অসময়ের কড়চা

সাবেরা তাবাসসুম

অসময়ের কড়চা

নাম ভাসছে পথে পথে
আমার শহর কৃষ্ণচূড়ায় ঢেকে গেলে
পাতার আড়ালে গেল একটি ফুল
ভাবো, কেমন মশগুল
পত্রপল্লবে আমিও বুলিয়েছি হাত
তথনও নামে নি রাত
তখনও দিন শুধু সন্ধ্যায় আসে
অমৃতকথন ব্যয়ে অসময় যারা ভালোবাসে
দেখেছে তারা পথে-রথে হলুদাভ নাম
শুনেছে অন্তর্গত বিষণ্ণ জপ অবিরাম
ভেবেছে সেবকগণ তবে
এভাবে দলিত-রঙ একদিন পড়ে যাবে ঢাকা
আর কিছু না হোক, ফুল-পাখি-পাতা
সময়ে ঝরে যাবে, একদিন, খামাখা খামাখা!



সমাবেশ

ক.
ধূপগন্ধ ছেড়ে এগিয়েছ শতেক কদম
শুচিস্নান তাও আজ নিশ্চিত বড় গোলমেলে
আতরে ভরেছ মন, রক্তে মেখেছ হাত এবং
ধর্মপথে সকলেই দুচোখ অন্ধ করে এলে!

খ.
আমার ভস্মকালে
পাহাড় ক্ষয়েছে আর বৃক্ষ নুয়েছে তার পাতা
আরও কিছু সমুদ্র, মানুষের হা-হুতাশগাথা
মনোরম গোজামিল রটে যায় সভ্য-সভাতে
মৃত্যু নিকটে আসে, সুতরাং মানুষ তফাতে!




বিবিধ পর্ব ৮

সেফ থ্রি আমাকে জাগিয়ে রাখে
আর পেটে পাক দিয়ে ওঠা ব-দ্বীপ ক্ষুধা
বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিবার্তা নামে বৃষ্টি হয়ে
মাঝরাতে নামে সে সুগন্ধী ফলনে
মাঝরাতে ঘামতে থাকা খোপের শহরে
জাগিয়ে রাখে বারান্দায় ভিজে থাকা মিলের পর্দা
পর্দা বেয়ে নামা কাঙ্ক্ষিত পানির পতন
আর, সমস্ত রাত না-ঘুমানো শহরের ভেঁপু
কল্যাণ বা উৎপীড়ন- বিভীষিকা জাগিয়ে রাখে
একটু একটু ঘুমঘোর- জাগিয়ে রাখে রোজ
কী করি শেষমেশ, শেষমেশ কাঁথা ছুঁড়ে ফেলে
বুজরুকি মারি, আর কপালে চাপড়
বলি, ক্ষমা-ঘেন্না দাও তুমি যথার্থ সবল
আমি তো চিরকাল হারা-দলে আছি
দুর্বল নিকটে আসে না, দুর্বল মানে অযথা স্মৃতি
কোথায় কোন পথে বিদ্যুৎ তাড়িত হাওয়া খেলে
কত দূর কোন মাঠে ভাতেরা পুড়ে ছারখার
কত কাছে কবিরা কোণঠাসা হলো অহরহ
তখন ঘোষণা দিই
তখন জেগে থাকা ঘোষণা দেয়, হে শহর
আমার অসুখ বারো মাস, তোমারো কি?
আমার সত্যি সত্যি খুব জ্বর!