তিনটি কবিতা

বহতা অংশুমালী


১)

পরিষ্কার হ'তে পারো?
আমি বুঝি শেষ শোয়া শোব
যা থাকবে অবশেষ
চুরোটের ধোঁওয়া ছাই
গন্ধ রেশ
খাওয়া হাড়, সাদা হাড়
রাত্রির বুকে,
জেগে থাকা রফা হাড় সব
দেবো অক্লেশে পুড়িয়ে
কাঠের অন্তিম আঁচে আমাদের কাঁচে
বরফের রাতভোর ধাক্কা দেওয়া অনুনয় পড়া
সব মুছে দেবো
রাত হ'তে চলে যাবো
সব রাত কোথায় যে যায়
সকালের বহু আগে
বুক চেপে, রাস্তার বাঁকে
কুঁকড়ে মথিত বেদনায়


২)
ঈশ্বর সামনে এলে ভীষণ কষ্ট হলো তার
ঈশ্বর ঈশ্বর !
সব দেখতে পাচ্ছ নাকি!
কি চশমা পরেছো?
চোখ বন্ধ করো
এখনো হাল্কা লাল ফুলে মলদ্বার
আজ তিনদিন হলো চান সে করে নি
মাথায় ভীষণ বিষ অকথ্য যন্ত্রণা
যাদের চাইতো ভালো আর কোনো ভাল চাইছে না
ফিরে যাও উঠে পড় ওই বাসে ঘোরো মোড়ো ফেরো
কি ফর্মুলা লিখেছিলে কি হয়েছে বিকট শিশু হে
এই পরমাণুটুকু তারও চেয়ে বড়ো
যেমন অতল দুই ভগ্নাংশের মধ্যবর্তী খাদ
খপ করে শেষ হওয়া কিচ্ছু না পাওয়া এই বিকট বিষাদ
মার খেয়ে পড়ে থাকা অনন্ত শয়ান
ছোকরা প্রসাদ পেতে চান যদি রাখা আছে ছায়া ছায়া ঘরে
চশমা এখানে রেখে যান

৩)
কংকাল এসেছে বসে সদ্যমৃতার সাথে ওয়েটিং রুমে
শুধিয়েছে চুপি চুপি, এখনো গোঙাও কেন?
মরে গেছ ভুলে গেছ?
এখনো কষ্ট বাকি আছে ?

আসলে মাংসের কষ্ট ভুলে গেছি আমি
শব্দ দিয়ে বাক্যবন্ধ দিয়ে যদি বলো
রক্তের মতন কালি দিয়ে আঁকো যদি
স্মৃতির সুদূর স্তরে টান পড়ে
মনে পড়ে, ভালোবাসা ছিল
টানাটানি ছিল, চর্ম
ছিল মাংস ছিল আর
স্নায়ুর নানান স্তরে ভীষণ যন্ত্রণা বীণা ছিল

সদ্য সন্তান হলে মা’র দুই হাতও
সন্তানের সূক্ষ্ম ছিদ্র-সমব্যথী, ততটাই সরু
আমার অনেক দিন হয়ে গেছে, ছেড়েছুড়ে গেছে
সে ডাকে পিতার মতো, দূরভাষে,
অযথা উচ্ছ্বাসে
অসময়ে আর ডাকে না তো!
তোমার অরণ্যে আজো কাকলির ভোর
কি করে বুঝবো বলো
ভুল প্রশ্ন করে ফেলি
তোমার উত্তর আনে ভুল হাওয়া
আজেবাজে অহেতুক অপ্রার্থিত হাওয়া
ছোট কিশোরের মতো খিলখিল হাওয়া
আমার সাইকেল চলে পাছে
ভুলে গেছি যারা
সরণীর ফেলে আসা গুদাম ঘরেতে
ফরম্যালিনের জলে ভরে রাখা আছে