হালকা হলুদ পাতাগুলো

ত্রিশাখ জলদাস

ঘর

ঘরের ভেতর ঘর খুলে বসে আছি।

সদর অন্দর আলাদা করে খোলা—
জাহ্নবীর পাশের ঘরে খেলা করছে ঋতুকামিনী,
প্রদীপ জ্বালানো আকাশ, তুলসীতলা,
মায়া মাখা হাত, সন্ধ্যার আরতি।

আমি ছবি এঁকে যাচ্ছি...
আঁকছি গুহামুখ, নিচু জমিন, বিরুদ্ধ শিবির।

কার সাথে যুদ্ধে হচ্ছে জানি না—
নাগচিনি নদীর পাশে শুয়ে আছে চৈত্রের উঠোন।



হালকা হলুদ পাতাগুলো

স্মৃতিচিহ্নের উপর শুয়ে আছে ডটগুলো,
আমি নগ্ন করে দেখি ক্লেদ আর কান্না—

পৃথিবীর উৎস থেকে উঠে আসা তাপ
আমাকে একটি বরফ চাঁইয়ের ভেতর ডুবিয়ে দেয়।
হালকা হলুদ পাতাগুলোকে সন্ধ্যার জোড়া ঠোঁট ভাবি।

স্মৃতিচিহ্নের ওপর শুয়ে থাকা ডটগুলো এক একটি রাত্রি।
গাঢ় অন্ধকারের ভেতর দিয়ে উঠে আসে কৃষ্ণছায়া—

হালকা হলুদ পাতাগুলো ক্রমশ উজ্জ্বল হলে,
আমরা একটি পরিত্যক্ত উঠোনে নিমগ্ন হই আর
আমাদের নৌকাগুলো ডুবে যায় অনুদিত জ্যোৎস্নার দহনে ।



ছিন্ন-পাঠ

ইচ্ছে করেনা দূরে কোথাও দাঁড়াই।

হিম ভাঙ্গার শব্দ শুনে
ধুলো থেকে উঠে আসছে সাপ।
হাওয়ার ভেতর কাঁপছে জল
দৃশ্যের আড়ালে ছড়িয়ে পড়ছে রঙ...

কে আমাকে নদী তীরে যেতে বলে!

ভেতরে অরণ্য নেই—
ধ্বনি ভেঙ্গে উঠে আসে স্বর।

প্রণয় একটি ক্ষিপ্ত ঘোড়সওয়ার,
উল্টে যাচ্ছে দ্বিতীয় চাঁদের পিঠে।