জেতবনে

কুমার চক্রবর্তী


জেতবনে

আজ জেতবনে এসে দেখি¾
মনের ভেতরে মন ঢুকে বসে আছে,
বিগ্রহ নেই কোথাও, বিনাশ আর বৈভব যেন
ধূসর ছায়া বিস্তার করে রেখেছে।
মনে পড়ল তোমার চম্পক বন¾
একদা একা একা হেঁটে চলা,
চারপাশের হাওয়া ছিল কায়মাতাল।

হঠাৎ শুনি গুম্ফার ঘণ্টাধ্বনি,
বুঝতে পারি¾নিকটেই তুমি,
তোমার হোমমন্দির।
তোমার গন্ধ, বর্ণ, ধ্বনি, রস, মন,
মাধুর্য আর স্পর্শের বর্তমানে যাই¾
দেখি, অদ্ভুত এক দেবীপক্ষ:
যেখানে জোছনার রস নিরন্তর শুষে খায়
তোমার-আমার ক্ষয়িত ব্যথারাশি।



স্বপ্নপদ্ম

স্বপ্নে দেখেছি পদ্ম, জলের উদ্ভাসে
বিভোরতা কাটে না কখনও।
এই তো তোমার দাম ছড়ায় যে রহস্যউদ্যান,
তার খুব কাছে এসে স্বপ্নভস্ম রেখে
কী করে আজকে ছুটি প্রান্তরের ঘাসে,
সূর্যাস্তের আভা তাই রেখে যায় কোনো এক
অপসৃত ব্যথা!
আমারও রয়েছে অনুরাগ, আছে সারেগামাপা,
তোমার দীপ্তি কি তুমি
নাকি দীপ্তি তোমার প্রকাশে
ফুলের বেলায়ও কি তাই
ফুলের সৌন্দর্য হাসে বাতাসবেলায়,
তোমাকে নিয়েই আজ গন্ধ আকুলায়!
দীপপুষ্প সাজিয়েছি মনদেউলেতে
মুছে যাবে সহসা হঠাৎ
এসো, পান করি দেহরস
তারপর হই স্তব্ধ, অকস্মাৎ!