রিয়ালিটি শো

চিত্রালী ভট্টচার্য


তোমাকে পেরিয়ে যেতেই হবে যাকিছু সাধারণ । লক্ষ করো , দূরে টাঙানো আছে নীল রঙের একটা অসাধারণত্ব। তোমাকে তুলে আনতেই হবে সেই অসামান্য নিষিদ্ধ বস্তুটিকে। যাও- আসরে নেমে পড়ো। বিরক্তিকর ভাবে লেগে থাকা রপ্ত করো। প্রতিভা নয় , এখানে অহেতুক পরিশ্রমই শেষ কথা। অতএব সংগ্রামী করে তোলো পেশী। লজ্জা, সংকোচ শিকেয় তুলে নিজেকে প্রশ্নাতীত ভাবে যোগ্য কয়রে তোলো। মনে রেখো অর্জনের জন্য যে কোনো পথই তোমার গন্তব্য, যে কোনো কদর্যতাই সুশ্রী, যে কোনো ষড়যন্ত্রই বৈধ।
প্রশ্ন করো না, শুধু বয়ে যাও। নিজেকে নগ্ন করে তোলো নিপুনভাবে, যেন দর্শকেরা স্পষ্ট দেখতে পায় তোমার অন্ধকার বাঁকগুলো । আলোকে ব্যবহার করতে শেখো উন্মুক্ত করার জন্য। শব্দকে ব্যবহার করো শীৎকারের মতো, যেন দর্শকদের তা ভয়ংকর উত্তেজিত করে তুলতে পারে। আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকার জন্য দর্শকদের ওই উত্তেজনাই হবে তোমার বোনাস পয়েন্ট।
ভুলোনা , ঈর্ষা তোমার মূল মন্ত্র আর প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে ভুল পথে চালিত করাই তোমার মেধার মানদণ্ড। তুমি জানো বা না জানো , মানো বা না মানো – বিচারকেরাই তোমার ঈশ্বর। তাই তাঁদের তুষ্ট রাখো বিচিত্র বিভঙ্গে। তাঁরা যদি হর্ষ চান – তুমি মুক্তদানা, তাঁরা যদি বিষাদ চান - তুমি অশ্রুবিন্দু, এমনকি তাঁরা যদি এলিমিনেশন চান – তুমি নিঃশর্ত সমর্পণ।
এখানেই শেষ নয় , এরপরও থাকছে হাসিমুখে (চোখ যতই জলে ভরে উঠুক) দর্শকদের থেকে এস-এম-এস আদায়ের জন্য মাইকটেস্টিং- হ্যালো--- হ্যালো--- আপনাদের যদি আমার অনুষ্ঠান ভালো লেগে থাকে তো প্লিজ----প্লিজ---
অবশেষে বিস্তর কাদা- জল ঘেঁটে , বার বার ওয়াইল্ড কার্ড, মাইল্ড অ্যাটাক পেরিয়ে , গারে আঁশটে গন্ধ মেখে যখন তুমি হাতের মুঠোয় পুরে ফেলতে পারবে তোমার কাঙ্ক্ষিত নীলচে অসাধারণত্ব , ঠিক তখন থেকেই শুরু হবে তোমার প্রকৃত বিষাদ। কারণ তখন থেকেই বিচারক এবং দর্শকেরা দ্রুত ভুলে যেতে থাকবে তোমাকে, আর তুমি শুরু করবে নিজেকে প্রতিদিন প্রমান করার এক অদ্ভুত প্রয়াস-যা রীতিমত হাস্যকর, ক্লান্তিকর, অন্তহীন কিন্তু অনিবার্য।
তাহলে এসো , আমরা সকলে মিলে সেলিব্রেট করি এ অসুখ- সাইলেন্স প্লিজ--- লেট আস স্টার্ট -- লাইট--- সাউন্ড----এন্ড –একসান-------।