এখন আমার স্বপ্ন ভাষা পাবে বাংলায়...

শতানীক রায়


এক অনন্য অনন্তের ভেতর দিয়ে গিয়ে অবশেষে জোয়ারে নামি। সত্যিই তাহলে এভাবে ভাষার মতো তীর্যক ধারালো আর কিছু হয় না!! বাংলা ভাষা বলে কথা। এখানে নির্লিপ্ত বলে কিছু নেই। যা কিছু অনন্ত প্রসারতার ভেতর নিজেকে সন্তুষ্ট রাখে। ব্যথা আর একটি জীবন যা কি না অনেকসময় মস্তিষ্কের অধিক কিছু হয়ে থাকে। এখানে বোধ ধরে রাখে আবেগকে। আবেগের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ভাষা অথবা আস্তাবলের গন্ধে মাখানো শুধু রৌরব এবং শব্দ যা কখনও কখনও সত্যের কথা বলে। এখানে খুব আড়ালের মতো সবকিছু ঘটছে। ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতির এক আধার...

ভাষা দিয়ে নিজেকে জানা, একটা গুপ্ত প্রয়াস। গোপনে অবতল খুঁজে খুঁজে যখন মনে মনে প্রত্যেকে আমরা যে ভাষায় কথা বলি সেটি মাতৃভাষা বাংলায়। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে এই ভাষা সাধারণত কথোপকথনের ভাষা নয়। যা ভাবি তা কেবলই নিজের সঙ্গে আত্মকথনের মতো। এই নির্জন আলাপ পর্ব সেরে ফ্যালার মধ্যে একটা নির্মম এবং করুণ প্রকাশ আছে। যেমন মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আমরা ভাবি সতত আধো ঘুম থেকে ভাষার হয়ে ওঠার মতো। আমি যা দেখতে পারি না বুঝতে পারি না। বোধের ওপর আরেকটা বোধ তখন কাজ করে না। গোটা দিন যার যার সঙ্গে মিশেছি তাদের কথা মনে আসে। ভাষা উজাগর করে আরেকটা অভিসন্ধির ভাষাকে, এটা প্রচণ্ড নির্মম একটি প্রক্রিয়া। মানুষ বলে যাদের জানি তদের সত্যিই এক-একজন পশু মনে হয়। এবং পশুর মতো তাদের সুপ্ত আচরণ: তারা মানুষের বোধ এবং ভাষা দিয়ে আড়াল করে কিন্তু ভাষার প্রয়োগ অথবা শব্দের চয়ন মানসিক আচরণকে প্রস্ফুটিত করে। এটা একটা সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া। একে জানতে হলে বাংলা ভাষাকে নিবিড়ভাবে অনুশীলন করতে হয়...


এক অনন্তের আভাস আসে আবার। ঘুম তাহলে ভাষা তৈরি করে নিতে চায়। ধীরে ধীরে আত্মউন্মোচন হয়। ডাঙায় হাঁস উঠে আসার মতো। আমি ঘুমের মধ্যে যা দেখছি সেটাকেই বাস্তব হিসেবে মেনে নিয়ে প্রতিবাদ জারি রাখি। এই ধিক্কার স্বপ্নে নানারকম দৃশ্য হয়ে আসে। কিছুই শেষ হয় না। একটার পর একটা দৃশ্যে যখন আমি শুকিয়ে গিয়ে মজে উঠি। তখনই দৃশ্য জলের আয়নায় টলমল করতে করতে দংশন করে সাপকে! এও কি তাহলে কুণ্ডলিনী প্রজ্ঞার অতিরিক্ত কিছু যা ভাষাকে ছেটে ছেটে গড়ে নেয়। একটা সাপের মতো দানবীয় জাগরণ। এভাবেই স্বপ্নের দৃশ্য বাস্তবে জেগে উঠলে বলি, 'এখন আমার স্বপ্ন ভাষা পাবে বাংলায়...'।