অধর্মী

শিবু মণ্ডল

অধর্মী

চৈত্রের দহন বলে আদতে কিছু নেই আর। পুবের বাগান জুড়ে ঘন আমগাছ। ভরা চাঁদ দেখার সুযোগ একেবারে নেই বললেই চলে। এখানে সহবাস পশ্চিমমুখো। ঘরে বসে রাতের চাঁদ দেখতে হলে কমপক্ষে তৃতীয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। আবাসনের সামনে একটি পুরুষ জামগাছ পশ্চিম আকাশে তাকালেই মোটা মাথা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এদিকে আমার চৈত্রের দহন নেই অথচ চন্দ্রদোষ প্রবল। চন্দ্রদোষ কাটাতে আমি গাছটির মাথা কেটে নিই। এবার চাঁদ নিশ্চিত শরীর সম্পর্কে ঘৃণাবোধ কাটিয়ে উঠবে ধীরে ধীরে। এদিকে পুবের বাগান জুড়ে দেশদ্রোহী রব। ধর্মের দেশে কারা যেন বিধর্মী হয়ে রয়ে গেছে!
আমি ভাবছি আমি তো গাছের মাথা কেটেছি। আমি তো একাদশীর প্রায় ঢাকা চাঁদের গালে চুমু খেয়েছি। ভাবছি আমি কি তবে অধর্মী হয়ে গেছি?


সংখ্যালঘু
একটা শামুক থেকে পা বাঁচাতে আরেকটা শামুকে পা দিচ্ছি
আমি জানতাম শামুকটা পচা
আমি জানি শামুকটা পচা
আমি পা’টা রাখার জায়গা পাচ্ছিনা কেন?
দশচক্রে তুমি ফেঁসে গেছ ঈশ্বর। তুমি ফেঁসে গেছ তোমার বর্তমানে
তুমি ফেঁসে গেছ তোমার ভবিষ্যতে।
আমার অশীতিপর ঠাকুমা যেমন বলত একসময় খুব-
‘যায় দিন ভালই যায়রে ভাই...!’- এই সরল সত্যিটারও অন্য একটা
মানে আছে। আমি সেই ভয়ঙ্কর সত্যিটা বিশ্বাস করতে চাইনা।
তুমিও তা নিশ্চয়ই চাওনা ঈশ্বর!
ভালো করেই জানি চাইলেও আমি পা’টা উঠাতে পারবো না আর
কেটে যাক, রক্তে একাকার হয়ে যাক কাদা ও জল!
বাংলার কুখ্যাত আকাল দেখা ঠাকুমা এখনও যথেষ্ট শক্তসামর্থ্য
তেল-নুন-হলুদ দিয়ে গরম গরম ভাত মেখে দিতে পারে ঘা’য়ের মুখে
আমি ভাবি ঠাকুমাতো ভাতের আকালকে জয় করতে পেরেছিল
আমি কি পারবো আমার চিন্তার আকাল থেকে বেরতে!
এই সঙ্কটের থেকে বেরনোর কথা কি শুধু আমিই ভাবছি নাকি তুমিও ভাবছ ঈশ্বর
এই আত্মসঙ্কট যেমন আমাকে কুড়ে কুড়ে খায় তেমনি কি তোমাকেও?
যদি তাই হয় তবে আমরা সংখ্যালঘু হয়ে যাব না তো? বা চরমপন্থি নয়তো সন্ত্রাসবাদী!