চন্দনের বনে

মাহরীন ফেরদৌস

ঘটনাটা অনেক দূরের এক গ্রামের। এতটাই দূরের সেই গ্রাম, যেখানে বর্তমান পৃথিবীর অনেক কিছুই পৌঁছাতে পারে নি। যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে তখন নাম ধরে ডাকার প্রচলন শুরু হয় নি সেখানে। গ্রামটি সবুজের চেয়েও যেন বেশি সবুজ। পথগুলো মসৃণ নয় বরং বন্ধুর। তবে সেখানের গাছ-গাছালি ফুল ও ফলে ভরে থাকে সারা বছর। নদীর পানি সরবতের মতই মিঠা। আর আলো বাতাস খুব আরামদায়ক। সেখানে বসবাস করত অল্প কিছু মানুষ। তারা অতটাও সামাজিক কিংবা আধুনিক হয়ে ওঠেনি তখনও। ছোট ছোট্ট গুচ্ছের মতো একসাথে থাকার মানুষদের তেমন কোন বৃহৎ সমাজ সেখানে ছিল না। বরং একটু ঘুম কিংবা খাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকা ছাড়া পৃথিবীর জাগতিক বিষয়গুলো নিয়ে খুব কমই ভাবতে হতো তাদের। এভাবেই হয়ত দিন চলতে পারত কিন্তু একটা ক্ষুদ্র পরিবর্তন ঘটল হঠাৎ করেই। একদিন সকালে বাদামি চোখের এক ফুটফুটে শিশু জন্ম নিল। আর জন্মের পরপরই চিৎকার করে নিজের অস্তিত্ব না জানিয়ে সে মৃদু নিঃশ্বাস ফেলে হেসে ফেলল নিঃশব্দে। মানব শিশুর জন্ম নেওয়া তখন নতুন কিছু নয়। কিন্তু এমন পানির মত স্বচ্ছ চোখের হাস্যোজ্জ্বল শিশু সেই মানব গোষ্ঠিতে এটাই প্রথম।

শুধু তাই নয় ভূমিষ্ঠ হবার সপ্তাহ দুই পরেই এক মেঘময় বিকেলে শিশুটি তার ছোট্ট বিছানায় শুয়ে হাত পা ছুঁড়তে ছুঁড়তে অস্ফুট স্বরে বলল, ‘আ’। তার উচ্চারিত ধ্বনি শুনে তার মা মুখ থেকে একই রকম শব্দ করার পর শিশুটি চঞ্চল হয়ে আর বেশি হাত-পা নাড়তে শুরু করল। নাম দেওয়ার প্রচলনটি হয়ত গ্রামটিতে তখন থেকেই শুরু। সময়ের সাথে সাথে আ এর চোখের মণি দিন দিন বড় হতে শুরু করল। তার চুলগুলো হলো লম্বা। তার চোয়ালটা বিশাল। তবে অন্যান্য শিশুদের চেয়ে সে ছিল দূর্বল। দৌড়াতে কিংবা কিছু আনতে দিলে সব সময়ই সে পড়ত পিছিয়ে। যা নিয়ে তার মনে কোন খেদ না থাকলেও তার বাবা-মায়ের ছিল অনেক অভিযোগ। আ এর বাবা যখন চাষাবাদ করতে কিংবা নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে চলে যেত, সে তখন নদীর পাশে হেঁটে বেড়াত। উষ্ণ বালিতে পা ডুবিয়ে সে আরাম নিত। আর যখন রাস্তা দিয়ে সে হেঁটে যেত তখন তার দৃষ্টি থাকত আকাশমুখি। এক টুকরা রুটি কিংবা মিষ্টির জন্য আ কখনওই বাকি শিশুদের মতো মারামারি করেনি। তারস্বরে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির উঠানে গড়াগড়িও খায়নি। বরং নিজের অতিকায় চোয়াল আর ক্ষীণকায় দেহ নিয়ে তাকে নিজের জগতে থাকতে দেখা যেত। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে নিথর গাছগুলো যখন আবেশে ডুবে থাকত, আ তখন নিঃশব্দে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত। আর তারপর বাগানের গাছের পাতা থেকে জিভ দিয়ে শিশির চেটে খেত। রাত্রির আঁধার ফুঁড়ে এগিয়ে আসা রোদে যখন মনুষ্য কর্মচাঞ্চল্য শুরু হতো, সে তখন লাল পিঁপড়ের সারির সাথে পায়ে পায়ে হারিয়ে যেত বহুদূরে। আরেকটু বড় হবার পর সে দিন দিন শরীরে বল পেতে শুরু করল। বাবার সাথে খেতে কাজ করা শুরু করে দিল। সেই সুবাদে পেশিবহুল হলো শরীর। তবে তার মন ছিল আগের মতই। কখনও উদাস কখনও বা নিশ্চুপ। একদিন সে দেখল খুব সকালে গ্রামের সকলে ভিড় করেছে এক জায়গায়। খয়েরি চাদরে শুয়ে আছে এক গ্রামের সবচেয়ে বৃদ্ধ লোকটি। মুহুর্মুহু নিঃশ্বাস নিচ্ছে সে। মুখ থেকে লালা গড়িয়ে পড়ছে। বুকটা যেন যে কোন সময় নিথর হয়ে যাবে যাবে করেও যাচ্ছে না। দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে ভয়ংকর ছোঁয়াচে এক অসুখে আক্রান্ত সে। সারা গা থেকে মোমের মত গলে গলে পড়ছে আঠালো রস আর চামড়া। সাপের খলস নয় বরং দেখে মনে হবে সত্যিই কেউ তাকে মাটি দিয়ে বানিয়েছিল। সেই মাটিতে ক্ষয় ধরেই সে হারিয়ে যাচ্ছে। আ এর কৌতূহলী চোখে ভয় আর আগ্রহের হাতছানি। অথচ এদিকে গ্রামবাসীদের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। তারা এই মৃতপ্রায় বৃদ্ধকে নিয়ে কী করবে? প্রথমে ঠিক করা হল কেউ একজন তাকে বহু দূরের শহরে নিয়ে যাবে। কিন্তু পুরো গ্রামবাসীর মাঝে কেউই রাজি হলো না এমন ভয়ংকর অসুস্থ কারও সফরসঙ্গী হতে। নানা চিন্তা ভাবনার পর কেউ একজন বুদ্ধি দিলো, সফর সঙ্গী কেন মানুষই হতে হবে? সাথে সাথেই সহমত জানাল সকলে। যেন দায়িত্বের মুক্তি। একটা মাঝারি আকারের চন্দন গাছ কেটে ফেলা হলো অচিরেই। তারপর অসুস্থ বৃদ্ধকে কোনক্রমে চন্দন গাছের সাথে বেঁধে, অল্প কিছু শুকনা খাবার আর পানি দিয়ে, একটা পুরাতন নৌকায় তুলে ভাসিয়ে দেওয়া হলো গ্রামের সবচেয়ে দীর্ঘ নদীতে। ততক্ষণে সূর্য উঠে যাচ্ছে মাথার ওপর। ছত্রভঙ্গ করে গ্রামবাসী নিজ নিজ কাজে চলে যাচ্ছে। শুধু আ বসে রইল নদীর পাড়ে। একটু পর পর তার মনে হলো এই যে কোন সময় হয়ত বুড়োর নৌকাটি ফিরে আসবে।


সারাদিন আ ব্যস্ত থাকত। খেতে কাজ করার সময় একা একা মাটির সাথে কথা বলত। গাছে পানি দিত। কাঠ কাটত। তারপর দিন শেষে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরার পথ ধরত আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে। মধ্যরাতে ঘুম না আসলে সে একাকী জেগে থাকত। যেন রাতের সাথে ওর না বলা হাজার গল্প আছে। ততদিনে গ্রামের আরও বেশ কিছু বৃদ্ধ এবং বৃদ্ধাকে চন্দনগাছের সাথে বেঁধে নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ছোঁয়াচে রোগটা একের পর এক প্রাণকে ধরেই যাচ্ছে। কেউ কোন ওষুধ বা সমাধান খুঁজে বের করতে পারেনি। এক যুবক অবশ্য সবার অমতে জেদ করে নিজের অসুস্থ বাবাকে পাতলা কাপড়ে মুড়ে নিয়ে শহরের পথে রওনা হয়েছিল, তবে মাঝপথেই তাকে ফিরে আসতে হয়েছে মৃত পিতাকে কবর দিয়ে। ফিরে এসে সেই যুবকটি অনবরত কেঁদেছে। তার কান্না দেখে আ এর বুকের ভেতরটা যেন কেমন কেঁপে কেঁপে উঠেছে।


একরাতে আ স্বপ্ন দেখল গ্রামের সব চন্দন গাছগুলোর গা থেকে সোঁদা ঘ্রাণ বের হয়েছে। আকাশে বৃষ্টি নেই অথচ গাছগুলো ভিজে যাচ্ছে। না, না। আসলে চন্দন গাছগুলো কাঁদছে। নীরবে কাঁদছে। গ্রামের পরিবারগুলো যেমন করে ভয়াবহ এক অসুখে তাদের প্রিয়জনকে হারাচ্ছে, একইভাবে চন্দন গাছগুলোও তো নিজেদের পরিবার হারাচ্ছে। এই হারানোর শেষ কোথায়? আ স্বপ্নের মাঝেই শুনতে পেলো ক্রন্দনরত চন্দন গাছের পাতাগুলো বাতাসের সাথে তাল মিলিয়ে কাঁপছে। যেন কান্নার বেগ আর সামলে নিতে পারছে না। তার মনে হল সে যেন কোন আদি-অন্তের মাঝে বিচরণ করছে স্বপ্নের মাঝেই। কী যেন পাচ্ছে আবার কী যেন হারাচ্ছে। কেমন যেন অদ্ভুত অনুভূতির আবরণ সেখানে। না মোড়ক না মুখোশ। তার মনে হল, এমন কেন হচ্ছে? তাহলে কি স্বপ্নের মাঝেই তার মৃত্যু ঘটে যাবে? এমন সময় ভোরের আলো ফুটে ওঠল আলগোছে। আ জেগে উঠল। এরপর থেকে বুকের ভেতর এক হিমধরা শূন্যতা নিয়ে সে বেঁচে থাকল।

বৃদ্ধদের সে ভয়ানক অসুখটা এবার আসল আরও ভয়াবহ আকারে। এবার শুধু বৃদ্ধ নয় সাথে ছোট্ট ছোট্ট শিশুদেরকেও আক্রান্ত করে ফেলল। তাদের হাত থেকে চামড়া খসে পড়তে শুরু করল। ভেতরের হালকা সাদাটে মাংস দেখা গেল। আঠালো রসে ভরে ওঠল তাদের বুক, কাঁধ, হাত। শান্তিপূর্ণ গ্রামটিতে আর শান্তি থাকল না। বরং মনে হল কোন এক অদৃশ্য দানব ক্রূর হাসি হেসে যাচ্ছে আড়াল থেকে। যার হাতগুলো সাপের মত। তা দিয়েই ছোবল মেরে যাচ্ছে গ্রামের অতীত ও ভবিষ্যৎকে। যেখানে অতীত নেই, ভবিষ্যৎ নেই, সেখানে বর্তমান দুর্বল। সেই দুর্বলতাকেই অস্ত্র বানিয়ে যেন কেউ পুরো গ্রামটিকেই মুছে ফেলতে চাইছে। অন্তহীন এক পতনের সুর বাজতে থাকল যেন গ্রামটিতে। সারাদিন বাড়িগুলো থেকে শুধু কান্নার সুর ভেসে আসতে থাকল। খসে যাওয়া চামড়া ও অসুস্থতার কটু ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করল সারা গ্রামের ঘরময়। শিশুগুলো ছিল এতই ছোট ও দূর্বল যে তাদেরকে নিয়ে কোথাও যাওয়া সম্ভব ছিল না। ছোটখাট অসুখের জন্য যে নিরাময় ব্যবস্থা ছিল তা দিয়ে শিশুদেরকে সুস্থ করার কোন পন্থাও ছিল না। সম্পূর্ণ গ্রামটিতে হতাশা এবং বিষণ্ণতা ছড়িয়ে গেল।

এসব দেখে আ ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে ওঠল। হিমধরা শূন্যতা বেড়ে গেলো তুমুলভাবে। জগৎসংসার অন্ধকার হয়ে আসল তার। সে আর নদীর কাছে যায় না, ফুলের কাছে যায় না। আকাশের দিকে তাকিয়ে হাঁটে না। অসহ্য এক অনুভূতি ব্যাপ্তি ছড়াতে থাকে তার ওপর। তার মনে হয় প্রতিটি শিশু যেন একেকটি চন্দন গাছ। যারা তার স্বপ্নে কাঁদছিল নিঃশব্দে। সে বুঝতে পারে অচিরের গ্রামটি মরে যাবে, নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে সব। তার গগনবিদারী চিৎকার করতে ইচ্ছে করে। তার মনে হয় পৃথিবীর সুন্দর সব মুহূর্ত গলে গলে পড়ছে। বুকের ভেতরে কেউ করাত কাটছে অবিরত। বেশ কিছু রাত সে জেগে থাকে নির্ঘুম। জেগে থাকে পুরো গ্রামটিও। বৃদ্ধদের আহাজারি, শিশুদের যন্ত্রণাদায়ক ক্রন্দন, পরিবারের সকলের আর্তনাদে রাতভর ডুবে থাকে গ্রামটি। সেখানে আর পাখির কলকাকলি শোনা যায় না। কান্না, শুধু কান্না জেগে থাকে।


তারপর একদিন সকালে হঠাৎ আকাশের গম্ভীরতা বিপুল আকার ধারণ করে। যেন বা কোন মল্লযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গ্রামবাসী তখন প্রাণপণে প্রার্থনা করতে থাকে যেন বৃষ্টি দেবতা এসে সকল রোগশোক ধুয়ে নিয়ে যায়। খানিকবাদে আকাশে তখন তুমুল ঝড় আসে। কালো হয়ে আসে চারপাশ। যেন প্রকৃতি আর দারুণ কোন মরণ খেলায় মত্ত হবে। কিন্তু সবাইকে হতাশ করে দিয়ে ধূলি ঝড় বাদে কিছুই হয় না। বরং ঝড়ের পর অদ্ভুত এক নীরবতা নেমে আসে গ্রামে। গম্ভীর। বিষণ্ণ। এবার যেন ঝড় আসে আ এর বুকে। সে আর চুপ করে বসে থাকতে পারে না। বাবার কুড়াল নিয়ে ছুটে বের হয়ে যায় বাড়ি থেকে। তারপর গ্রামের সবচেয়ে বড় গাছটিতে আঘাতের পর আঘাত করতে থাকে। কাটতে থাকে।

আ এর বাবা ছুটে আসে। তারপর জিজ্ঞেস করে সে কী করবে? আ জানায় একটা বড় নৌকা লাগবে। সে গ্রামের সকল বৃদ্ধ আর শিশুদের নিয়ে পাড়ি জমাবে অন্যখানে। অন্যকোথাও। তাও সে এভাবে মরে মরে বেঁচে থাকা দেখতে পারবে না। চন্দন গাছগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে মানুষগুলো। এভাবে কি টিকে থাকা যায়? প্রকৃতি তাকে ডেকেছে। সে ডাক সে উপেক্ষা করতে পারবে না। তাকে যেতেই হবে। আর যাবেই যখন সকল জরাগ্রস্থ প্রাণকে সে নিয়ে যাবে সাথে করে। নতুন কিছুর আশায়। সব শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে তার বাবা। তারপর ধীর পায়ে বাড়ি ফিরে যায়। আ এর মা সব শুনে দাওয়ায় বসে কাঁদতে থাকে। গ্রামে কর্পূরের মত ছড়িয়ে পড়ে আ এর এই সিদ্ধান্তের কথা। একে একে সবাই এসে যোগ দেয় তার সাথে নৌকা বানানোর কাজে। এক এক করে প্রায় ঊনচল্লিশ দিন পর বিশাল বড় ছইযুক্ত একটি নৌকা বানানো সম্পন্ন হয়। মস্ত বড় পাল লাগানো হয়। সবচেয়ে মজবুত মাস্তুল, দড়ি, বৈঠা আর গুণ দেওয়া হয় নৌকায়। নৌকাটি হয় বিশাল। যেন নূহের আরেক নৌকা। অতঃপর একচল্লিশতম দিনে গ্রামের অবশিষ্ট শিশু ও বৃদ্ধদের কে পাতলা কাপড়ে ঢেকে নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। সাথে দেওয়া হয় পানি, শুকনা খাবার আর ফল। গ্রামবাসী সকলে একযোগে দাঁড়িয়ে থাকে নদীর তীরে। কাঁদতে থাকে নিঃশব্দে। কাঁদে আ এর মাও। তার মনে পরে যায় ছোট্ট আ কিভাবে নিঃশব্দে হেসেছিল। সে হাসির কী আসলেই কোন নিগূঢ় অর্থ ছিল? সে ভাবে। ভেবে ভেবে চোখের পানি মুছে বার বার।

এক রোদের দিনে বহু দূরের, অনেক আগের গ্রামের প্রায় সকল অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আ নামের যুবকটি নদীপথে যাত্রা শুরু করে। যে নদী গিয়ে মিশেছে অচেনা এক সাগরের সাথে। ঢেউয়ের তালে তালে তার লম্বা চুল নাচতে থাকে। তার লম্বা চোয়াল দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়। সে বৈঠা চালায় দ্রুত। পানিতে শব্দ হয় ছলাত ছলাত। ছইয়ের ভেতর থেকে দূর্বোধ্য শব্দ করে কাঁদতে থাকে বৃদ্ধ এবং শিশুরা। আ সব শুনে নীরবে এগিয়ে যায় আকাশের দিকে দৃষ্টি রেখে। তার বাদামি চোখ দেখে তখন মনে হয় নীল। কারণ তার চোখে আকাশের ছায়া পড়েছে।

আ তার যাত্রাপথে কতদূর এগিয়েছে তা আজও সকলের অজানা। শুধু জানা যায় আকাশের পূর্ণচাঁদের সাথে মাঝে মাঝে আ এর সেই মস্ত বড় নৌকার দেখা হয়ে যায়। আর যখন যখন এমন হয়, চাঁদের গায়ে নৌকার ছায়া পড়ে। আর চাঁদটি দেখতে হয়ে যায় মস্ত বড় বাঁকা একটি নৌকার মতো...