অন্বেষণ

পাঠান জামিল আশরাফ

পরিজন

বহুবিধ ব্যবহারে ঠুনকো হে হৃদয়— তুমি এক অনভিপ্রেত। জাদু-বাস্তবতা।
পুরাতন দিনে তুমি এলে — আর বন্দি বাক্সে কতো দিন কেটে গেলো।
তুমি নিয়ে এলে পুরানো জখম যেন জানকীর রঙে রাঙা— কেন পেরেক ঠুকি না!
বহু ব্যবহৃত পুরাতন দিন। তুমি এলে। জখম খুলে দেখালে দুটি পরিমিত খরগোশ।
অন্ধচক্রে যারা কালো। যারা অনাহূত খরগোশ।
তোমার পালানো পথে যতো ছায়াবীজ ও বীর্য ছড়িয়ে দিয়েছে

এখানে নিরাময় খুঁজি। হে অনির্মিত কাঠের আত্মা—
আর কতো রাত কেটে কেটে পথ খুঁজে পাবো
আর উত্তাপহীন দেহে ফিরিয়ে আনবো
ফোটানো সূর্যের উষ্ণতামালা,
আমাদের আত্মাগহ্বরভর্তি কেবল— চৌচিরপাখির ডানা

হে নির্মাতা বাক্স। বাস্তব জাদুর অভিনব চাবি—
আমাকে শিখিয়ে দাও প্লাবিত মানুষের খুলি ভেঙে
কীভাবে রক্তঘাম অটুট রয়েছে।

যেন আরো কয়েকটি ডানা জোগাড় করতে পারি
যেন আরো কয়েকটি ডানা জোগাড় করতে পারি
যেন আরো কয়েকটি ডানা জোগাড় করতে পারি
পরিশেষে; উষ্ণতাই পরিজন


অবতরণ
*********
হাত উচিয়ে দাঁড়ানো ছায়াগাছ—
দু'টো তৃষ্ণা-ডাহুক সমস্ত বুক জুড়ে ঝুলে আছে।
নিকষ আঁধার; মুহুর্মুহু সুর করে ডাকে, ছায়াহীন—
মানুষের হৃদযন্ত্রে প্রচণ্ড ক্ষুধা।
অন্ত্রের নীচে হারিয়ে গিয়েছে আরো ক'টি মৃত হৃদয়ের শ্বাস
ঢেউশব্দ বুকে গুজে পাহাড়, ঘুমিয়ে থেকে দ্বিধাহীন;
মৃত্তিকার উদরে অনন্তে জমা হয় ফেলে যাওয়া পালক,
দীর্ঘ পাখির— হাড়।
মানুষ; হৃদয়ে অস্তিত্বের নড়াচড়া।
পৃথিবীর প্রাকারে ওপরে ওঠার বাসনা।
মৃৎশিল্পের মত মৃত জীবন বয়ে বয়ে মানুষ—
ওপরে উঠে নীচে নেমে যাচ্ছে —
দ্রুত।

অন্বেষণ

এতো প্রাচুর্য মেখে এতো দরিদ্র, নারী।
গোপনে বেশ্যা,
প্রকাশ্যে দেবী।
হাতের কররেখা যে অঞ্চলে
দারিদ্র্যসীমা
কিছু নারী সমুদ্রে নামছে
ভাগ্যান্বেষণে দু'পায়ের ফাকে
ঢুকে পড়েছে যুবকেরা
এইসব সমুদ্রে
রাখাল হয়ে
একটা আবর্তে শীতকালে
ঘুরপাক খায়।
এইসব অবগাহনের ব্যথা
দুঃখ- দুর্দশা আর মিলনের গল্প নিয়ে
কেউ কেউ ঘরে ফেরে,
কেউ রাস্তায়
খক খক কাশে, তদুপরি
পৃথিবী নির্বিকার, গোলাকার
প্রাচুর্য উৎপন্ন করে যুবকের হাত
এতো প্রাচুর্য নিয়ে এতোটা কাঁতর, পুরুষ!
তার পিঠের নীচে দুর্ভাগ্য
অন্বেষণের দাগ ফেলে রাখে।
প্রকাশ্যে ও গোপনে।