প্রাকৃতিক ভাষা, ভাষার প্রকৃতি

উমাপদ কর






প্রাকৃতিক ভাষা, ভাষার প্রকৃতি





শন-শন বাতাসে উড়ছে চিলগোজা
তীক্ষ্ণ সবুজে রেটিনায় ছবি
অক্ষর হলো, ভাষা হতে হতে মাটি ছুঁয়ে বাদামি…
নিসর্গ বর্ণ হলে তাঁবুর নীচে মানুষ
যেটুকু আগুন থেকে অঙ্গার গায়ে মাখে
সেটুকুই ওম, ঔঁ ধ্বনি
এবং শান্তি
হতে পারে আমার মায়ের নাম




আমি আজ আর কোনও কথা বলব না
কথা বলুক মুখর আকাশ
বলুক বাদল
মেঘ কাটা জ্যোৎস্না
ওদের ভাষায় এক কুচি বরফ মিশিয়ে
পান করি শ্রাবণ শ্রাবণ
ডিকোড করি অলস রাতের ঝরনা
প্রেম পদ্ম হয়ে এল, পদ্ম চোখ, চোখের ভাষায় গড়ি
এক রত্তি শিশু
আর তার মাতৃস্তন
বিন্দু বিন্দু অক্ষরকুঁড়ি





বুকে রেখে মুখে না-আনা মার কথা
আমি আদৌ কি বুঝেছি?
মাকে দেখেছি গোয়াল ঘরের খুঁটিতে হেলান
বাঁশে তখন প্রাণ ছিল না
মেশামিশি মা আর কুন্দফুলে ভরতি থালা
আমার দিকে তাকিয়ে ভাষা হয়ে যাচ্ছে
খাব কি, তরলে তরল হয়ে গলে পড়ছি
আদরে চুমু খেলে তখনই বুঝে ফেলেছি
সেই ভাষা
যা আমার প্রকৃতিকে লালন করে
কলম অক্ষর হয়, ভাষা পায়, লিখে ফেলি আস্ত এক ভাষার প্রকৃতি
হোক না নিরুচ্চার