মৃদঙ্গ

জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

একটা বাসন্তী রঙের দীর্ঘ ডানার পাখি দু-তিনবার চক্কর খেয়ে চলে গেলো বিলবোর্ডের আড়ালে। নিখুঁত কৌশলে লোক ঠকানো বিজ্ঞাপনের রঙিন বিলবোর্ড। তুমি সেই মেয়েটির হাসি অথবা দৃষ্টির মোহে আচ্ছন্ন হয়ে থাকবে। ভুলে যাবে পাখিটার কথা। হয়ত চিল, কিংবা ঈগল, কিংবা বাজ। এরকম কিছু পাখির নাম শুনে বলবে - ওরা কেউ বাসন্তী রঙের হয় না। ধরা ছোঁয়ার বাইরে বিলবোর্ডের সাজানো হাসি। ধরা ছোঁয়ার বাইরে ট্রাফিক সিগন্যালের ক্ষণস্থায়ী হলুদ আলো। আরও নীচে নেমে এসো। উড়ে যাচ্ছে হলুদ ওড়না, জামরঙা আঁচল... তুমি আর নাগাল পাচ্ছো কই? পড়ে থাকা চারটে কামরাঙা, অসময়ে লালচে হয়ে যাওয়া কুল, হেলে থাকা দাঁড়িপাল্লা... এইসব দেখতে দেখতে হঠাৎই মনে হ'ল - আসলে মুহূর্তরা বড়ই ক্ষণভঙ্গুর!

আসলে, চারপাশে সবকিছুই যেন নড়েচড়ে একটা আদল নিয়ে নেয়, আমাদের আরও বেশি বিষণ্ণ করে তুলবে বলে। ডিপ্রেসিং সেটআপ। জমে ওঠা ঠাণ্ডা বিষণ্ণতা খানখান করে প্রতিবার আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এ এক খেলা। আমাদের খুশি এবং সুখী থাকতে হবে। অথচ, অবান্তর এবং চিরস্থায়ী সুখ যদি সকলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে... তাতে অনেকেরই অসুবিধে হবে। অসুবিধে হবে ব্যবসা করতে। অসুবিধে হবে অপ্রাপ্তিগুলো উসকে দিতে। অসুবিধে হবে গিয়ার-বক্সের মধ্যে এতগুলো জড়িয়ে থাকা পৃথিবী-ব্যাপ্ত সুবিধেবাদের চাকাগুলোকে ঘোরাতে। কিন্তু এত কিছু জেনেও স্বাভাবিক থাকার একটা চেষ্টা, আরোপিত শৃংখলা... আ কম্বিনেশন অফ মাল্টিডিরেকশনাল এক্সটার্নাল আনব্যালেন্সড ফোর্সেস।
এমনই একটা আলতো ধাক্কা, একটা উত্তল পাছা আর অবতল কোমরের বাঁক ছুঁয়ে চলে যেতেই সে নিজস্ব ভরবেগ নিয়ে এগিয়ে গেল। তার ত্বরণ, মন্দন, দোলন, জাঢ্য... সব কিছুই পদার্থ বিজ্ঞানের এক উচ্চমার্গের ক্লাস নিচ্ছিল। সেই ক্লাস শেষের ঘণ্টা বাজতে তুমি বুঝতে পারলে, যাকে দেখে হস্তমৈথুন করতে সব থেকে বেশি ভাল লাগত, তাকে এখন ভালবাসতে ইচ্ছে হয়। অথচ হস্তমৈথুনের তৃপ্তির মতই বার বার এসে ফিরে গেছে উচ্ছ্বাস। তার পরবর্তী শূন্যতায় অবসাদ আছে, ভালবাসা নেই। ছবি, ভিডিও... এমন কি রক্তমাংসের মানুষকেও... কীভাবে সত্যিই মন থেকে ভালবাসা যায়, তারও এক উচ্চমার্গের ক্লাস খুব দরকার। মানে, শিক্ষক বা শিক্ষিকাও দরকার। তুমি হন্যে হয়ে খুঁজেছ এতকালে, গৃহ-শিক্ষক/শিক্ষিকা হলেও অসুবিধে ছিল না। অথচ পেলে না। এসব ভাবলে এখন মনে হয় কারও কারও জীবনে ভালবাসা এমনই, ছোট অথচ চতুর জন্তুর মত। যেমন ধরো কচ্ছপ, সজারু, আর্মাডিলো। সব থেকে ভালবাসার মানুষকে পেয়ে হস্তমৈথুন করতে ইচ্ছে হয়। সব থেকে বেশি হস্তমৈথুনের তৃপ্তি যে দিয়েছে, তাকে ভালবাসতে ইচ্ছে হয়। ভালবাসা আর ইচ্ছে দুটোই তোমার। যে তোমাকে পারভার্ট বা আরও অন্যরকম বিকৃত কিছু বলবে, সে তোমাকে গুছিয়ে দেবে না। সে বলেই খালাস। তার কথায় হাত ফসকে পড়া একগুচ্ছো কাঁচের গুলির মত ছড়িয়ে যেও না।

--- --- ---

যেখানে এসে কথাগুলো ভীষণ স্নেহশীল, মাথার ওপর রাখা অভিভাবকের হাতের মত মায়াময়... ঠিক সেখানে কাগজে জায়গা ফুরিয়ে গেছে। ও'পাতায় আর কিছু লেখা নেই। এপারে যা লেখা, তারই অস্পষ্ট ছাপ। পুরোটা পড়ে কাগজের টুকরোটা পকেটে ঢুকিয়ে রাখলাম। মাঝে মাঝেই সময় পেলে এমন কাগজের লেখাগুলি পড়ি। কয়েকটা কাগজ বুক-পকেটে সবসময় থাকে। রাস্তা বেরোলে নিজেকে একা মনে হয় না।

- বাসগুলো কি এখানে দাঁড়ায়? - কেউ কেউ দাঁড়ায়... আপনি যাবেন কোথায়?
- শিয়ালদাহ।
- শিয়ালদাহ'র বাস তো এদিক দিয়ে যায় না।
- তাহলে?
- দেখুন, ওদিকে একবার জিজ্ঞেস করে।
'ওদিক' বলে পথচারী কোনও একটা দিক দেখিয়ে দেয়। কোথাও গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ক'জনের অপেক্ষা। কোথাও পান-বিড়ির দোকান। কোথাও ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে ফুটপাথ ঘেঁষে। ট্যাক্সিচালক শুধু রিফিউজ-ই করে যাবে, যতক্ষণ না তার মনের মত কেউ অনুরোধ করে। এমন অনুরোধ, যার জন্য সে অপেক্ষা করে বসে থাকে। যার জন্য তার অপেক্ষা সার্থক। রাস্তার ও-ফুটও একটা 'ওদিক'। কোনও একটা 'ওদিক' বাসের ব্যাপারে কিছু বলতে পারবে। শিয়ালদাহ যাওয়ার বাস। কিন্তু, তার কোনও প্রয়োজন নেই। বাসের খোঁজ অজুহাত মাত্র। আসলে, ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ নিজেকে একা মনে হ'লে, ভেতরটা থমথমে লাগলে... এই ভাবে হঠাৎ পথচলতি কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করে কিছু কথার পিঠে কথা বলে নিলে - মনটা আবার গতি বদলে নেয়। একদম স্থির হয়ে যাওয়া জলতলে একটু তরঙ্গ তুলে দেওয়ার মত। এক গামলা জলে হাত দিয়ে খলবল করে ঝিমিয়ে পড়া মাগুর মাছগুলো চনমনে করে তোলার মত।

কাছকাছি কোনও তিনতলা-চারতলা বা তার থেকেও উঁচু বারান্দা আছে কী না খুঁজে দেখলাম। পেলাম, কিন্তু সেখানে যেতে দেবে কী না বুঝতে পারলাম না। সেখানে পৌঁছতে পারলে চারপাশে যা কিছু হচ্ছে লং রেঞ্জ শটের মত দেখতাম। কাছাকাছি অবস্থানে, একই সময় এক একজন এক একরকম ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় মেতে থাকে। তার কিছুটাও ধরতে পারলে, বেশ অর্থবহ একটা ঘটনাচক্র তৈরী হয়। অনেক ক্ষেত্রে, একাধিক মানুষ একে অপরকে চেনে। পুরো ব্যাপারটাই বেশ সিনক্রোনাইজড ভাবে ঘটে চলে। দিনের পর দিন এমন পর্যবেক্ষণ করতে থাকলে, বলে দেওয়া যায় এর পর কে কী করতে চলেছে। এ এক বিজ্ঞান, এ এক অঙ্ক। আগে থাকতে ঠিকঠাক আন্দাজ করতে পারলে নিজেকে ভগবান মনে হয়। পাখিরা, যারা ওপরে চক্কর কাটে, অনেক ওপরের মগ ডালে বসে নিচের সব কিছু লক্ষ করে, কার্নিশে বসে ঠোঁট দিয়ে পালক পরিষ্কার করে... তারা কি কখনও সচেতন ভাবে এই চেষ্টা করেছে। চেয়েছে ঈশ্বর হয়ে উঠতে?
আচ্ছা, একটা বারান্দা... যে কোনও একটা বারান্দায় কিছুদিন অধ্যাবসায়ে মগ্ন থাকলে পাখি, অথবা ঈশ্বর কিছু একটা তো হওয়া যেতেই পারে! আর যদি নাও হয়... মনে হওয়া? এই মনে হওয়াটাকে শক্তিশালী করা যায় না? মনে হওয়ার মত ক্রাইটেরিয়াগুলোতে শান দেওয়া যায় না? আমি তো চাই নিজেকেও এমন ওপর থেকে দেখতে! চাই আগে থেকে বুঝতে... কোথায় দুঃখ, কোথায় সুখ। কোথায় ব্যর্থতা, কোথায় সাফল্য। কোথায় কারাবাস, কোথায় নির্বাণ। কোথায় ভালবাসা... কোথায় কেবলই হস্তমৈথুন।

- র চা পাওয়া যাবে?
- দুধ চা আর লেবু চা হবে।
- হ্যাঁ হ্যাঁ, লেবু চা... লেবু চা কত?
- পাঁচ টাকা। দেবো?
- হ্যাঁ...
- খুচরো দেবেন।
- হ্যাঁ হ্যাঁ, এই যে... বলছি, ওই বাড়িটার বারান্দায় লোকজন উঠতে দেয়?
- কোন বাড়ি? - ওই যে... ওই টা?
- ওটা অফিস বাড়ি। ঐ বারান্দাটা ব্যাংক-এর।
- বারান্দায় যেতে দেবে না?
- নিন ধরুন।
চা খাওয়াটা অজুহাত। আসলে আবার মাগুর মাছগুলোকে সজীব করে নিলাম।

--- --- ---

লোকটাকে ঠিক সময়ে না দেখতে পেলে কেলেঙ্কারী হয়ে যেতো। চাকরিটা যেতো আমার।

ব্যাঙ্কের ভেতর ঢোকার সময়েই মনে হয়েছিল কিছু প্রবলেম আছে মালটার। হাতে কোনও ব্যাগ-ট্যাগ নেই। এমনকি প্লাস্টিকের প্যাকেট পর্যন্ত না। কেমন পাতলা পাঞ্জাবী আর পাজামা পরে ফ্যাল ফ্যাল করতে করতে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। একবার এদিক একবার সেদিক করে তারপর নতুন অ্যাকাউণ্ট খোলার ডেস্কের দিকে চলে গেল। ওখানে আরও কিছু লোকজনের পাশে দাঁড়িয়ে কীসব বলছিল। তারপর আর খেয়াল করিনি। হঠাৎ দেখি বারান্দার দরজাটা খোলা। ভাবলাম কেউ সিগারেট-বিড়ি খেতে গেছে। যাওয়া বারণ। তাও মাঝে মাঝে দু-একজন পাকামো মেরে চলে যায়। কানে ফোন নিয়ে চুদুরবুদুর করে। এদের জন্য আমাদের খিস্তি খেতে হয়। তা... হঠাৎ দেখি সেই ক্যাবলা মত লোকটা বারান্দার রেলিং থেকে নিচের দিকে ঝুঁকে কীসব দেখছে। দেখতে পেয়েই পা চালিয়ে যাচ্ছি সেদিকে। আর তখনই দেখি লোকটা আরও ঝুঁকে পড়ে কী একটা হাত বাড়িয়ে ধরতে যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গিয়ে পাঞ্জাবীর কোণ ধরে পেছন দিকে হ্যাঁচকা টান না মারলে... ওখানেই স্পট ডেড।
বুক পকেট থেকে কী একটা নাকি পড়ে গেছে নিচে। রাস্তার ওপর। খুব হাউমাউ করছিল। ব্যাঙ্কের লোকজন সব কাজ ফেলে তাকে সামলাতে ব্যস্ত। আজকাল কে কী করে চলে যায়, কোনও গ্যারান্টি আছে? সেই আমার দায়িত্বে রেখে পুলিশ-ফুলিশ ডেকে আনল। মালটা এটাও বলতে পারল না যে কোথায় বাড়ি। সঙ্গে কোনও আইডি কার্ড-ফার্ড কিছু নেই। শেষকালে পুলিশ ম্যানেজারের ঘরে গিয়ে কী সব কথা বলে মালটাকে নিয়ে চলে গেলো।

আমি গেলাম, আমিই বাঁচালাম... স্রেফ মরে যেত না হ'লে। আর আমিই খিস্তি খেলাম দিনের শেষে। বাঁড়া আমরা নিজেদের কাজ ঠিক মত করি না বলে লোকজন সুইসাইড করতেও ব্যাঙ্কে ঢুকে পড়ছে। কমপ্লেন করে দিলো এজেন্সিতে। খানকীর ছেলে বাঁড়া।

--- --- ---

মাথার ওপরে একটা হইহই শুনে ওপর দিকে তাকিয়ে থমকে দাঁড়ালাম। একটা লোককে পেছন থেকে কেউ টেনে ভেতরে নিয়ে গেলো... আর দু-তিনটে কাগজ ঝরা পাতার মত ভাসতে ভাসতে চার তলার বারান্দা থেকে এসে পড়ল ফুটপাথে। চেঁচামেচি শুনে ফুটপাথে কাছাকাছি লোকজন প্রায় সকলেই ওপর দিকে তাকিয়ে রইল। বাকিরা এক ঝলক ওপর দিকে তাকিয়ে হেঁটে চলে গেল... কাগজগুলো পা দিয়ে মাড়িয়ে। কাগজগুলো পায়ে পায়ে উড়ে আরও দূরে ছড়িয়ে গেল ফুটপাথ বরাবর। এগিয়ে গিয়ে তারই একটা তুলে নিলাম। ধুলো ঝেড়ে চার-ভাঁজ খুলে দেখলাম সাদা কাগজে নীল কালি দিয়ে বাংলায় কিছু লেখা...

“- বাসন্তী রঙের ওই পাখিটাকে চিনতে পেরেছো?
- বসন্ত বাউরী?
- বসন্ত বাউরী?!... হা হা হা। বসন্ত বাউরী ছোট পাখি। আর তার ডানাও বাসন্তী রঙের নয়।
- তাহ'লে?
- তাহ'লে আবার কী? আমি তো পাখির প্রজাতির নাম জানতে চাইনি। চিনতে পেরেছো কী না জিজ্ঞেস করলাম।
- নাহ্‌... চিনি না।
- দুঃখ পেও না। চক্কর কাটা একটা অভ্যেস। একটা ইন্সটিংক্ট। প্রবৃত্তিও বটে... আবার কর্মও বটে। নিয়ম মত, চক্কর কেটে আমরাও কিছু না কিছুর আড়ালে, লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যাই প্রতিদিন। আমাদেরও কেউ চিনতে পারে না। চায়েও না।
- সেই তো। আমরা আর কী!
- কিছু একটা তো বটেই! অন্য কারও জন্য হই বা না হই। নিজেদের ভাল থাকতে চাওয়ার মধ্যে কোনও অন্যায় নেই। নিজেকে ফাঁকি দিও না। রাতে মশারী টাঙিয়ে ঘুমোও। সকালে ঠিক সময় উঠে নিজেকে গুছিয়ে নাও। কোথাও বেড়াতে যেতে ইচ্ছে করলে বেরিয়ে পড়ো।
- হ্যাঁ প্রতিদিন এইভাবেই আস্তে আস্তে কুড়িয়ে-গুছিয়ে নিচ্ছি। মাঝে মাঝে ভোরবেলা একটু হাঁটলেও ভাল লাগে। রাতে রেডিও শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ি। আর ঘুমের ওষুধ লাগে না।
- আচ্ছা... আমি আজ আসি। মাঝে মাঝে আকাশের দিকে নজর রেখো। যদি আমার ঠোঁটে মাংসের টুকরো থাকে, তাহ'লে আর ডেকো না। যদি খড় বা শুকনো ডাল দেখতে পাও... তাহ'লে ডাক দিও। মন ভাল থাকলে সেই নদীর গপ্পো বলব, যার ঢেউ কূল ছুঁলেই মৃদঙ্গের ধ্বনি শোনা যায়।”

...এরপর, বাকি অংশ জুড়ে শুধু পেন দিয়ে দাগ টানা। চারটা করে লম্বা আঁচড়, আর একটা আড়াআড়ি দাগ টেনে তাদের কেটে যাওয়া। স্ট্যাটিস্টিক্সে যেভাবে কিছু গোণা হয়। এক দুই তিন চার... চারটি রেখা। আর পাঁচ এলে তাদের কেটে দেওয়া। এমন অজস্র বার গোণা হয়েছে পাতার বাকিটা জুড়ে। উলটো পিঠে কাগজের মাঝামাঝি বড় বড় অক্ষরে শুধু লেখা 'মাভৈঃ'। ব্যস্‌।

অন্য কাগজগুলোও কুড়িয়ে নিলাম এক এক করে। রাস্তায় পড়ে থাকা কাগজ। অন্যের জিনিস। অহেতুক কৌতূহল। তাও কুড়িয়ে নিলাম, চুরি করে নিলাম।
অন্য অনেক কিছুর মত, চুরিও আমাদের সহজাত অভ্যেস। আমরা কায়দা করে এসব রেখে-ঢেকে চলি।

আমারও মৃদঙ্গ শুনতে ভাল লাগে... অষ্ট প্রহর নাম-সংকীর্তন শুনতে ভাল লাগে।
মাভৈঃ!