ব্যাকবেঞ্চারের ক্লাসনোট

শিমুল মাহমুদ


০১
আমি আমার মাস্টার মশাইয়ের ছবি আঁকতে গিয়ে
এক জোড়া চশমা এঁকে বসে আছি।
চোখ আঁকতে পারছি না।
এখন বুঝতে পারছি
মাস্টার মশাইয়ের আসলে কোন চোখ ছিল না।
যার ছিল
অন্ধদের ভয়ে তিনি সব সময়
কালো চশমার আড়ালে
চোখ জোড়াকে লুকিয়ে রাখতেন।

আমাকে দিয়ে কি লুকোনো চোখ জোড়াকে এঁকে ফেলা সম্ভব?

০২
পলিটিক্স ও নৈতিকতা পরস্পরের শত্রু।
পলিটিক্সের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে
নৈতিকতার পরিমাণ কমে যায়।

পলিটিক্সের বাড়ি থেকে দাওয়াত এসেছে
নৈতিকতার পাঞ্জাবি গায়ে পলিটিক্সের বাড়িতে যাচ্ছি।

০৭
মানুষ কোটি বছর হেঁটে এসে দেখতে পেলো,
শয়তান ঈশ্বরও মানুষের ছায়ায় ছায়ায় হাঁটছে।
কে বেশি হাঁটলো? মানুষ, নাকি শয়তান?

শয়তান হাঁটতে হাঁটতে একদিন বুড়ো হয়ে যাবে।
ঈশ্বর হয়ে উঠবে ক্লান্ত ও বিরক্ত।
মানুষ নিজের ছায়ার ওপর
শয়তান ঈশ্বরকে রেস্ট নিতে দেখে অপেক্ষা করছে
কখন শয়তান ঈশ্বরের মৃত্যু হবে
তখন সে নিজেই হাঁটবে। স্বনির্ভর হবে।
এইটাকে বলে মানুষের হাঁটা। আর এখন
আমরা যারা ঈশ্বরকে ছায়ায় নিয়ে হাঁটছি,
এই হাঁটাকে বলে শয়তানের হাঁটা।


০৮
কবিতা কাকে বলে? ধরে নিন,
এইমাত্র আমি একটি কবিতা লিখলাম।

পাঠক আমার এইমাত্র লেখা কবিতাটি থেকে
এতটাই দূরে অবস্থান করছেন যে
যখন পাঠক কবিতাটির কাছে
পৌঁছিবার যোগ্যতা অর্জন করবেন
তখন তা উপভোগ করার মতো
তার আর আয়ু থাকবে না।

এ অবস্থায়, বেঁচে থাকার জন্য যে উত্তেজনা
মূলত, ওই উত্তেজনাটুকুর নামই কবিতা।


১০
আমরা মানুষ হয়ে জন্মালেও
মানুষের প্রতি লোভ কিছুতেই কমছে না

অথচ
মনুষ্যত্বের প্রতি কোনো মোহ নেই আমাদের


১১
মুগ্ধতার চোখে
রাক্ষসকেও নায়ক হিসাবে পেতে ইচ্ছে করে।

ফেইক আইডির সঙ্গে লড়াই করার মতো কাউকে পাচ্ছি না।




১৪
বাচ্চা খালাসের পর
যৌনাঙ্গের গভীরে সুইসুতা রেখে
যথারীতি সেলাই শেষে
রিলিজ করে দিল তাকে
যাতে জননাঙ্গ ঘুমিয়ে না পড়ে

দৈনিকে এই সংবাদ পাঠ মাত্র
মনে পড়লো সিসেরোর কথা,
‘মানুষই মানুষের নিকৃষ্টতম শত্রু


১৫
মানুষকে কোথাও না কোথাও দাঁড়াতে হয়

একজন মানুষ আরেকজন মানুষের
কবরের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।


১৬
রবীন্দ্রনাথ বললেন, সত্যকে জানে অনেক লোকে।
কিন্তু মানে সেই মানুষ, যে বিশেষ শক্তিমান।

এই কথা শোনা মাত্রই আমি
শক্তিমান মানুষটিকে দেখার জন্য
তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করলাম।
রবীন্দ্রনাথ একবার নিজের দিকে তাকালেন,
তারপর হঠাৎই আমাকে কাছে টেনে নিয়ে
ফিসফিসিয়ে বলতে থাকলেন,
তেমন শক্তিমান কাউকে তো দেখছি না।



১৭
বেঁচে থাকা অবস্থায় একমাত্র নরকেই বসবাস সম্ভব
স্বর্গে প্রবেশ করতে হলে মরতে হবে তোমাকে।

এই কথা ছোটলোকগুলোর সম্মানে বড়লোকগুলো বলে থাকে।


২০
বলা হয়, সাময়িক মৃত্যুর নাম ঘুম
আর চিরস্থায়ী ঘুমের নাম মৃত্যু।

আসলে মৃত্যু কখনও ঘুম হতে পারে না
মৃত্যু হল পচনের পূর্ব অবস্থা
আর ঘুম হল জেগে ওঠার প্রস্তুতি।


২২
প্রিয়জনই প্রতিশ্রুতি ভাঙে
তবু প্রিয়জনকেই বিশ্বাস করতে হয়
যেভাবে বিশ্বাস করতে হয় মৃত্যুকে

মৃত্যুর দিকে এগুচ্ছি। পরাজিত নই।
প্রিয়জনের দিকে এগুচ্ছি। পরাজিত।


২৩
আয়না হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি।
আঘাত করো না। ভেঙে যাবো।
তাকাও। দেখতে পাবে নিজেকে।



২৪
অধ্যাপকবৃন্দ আড্ডায় বসেছেন।
আত্মপ্রশংসায় মুখের চামড়া লাল।

কয়েকটি বানর হাগু করছে।
লাল লাল তুলতুলে পাছা।

বানরগুলো হাগু করার কথা ভুলে গিয়ে
অবাক চোখে অধ্যাপকদের দিকে
তাকিয়ে দেখছে, মানুষগুলো কীভাবে
মুখ দিয়ে হাগু করতে শুরু করেছে।


২৫
সেলাই শেষে সুইয়ের ফুটোয়
গেঁথে রেখে চলে গেছো তুমি।

আমি অতিরিক্ত সুতো।
ঝুলে আছি সুইয়ের ফুটোয়।


২৬
ছোটলোকগুলোর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলেও
এখনও ভাবছে, যাক অন্তত হেলান দিয়ে
দাঁড়ানোর মতো কিছু একটা পাওয়া গেল।