স্মৃতি আর সন্ধ্যা মিশে গিয়ে...

শতানীক রায়



মেঘাতুর স্মৃতি সব।
একবার নামছে এসে
একবার দূরে চলে যাচ্ছে
শব্দের ভেতর দিয়ে
এই তোমার মুখ দেখছি
জীবিত কীটের মতো চাঁদ
খুলছে তো খুলছেই
মুখের গর্তে সাপের মতো তুমি
বেরিয়ে আসছ। তোমার কাপড় খুলছে
কৃষ্ণ জেগে ওঠার বিপদ
সন্ন্যাসীর ভাব হচ্ছে দ্রৌপদীর।
অজানা এক শরীর থেকে অন্য শরীরে যাওয়া
মায়ের চোখ যেমন বুদ হয়
পিতার অস্থি কুড়োচ্ছে আমার
পূর্বপুরুষের দল
সন্ধানী হাঁসের ঠোঁটে ঘোলা জলের রসায়ন
আমাকে বারবার অপঠিত বিদ্যার কাছে এনে
আছাড় মারছে! হে প্রকৃত সারস,
তুমি বালি হয়ে ঝরে যাও
এই বালির কাছে ঋণী হব আমি।




বুদ্বুদের কথা কখনও বলোনি তুমি,
শুধু ভেসে বেড়িয়েছ।
একটি পাতা থেকে আরেকটি,
শবের উপর থেকে উড়ে যাওয়া কাক
তার মাংসের জন্য জন্ম চাইছে
এখানে তাহলে বোধ হচ্ছে
অন্য কোনো পৃথিবীর
মানুষ যেখানে আপন তন্তু খোলার ভ্রমে
ডেকে আনে ওম
জড়ো করে আনা দাগের মতো কিছু।
সন্ন্যাসীর বচনে প্রপঞ্চ জাগে
তিনিও জাগিয়ে তোলেন
এক-মানুষ জলের প্রমাণ
মুখের খেলা এই,
গহ্বরকে সমান প্রাধান্য দেয়
শূন্যের কাছে বলে,
হায় শরীর হায় খোসার পবিত্র চাঁদ,
আড়াল করো, এখানে লক্ষ তারার মাঝে
আমারও একটি ব্রহ্মাণ্ড উপুড় করে পড়ে আছে।




একটি পিঁপড়েকে আরও বেশি থেঁতলে দাও
যাতে ওর রক্তের স্বাদ পেয়ে
আরও যাবতীয় পিঁপড়ের ডিম জাগুক।
ওঠার তীব্র অহংকর এই মাটিকে
এই কাঠকে আরও বেশি রগরানোর দাগ দাও
এভাবে তোমার প্রেমের বোধ হবে একদিন
মীমাংসা হবে
দাবানল হবে
যে-চোখে তুমি নাভি দেখেছ
সে চোখই তোমার তন্তু ধরে টানবে
দেখো মানুষের মতো লম্বা সারসগুলোর সহবাস
এই লম্বা ঘাসে লম্বা ব্রহ্মাণ্ডে
সর্বত্র এই অণু-পরম্পরা
সর্বাঙ্গ দিয়ে মুছে ফেলা
এখানকার যোনি
আর মৃত্যু
পরম অথবা তার স্বাদ
কোরক অথবা তার পদ্ম
আলাদা করে
দূরে যায়
আবার আসে
তার শিরীষ নিয়ে
অতীত যোগিনী এক, উপকথায় আসে
আয়ুর কাছে দীর্ঘ সমর্পণ রাখে
হে বৃক্ষ, বাকল খোলো
কথায়...