গুচ্ছকবিতা

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়

অধীর


দুপাশে ক্ষেত রেখে ছুটি । মন্ডপের
প্রস্তুতি দেখি । মাঝে মাঝে মসজিদ
মাজার । কারো কারো মনে ছাড়া
কোথাও অশান্তি নাই

আখের ক্ষেতে শুধু রস । প্রজাপতি
ও ফড়িংয়ের মুখে ফুটে ওঠে হাজার টগর । নগরে এ উৎসবের
ঠিকানা নেই । শুধু লাভ টু পাইস

বিস্কুটের কারখানার গন্ধ । নির্জন
মন্দিরের পাশে । ঠান্ডা পানীয় আর বোতল বন্দী নীর

আধা রঙের প্রাইমার পরে আছে
দেবী । বাচ্ছার ভীড় । চোখের
তারায় তাড়ায় জিজ্ঞাসা অধীর


গাছ

রাধার মার বাসন পুকুরে গান গায়
আর ঘাম আঁচলে
খেলায় খেলায় ভিজে যায়

শ্যাওলা রোদে ভেসে গেলে হাঁস
পাতা ছায়াছবির গল্প বলে

নায়িকার পূর্বরাগ আকাশের
ধূসরতা থেকে সরে কৃষ্ণচূড়ার সাথে মাখে

রাধা রাধা ডাক চুপ দুপুরের


জুতো

খুলতে খুলতে বেরিয়ে আসছে পা
মোজার দুঃখ পেরিয়ে অনেক মজা

জাতীয় কিছু আবার বিজাতীয় আঙুল
দেখছে কিভাবে বেড়ে উঠেছে নখ

খল চরিত্রের ভূমিকায় খলিফার পোশাকে
শাক দিয়ে ঢাকা যাচ্ছে না মাছ

ছবি পরিস্কার হয়ে গেলে পাতা হাসে
সঙ্গমের পর নববধূর ক্লান্ত ঠোঁটের এক চালায়

আগুনের পরশমণি ছুঁয়ে আসার পর
লাবণ্যেরপূর্ণতা

গায়ে হলুদমাখা ত্বকে

পাণ্ডুলিপি

১.
কবিতা সেলাইয়ের পর
পড়ে আছে একা পান্ডুলিপি
উঠোনের মেঘালয় যতটুকু
সুর উড়ে আসে
মেয়েটির ওড়নাকে পড়ি
আমার নরমে
#
অক্ষরের ওমে
উসকে ওঠে যখের পাহারা

২.

টাঙার ঘোড়ামাখা স্টেশন
পুরনো হিন্দি গানের অনামিকায়
উজ্জ্বল দেবদারু পাতা
দীর্ঘ তৃষ্ণাকে রেখেছে
অপেক্ষার মায়ায়
লাইন লাইন চোখ
ততদূর নিভে যাওয়া
গল্পের আলো
নির্বিকার
মৃত কারখানা ধরে

৩.
পাখি টুকরো নিয়ে ভরে যাচ্ছে
বিকেলের ছাদ
আশ্চর্য প্রতিধ্বনি জাগিয়ে
রাখছে একা সময়
সাতরঙা রাস্তার শেষে
একটা অন্ধ ড্রাগন
ঝুঁকে পড়েছে ভাঙা ডালে
সবকান্নাকে জমা দেবার পর
পড়ে আছে সিঁড়িঘরে
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া
একটি মৃত হরিণের
বিস্ফোরিত চোখ
আর সলতেবিহীন সাঁঝবাতি

৪.

পাতার চাদরে ভরা জল
পতঙ্গের স্নান তুলে
ফিরে আসছে ক্যামেরা যুবক
বকের ডানায়
নায়কের নাও ভেসে গেলে
তারে তারে মেলা
ভেজা নায়িকার গান
যাকে জড়িয়ে কেঁদেছিল
সাদাকালো পর্দা শরীর
রসের কাঠি বেচে
এভাবেই বাড়ি ফেরে
ক্যানিং লোকাল