সইবাস

শোয়াইব জিবরান


ঘর

একটুখানি ঘরের জন্যই তো
আমাকে এত বাহিরে ঘুরে মরতে হয়
ঝড়, বৃষ্টি, আগুন ঝঞ্ঝায়, একেলা সন্ধ্যায়।
দিগন্তবিস্তারী আকাশও আমাকে এতটা
খোলা স্থান দিতে পারে না, যা পারে ছাদের নিচের এতটুকু
আমি দশফুটের ছায়ার জন্য ঘুরিয়া বেড়াই দশ দিগন্ত।
বৃক্ষকে সকলে প্রশংসা করে ছায়ার জন্যই তো?
অথচ কতই তুচ্ছ সে তোমার আঁচলের কাছে
আমি তোমার একটুখানি আঁচলের ছায়ার জন্য
কত না দ্রুত ঘরে ফিরি ফেনা, রক্তমাখা পায়।
শান্তা।


সইবাস

১.
নিঃসঙ্গতা আমার সই। কালো আর ক্লান্তিমান। তাকে নিয়ে ডেরা গহিন গুহায়-ডিহাং পাহাড়েতে, সেইখানে আমাদের বাস। পাশে মনু নদী বয় সই সই বাতাস নিয়ে। বাতাস কন্যার সখি হয়, তিনি হাহাকার। রাতে আসেন হাতের বালা নিয়ে। দুই সখি প্রেমালাপ সারারাত পাশে আমি জবুথবু একা একা বই কম্পন আর পিঁচুটি নিয়ে।

২.
দেহের ভেতর শুয়ে থাকিÑগহিন পরবাসে এ কঠিন দুঃখদিনে আত্মীয়রা কই? তারা ছিল বাতাস বাসনা বিদ্যুৎরেখা, জলের ওপারে সাড়ে সাত’শ ভাই। আজ আর কেউ নাই, অজিন কুর্তা, স্তিমিত লন্ঠন আর পঞ্চভাই।
পাশার চালে হেলেদুলে গহিন বনে দ্যাখ বনবাসে যাই।


পথ্য
ক্ষুধার্ত করো তোলো, হাংরি রাখো নিজেরে
যেন এই বনে, পাশের লোকালয়ে কোনো রক্তমাংস নাই।
সেই স্বাদ মনে করে জেগো ওঠো মাত্রই তো গতকালের, নরমাংস ভক্ষণের। যেন বহুদিন তুমি খুব অনাহারে
দুঃখিত নিপতিত মাংসাশী ঘাস পাতা খেয়ে বেঁচে আছো, লজ্জা আর ক্রোধের জীবন।
নিজেরে আগ্রাসী করে তোলো, শিকারে। ক্রুদ্ধ করে তোলো
গেথে চলো সেই সকল হরিণের ছায়া, পথরেখা যে দিকে গেছে, আর
আর নখ লুকিয়ে খুব নরম পায়ে হেঁটে চলো গহন বনপথে।
নিজেরে তৃপ্ত করো না। কিছুতেই। না কিছুতেই
তবেই না ধরা দেবেন তোমার পাতায় দেবী, অমরতার।