ভৈরবী

তিলোত্তমা বসু

ভৈরবী
#
প্রান্তদেশে থাকেন ভৈরবী
মন্দিরের গর্ভগৃহে
ঘিয়ের প্রদীপ জ্বলে ...
জ্বলে যায় ...
টুকরো টুকরো কর্মফলে
সাজানো মোকাম
অমাবশ্যারাতে ধুম পশুবলি হয়
কামনার আর্তনাদ ফাটায় চৌদিক
চৌচির হলেন বুঝি ভূমি
#
তখনই তখনই যৌবনের ছাইমাখা
অপূর্ব আকাশ ...কাল...
এসে তাঁর দাবদাহে
বুলিয়ে দিলেন হাত
লোলজ্বিহাটি করলেন ধারণ...
#
চুম্বনে চুম্বনে ভৈরবীর
জটাজুটোময় তন্ত্রজাল খুলে
পড়েছে ছড়িয়ে
তটে আর অববাহিকায়



ষোড়শী
#
ঝরে আছে বিকেলেরা হলুদ পালকে
ঝরেছে শীতের কাল টুপটাপ হিমে
সবুজ লাটিম ঘুরে ঘুরে
বালিকাস্বভাব তবু
গেলোনা ঘোচানো
#
জলে খেলা করে লাল মাছ
নীল মাছ
মারে চাঁদ শেষরাতে
কবিতার ছায়া ভেসে যায়
#
ও গভীর সহজিয়া
তুমি শিষ দিলে
বেজে ওঠে ডাহুক পাখিরা
শনশন একাকী দুপুরে
কিভাবে মানাবে তুমি পোষ ?
#
আজীবন বালিকার ভ্রম
ষোড়শপ্রচারে রাখে
সাজিয়ে ব্যাঞ্জন...



তারা
#
তখনও মুন্ডমালা থেকে রক্ত ঝরে
- খড়্গ তো প্রলয়
কটাক্ষ বিদ্যুৎ আর অঝোরে অঝোরে
ক্রোধবৃষ্টি হয় ...
ঘন ঘন শ্বাসে কাঁপে ভূমি
নীল মধ্যরাত্রিরঙা ত্বক দেখে
রসাতল জোড় করে হাত
পুরুষের বুকেৱ পরে দাঁড়িয়েই তারা
জিভ কাটে,ফিরে পায় সম্বিৎ হঠাৎ
#
প্রকৃতির আঁখিতারা দুটি
অথচ কাতর – কাকে চায় ?
টনটন করে নাড়ি মাতৃকার
#
খাওয়া নেই ঘুমও নেই
শিশুও তো ডাকছে মাকেই
কান্নায় আকুল ..
দুহাত বাড়িয়ে ইচ্ছাময়ী
বামাখ্যাপাছেলেটিকে
বুকে টেনে নেন ....