কবিতাগুচ্ছ

হিন্দোল ভট্টাচার্য




নিজস্ব প্রতিনিধি

জলের গভীর লিখি। লিখি এ জীবন দুঃখময়।
মনের ভিতরে শব্দ
রাত নটায় শাটার নামানোর;
প্যাডেল ঘোরায় রিক্সা, এ পাড়া, ও পাড়া।
তোমার চোখের মধ্যে দেখি মফস্বল পাড়া
বড় বেশি একলা হয়ে আছে।
রাতের গভীরে শুনি কারা কারা হেঁটে যায়
সেই সব পথে। তারা, কড়াও নাড়ে না।
তুমি শ্বাস নাও, শ্বাস ফেলো-
যেন একবুক
আশাবাদ নিয়ে তুমি ডুব-সাঁতারে পেরোচ্ছ শহর
আর পিছু পিছু আসছে
ধর্ম, দল, নির্বাচন, রাতের বাজার।
আমাদের মাঝখানে শুয়ে থাকে নির্বিকার খবর কাগজ।




প্রতিরক্ষা

একটি অসহায় বেশ্যা ঘরবদল করে প্রতি রাতে;
তাকে ভোগ করে রোজ কিছু কিছু বুদ্ধিজীবী, কবি ও ভিক্ষুক।
তার মুখে জমে থাকে দুঃখ আর খিদে,-
আর দ্যাখো গলির মুখটায়
বেগুনি-সবুজ-নীল রঙ মাখা মুখ ঘাপটি মেরে
তোমায় রূপের দেশে নিয়ে যাবে বলে মৃদু দাঁড়িয়ে রয়েছে।
ওকে চিনে রেখো; লোকে রাজনীতি ব’লে ডাকে
আসলে দালাল। খায় সকলের দেহ।
কখনও ঘরের মধ্যে ঢুকিও না, ঘর ভেঙে যাবে।
খুব খিদে পেলে খেও নিজেকেই, একটু একটু করে।



প্রেমের কবিতা


যে কাব্য আঁধার নয়, তাকে আমি সন্দেহের চোখে
সেই কবে বাতিল করেছি;
এত আলো কোথা থেকে পাও? বলে, রাতের মাতাল।
আমিও বুঝি না তাকে, দুজনেই অবিশ্বাস করি।
ত্রিফলা ল্যাম্পের নীচে রক্তহীন সাদা আলো পড়ে থাকে,-
বড় বেওয়ারিশ।
দেখি অন্নপূর্ণা তাঁর শেষ রাতের ভাত বেড়ে
খাওয়াচ্ছেন পাগল স্বামীকে।
কীভাবে দরদর করে ঘেমে যায় প্রেম, জানে তারা।
হায় রাত্রি এসো ঘুম পাড়াও লেখার মধ্যে
লিরিকাল হও।
জীবন খসখস করে পোকা কাটা পুরনো পাতায়।
এত রাতে তাকে আর বিরক্ত কোর না…










লীলা

ঈশ্বর পাথর নন, আসলে ছটফটে এক তরুণী প্রেমিকা;
প্রেমিকের ব্যবহার আশা করে তোমার ভিতরে-
যেমন বৃষ্টির কাছে নেচে ওঠে পুরনো ময়ূর;
বিরহে সৈকত ভাঙে সমুদ্রের আদরের জলে।

হায় ভক্ত, তুমি তবু স্থানু বড়, খুঁজেছ মন্দির-
তোমার আশ্রয়; যেন চারদেওয়াল বিবাহের পরে
সংসার গড়েছে, তার শয়নকক্ষে প্রেমিকার শব
একাকী দিয়েছে বরাভয়।

বৃষ্টিপাত ছাড়া কোনও শস্যক্ষেতে ফসল ফলে কি?




দাগ

সমস্ত পায়ের ছাপ মায়াবী, অদৃশ্য হয়ে যায়
ভাবি দাগ রেখে যাওয়া গেল;
ভাস্কর যেভাবে তার বেদনা খোদাই করে রাখে।
পড়ে থাকে রক্তদাগ, খিদে, স্বপ্ন, প্রেম,-
নশ্বরতা কিছুতেই অতিক্রম করে না নিজেকে।
নিজের আয়নার দিকে হেঁটে যেতে যেতে সেও
নিজেকেই অবিশ্বাস করে;
সমস্ত পায়ের ছাপ মুছে যায় জেনে,-
এসো আজ দেখা হোক, পাশাপাশি হেঁটে যাই
রোদ প’ড়ে এলে।