সি-সল্ট সিম্ফনিগুলো...

ফেরদৌস নাহার

কফিনরঙা মদ

প্রায়ই একটি ফিউনেরাল হোমের পাশ দিয়ে হেঁটে যাই
হাউজ নয়, একে হোম বলা হয় কেন? বুঝতে গিয়ে জেনেছি
শেষ আয়োজনে হোম জুড়ে দিলে মায়াময় লাগে। হাউজ নয়
ফিউনেরাল হোম তাই হোম

একজন মহৎ মানুষের চোখ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ছিল
সে যা দেখে তাতেই যন্ত্রণা, তাতেই আগুন! ভোরের উৎকণ্ঠায়
সারাদিন বিষ চাষ, বিউগেল আরাধনা, নিউরোটিক উপাচার
তারপর ফিনফিনে কফিনরঙা মদ আকণ্ঠ পান করে বলে ওঠে-
চলো গান গাই, ফিউনেরাল ঠিকানায়, বৃষ্টি দিয়ে আঁকি ক্রন্দন

সব চুপ
ওই দেখো, কালো লিমুজিনে চেপে কবি ও কথক দাঁড়াল এসে


মীজান রহমান

আমি জানি, হাসপাতালে যাবার সময় নবকভের একটি বই হাতে নিয়ে আপনি স্ট্রেচারে উঠেছিলেন। তারপর অটোয়া শহরকে জানান দিতে দিতে অ্যাম্বুলেন্স ছুটেছিল। আপনি হেসেছিলেন নিঃশব্দ হাসি, বারবার বলছিলেন ভালোবাসি

কাকে ভালোবাসেন, কাদেরকে ভালোবাসেন, কোন নির্জন উপত্যকায় বুনে দেন সোনার জিয়ন কাঠি, জানি। সেই আপনি ছুটছেন হাসপাতালের দিকে। ইচ্ছে ছিল না, তাও যেতে হলো চূড়ান্ত মৃন্ময় মেখে একটি সন্ধ্যাতারা সাক্ষী


টোয়াইলাইট ঘুম

এই টোয়াইলাইট ঘুম ফুরলে বেরিয়ে যাব জাদুকর হয়ে
পিছুটানের মহড়া অনেক তো হলো। এবার ক্ষান্ত দাও
আমাদের যোগাযোগ সমুদয় যোগসূত্র ভুলে দেখা দিক
পশ্চিম আকাশের কোনো ধ্রুবতারা হয়ে। মনে পড়ে
ঘুম ভুলে জেগে থাকা, অথবা আলোর অন্বেষণ ভেবে
মাঝরাতে জানালার পর্দা তুলে আগ্রহে উঁকি দিয়ে দেখা
বেসামাল ছায়ামাখা জ্যোৎস্নায় যখন ডুবে যাচ্ছে পৃথিবী

এই ঘুম আমার অন্তহীন কামনার মাঝে ভায়োলিন খোঁজে
জেগে থাকে অনন্তকালের ধনুক ভাঙা পণ নিয়ে খুব

হ্যালুইন

অতঃপর আমার অসুখ হল, আমি দিনরাত হ্যালুইনের চরিত্র দেখতে দেখতে কখনো ঘুমাই, কখনো জেগে থাকি। অবশেষে আমার রাত দিন পালটে গিয়ে সে এক অদ্ভুত টাইম টেবিলে এসে দাঁড়াল। মনে মনে অপেক্ষা করি কবে বাড়ি যাব, কবে সময় মিলিয়ে ঘুমাবো জাগবো

তারপর কত বছর উড়ে উড়ে ক্লান্ত ডানায় আঁকিবুঁকি কাটতে কাটতে তোমাকে পাঠালাম সাধারণ চিঠি। ভেবেছিলাম যাবে না। কিন্তু ঠিক ঠিকই পৌঁছাল তা। নিদ্রা ব্যাঘাত জনিত দুর্ঘটনাসহ টাইম টেবিল পরিবর্তনের সংবাদসমূহ, সব। হ্যালুইনের চরিত্রগুলো সারারাত জেগে পিছনে পিছনে দৌড়ায়। আমি বাড়ি গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার দেশে কোনো হ্যালুইন নাই