শূন্য সময়

স্মৃতি ভদ্র

সারারাত বৃষ্টির পর খুব আলগোছে টগর ফুলের মতো ভোর এসেছে মৃত এই শহরে। তমালের ফ্যাকাশে মনে একবিন্দু রঙ কোথা থেকে টুপ করে পড়ে। কতকাল ধরে রঙ হারাতে হারাতে তমালের মন খুব শুষ্ক আর ফ্যাকাশে, রঙের খরায় সেই একবিন্দু রঙ অচিন দীর্ঘশ্বাস। উপহাসের আদলে পড়েই দপ করে হারিয়ে যায়।

তবুও আজ তমালের ভাল লাগছে। জানালায় বৃষ্টির গন্ধমাখা শ্বেতকাঞ্চন, দেয়ালে শ্যাওলার বাড়াবাড়ি কোনকিছুই খারাপ লাগছে না আজ তমালের।

বৃষ্টির রাতগুলো সচরাচর তমালকে ঘুমোতে দেয় না। একঘেয়ে বৃষ্টিতে বিষাদের ছায়া লুফে সারারাত কেঁদে চলা পেঁচা জাগিয়ে রাখে তমালকে। তবে সারারাত জেগেও আজ ক্লান্ত লাগছে না তার। বরং ঘড়ির সবচেয়ে মন্থর কাঁটায় মনকে স্থির করে সময় পার করছে, আজ তমাল।

সকাল ছয়টা ছুঁই ছুঁই। ভোরের বাতাসে জানালার পাশের কৃষ্ণচূড়ার তিরতিরানি আজ আর শূন্য লাগছে না তমালের। রাস্তায় একটা দু'টো রিক্সার টুংটাং শোনা যায়। আরেকটু পর বেরিয়ে পড়বে তমাল। অনেকদিন পর এই ঘুপচি ঘর ছেড়ে বের হবে তমাল। ঠিক কোন বারে এই ঘরে এসে আশ্রয় নিয়েছিলো তমাল, তা আজ ঠিক মতো মনেও করতে পারে না।

শুধু মনে পড়ে, মৃত্যূর পরোয়ানা মাথায় নিয়ে সীমাহীন মন্থর সময়ের জন্য এই ঘরে লুকিয়ে ফেলেছিল নিজেকে। সেই মন্থরতা কেটে যাবে আরেকটু পরেই।

এই ঘরের ঘুম ঘুম নিথর গন্ধ তমালের এতদিনে সয়ে গেছে। অল্প পাওয়ারের আলোয় কুঁকড়ে থাকা এ ঘরে দিন আর রাতের পার্থক্য খুব একটা বোঝা যায় না। নীচতলার সবচেয়ে কোণার ঘর। যার পাশেই অসংখ্য এলোপাথাড়ি গাছের স্বেচ্ছাচারী জঙ্গল। এই জঙ্গলের জন্যই ঘরটিতে সবসময় আঁধার জমাট বেঁধে থাকে। আঁধার জমে থাকলেও এই ঘর তমালকে জাগিয়ে রাখে, ঘুমাতে দেয় না।

অনেকদিন পর আজ তমাল প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেবে তমাল।

দিনের রোদ রোদ গন্ধ, বাতাসে ধুলো ধুলো গন্ধ, উড়ে যাওয়া পাখির পালকের গন্ধ, ট্রেনলাইন ঘেঁষে বেড়ে ওঠা বুনো ঝোপের গন্ধ---- সবকিছু হাতছানি দিয়ে চলেছে তমালকে।

সেদিন আব্বার ফোন এলো ঠিক দুপুরের আগেই। দীর্ঘদিন ব্যবহারে কমদামী ফোনটার রঙচটা কিপ্যাড ঠিকমতো কাজ করছিলো না। স্ক্রিনের সবুজ আলোয় 'আব্বা' লেখা কালো শব্দটা হৃদপিন্ডের দেয়ালে দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হলেও তার কাছে পৌঁছাতে পারছিল না তমাল। রিসিভ লেখা বাটন টা অনাহুত ঝামেলা করে বারবার আব্বাকে দূরেই রাখছিল। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর আব্বার কন্ঠটা আঁধারে অকাল সুর্যোদয়ের মতো জেগে উঠেছিল।

'ফিরে এসো। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।' আব্বার কণ্ঠস্বর অন্যরকম। খুব ক্ষীণ আর ভীত নয়।

তমাল ফিরবে। অনেকদিন পর অন্ধকার এই ঘরটা থেকে সে বের হবে। তমালের গা থেকে শ্যাওলার গন্ধ মুছে যাবে। মন্থর সময় পেড়িয়ে আজ তমাল যাবে বাগাতিপাড়ায়, নদীর পাশে জেগে থাকা সেই ছোট্ট শহরে।

ভাঙা কালো পিচের রাস্তার ফাঁকে ফাঁকে জল জমে রিকশা চলছে ছল ছল করে। যেন নদীর মধ্যে একটি ভেসে চলেছে একটি ডিঙি। রেনুকে নিয়ে কতদিন এভাবে নদীর জলে ভেসে গেছে তমাল। ছল ছল জলের শব্দে আকাশের দিকে তাকিয়ে রেনু গেয়ে উঠতো ' তোমার অসীমে প্রাণমন নিয়ে যতদূরে আমি ধাই'। নদীর বাতাসে সে সুর ভেসে গিয়েও ঠিক ঠিক ফিরে আসতো তমালের হৃদপিন্ডের দেয়ালে। ডিঙির ভেজা পাটাতনে তমালের জন্য সে সুর রেখেই রেনু চলে যেতো। দূরের কাশবনের ভিতর ঢেউ তুলে যখন রেনু যেতো তখন জলের অতল থেকে অন্ধকার এসে ডুবিয়ে দিতে চাইতো তমালকে।

রিক্সার প্যাডেলের গতি মন্থর।

'তাড়াতাড়ি চলুন ভাই, বাসটা মিস না হয়ে যায়।'

ইলেক্ট্রিক আর ইন্টারনেট তারের জালে বৃষ্টির দু'এক ফোঁটা জল সুর তোলার আগেই অজানা কারণে থমকে যাওয়া দেখতে দেখতে তমাল বলে।

' কোন দিকের বাসে যাইবেন ভাই? উত্তর না দক্ষিণ?'----প্যাডেলের গতি বাড়িয়ে রিক্সাওয়ালা বলে।

' দক্ষিণ' তমালের ছোট্ট উত্তর। চোখে তখন দক্ষিণের এক ছোট শহরের ছবি।

' দক্ষিণের কোন শহর ভাই?'

এই প্রশ্নের উত্তর দিতে এখনো আড়ষ্ট তমাল।

' বাগাতিপাড়া.......'

তমালের অসম্পূর্ণ কথায় নিজের শব্দ বসাতে খুব তাড়াহুড়ো রিক্সাওয়ালার।

'সেই বাগাতিপাড়া? এই শহরে আইলেন কবে?'

সকালের স্পষ্ট আলোয় তমাল রিক্সাওয়ালার চোখের কোঠরে প্রশ্ন আর সন্দেহের লুকোচুরি খুঁজে পায়। প্রচন্ড আতঙ্কে গুটিয়ে যায় তমাল। নিঃশব্দে ঢোক গিলে। শুকনো ঠোট জিহ্বা দিয়ে ভিজিয়ে ব্যাকপ্যাকের বন্ধ চেইনে ব্যস্ততার ভান করে।

কোর্ট বাগানের ভিতর দিয়ে চলছে রিক্সা। আতঙ্কে বুকভরে নিঃশ্বাসও নিতে পারছে না তমাল। যদিও এই রোদ রোদ গন্ধমেশানো সকাল সহস্র প্রহর প্রতিক্ষিত ছিল তমালের। কোর্ট বাগান শেষ হলেই বাসট্যান্ড। একদম শহরের শেষ সীমানায়।

বাসের প্রায় শেষের দিকের একটি সিট বেছে নিয়ে বসে পড়লো তমাল। মফস্বলের সকালের বাস। খুব একটা ভীড়ভাট্টা নেই। ইঞ্জিন চালু হয়েছে বেশ কিছুক্ষণ। কিন্তু অচল দাঁড়িয়ে আছে। ড্রাইভার একটু পরপর বাস থেকে নেমে গিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছে। আর কথা বলার সময় অদ্ভুতভাবে তমালকে দেখছে।

ভয় ভয় লাগে তমালের। এই শহরে তেমন কেউ চেনে না তমালকে। খুব প্রয়োজন ছাড়া এই শহরে সে বের হয়নি।

ড্রাইভার এবার কথা বলতে বলতে তমালের জানালার পাশে এসে দাঁড়ায়। নিজেকে আড়াল করতে হুট করে অন্যপাশের ফাঁকা সিটে গিয়ে বসে তমাল।

কেউ একজন ডাক দেয় ড্রাইভারকে। সে তড়িঘড়ি করে টিকিট কাউন্টারের দিকে চলে যায়।

তমালের আতঙ্ক আড়ষ্টতা হয়ে জড়িয়ে রইলো তাকে। ফিরে যেতে চাইলো সেই শ্যাওলাগন্ধের ঘরটাতে, লুকিয়ে পড়তে মন চাইলো তার।

তমাল যখন একছুটে ফিরে যাবার কথা ভাবছে, তখনই ড্রাইভার টিকেট কাউন্টার থেকে বেরিয়ে আসে। বেনসন এন্ড হেজেস-এর সোনালি প্যাকেটে একটি সিগারেট ঠুকতে ঠুকতে ড্রাইভার সিটে এসে বসে সে। তমাল বুকের ভিতর জমিয়ে রাখা একটি দীর্ঘশ্বাস বাতাসে ভাসিয়ে নির্ভার হয়।

বাস চলতে শুরু করেছে।

খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শহরের সীমানা পেড়িয়ে দু'পাশে অসংখ্য ফসলি জমি, ইউক্যালিপটাস গাছ আর ছোটবড় অসংখ্য জলাশয় নিয়ে ছুটতে লাগলো বাস, গন্তব্যের দিকে।

নদীর ওপাশে তমালের সাথে ছুটছে লম্বা মাঠ। নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের মতো ঢেউ খেলানো মাঠ। ঠিক এমন একটি মাঠেই রেনুসহ ওরা আরো কয়েকজন বসতো নতুন সমাজের স্বপ্ন বুনতে। কার্ল মার্কস্ থেকে লেলিন, আরজ আলী মাতুব্বর থেকে সাত্রেকে নিয়ে আলোচনায় ওদের সন্ধ্যা নামতো। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও ওদের স্বপ্নের বিরাম হতো না। টগবগে নদীতে একাদশীর চিলতে চাঁদ রুগ্ন জ্যোস্না ঢেলে দিলে আঁধারে মূর্ত হয়ে উঠতো ওদের স্বপ্ন। শিরিষগাছের অন্ধকারে সে স্বপ্ন ধূলিসাৎ-এর জন্য ভারি এক বাতাস ঘূর্ণি তুলতো, তা তখনো অজানা ছিল ওদের। স্বপ্ন জর্জরিত কয়েকজন যুবক তখন এক অদ্ভুত স্বপ্নঘোরে বন্দি।

তমালের বাসটা এসে থামলো একটি শতবর্ষী পাকুড় গাছের নিচে। তমালের গন্তব্য। ইতস্তত পায়ে নেমে এলো তমাল। সামনে একটি শীর্ণ নদী। তীরের শিমুল গাছটি অজস্র বছর আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। এই গাছের নিচে এখন দুপুর ঝাঁ ঝাঁ করছে। এখানে ওখানে সিঁদুর রঙা শিমুল ফুল নির্লিপ্ত পড়ে রয়েছে।

রেনুকে সাথে নিয়ে কতদিন এইখানে ছোট ছোট ছায়া ফেলে তমাল পেরিয়ে গেছে অজস্র সময়। নিজেকে অজস্র বছরের কোন যুবক মনে হয় তমালের।

গুমোট আঁধার পেড়িয়ে আসা এক যুবক।

সামনের ঘাটে একটাই ডিঙ্গি। ত্রস্ত পায়ে গুটি গুটি সামনে এগোয় তমাল। ঘাস মাড়িয়ে কোন আগত পায়ের আওয়াজ পেলেই বারবার সকচিত হয় তমাল। চোখের মনির ভিতর আশ্চর্য এক চাপাতির বেপরোয়া আশংকা জায়গা করে নেয়। হৃদপিন্ড অচল হয়ে যেতে চায় তমালের।

' তমাল ভাই আইলেন?'

ডিঙ্গীর মাঝি শামসু ভাই। তমালদের বাড়িতে বান্ধা আজ প্রায় আঠারো বছর। সময়ের সাথে একটু একটু করে নুইয়ে পড়তে দেখেছে তমাল তাকে। এখন বলতে গেলে সোজা হয়ে দাঁড়াতেই পারেনা সে।

' শামসু ভাই। তুমি একা আর কেউ আসেনি?'

নদীর ওপারে কাশবনে একটু দুলুনি খেলে যেতেই তমাল আশ্বাস পায়। কেউ অপেক্ষায় আছে তার।

নদীর বুকে ছল ছল শব্দে ডিঙ্গি এগোয় বাগাতিপাড়ার দিকে। কুজো শামসু ভাই আর তমাল ছাড়া আর কেউ নেই এখন নদীর বুকে।

আব্বা সত্যিই বলেছেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।

ডিঙ্গি ওপাড়ে ভিড়তেই হাঁটু সমান জলে লাফিয়ে নামে তমাল। ডিঙ্গি বাঁধার তড় সইছে না তার। ছপাৎ ছপাৎ করে জল ভেঙে এগিয়ে যায় তমাল। কাশবনের সেই দুলুনি অনেক আগেই থেমে গেছে তবুও অকাললুপ্ত সেই সময়ের দিকেই তমাল ধাববান।

' বেপথে যাইতাছেন তমাল ভাই। ওইটা সঠিক পথ না। আমার লগে আসেন।'

দু'পা তবুও এগোয় তমাল। ওখানে কেউ আছে অপেক্ষায় তার।

কুজো শামসু ভাই পথ আটকায়। হ্যাঁচকা টানে উত্তরদিকে নিয়ে চলে তমালকে।

তমাল খেয়াল করলো, আসার পথের কোন দৃষ্টিই তাকে অস্বস্তিতে ফেললো না। সবার চোখেই উষ্ণ আন্তরিকতা।

পরিস্থিতি এখন সত্যিই স্বাভাবিক।

পামগাছের ছোট্ট আস্তানা পেরোলেই লোহার রেলিঙের জ্যামিতিক নকশা বলে দেয় ওটা তালুকদার বাড়ি। সাদা জামা আর লুঙ্গিই আব্বার চিরকালের পরিধেয়। আজ সে সাজে যুক্ত হয়েছে টুপি।

বারান্দা থেকে নেমে তমালকে বুকের ভিতর জড়িয়ে রাখেন আব্বা কিছু সময়। তমালের কাছে অবশ্য অনন্তকাল মনে হয়। বিকেলের দিকে কোরান শরীফ পড়ে আব্বা ঠিক এভাবেই বুকে সাপটে রাখতেন কোরান বেশ অনেক সময়। আব্বার বুকের উষ্ণ ঘ্রাণ তমালের হৃদপিন্ডে হুটোপুটি খায়।

' কতদিন পর দেখছি আমার বাপজান রে। সব সামলে নিয়েছি। তোমাকে আর কোথাও যেতে হবে না।'

তমাল কিছুই শুনতে পায় না। নিজের গা থেকে শ্যাওলার গন্ধ সরিয়ে রোদ আর আব্বার উষ্ণ গন্ধে বিভোর তখন সে।

বাড়ির ভিতরে তখন মহাভোজের আয়োজন। তমাল ফিরেছে। এ বাড়ির উনুনে তাই আজ আনন্দ বলকায়।

আম্মার নীল শাড়ির আলোয় তমাল আগুনে পোকার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। সোঁদা মাটির গন্ধ আম্মার গায়ে। তমাল নিবিষ্ট হয়ে কুঁকড়ে জড়িয়ে থাকে আম্মার সাথে।

' ফিরলি বাবা। আর কখনো তোকে ছেড়ে আমি থাকতে পারবো না কিন্তু। দুনিয়াদারি নিয়ে ভাবার দরকার নেই, বাবা।'

আলমারিতে তুলে রাখা একসেট কাপড় বের করে দেয় আম্মা তমালকে। ন্যাপথলিনের গন্ধে নতুন করে জীবন শুরু করতে ইচ্ছা হয় তমালের।

নতুন জীবন। স্বাভাবিক জীবন।

' আম্মা, ও বাড়ির সবাই কেমন আছে?'

আম্মা তখন তমালে মগ্ন।

' যাও গোছল করো। তুমি আর তোমার আব্বা একসাথে বসে খাবে আজ। আমার চোখের শান্তি হোক। যাও.....'

আম্মার তাগিদে ঘর থেকে বেরিয়ে তমাল কলতলায় আসে।

ওবাড়ি আর এবাড়ির মাঝখানে একটা দেয়াল। তবে তা দৃশ্যমান থাকলেও কোন ব্যবধান নেই এখানে। দেয়ালের মাঝে দু'পাল্লার একটি দরোজা আছে।

সেই দরজায় কোনদিন হুড়কো পড়েনি। এই খোলা দরজাই ৪৭' থেকে ও বাড়ির মানুষগুলোকে সাহস যুগিয়ে এসেছে।

তবে আজ দরজাটা বন্ধ।

ও বাড়ির ডুমুর গাছে ফল এসেছে। একটি চড়ুই লাফিয়ে লাফিয়ে চলছে এ পাতা থেকে ও পাতা। একটু পরপর চন্দনের গন্ধ মেশানো বাতাস ভেসে আসছে ও বাড়ি থেকে। আম্মার চোখের আড়াল দিয়ে ন্যাপথলিনের গন্ধ পিছনে ফেলে তমাল এগিয়ে যায় ও বাড়ির দিকে।

অনেকক্ষণ ধরে ও বাড়ির বন্ধ দরজায় কড়া নাড়ার পর ভিতর থেকে একটি বিড়ালের জবাব আসে, 'মিউ'। এরপর আর কোন সাড়াশব্দ নেই।

গেটের উপরের মাধবীলতার ঝাড়ে ঝাড়ে পিঁপড়ার সারি ছাড়া সবকিছু স্পন্দনহীন এখানে। তমাল অপেক্ষা করতে থাকে। অনন্তকাল মনে হয় সে অপেক্ষা তমালের। কোনো সাড়া আসেনা ভিতর বাড়ি থেকে।

অস্থিরতা বাড়ে তমালের। বেশ জোর লাগিয়ে ধাক্কা দেয় গেটের কপাটে। কপাট খুলে যায়। উদম একটা বাড়ি।

বাড়িটার ভেতরে একটি মাঝারি উঠোন। লেপামোছা উঠোনের কিনারে কিনারে ঘাসের চাপড়া। এরপর উঁচু বারান্দা, লোহার রেলিঙ আর মোটা মোটা লাল থামে ঘেরা।

তমাল এ বাড়ির বড়ঘরে যায়। চন্দনের গন্ধের সাথে পাকা কলা আর শশার গন্ধ লুকোচুরি খেলছে বাতাসে। এ বাড়ির এটা পরিচিত গন্ধ। রেনুর ঘরে বইয়ের তাকে বইয়ের সাথে একটি দু'টি তেলাপোকাও আশ্রয় নিয়েছে। বইয়ের আলমারির পাশেই একটি মোটা তক্তপোশে ফুলতোলা সাদা কাপড়ে হারমোনিয়ামটা ঢাকা।

নীরেশ কাকা গমগম কন্ঠে গায়, 'অরুণকান্তি কে গো যোগী বিহারী'।

' এখানে কি করছো?' তমালের অলক্ষ্যে আব্বা এসে দাঁড়িয়েছেন।

এ বাড়ির ঘরগুলোর অপরিচিত নিস্তব্ধতায় ততক্ষণে অস্থির হয়ে ওঠেছে তমাল। উদভ্রান্তের মতো তাকায় আব্বার দিকে।

' আব্বা, এ বাড়ির মানুষগুলো কই?'

নীরেশ কাকার ইজিচেয়ারে আব্বা গিয়ে বসেন। কুজো শামসু ভাই আব্বার পায়ের ঠেলেঠুলে কাছে জায়গা করে নেয়।

এই ইজিচেয়ারে পাশাপাশি বসেই আব্বা আর নীরেশ কাকাকে তমাল কতদিন মেতে উঠতে দেখেছে আলোচনায়। আলাউদ্দিন খাঁ-এর সানাই থেকে গান্ধীজীর অহিংসবাদ, র‍্যাডফ্লিকের বানানো মানচিত্র থেকে রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন-------সব একে একে জায়গা করে নিতো তাঁদের আলোচনায়।

আর এসব আলোচনার মাঝে বড় হতে হতে তমাল আর রেনুর চিন্তার জগতও হয়েছে প্রশস্ত। সেই প্রশস্ততা ছড়িয়ে দিয়েছিলো গুটিকয়েক বন্ধু আর যুবকদের মাঝে ওরা।

ওদের কাছে ধর্ম আর সমাজ ছিল ব্যবধানহীন। মুক্ত পাখির প্রসস্ত দু'ডানায় ভর করে উড়ে যাওয়ায় মুগ্ধ চোখ রেখে রেনু আর তমাল লোভ দেখতো এক নতুন সমাজের,এক নতুন পরিবারের।

' আমাদের পরিবারে উৎসব লেগেই থাকবে। ইদের সেমাই শেষ হতেই পুজোর নারুতে বয়াম ভরবে।' তমালের এ কথায় আলো খেলে যেতো রেনুর চোখে।

কিন্তু কোনো এক অজানা ভয়ে আলোটা মিইয়েও যেত খুব তাড়াতাড়ি।

তবুও ওরা ব্যবধানহীন সমাজের স্বপ্ন দূরে সরিয়ে রাখতে পারতো না। পারতো না নৌকার পাটাতনে সুর নিয়ে খেলা থামিয়ে দিতে।

শহরে কিছু তরুণ বিশেষ করে রেনু আর তমালের স্বপ্নে দানাবাঁধা নতুন সমাজের খবর পৌছে যায় সকলের কাছে। হঠাৎ উদয় হওয়া তীক্ষ্ণ আলো অন্ধকার সয়ে যাওয়া হাজারো চোখে ফটো ফেবিয়া ধরালো।

আলোয় দিশেহারা হয়ে, স্যাঁতসেঁতে জায়গার সরিসৃপ জীবগুলো ছোবল বসাতে লাগলো রেনু আর তমালের স্বপ্নে। ধর্ম থেকে সমাজ, সমাজ থেকে বাড়ি সব জায়গাতেই বিভেদের রেখায় নতুন রঙ চড়লো। ব্যবধানহীনতা, চিন্তার মুক্ততা রূপকথা বলে প্রচার শুরু হলো।

' ধর্ম হইলো সব থ্যাইকা দামী। মানুষের থ্যাইকাও দামী। ধর্মই সমাজ বানায়। তাই সমাজ চলবো ধর্মের ইশারায়।' এই শহরের মানুষগুলো তখন মুখর নিজেদের বানানো সমাজের অস্তিত্ব বাঁচাতে।

বদ্ধ এই সময় কেবলই অনন্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো। অস্থির হয়ে উঠলো তমাল। নিজের স্বপ্নের উপস্থাপনকে বিশদ করতে গিয়ে নিজেকেই তোপের মুখে ফেলে দিলো। যে ধর্ম ব্যবধান বাড়ায়, অন্ধকারের পরতে পরত জমায় তা দিয়ে আর যাই হোক আলোময় সমাজ হতে পারে না। অস্থির হয়ে উঠলো তমাল।

একদিন দুপুরে রোদের সবটুকু তপ্ততা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে 'ধর্মকে অসার' বলে ঘোষণা দিয়ে বসলো তমাল।

সেদিন দুপুরের পরে সূর্যের ছড়ানো সবটুকু তাপ মাটি শুষে নিলেও তমালদের পাড়ার উত্তাপ একবিন্দুও কমেছিলো না। উল্টো আরও বেড়েছিলো। সেই উত্তাপে তমালকে পুড়িয়ে দিতে চাইছিলো বাগাতিপাড়ার মানুষগুলো। ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে আনতে চাইছিলো তাকে।

সে রাতে কীভাবে তমালকে রক্ষা করে আত্মগোপনে পাঠিয়েছিল আব্বা, তা ভাবলে এখনো শিউরে ওঠে সে।

সেদিন এই কুজো শামসু ভাইও তমালকে অবাক করে দিয়েছিলো। লাফিয়ে লাফিয়ে তমালের সমান হয়ে উঠতে চাইছিলো বারবার। শামসু ভাইয়ের চোখে সেদিন আচমকা জ্বলে উঠেছিলো চাপাতির ঝকমকানি। ধমকে ধমকে জারবার করেছিলো তমালকে এই বাড়াবাড়ির করার জন্য।

তমাল আজ আর সেদিনের কথা ভাবতে চায় না । আব্বার কাছে তার জিজ্ঞাসা এই সময় নিয়ে। এই বাড়ির মানুষগুলোকে নিয়ে।

' আমি অনেক কষ্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি। তুমি আর কিছু নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না।'

আব্বার কথায় তমালের অস্বস্তি বাড়ে।

কুতকুতে চোখে শামসু তাকায় তমালের দিকে।

তমালের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠছে।

' রেনুরা কই আব্বা?'

' ওরা আছে। তুমি এসব নিয়ে ভাবা বন্ধ করো।'

আব্বার কথায় তমালের জিজ্ঞাসায় জট বাড়ে। এই বাড়ির নিস্পন্দনতা তমালকে অস্বস্তি দেয়। নিঃশব্দ সময় আগল হয়ে দাঁড়ায় আব্বা আর তমালের মাঝে।

অল্প কিছুদিন আগেই তমালকে নির্বাসন থেকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাটা করা হয়েছিলো। আর এ পরামর্শ প্রথম আসে শামসু ভাইয়ের কাছ থেকে। বিনিময় সুত্রের একটা নির্ভুল অংক কষে আব্বার সামনে সেদিন ধরেছিলো শামসু ভাই।

প্রথমে শামসু ভাইয়ের কথায় রেগে গিয়ে পরামর্শ আমলে নেইনি আব্বা। কিন্তু নাছোড় শামসু এবাড়ির নুনের প্রতিদানেই হোক বা অন্য কোনো হিসেবনিকেশ করেই হোক, বুঝিয়ে বুঝিয়ে আব্বাকে ঠিকই রাজী করিয়ে ফেলে।

রেনু সেদিন তমালের ঘরেই ছিল। বইয়ের আলমারির সামনে। নতুন সব বইয়ের ভিড়ে সাত্রের বই খুঁজছিলো।

' কি খুঁজছো?'

' চাচা, তমাল ভাইয়ের বইগুলো কই?'

' নেই। ওগুলোর প্রয়োজন নেই।'

নির্বাক রেনু বড় বড় চোখে তাকায় তমালের আব্বার দিকে। এবাড়ির কর্তার বদলে যাওয়া চেহারা তখনো অচেনা তার।

' তমালকে আমি ফিরিয়ে আনবো।'

' কবে আসবে তমাল ভাই?' রেনুর কন্ঠে নদীর ঢেউয়ের শব্দ।

সে শব্দ তমালের আব্বা শুনতে পেলেও এড়িয়ে যায়। চোখের সামনে বড় হওয়া নিজের আরেকটি সন্তানের মতো মেয়েটির সামনে নিজেকে খুব অসহায় লাগে তাঁর।

তবুও তমালের একটি স্বাভাবিক জীবনের জন্য এখন তিনি সব করতে পারেন, সব।

তমালের আব্বা খুব সংকোচে মাটির দিকে চোখ রেখে কুজো শামসুর শিখিয়ে দেওয়া কথাগুলো মুখস্থ বলে যায় রেনুকে।

নিরনুভব রেনু স্থির তাকিয়ে থাকে তমালের আব্বার দিকে। সে দেখতে পায় তার সামনে ছেলের শোকে মূহ্যমান অথর্ব বুদ্ধির একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।

নিজের কথা শেষ করেই তমালের আব্বা বলতে গেলে প্রায় পালিয়েই যায় রেনুর সামনে থেকে।

সেদিন অনেক সময় পর তমালের ঘর থেকে রেনু বেরিয়ে আসে। বারান্দায় তমালের আব্বার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলে,

’তমাল ভাইকে ফিরিয়ে আনুন।'

দু'বাড়ির মাঝে সেই খোলা দরজায় গিয়ে রেনু এবাড়ির দিকে মুখ ঘুরিয়েছিল একবার। সন্ধ্যার আবছা আঁধারে আম্মা দেখেছিলো রেনুর চোখে জল।

৪৭' থেকে পরের সকল সময় যে পরিবার রেনুদের পাশে ছিল, সেই পরিবারের ঋণ শোধ করার সু্যোগ রেনু বা রেনুর পরিবার নষ্ট করেনি সেদিন।

' বাবা, সময় নষ্ট করো না। বাড়ি ফিরে চলো। খাবারগুলো ঠান্ডা হয়ে যাবে।' আম্মা এসে দাঁড়িয়েছে তমালে পাশে।

লুপ্ত হওয়া সময়ের হিসেব নিকেশে মন নেই এখন তমালের। বিভ্রান্ত চোখ আম্মার দিকে ফেরে একই প্রশ্ন নিয়ে।

' রেনুরা কই?'

তমালের এই প্রশ্ন বাতাসে দিকভ্রান্ত হয়।

' বাড়ি চলো।'

আম্মার সম্মোহনী ডাকে সাড়া দেবার অবকাশে এ বাড়ির পেয়ারা গাছের তলায় কাকিমার পুজোর এলোমেলো বাসনকোসন তমালের আশা মিইয়ে যেতে দেয় না।

' রেনুরা কোথায় মা? আমি ফিরে আসবো ওরা জানে না ?'

তমাল ফিরে এসেছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। মাধবীলতার ঝাড়ে ঝাড়ে লালচে গোলাপি ফুলের নিয়ম মাফিক আগমন, বারবেলায় নদীর জলের ঘোলাটে ঢেউ সব স্বাভাবিক। শুধু এ বাড়ির নিস্তব্ধতাই অনিয়মের গল্প ফাঁদছে। সেই নিস্তব্ধতায় তলিয়ে যেতে যেতেই তমালের ঠোঁট নড়ে ওঠে,

' আম্মা, ওরা.....?'

আম্মা হাঁটার গতি বাড়িয়ে দেয়। উত্তরের আশায় দ্রুত পায়ে আম্মার পিছু পিছু উঠানের দক্ষিণ-পশ্চিম কোনার দিকে এগোয় তমাল। চিরদিন রোদ গন্ধের জন্য কাঙাল তমাল গিয়ে ঢোকে নিজের বাড়িতে।

প্রবলরকম ঝড় বইছে তমালের মনে। রেনুরা কোথায়?----- এই অনুত্তর প্রশ্ন তাকে একমুহূর্তের জন্যও স্বস্তি দিচ্ছে না।

নিজেকে শান্ত করার জন্য ঘরে গিয়ে বইয়ের আলমারি খোলে সে। সেখানে আরেক বিস্ময় অপেক্ষা করছে তখন তমালের জন্য। একটা বই তুলতে গেল, অনিবার্য বাধায় অবরুদ্ধ হল রোদ রোদ দিন । সাত্রের বইয়ের জায়গাতে তখন বিষাদসিন্ধুর বিস্ময়।

নির্বাক আর নিস্পন্দ সময় আতঙ্ক হয়ে তমালের শিরদাঁড়া বেয়ে নামতে থাকে। কী যেন হারিয়ে ফেলেছে তমাল। অকাললুপ্ত সময়ের খাঁজে খাঁজে অন্ধভাবে হাতরাতে থাকে সে।

' কি খুঁজছো?' উত্তর জানা প্রশ্নে আম্মা শুধুই সময় ক্ষেপন করে। বিহ্বল তমাল তখনো উন্মুখ তাকিয়ে সময়ের দিকে। বলে,

'বইগুলো বদলে গেছে আম্মা। আর ও বাড়ির মানুষগুলো........'

'ওরা ভাল আছে।' আম্মার সংক্ষিপ্ত উত্তর। কিন্তু কোথায় ভাল আছে সে কথা তখনো উহ্য।

বইয়ের আলমারি টা আজ অযাচিত কাগজের বিশ্রী স্তুপ মনে হচ্ছে তমালের।

সেই অযাচিত কাগজের তলা থেকেই তমাল পায় একটি কাগজ। খুব প্রয়োজনীয় একটি কাগজ। একটি চিরকুট ।

একটি শাদা কাগজের ভিতর ভিজে শিমুলের মতো কয়েকটি অক্ষরের স্তুপ।

' নদীর ধারের কাশবন, শিমুল গাছের নীচে খাঁ খাঁ দুপুর আর আরজ আলী মাতুব্বর ফেলে রেখে গেলাম। যত্ন নিও।'

শ্যাওলার গুমোট গন্ধে হঠাৎ করেই ফ্যাকাশে হয়ে আসে তমালের দিন। কোথাও বৃষ্টি নেমেছে খুব। আকাশভাঙা বৃষ্টি। তমালের তৃৃষ্ণা পায় খুব। নদীর বুকে ঢেউয়ের ছলাৎ ছলাৎ। কান পেতে দেয় তমাল। ঢেউয়ের শব্দে তৃৃষ্ণা মেটাতে চায় তমাল। বেপরোয়া ঢেউয়েরা তীরে আছড়ে পড়ছে আজ শুধুই মরবার জন্য।

'ওদেরকে চলে যেতেই হলো। ওরা এমনিতেও চলে যেত। রেনুরা এখানে থাকলে তোমাকে ফেরানো যেতো না।'

কথাগুলোর সাথে আব্বার নিথর আর নির্লিপ্ত দৃষ্টি। তমাল কুঁকড়ে যায়।

' রেনুদি সেইদিন আমাগো কথা না শুনলে আপনারে ফিরাইয়া আনতাম ক্যামনে তমাল ভাই?' শামসু ভাইয়ের স্বগতোক্তি।

রেনু শুনেছিলো ওদের কথা। শুধু রেনু নয়, রেনুদের পরিবারের সবাই শুনেছিলো ওদের কথা।

রেনুর মামারা অনেক আগেই দেশ ছেড়েছে। ভাইদের সাথে ওদেশে কিছু সম্পত্তি করেছিলো রেনুর মা , রেনুর সরকারী চাকুরীজীবী বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। স্বামী রিটায়ার্ড করলে ভাইদের সাথে গিয়ে থাকার ইচ্ছাটা সে খুব সযতনে পুষে রেখেছিলো।

সেই গোপন কথাটি জানা ছিল তমালের আম্মার। তাই সে সময়ে এই কথাটিকেও মোক্ষম অস্ত্র বানিয়ে ব্যবহার করা গেছে। এ শহরে তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্বের কথা ছড়িয়ে দিলে যে হেনস্থা আর অপমান সইতে হবে তা ভেবে রেনুদের পরিবার বিনা বাক্যেই রণে ভঙ্গ দিয়েছিলো। তারা মেনে নিয়েছিলো তমালের আব্বা আর শামসু ভাইয়ের প্রস্তাব।

সবকিছু ছেড়ে এক রাতের মধ্যে ওরা চলে যায়।

সামাজিক মাধ্যমে বলা তমালের কথাগুলো আদতে তমালের নয়, রেনুর নিজের কথা, তমালের আইডি ব্যবহার করে রেনুই ধর্মকে অসার বলেছে--- এমন একটি স্ট্যাটাস দু'দিন আগেই বিকেলে পোস্ট দিয়েছে রেনু।

সেই স্ট্যাটাস দেখেই এরা বুঝেছে রেনুরা ভালমতো ওপাড়ে পৌছে গেছে।

রেনু যখন এসব কথা লিখছিলো তখন এ বাড়ির মানুষগুলোর জন্য কি ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলো? নাকি নৌকার ভেজা পাটাতনে রেখে যাওয়া সেই সুরের জন্য হাহাকার করেছিলো? এসব প্রশ্নের অজানা উত্তর একটি ভারী নিঃশ্বাস হয়ে তমালের বুকে চির বসত গাড়লো।

একটি শাদা সিমেন্টের বস্তায় গাছতলার ও বাড়ির পুজার বাসনগুলো ভরতে বসে শামসু ভাই।

ছোটো কাঠের সিংহাসনে তখন শালগ্রামশিলার জায়গাতে একটি বিড়াল গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে। উদম সেই বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে শূন্যতার তেতো ঘ্রাণ।

হঠাৎ কোথা থেকে শামসু ভাইয়ের মুরগীটা 'কক কক' করে উড়ে এসে বসলো রেনুদের তুলসী মঞ্চের উপর।