ভাষা মুক্তির অরণ্যে

অগ্নিজিৎ

এভাবে আর জঙ্গল পৌঁছয়েনি কখনো। পা থেকে বড় হয় পা। উঁচু নিচু আবহাওয়া। এখানে বৃক্ষের দম্ভ আছে, শোভা নেই। এর ভাষা মোলায়েম নয়। অপমানিত সময়ের মতো স্বর। মানুষের শব্দ মানেই গোঙানির চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। শোনাটুকু কান পর্যন্ত পৌঁছয় না। হরিণ গুপ্তচর। হত্যার প্রমাণ ঢেকে দেয় মরা পাতা। এখানে দৃশ্যের অনুভূতি, যাপনের প্রক্রিয়ায়। মানচিত্রে নয়। ইতিহাস বড় রাগি। হাঁপিয়ে ওঠা। আদেশনামায় প্রতিরোধের শিলালিপি । খিদে এক সংক্রামক রোগ। এটুকু পরিণতি মেনেই প্রেমিক বনবাস।

তবু নিমন্ত্রনে ডাকছে…

খোঁচা খেয়ে খেয়ে যীশু। প্রতিটা পেরেক যেন ব্যাথায়ে ওষুধ চায় গড়িয়ে। নিহত হবার অভ্যাস মুখ চেপে ধরে। ওরা মুখ ঢাকলেই রাষ্ট্র তদন্ত চায়। বাকি সময়ে মুখোশ পড়ার অনুশীলন। জখম সত্য হলেই ধারা লেগে যায় শরীরে আর শুরু হয় সংবিধানের চিকিৎসা। কোথাও কোনো শান্তি চুক্তিতে সই হয় নি কোনোদিন। একটা জঘন্য শতাব্দী একদিনও ভালো করে খেতে দেয় নি। আর খাবার চাইলেই অনশন বাধ্যতামূলক।

তবু নিমন্ত্রনে ডাকছে…

এই অবাক ভ্রমণে কোনো নির্দেশক নেই। নিজেরাই নিজেদের চরিত্র গুলিয়ে ফেলি। সন্ধের ফাটল দিয়ে সূর্যাস্ত পড়ে চুইয়ে। আর কারা যেন দাড়িয়ে পড়ে মাঝ রাত্তির বরাবর। কতো সশব্দের মাঠ ফেলে গেছে ওরা। পিঠে পিঠে বাঁচতে চাওয়া দলবল। জঙ্গলও বাঁচতে চেয়েছে অনুরোধে। চোখের সীমানায় মেপে ফেলেছে প্রতিশ্রুতি। জোনাকিরা জানে কতটা দুর্বিষহ হতে পারে জ্যোৎস্না ...অন্ধ কয়লা… গাছের পাঁজর…দুঃখের বাসন ভর্তি খিদে। আগুনের ইতিহাস নেভা উনুন।

তবু নিমন্ত্রনে ডাকছে…

কেমন করে দাঁড়ায় মানুষ অস্তিত্বের সামনে!!! কেন্নোর মতো!!! গিরগিটির মতো!!! শাপের মতো!!! জঙ্গল শেষ পর্যন্ত পৌঁছানোর অথবা অধিকারের কিংবা অর্জনের। কোনো রাষ্ট্রীয় টেন্ট এখানে পড়বে না। ছায়ার ছাউনি হবে পাতাখোর। যাবজ্জীবন আশ্রয়ের কারবার। প্রতিটা আগ্নেয়াস্ত্র ক্ষমা চাইছে মৃত্যুর কাছে। পাকস্থলীর কাছে। এই শেষ প্রতিজ্ঞার কাছে এসো। আসন পাতা শিবিরে। ওদের কোনো দাহ কার্য নেই। মুখেমুখে ধরে যাবে দাবানল। চিবিয়ে ফেলেছে মধ্যরাত। গাছ-গাছালির সেপাই বলছে ‘বন গরম’।

তবু নিমন্ত্রনে ডাকছে…

ফিরে আসা একটা ধারনা। বাহারি শহুরে আমরা। কপালে নিয়তির দাগ। সরকারী নীতিতে শ্বাস পুষিয়েনি। জিভে বদহজমের সারাদিন। আমরাও বন্দী সুরক্ষার নিয়ন্ত্রিত গরাদে। তবু আজ্ঞার শিরদাঁড়া … জোড় করা দুই হাত একদিন চওড়া হবে। নিজস্ব পদ্ধতির আত্মরক্ষায়ে মেলে ফেলবে ডাল। মুখ…তলপেট…লোমকূপ…স্ব েদগ্রন্থি…মাংসপিণ্ড থেকে ঘন গহন সবুজ। মাটির আর্তনাদে খসে যাবে
বাকল। একদিন তুমিই সর্বাঙ্গে জঙ্গল হয়ে উঠবে। আর চামড়ার ভেতর আবিষ্কার হবে বুলেট...