রম্বসের ফাঁক-ফোঁকর

অভিষেক ঝা

----- এরপর বাকি সাদা জুড়ে কেবল একটি নিঃশ্বাস -----



যখন এইসব ঘটছিল তখনই সে জানত একদিন সে এইসব মনে করবে । না, বরং সে, হয়ত ভেবেছিল এইসবের তাকে মনে পড়বে কোন একদিন । তাই সে অতি সতর্ক ভাবে সবকিছু মনে রেখেছিল যাতে তার তরফ থেকে এইসবকে বা এইসবের তরফ থেকে তা্র আখ্যান যমজ না হলেও, অন্তত পিঠাপিঠি ভাই-বোন হয়।
পুরাঘটিত ১ অথবা আমার নয়ানজুলি
নয়ানজুলি নিয়ে আমার কোন স্মৃতি নেই । এত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি কারণ স্মৃতি হতে গেলে যতখানি দূরত্বের প্রয়োজন নয়ানজুলির সাথে সে দূরত্ব আমার কোনদিন তৈরি হয় নি । নয়ানজুলিকে আমি আধ-ফিসফিসে দূরত্বে গঠন করেছি, সেইসব সময় --- যখন বিকেল থেকে পালাতে চেয়ে আমি সন্ধ্যা নামিয়েছি নয়ানজুলির ধারে। খুব ধীর গলায় নয়ানজুলি থেকে অনেক দূরের গলির ধারের জানালা থেকে ভেসে আসে পাকা তালের মৌতাতের স্মৃতির খুচখাচ। গাছটা কি আমার নয়ানজুলির ধারের কোন গাছ? সে গাছের ছায়ার স্মৃতি কি নয়ানজুলির চোখে লেগে আছে? আচ্ছা, নয়ানজুলির স্মৃতিতে সে ছায়ার গাছ থাকবে কি করে ? নয়ানজুলির গায়ে তো তখন সেইসব জল যারা সেই কবে আকাশ হয়ে গেছে। আমার নয়ানজুলির জলে সেই কবেকার আকাশের জল সব মিলান্তি খেলছে? এইসব বাখোয়াজিতে অবশ্য তালের বড়া খাওয়া লোকটির স্মৃতি নেই । কিন্তু তালের বড়ার ভিতর এখন ঢুকে পড়েছে লোকটির ঠাকুমা । বেশ যত্ন করে পোতাকে তালক্ষীর খাওয়াচ্ছে বুড়ি । মিষ্টির তিতকুটে স্বাদটা জিভময় ঘোরাঘুরি শেষে বাগডুম এক ভাদ্রের বিকেলে হাতিয়া’র বৃষ্টি নামায় । বুড়ি গল্প শুরু করে তার নয়ানজুলিকালের ।
পুরাঘটিত ২ অথবা নয়ানজুলির আমি
আমাকে নিয়ে নয়ানজুলির স্মৃতি বোধহয় খুব একটা কম নয় । আত্মবিশ্বাসের সাথে বলা সম্ভব নয় কারণ নয়ানজুলির ক্ষণিক সব জলে ছায়া হয়ে উঁকিঝুঁকি দিতে এসে স্মৃতির জন্য প্রয়োজনীয় দূরত্ব তৈরির সময় আমি চোখ খুলে রাখতে পারতাম না । সেসময় জুড়ে শব্দদের অপার এক জরিপ --- যেখানে মাঝরাতে থাকতে চেয়ে সকাল ন’টার সাইরেনে জেগে ওঠা আছে । নৌকার গলুইয়ে বসে জল কেটে যাওয়া পায়ের শব্দে সপাং বেল্টের লাজুলি যন্ত্রণার ওপাশ ফিরে থাকা রয়েছে । একটা থ্যাবড়ানো আলোয় হলদে দেওয়ালের শ্যাওলাটে গা থেকে বিভিন্ন ভাবে ভেসে আসে নাচের শব্দ। ঝুমঝুম করে...বাগান জুড়ে । সেই শব শব্দদের প্রতিধ্বনিতে কি নয়ানজুলি আমাকে শুনতে পেত? আমার স্মৃতিতে কি চিতাপোড়া শব্দরা পিণ্ডের জন্য ফুটতে থাকা কালো নুনিয়ার টগবগ নিয়ে আসত ? সেইসব ফিরে আসা শব্দগুলোতে কি নয়ানজুলির ধারের প্রতিধ্বনিত-আমি ফিরে ফিরে আসতাম ? গলায় তো তখন সেইসব শব্দদের দলা ; হালকা সব বেসুর হয়ে টনসিলের ঢোঁক গিলে ফেলছে । এইসব দৃশ্যপটে অবশ্য পায়েস খেতে শুরু করা লোকটির কোন স্মৃতিই নেই । কালো নুনিয়ার গন্ধের ফোঁকল গলে ঢুকে পড়ছে লোকটার ঠাকুরদার ঠাকুরদা । ভূত হয়ে ফি বছর নুনিয়া গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে কোণার দিকের মাটিটা সরিয়ে ক্ষেতের ধারের নয়ানজুলিটার পাশে এসে খানিক বসেন । নয়ানজুলি জুড়ে তখন শুধুই নুনিয়াদের বাতাসে নড়া আর সাঁঝ ( নাকি শুক?) তারার ছায়ার মনকেমন ।



---- এর আগে বাকি সাদা জুড়ে কেবল একটি প্রশ্বাস ----