েটি। শাঁখা পলা খুলে আসা হাত। জীবিত স্বামীর প্রমাণ। আর আছে উপোসের কাছে। মৃত্যুর কাছে। হয়তো নিরাময়ের কাছেও। ছেলেটি ওর মাথার কাছে স্বপ্ন দিচ্ছিল। এ, ওকে কখনও ডাকে নি। ওদের কোন ছদ্মনাম নেই বোধহয়। তবু সাড়া পেয়ে যেত ঠিক। গামছা…মুরি… ওষুধ সময় সময়। মুখ ধোয়ানোর পর টিপ মুছিয়ে বসাত যথাস্থানে। যেন এই সাজ ছেলেটির জন্যই। তাই আরো বেশী যত্নের। আসলে চোখে চোখ লেগে যাওয়া জীবন। কান্নার সহযোদ্ধা ওরা। কেউ কাউকে ছেড়ে যেন কোনদিন কোথাও না নামে। এমন যাত্রার যেন কোন ষ্টেশন না থাকে।

প্রয়োজনে সময় থেকে ঘড়ি খুলে আনবো কাঁটায় কাঁটায়।