ক্যামেরা ডিজিটাল

অলোক বিশ্বাস

বেলডাঙ্গার লংকা

পেনসিল বক্সের স্পর্শে আঙ্গুল রাঙিয়ে ওঠে।
সকল রোমকূপ থেকে অক্ষর ঝরতে দেখছি। আমাকে সংজ্ঞা লিখতে বলো না ক্যামেরামাখা বিকেলগুলোর। ঘনীভূত করে ফেলছি ঠোঁটের আদর লংকার তীব্রতা দিয়ে। রঙগুলো খেলে যায় যতক্ষণ না সন্তান জন্মের ইশারা সম্পূর্ণতা পেয়েছে। ধনুকে তীর উঠেছে দেখো, কে আর থামায় নৃত্য। গানে গানে ব্রেকফাস্ট। গানে গানে লাঞ্চ। গানে গানে ডিনার। প্রতিদিন স্বাদের বাহার। সাঁতারগুলি মেশাতে বলছে আরো ঝাল। অনুভব জারি করে ওই স্বাদ বিতরণ হবে। তরুণ তরুণীর জিভে অনেক আশ্চর্য এসে বসে, এতোটাই প্রখর যে অজস্র ইত্যাদি জুড়তে হবে। কেউ বলে কোর্ট কাছারি করবো এতো লংকা মেশালে। অস্থির সম্ভাবনা। পঞ্চায়েতের মীমাংসায় কিছু অস্বাভাবিক হতেও পারে। কারণগুলো গুরুতর কিছু না, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। মজাকিটা মাঝে মাঝে একটু মাত্রাতিরিক্ত হলে ক্ষতি কী। পাহাড়ে চড়ার অভ্যাসিরা দ্যাখো বেশ সুন্দর কথা বলছে লংকা গাছ বিষয়ে, অলিম্পিকের মতো। আমিও খাই বেশি করে এমনতর ঝাল অলসতায় ম'লে। বেলডাঙ্গার দৈবে অদৈবে এভাবেই বহুজন আলোকিত হচ্ছে...


ক্যামেরা ডিজিটাল

জল এইভাবে হাসছে জল ওইভাবে হাসছে।
হাসিপ্রিয় জল দেখে শ্রীকৃষ্ণ হতে চাই শ্রীচৈতন্য হতে চাই। আবার রেলপথ বা জাতীয় সড়ক যেকোনোর উদ্দেশ্যে যাই না কেন জলপিপি ও ছাতার পাখিদের দুরন্তগুলি, আহা লাগে, নিবাস বলছে, দেখো রে মধুর। টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টারের মোক্ষ উচ্চারণ হতেই হৈহৈ করে আসছে জ্ঞানযোগ কর্মযোগ। হৈহৈ যারা করে তারা সকলেই ডিজিটাল সন্ন্যাস। ক্যামেরার অপর নাম ভয়হীন রাজসিক। যে ভাষায় কথা হয় বেদাচারী ব্রাহ্মণের সাথে, সেই ভাষায় ছবি তুলে রাখি দলিত সমাজের। গ্রন্থস্বত্ব রূপে দেখো না ক্যামেরার পুরুষত্ব। কোনো কপিরাইট রাখিনি জীবনের। রঙ খুঁজে আনি পৃথিবীর সমস্ত যোনি আর লিঙ্গের নিরবধি গান গাওয়া থেকে। পরমাত্মা যাযা বলিয়াছেন এবং আরও যাযা বলিবেন তাহার ওপর আরো কথা ঢেলে কামনাবাসনা সমেত ছুটে যাই। পৃথিবীর হরিহর দেখি চোখ কান অন্তর্লীন রেখে...


কোনো কোনো সময়

এদিকে কাশফুল নেই, অন্যদিকে আছে। অন্যদিকে সর্ষে ফুল নেই, এদিকে আছে। আমি বাউল সঙ্গ করি দুই ফুলে। এক ফুল ঘুমোলে অন্য ফুল জেগে থাকে। কুয়াশা যদি ঢেকে রাখে এক পাড়া, অন্য পাড়ায় পিঙ্গলা পরিষ্কার দেখা যায়। অন্য পাড়ার সুষুম্নায় যে পরাগ আছে, এ পাড়ার সুষুম্নায় সেই পরাগের বদলে অন্য পরাগ আছে। ফুলেরা কিভাবে এক আত্মকথা থেকে অন্য আত্মকথায় চলে চায়, সেটা দেখার জন্য কখনো নদী পেরোতে হয়। নিজের কানে কানে বলি সেই ফুলের কথা যে নিজের পাড়া ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে ডুবে যাওয়া চাঁদের শেষ ইচ্ছাটিকে আয়ত্ত করেছে....