গর্ভপাতে পাশে পাবে

আর্য সামন্ত


গর্ভপাতে পাশে পাবে

ফুঁ দিলেই আনাজপাতির খোসা জিভে ঠেকে,
পালং শাকের গন্ধে আমার বমি পায়,
তুমি জানো বিলক্ষণ!
তার চেয়ে এক মুঠো পিপারমিন্ট,অল্প সাবান জল
গামছা ধোয়ার শব্দে বুড়ি মা কান পাতে।

তারপর আর কয়েকটা ভেড়া দেরাজ খুলে ঢুকে পড়ে,
গায়ের কালচে লোমে শ্যাওলা লেগে, পাট ক্ষেতের।

ওসব ছাড়ুন!আসুন উস্তাদের সাথে সহবাস করি
নিভৃত ধানক্ষেতে; ঘেমো ঘাসের গন্ধ আর জলঢোঁড়া সাপ।
অনামিকায় তখনও কি একটা সরীসৃপ লেগে ছিল।

আমি এসব দিনকালকে “ভণিতা” বলি আজকাল
অনেক তো হলো! এবার সমস্ত ভুলে ক্রনিক হয়ে উঠুন।
কদ্দিন আর? গর্ভপাতের দিন আমি উপস্থিত থাকবো নিশ্চিত।


রক্তবীজে পাপ জন্মায়

ভেবেছিলেন, ব্লাউজে ফুটো করে তা থেকে চাঁদ ঝোলাবেন?
কিংবা বেওয়ারিশ পোস্ট মর্টেম এর গায়ে লিখবেন আলফাজের সিলসিলা?
ঘিলু শুকিয়ে গেছে জঠরের মত,
অচিরেই কাক রাজত্বে পৌঁছবেন।
আঙ্গুলের সীমানা ভেঙে দাঁত খিঁচিয়ে উঠবে হাড়গিলে বৃদ্ধ।
নিম্নাঙ্গ থেকে ঠোঁট অবধি বৃষ্টি রাতের একটা শিকারী জাগুয়ার ছুটে যাবে।
নিশানা লাগলো না বলে হা পিত্যেশ করে কুণ্ঠিত হবেন, সদ্যস্নাত গরলযৌবনার মত!!
আর দেরি নয়, এই বেলা সমুদ্রের গায়ে লাথি টা মেরেই ফেলুন,
বেশি দেরি হলে রক্তবীজ জন্মে যাবে।



দু আনার রবি ঠাকুর
-

ঘেমো গায়ে টলতে টলতে ফিরি কৃতান্তপুরে, জবজবে গেঞ্জির রঙ ওঠা লোগো জানে,
শহরকে গর্ভবতী করা বহুতল দুই ঊরুর মাঝের অহঙ্কার।

সিগারেট ফোঁকা বিদঘুটে বিবমিষা,
সদ্য হাত পা গজানো বোকার মত খিল্লি করে বেড়াচ্ছে।
আমার একহাতে মাংসের ঝোলা, অন্য হাতে সঞ্চয়িতা,
চাপ দাড়ি জোয়ান কবি একদলা থুতু ফেলে বন্ধু মহলে বুক বাজিয়ে সমর সেন শোনায়।
ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দেয় ল্যাম্পপোস্ট, জঙ্গল।
গোলবাজার এর মোড়ে কবিতা জবাই হচ্ছে, কিলো দরে।

বিশ্বভারতী,কাব্যিক জাবর কাটা, সব বাঁজা কথা।
শুধু পকেটে খুচরো পয়সা ছিল না,
তাই ফিরতি পথে আর দু চারটে রবীন্দ্রনাথ কেনা গেলো না।