ফিরে দেখার গদ্য অথবা অলৌকিক শরীর

শতানীক রায়


নস্টালজিয়া

স্মৃতিরও একটা শরীর থাকে। তাকে লালন করতে করতে এগিয়ে যাওয়া। আমি ঘুমোতে থাকি আর জলে ভরে যায় বাড়ি ঠিক বাড়ির মতো নেই আর জলে ডুবে যুদ্ধে নরম হয়েছে অনেক জায়গায় শরীরে খড়ি ওঠার দাগ বিচিত্র হয়ে উঠছে যেন। এই গদ্য এই শরীর মুগ্ধ আয়তন নিয়ে যেভাবে আমি বড়ো হয়েছি আজ এতদিন পর হাঁটতে গিয়ে দূরে চলে এসেছি গ্রাম শহর বলে কিছু নেই শুয়ে থাকতে চাই অন্ধ পৃথিবীর নদীর পাশে ঘাস আর বালিমাটির কিনারে জল বয়ে চলেছে অনন্তনাগের ফণার মতো আকাশ আমাকে ঘুমের ভেতর ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে। ঘুমেরও একখানা শরীর থাকার পর পর্যায়ে পর্যায়ে রঙিন প্রজাপতি ওড়ার ভ্রমের কাছে আলোকে ঘুমে রেখে উঠে পড়ার কথা তবে কোথাও কোনো ক্ষোভ নেই পৃথিবীতে আমি একা ঘুমন্ত সাগরের কিনারে আছি তো আছিই এভাবে শুয়ে থাকতে দেখে স্বয়ং ইন্দ্রও ফিরে গেছে স্বর্গে। হারিয়ে ফিরে পাওয়ার এ শোক আবার আমার মায়ের কথা মনে করিয়ে দিল, ঈশ্বর...


দ্য ত্যুরিন হর্স

ট্র্যাজেদি বললে তাই হতে পারে। আমি ট্র্যাজেদি মনে করি না। নীৎশে সত্যের জন্য লড়তে সবসময় না করেছেন তাতে সেই সত্যকে কলুষিত করা হয়। চুপ থাকা নিজের ফিলোজফিকে লালন করা অযথা বিবাদ নয় তাতে যদি অনন্তের কাছে তুমি ভুল প্রমাণিত হও তবুও মন্দ নয়। নিজের মুখোশ আর মুখের আদল নিয়ে আমি শান্তিতে আছি। এমন থাকাকে ফুলও স্বাগত জানাবে। তোমাদের কাছে বহুবার গিয়েছি আমি এখনও যাই তবে আশা করি না। সংশয়েও থাকি না। কিছু পাওয়ার তো আছেই তবে সত্যকে বলিদান দিয়ে নয়। তাই আলগা হওয়া শরীর নিয়েও রোজ ফিরে আসি লেখার কাছে। লেখা ঠিক আশ্রয় বলব না নিজের কাছে ফেরার একটা পথ বাক্যগঠনে নিজেকে নতুন কোনো শুরুর দিকে ঠেলে দেওয়া গঠনে সব পুরোনো ব্যথা সাফারিং শেষ করে অক্ষরের ইঙ্গিতে নিভে যাওয়া। দীপ জ্বলছে নিভছে। এভাবে কেমন এক গুপ্ত দেবীর আভাস পাচ্ছি। গরুর বেশে প্রকৃতির এক গূহ্য রূপ যা বায়ু পুরাণে আছে। সতত নিবিড় আরকী। সরলরেখা। রেললাইন। ট্রেন আসছে। মানুষের পিলপিল করে উঠে যাওয়া। ধোঁয়ার মধ্যে আবার সামনের দিকে ট্রেনের ফেরা। এভাবে কেউ চলে যায় নাকি!


ওয়ার্কমিয়েস্টার হারমনিজ

ইরাবতী নদী বয়ে চলেছে আমি তার আভাস পাইনি। সরস্বতী নদী বয়ে চলেছে আমি তার স্পর্শ পাইনি। কীভাবে পদ্ম ভাঙতে যাব যখন অনেক অনেক যুদ্ধ দেখেছে এই পৃথিবী সবুজ এই পৃথিবীতে আমাদের থেকে যেতে হয় থাকার জন্য বারবার হেরে যেতে হয় অন্নকে জয় করার অভীপ্সা কত যে রঙিন... কল্পনাতুর রৌরবময় শরীর জলের দাগ ধরে গেলে আর কোনোই কথা হবে না বাতাস বইবে দানবীয় হবে শহরটা ঝড় উঠবে মানুষ মরবে উলঙ্গ মশারীর মতো শরীরটা নিয়ে কতবার যে দাঁড়িয়ে পড়েছি দেখেছি তোমরা বিক্ষত করতে এসেছ আমাকে দূরে সরে যাই বড়ো থলি নিয়ে সরে যাই রাস্তা নেই সরোবর আছে বা কঙ্কাল, এক মৃত তিমিমাছের কঙ্কাল


দ্য ইমেজ বুক

রাত। গতরাতে মানুষের মতো আচরণ হল অনেক। এরপর ঘুম একটা পিশাচের মতো আক্রান্ত পতঙ্গকে দূরে দ্বীপে নিয়ে গেল। প্রৌঢ় শব্দের কাছে গঙ্গাধ্বনি উঠলে অনেক কালের কথাগুলোকে নতুন শরীর দেব বলে সরে যেতে হয় কালের মন্দিরে কৃষ্ণের বাঁশি বাজানোর মতো শরীরটার এক অন্য বোধ জন্মায়। আমাকে দূরে যেতে হয় রোগা সমস্ত ব্যাপারে কান্নার মতো বাক্যগুলো সব। তরঙ্গের খেলা অথবা ওম জাতক। সকাল হয়েছে দেখছি নৌকার পাল ভেঙে যেতে পারে। এত মানুষের চাপ কী করে সহন করব বলো তো?


দ্য স্যাক্রিফাইস

শব্দক্ষয় আর পরম্পরাগত শরীর নিয়ে এ এমন কারবার জানি না কতদূর যাবে যুদ্ধের শরীর কতদিন এভাবে আমি বয়ে নিয়ে চলব কেউ জানেন এখানে কোনো বিশ্বযুদ্ধ হয়নি ভারতে যুদ্ধহীন এক আলোড়ন বারবার ভাবাতে থাকে গদ্যের শরীরটা তবে কেমন হবে? কতটা গিয়ে আবার ফিরে আসার অভিপ্রায়ে আমাকে আবার রাতে জাগতে হবে কবিতার মতো করে বলা কথাগুলো মৃতপ্রায় আমরা কোনো কথা বলি না আর ভাষাহীন মায়াপ্রান্তর সরস সতত বিধুর পাহাড়ের প্রাণ পরম্পরা ছেড়ে কোনো নিঃসঙ্গ জগতে যায়


দ্য সেভেন্থ সিল

ঘাসজন্ম বলে কিছু হয়? শুনেছি কিছু মানুষ অনড় থাকে জীবনের প্রতি ম্লান তীর্যক উড়ে যায় তীর্থের কাক। কাকের শরীরে পালক মেশার মতো আমি মিশে আছি দীর্ঘ অ। তারপর ঘন লোমশ সন্ধ্যা। ঘন করে ডাকে। আয়। আয়। আমরা কয়জন নাচ করছি গান করছি কীরূপ এক অদ্ভুত ব্রহ্মাণ্ডে আমাদের শরীর লাভ হবে নিপুণ। সোহাগ আর যত্ন দিয়ে লালন। উড়ে গেলে সে তো যাবে। ডানা জুড়ে হাওয়া খেলবে। আলোর দিকে উঁচু হবে হয়তো। কোনোদিন...


অন্তরীণ

আমরা কোনোদিন একাত্ম হইনি বারবার তাও ধানের আভাস পাই কেন সেদিন অন্ধকারে মৃত্যু জেগেছিল অমন ঘৃণা কি ছিল না, যথেষ্ট প্রেম ছিল আমাকে তুমি প্রতিবার বলেছিলে কোনো মহৎ মানুষ নেই কোনো মানুষ সমস্যার মহৎ হয়ে ওঠে না। আমি কথা বলে গেছি ঘুমে আমার অনেক কথা হয়েছে কীভাবে বুঝব এই রাতে আমাদের শেষ কথা হবে। আর হয়তো কোনোদিন মাটিতে লাঙল পড়বে না চাষও হবে না মধুর সন্ধ্যা হবে পাখিও ফিরবে ঘরে।