অরণ্যের অগ্নিশিখা

রীনা ভৌমিক


" ভেবে দেখলাম / যত সুন্দর কবিতা পড়া হয়েছে এ জীবনে / সবচেয়ে সুন্দর জীবন্ত কবিতা / সামনের ওই বৃক্ষটি ..."
--জয়সি কিলমার ।

শিকড়ে শিকড়ে আজ রোদেলা উচ্ছ্বাস । পাতায় পাতায় গান । যে শুনতে জানে , আমি তার তন্ময়তা প্রিজমে ছেঁকে আহ্লাদী ছলোচ্ছ্বল ! ভূমিগত উৎসে ছড়াতে থাকি রং-বার্তা । টুংটাং...টুংটাং..। বাতাস খুশবু খুশবু তরলতা পায় ।

ভালোবাসা এক ছোঁয়াচে ঢেউ । স্পর্শে গন্ধে বোধে অবোধে টের পাওয়া যায় । সকালে যখন নেড়া ডালে পোড়ারমুখো কোকিলটা 'কুহু-উ' বলে বাঁশি ফুঁকলো , কেমন যেন শিরশির পিয়ানো বেজে উঠলো বুকের তল-পুকুরে ! যেন পূজোর চন্দনধূপ । উদ্ভাসিত মন্ত্রোচ্চারণ । সম্মোহনে পেয়ে বসলো আমায় । পুরোনো পাতার ফ্রক খসিয়ে কখন আগুনরঙা বেনারসীতে গিঁট বেঁধে ফেল্লাম ! হুঁশ হলো , সখিদের খিলখিলে । ওরাও দল বেঁধে কমলা লালে জঙ্গলের সবুজে আগুন জ্বালিয়ে ফেলেছে !

আসলে আমাদের ভালবাসার চিনগারি যৌথ নক্সিকাঁথা । ঘাসে আগাছায়। গাছে লতাপাতায় । কীট পতঙ্গ শালিকের ঘোসলায় । মধু মধুপের মাতাল মুন্সিয়ানায় । গেরুয়া ধূপ-ছায়ায় যে সব আনন্দ লেখা হয় , নিঃশব্দে বিলিয়ে দিই মেঘেদের মেখলায় !

সম্ভাবনার জায়মান স্বপ্ন-সংকেতে এই যে জীবন বৃত্ত । বৃত্তময় লাবণ‍্য উড়ান । উড়ানে লেগে থাকে অহিংস আগুন । ফাঁকফোকরে তবু কেন যে অনিবার্য ঋতুদের বিষাদমাখা রুমাল পাল্টানোর খসখস । অসংখ্য জ‍্যামিতিক ঊল্কাপিন্ড পরিচয় চিহ্ন মুছে দিতে চায় । অলখ‍্যে উচ্ছ্বলতা ঝিমোয় হিমেল এহসাসে !

" কিছু রূপসা-নদী এঁকে রাখ বুকের ক‍্যানভাসে । দুর্দিনে নাড়বি চাড়বি । অক্সিজেন পাবি । টিঁকে থাকা , বুঝলি , দুরন্ত ম‍্যারাথন ...", সময়ক্ষতের সেইসব চুলকানি , বিষফোঁড়ার নীলাভে নরম স্পর্শ রেখে মা-মাটি প্রতিরোধ শেখায়....



---------- Forwarded message ---------
From: Rina Bhowmick <rinabhowmick06@gmail.com>
Date: Tue, 19 Feb 2019 20:32
Subject: অরণ্যের অগ্নিশিখা / রীনা ভৌমিক
To: Tamal Ray <tamalray70@gmail.com>



অরণ্যের অগ্নিশিখা/রীনা ভৌমিক

" ভেবে দেখলাম / যত সুন্দর কবিতা পড়া হয়েছে এ জীবনে / সবচেয়ে সুন্দর জীবন্ত কবিতা / সামনের ওই বৃক্ষটি ..."
--জয়সি কিলমার ।

শিকড়ে শিকড়ে আজ রোদেলা উচ্ছ্বাস । পাতায় পাতায় গান । যে শুনতে জানে , আমি তার তন্ময়তা প্রিজমে ছেঁকে আহ্লাদী ছলোচ্ছ্বল ! ভূমিগত উৎসে ছড়াতে থাকি রং-বার্তা । টুংটাং...টুংটাং..। বাতাস খুশবু খুশবু তরলতা পায় ।

ভালোবাসা এক ছোঁয়াচে ঢেউ । স্পর্শে গন্ধে বোধে অবোধে টের পাওয়া যায় । সকালে যখন নেড়া ডালে পোড়ারমুখো কোকিলটা 'কুহু-উ' বলে বাঁশি ফুঁকলো , কেমন যেন শিরশির পিয়ানো বেজে উঠলো বুকের তল-পুকুরে ! যেন পূজোর চন্দনধূপ । উদ্ভাসিত মন্ত্রোচ্চারণ । সম্মোহনে পেয়ে বসলো আমায় । পুরোনো পাতার ফ্রক খসিয়ে কখন আগুনরঙা বেনারসীতে গিঁট বেঁধে ফেল্লাম ! হুঁশ হলো , সখিদের খিলখিলে । ওরাও দল বেঁধে কমলা লালে জঙ্গলের সবুজে আগুন জ্বালিয়ে ফেলেছে !

আসলে আমাদের ভালবাসার চিনগারি যৌথ নক্সিকাঁথা । ঘাসে আগাছায়। গাছে লতাপাতায় । কীট পতঙ্গ শালিকের ঘোসলায় । মধু মধুপের মাতাল মুন্সিয়ানায় । গেরুয়া ধূপ-ছায়ায় যে সব আনন্দ লেখা হয় , নিঃশব্দে বিলিয়ে দিই মেঘেদের মেখলায় !

সম্ভাবনার জায়মান স্বপ্ন-সংকেতে এই যে জীবন বৃত্ত । বৃত্তময় লাবণ‍্য উড়ান । উড়ানে লেগে থাকে অহিংস আগুন । ফাঁকফোকরে তবু কেন যে অনিবার্য ঋতুদের বিষাদমাখা রুমাল পাল্টানোর খসখস । অসংখ্য জ‍্যামিতিক ঊল্কাপিন্ড পরিচয় চিহ্ন মুছে দিতে চায় । অলখ‍্যে উচ্ছ্বলতা ঝিমোয় হিমেল এহসাসে !

" কিছু রূপসা-নদী এঁকে রাখ বুকের ক‍্যানভাসে । দুর্দিনে নাড়বি চাড়বি । অক্সিজেন পাবি । টিঁকে থাকা , বুঝলি , দুরন্ত ম‍্যারাথন ...", সময়ক্ষতের সেইসব চুলকানি , বিষফোঁড়ার নীলাভে নরম স্পর্শ রেখে মা-মাটি প্রতিরোধ শেখায়....