দুঃখ বাজাতে বাজাতে আমিও চলে যাই পরিব্রাজনে

বিশ্বজিৎ লায়েক

৫।
দাঁড়াও। জেনে নাও কার সঙ্গে কতটা খেলতে হয়
কার সঙ্গে তুমি মিশিয়েছিলে পোড়াতে আসা তাপ
আলো নেই, আলো নেই বলে চিৎকার করো
কান্না কি এতই বোকা, আঁধারে নির্বাক

ডাকছে সকাল। ডানা খুলে চল রেখে আসি পাতালের ঘুম
পানশালা আর কতদূর? যাবে? আমাদের এই ভাগাভাগি খেলা
নাও, আমাকে নাও।

এটা কি তোমার ছিল নুনে হলুদে মেশানো দুপুর

রাস্তা এ টুকুই দূরে পড়ে আছে ভাঙা মন, দূরে পড়ে আছে পরিশ্রম
জনম-ভর দৌড়ে গেছি এক ভ্রান্তি ছুঁয়ে
অন্য ভুলে, অন্য মশগুলে

কাকে ত্যাগ করে কাকে নিয়ে যাবে
এবার আমাকে বানাও ভুল, ধ্বংস করো মাটির পুতুল

৬।
শীত ঢুকছে, এসো, আমরাও কানামাছি খেলি আদিম বর্বরতায়
খেলতে খেলতে সামান্য বদ রক্ত, আহা পড়ুক না শোক-তাপ
নির্জনে লালচে লাভা
এসো, আমরা আবার সহস্র আদর খেলি

কী বলব? কার সঙ্গে কী খেলা, কার সঙ্গে কী বেসামাল জ্বর
বলছো দিন বড় বিশ্রী
তবু তার পাশে ফুটে আছে আদরের মেঘ, শরতের শালুক
হেরো জুয়াড়ির মতো বোবা রাত জ্বালিয়ে শান্তি দেবে তুমি
গভীর খিদের ভেতর সেঁকা মাংস ও রুটি
ঘনিষ্ট হও
জেনো অগ্রন্থিত মুদ্রা নয়, বশীভূত এই সূচ ও খিদে প্রকৃত ঘাতক

৭।
কোথায় কী রেখেছি গাঁজার পুড়িয়া, তামাকু খোয়াড়

তার হাতে কি ছিল না ঘরের চাবি গড়িয়ে নামল এতো আঁধার
নুয়ে পড়ে আছে তার সমস্ত প্রেম ও ধোঁয়া

জলের মতন এখন মিথ্যে প্রস্তুতি, মিথ্যে সুখ, মিথ্যে অসুখ
বয়ে যাচ্ছে ছায়া মানুষের কথা ও গান
আমাকে পোড়াও, আমাকে পোড়াও

হাত কি পৌঁছবে সেখানে, ঝুঁকে পড়ার আগেই বললে
কিচ্ছু হবে না, দেখো লিঙ্গ ঠিক পৌঁছে যাবে

কাকে কী বলব! সমস্ত অসুখ এখন আমারই শরীরের অন্তিম ভাপ
শুঁকে নিচ্ছি বুনোগন্ধ আর আদরের দোষ


কুহকিনী আমাকে জাগাও, মারো, পোড়াও, খাও
দুঃখ বাজাতে বাজাতে আমিও পরিব্রাজনে চলে যাই