নিজের কেউ থাকে না

ঈশানী বসাক

নিজের কেউ থাকে না

ভোরবেলা উঠে লোকটা দেখলো প্রচুর মৌমাছি তার ঠোঁটে !
এত চুম্বনের কী যোগ্য আমি ? তোমরা আমাকে ফুল ভেবেছো সে তো সৌভাগ্য।
মৌমাছিরা মধু নিয়ে চলে গেল
রক্তশূন্য কর্পদকহীন লোকটা কবরখানার জায়গাটা খুঁজতে একাই চললো।

মহিলাটি বসে আছে পার্কে । দূরে তার বাড়িটা ভেঙে পড়লো। সবাই হইহই করে ছুটলো। মহিলা বললেন এত ভয় আমার, কারণ আমার কোথাও আর ফেরার নেই। কে যেন বলে উঠলো আর ছায়াটা পুকুরে পড়বে না।

মেয়েটি বেঞ্চে বসে। চারিদিকে মাছি। হাতটা ধীরে ধীরে গলে যাচ্ছে। পাঁচ হাজার দিনের পুরনো দেহটা এখন বসে আছে একা। একটা ঘেয়ো কুকুর এসে বসলো কাছে।
চলো আমরা তো কফি শপে বসতেই পারি ?
কফিশপ??
কারণ তোমার আর আমার এখন ঘড়ি ছাড়া নিজের কেউ নেই।



শিবপুজো


কপালে গভীর ক্ষত জুড়ে কালো রক্ত জমছে। বেলপাতা নিয়ে এসো ফুল্লরা। ক্ষত ঢেকে দাও পাতা দিয়ে। চন্দন বেটে কালো রক্তমেঘকে বলো জমাট বেঁধে গেছে যেসব কণিকা তারা যেন এক হয়ে প্রতিবাদ করে শ্রমিকের বিরুদ্ধে। সমস্ত কারখানা জুড়ে ছাঁটাই পর্ব শুরু হোক। বলা হোক রক্তের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছে চারিদিকে বেনিফিট। ফুল্লরা কই হে!! ঘুমিয়োনা। চন্দন গাঢ় করে লাগাও। প্রতিটা যন্ত্রণা ঈশ্বরের অজুহাতে ঢেকে দেওয়া যায়। তাই তো এত বছরেও ঠাকুমা গোপালসেবা ছেড়ে দেননি। ঈশ্বরকে না দেখতে পেয়ে মাথা কুটে শিবের মন্দিরে তুমি সেবার যখন ফিরে এলে আমি দেখেছিলাম জন্মের আলোয় ভাসছে তোমার শরীর। তোমার বুকের উপর নীল হয়ে যাওয়া আকন্দ ফুল খেতে খেতে বুঝেছিলাম মৌমাছিরা সবাই আসলে সংগ্রামী। অথচ দেখো কেমন ভাবে রানী তাদের মাইনে বাড়ানোর কথা বলে নিজের চারিদিক ঘিরে রাখছে। ভালবাসা পেতে কেউ চায় না , চায় লাঠি। এইসব সময়ে বুঝি তোমাকে আমি আসলে সন্তান ভাবি। তোমার গর্ভে রাখা বীজে জল দিই, আলো বাতাস নয়। তাকে ছায়ার মতো ধরে রাখি। জানি জন্ম হওয়ার মতো পাপ থেকে সরে যেতে হলে তাকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। পাপ ছুঁয়ে ছুঁয়ে মায়ায় পড়ছো ফুল্লরা। অথচ খাবার না পেয়ে আমি আজকাল নরখাদক হবো ভাবছি। ভয়ে পালালেও লাভ নেই। আমার এই হাঁ করা কপাল তাতে জুড়ে যাবে না। তোমার বেলপাতা , চন্দন তাকে ঢেকে দিতে পারে। তেরাত্রি তুমি কবুল করতে পারো আমি তোমার আইনত লিঙ্গ ,বিশ্বাস করো ফুল্লরার আমি ছেড়ে দেবো মাংস খাওয়া। ফিরে আসবো জঙ্গলে একেবারে। আর তোমার সন্তানকে বলবো পালিয়ে যেতে। পিছন ফিরে না তাকাতে। একটা করে গুলি খরচা হওয়া থেকে বাঁচবে তাহলে। তুমি কী রেগে যাচ্ছো? বুঝে নাও আমরা শ্রমিক ছাঁটাই করছি। তোমার দরজায় নিজের ক্ষত লাগিয়ে মাথায় লাগিয়ে নিচ্ছি চরণামৃত। সেরে যাবো কী আমি? তোমার দরজা যেন আমার এই গর্ত বুজিয়ে দেয় কপালে। ভাগ্য পালাতে পারবে না। ওঁ নম শিবায় নমঃ মন্ত্র বাজছে শরীরে। রাত হোক তুমি কিন্তু বংশরক্ষার জন্য ঘর থেকে শ্রমিকদের পালাতে দিয়ো না।