Maravillas de la voluntad / ওক্তাভিও পাস

জয়া চৌধুরী


ঠিক তিনটের সময় দোন পেদ্রো আমাদের টেবিলে এলেন। সমবেত সকলকে কুশল জানালেন। আপন মনে কিছু কথা বিড়বিড় করে চুপচাপ নিজের আসনে গিয়ে বসলেন। এক কাপ চা অর্ডার করলেন। সিগারেট ধরিয়ে অন্যদের বক্তৃতা শুনছিলেন। সেই সঙ্গে কাপে অল্প অল্প চুমুক। মহিলা পরিবেশনকারিনীকে টাকা মিটিয়ে দিলেন । তারপর আমাদের শুভরাত্রি জানিয়ে চলে গেলেন। এরকমভাবেই প্রতিদিন ঘটে যেত।
বসবার পরে দোন পেদ্রো কী বলতেন? অথবা গম্ভীর মুখ আর কড়া চোখ নিয়ে টেবিল থেকে ওঠার সময়ই বা কী? বলতেন-
প্রার্থনা করি তোমার মৃত্যু হোক।
দিনে বেশ ক’বার করে এই কথাগুলো বলতেন দোন পেদ্রো। ঘুম থেকে ওঠবার সময়, ভোরের প্রার্থনা সেরে, বাড়িতে ঢোকা ও বেরনোর সময় , সকাল আটটায়, দুপুর একটায়, আড়াইটার সময়, সন্ধ্যে সোয়া সাতটায়, কাফেতে বসে, অফিসে থাকাকালীন, প্রতিবার খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে, রাতে ঘুমোতে যাবার সময় সর্বক্ষণ কথাগুলো বলে যেতেন। দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে কিংবা চিৎকার করে, একা একা নয়ত বন্ধুর সঙ্গে কথাগুলো আউড়ে যেতেন। কখনও চোখ দিয়েও বলতেন। এবং সারাক্ষণ সমস্ত মন ও আত্মা দিয়ে এসব বলে যেতেন।
কেউ জানত না ওগুলো কাকে উদ্দেশ্য করে বলতেন তিনি।
ঘেন্নার মূল কারণটা সকলেই এড়িয়ে যেত। যখন কেউ বিষয়ের ভেতরে ডুব দিতে চাইত ঘেন্নায় মাথা নাড়াতেন পেদ্রো, ও তারপর নম্রভাবে থেমে যেত। মনে হয় সেটা অকারণ কোনো ঘৃণা ছিল। এক নিখাদ ঘেন্না। কিন্তু সেই মনোভাব কথাগুলোর পুষ্টি জোগাত, ওঁর জীবনে গাম্ভীর্য এনে দিত, সেইসঙ্গে বয়সোচিত রাজকীয় ভাবও। কালো পোশাক পরা তাঁকে মনে হত যেন পাপকাজ করার আগেই শোক পালন করছেন।
একদিন বিকেলে দোন পেদ্রো অন্যান্য দিনের চাইতে একটু বেশি গম্ভীর হয়ে ঢুকলেন। ধীর পায়ে এসে বসলেন। আসার আগেই সেখানে যে নীরবতা ছিল তার ঠিক মাঝখানে এসে সাদামাটাভাবে কথাগুলো বললেন-
আমি ওকে মেরে ফেলেছি।
কাকে? কিভাবে? কেউ কেউ হেসে উঠল, বিষয়টাকে ঠাট্টা হিসাবে নিতে চাইছিল। দোন পেদ্রোর চোখের চাউনি তাদের থমকে দিল। আমাদের সবার কেমন অস্বস্তি হচ্ছিল। তিনি নিঃসংশয় হয়ে ছিলেন। চারপাশে মৃত্যুর ছিদ্র অনুভব করা যাচ্ছিল। দলটা নিঃশব্দে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেল। দোন পেদ্রো একা হয়ে গেলেন। কখনও এতটা গম্ভীর দেখি নি ওঁকে। কিছুটা টলে যাওয়া মানুষ। ঠিক যেন জ্বলতে থাকা তারা তবে শান্ত। অনুতাপহীন।
পরের দিন এলেন না। কখনও আর ফিরে আসেন নি। মারা গেছিলেন? হয়ত সেই চাগিয়ে তোলা ঘেন্নাটাকে টের পাচ্ছিলেন না তখন। হয়ত এখনও তিনি বেঁচে আছেন এবং এখন অন্য কাউকে ঘেন্না করেন। আমার কাজকর্মগুলোকে আর একবার খতিয়ে নিই। তোমায় বলছি আর একবার তোমার নিজের সঙ্গে তুমি সেই একই কাজ করবে। একজন কলেরা রুগীর সঙ্গে যা করে ফেলেছ আশা করি তোমার তা হবে না। ওইসব ছোট ছোট মায়োপিক কম দৃষ্টিসম্পন্ন লোকের মত একগুঁয়ে হবে না। কখনও কী ভেবেছ কতগুলো- হয়ত তোমার খুব কাছের জন- ঠিক দোন পেদ্রোর মত চোখ দিয়ে তোমায় মাপছে?

:অনুবাদ