তিলোত্তমা , সরোবর

অয়ন সিকদার

তিলোত্তমা, সরোবর

মর্ত্য ক্ষিতির হাতে আত্মারা এইখানে একদিন অনামিকা রাত্রি ;
মহারথী নয় যে এমন , ভীষ্মের মত করে চেয়ে যাবে নিপাতের বর
আঠারো দিনের নিষ্ফল ত্রুটি — শুয়ে নেবে রক্তশয্যার শর
পরিচয় নেই যার ; পরিণতিহীন কোনো নরকের শোভাযাত্রী ।

এভাবে রোজ প্রভাতীবেলা হলে , নির্ভর যেন হয় অদৃশ্য কুমকুম
কলকাতা এই সরোজিনী–জলে পঙ্কজপ্রাণী , ফেলে দেয় ধূলো–ঝাউয়ের ঘুম





নীরব ধর্ষণ

মনে হচ্ছে , তুমি একটা অসরল কাজলজাতির মেয়ে । চোখের ভেতর দিয়ে অজন্তা–ইলোরার গুহাকাটা পথ ধরে আছে , কেও হেঁটে পার হলে অপহরণের অনিবার তারতম্যটুকু বুঝে নেবে অনায়াসেই । জানতে পারবে , সাতদিন পার হলেও তোমার বাসি কাপড়ের নোংরা এসে আর গরমের হাওয়া তোলপাড় করবে না । সন্ধ্যে বাড়বে , ঠিক যেমন করে অন্ধকার হয় তোমার কালো টিপের দেওয়ালে — তেমনই । গলায় তামা কিংবা রুপার একটা হার গলিয়ে নিয়ে তোমাকে দৌড়াতে হবে , অথচ পথ ফুরোবে না কিছুতে । লাল আর কালো রঙ মিশে যেমন বাদামি তৈরী করে , তোমার ওড়নাটিও না–ফেরার শব্দের সাথে মিশে পুরোনো বাদামি রঙ হয়ে উঠবে ।

সাতদিন পরে এসে দেখবে , যে কালবৈশাখী এখনও গরমের ঘরে ঢুকতে সাহস করেনি , তোমাকে মণিকা ভেবে তুলে নিয়ে গেছে

এখন তোমার সোনালী কানের দুলে ,
আলেয়ার মোমাবাতি দাউদাউ জ্বলে

দেখবে আকাশের মেঘ–টুকরো সরে গেলে , তোমার যোনির বুকে পৃথিবীর সব নিস্তব্ধতা ঘরভাড়া নেবে





হাওয়ার ঘুম


এখনও শাওন রাতে — দুপুরের , সন্ধ্যের কান্না ভিজে আসে
বাসকপাতার গুঞ্জন ওড়ে আর নৈঋতের মেঘ
চাঁদ কোলে রাখে আর উদরে ওঠে আদর খানেক
কোথাও লুকায়ে বসে ; নীল কিশোরীর চাদর , ঠোঁটের হিরা
হলুদ আমের ঝড়ে — এই মেদিনীর সব পরিখা–ঘেরা
আজও ওরা বর্ষার শিলা আর পাতা ভালোবাসে
কোথাও নিয়ানো চুল , শাদা শাদা বিনুনির , ভাঁজের কলরব
সেই বর্ষার সেঁদো কাঠে জ্বলতেছে মানুষের শব

বৈশাখ শুয়েছে মরে আর সবে শান্ত হয়েছে আগুন ,
এই হাতে , বর্ষাতে , তাজা তাজা রক্তের জমিয়াছে তুণ
চাদর গিয়াছে সরে , রাতকানা ঘুমের ওপর
এইখানে এখনও পেঁচার ডাক ওঠে — সিঁড়ির ঘরের ভিতর ;
জানালার লোহা বোঝে হাওয়ার হাঁক ; পদবী অজানা কই !
যত গাঢ় ঘুম চায় চোখ , আমি যেন হাওয়ারে জড়ায়ে শুই