আলোমানুষ ও আগুনের লোককথা

প্রবুদ্ধ ঘোষ

মানুষের খোলস পড়ে থাকছে পাশে। একেকটা খোলস থেকে একেকটা সাপ বেরিয়ে আসছে। হিসহিস করতে করতে তারা ঘিরে ফেলছে সেই এলাকা যেখানে অমৃতভাণ্ড রাখা আছে। প্রতিটা সাপের বিষদাঁত নীল হয়ে আছে। বড় বড় চেরা জিভ ক্রমশ লম্বা হয়ে লকলক করছে। প্রতিটা সাপের গায়ে চাকা চাকা, প্রতিটি চাকার ভিতরে চব্বিশটি দণ্ড, সেগুলোও বিষে নীল হয়ে আছে। অমৃতভাণ্ডের এলাকা ঘিরে ধরে সাপেরা হিংস্রগতিতে এগিয়ে আসছে।

তখন খেতে বসেছিল আলো মানুষেরা। জনপদে সারাদিন কাটিয়ে এসেছে কথায় হাসিতে। দেখেছে তাদেরই জনপদ আপাততঃ পাতলা খুশিতে ভরে আছে। আসছে বর্ষার মরসুম। ভরা বর্ষা। এখন কচি সবুজে ছেয়ে আছে বনভূমি, সাজিয়ে নেওয়া বাসযোগ্য এলাকা। ভীষণ রোদের দিন ক্ষয়ে এলে বৃষ্টির জল। জনপদে খুশির কারণ বিয়ে। বিস্তৃত জনপদের একটি গ্রামের যুবকের সঙ্গে পাশের গ্রামের যুবতীর বিয়ে। বহু মাস আলাপচারিতা। মাঝে ইন্দ্রাবতী নদীর বহমান স্রোত। সে নদীতে জল সইতে গেছে আলোমানুষেরা। আজ জনপদ সেজে উঠেছিল, আজ জনপদে বৃষ্টির গান হয়েছে, মিলনের গান হয়েছে। নদীর পাড়ে আলো দিতে গেছে আলো মানুষেরা। আগামিকাল এই নদীতেই ভেসে উঠবে দশজন আলোমানুষের লাশ, নদীর ধারে শটীবনে ছায়া পড়বে আরো ঊনত্রিশ জন আলোমানুষের দেহের, ছড়িয়ে ছিটিয়ে।


বহু বছর পরে কোনো এক এপ্রিলের দুপুরে নেড়া প্রান্তরে এসে দাঁড়াবে অভিমন্যু। তখন আকাশ থেকে রোদের মতো আগুন নেমে আসছে। খালের জলের মতো ফুটন্ত বাষ্প গড়িয়ে যাচ্ছে। দূরের খাদান থেকে ওঠানো হচ্ছে টন টন আকরিক। এখানে কোথাও কোনও গাছ নেই আর। কোনও নদী নেই। অভিমন্যু পাখি দেখেনি কোনওদিন। গাছ, নদী, পাখি শব্দগুলো শিখেছে দু’একটা টিঁকে থাকা পুরনো ঘরের দেয়ালের গা থেকে। একটা পোড়ো বাড়ির দেয়ালে লাগানো কালো পাথরের বোর্ডে খোদাই করা দু-চারটে শব্দ। অভিমন্যু দেখছে আগুন লেগে গেছে রাস্তার মতো ঢেলে দেওয়া পিচপথের উপর। অভিমন্যু দেখছে সেই আগুনলাগা রাস্তা দিয়ে লরি চলে যাচ্ছে, অনেক চাকাওলা ট্রাক চলে যাচ্ছে; আর, তাদের পেটের ভেতরে ভেতরে ভরে নিয়ে যাচ্ছে আকরিক। অভিমন্যুকে এই ভীষণ নেড়া প্রান্তরে নিয়ে এসেছিল ওর মা। দেখিয়েছিল ওই ফুটন্ত বাষ্পের মতো খালে অনেক মানুষের লাশ ভেসে উঠেছিল। ওই আগুনলাগা রাস্তা দিয়ে হাত-পা বেঁধে বাঁশের খুঁটোয় ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ঝাঁঝরা অনেক দেহ। অভিমন্যুর মা দেখিয়েছিল গাছগুলোকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছিল আর প্রতিটি গাছের প্রতিটি ডালে একজন আলোমানুষের দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। অভিমন্যুর মা এসব বলছিল আর যোনি থেকে একের পর এক পাথর বের করছিল; কারণ, জগদলপুর থানায় তার যোনিতে পাথর ঢোকানো হয়েছিল। অভিমন্যু সেই প্রথম শুনেছিল মানুষের খোলস ছেড়ে সাপেরা বেরিয়ে আসে। তাদের গায়ে চাকা চাকা দাগ, প্রতিটি চাকার ভেতরে চব্বিশটি দণ্ড আঁকা। তাদের বড় বড় বিষদাঁত আর চেরা জিভ থেকে ব্রাশ ফায়ারের মতো ছোবল আছড়ে পড়ে। অভিমন্যু দেখেছিল তার মাকে খাদান থেকে তোলা হচ্ছে বক্সাইটের সঙ্গে, কয়লার সঙ্গে। তারপর তার মাকে কেটে ছড়িয়ে অনেকগুলো ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অমৃতভাণ্ড ঘিরে সাপ আর আলোমানুষের কথা জেনেছিল অভিমন্যু বহু বছর পরে, মৃত বরফের মতো ঠাণ্ডা অথচ ঝলসানো গরমের মতো আগুনে প্রান্তরে দাঁড়িয়ে।


আলোমানুষেরা নাচ জানে, তারা গান জানে। একটি গ্রামের সঙ্গে অন্য গ্রামের বিয়ের উৎসব। পাতলা খুশির হাওয়া ঊষ্ণ ওমের মতো লেগে আছে শরীরে সবার। অথচ মাথায় যুদ্ধমেঘ। যেকোনও সময় সেই মেঘ ভেঙ্গে পড়তেই পারে, যেকোনও সময় মেঘের আড়াল থেকে দড়ি বেয়ে বেয়ে নেমে পড়তেই পারে একের পর এক তীব্র বিষধর সাপ, নিঃশব্দে। সাজানো জনপদ তছনছ করে দিতে এর’ম বহু ঘটনা আগে ঘটেছে। আলোমানুষেরা হেরে গেছে, তাদের বন্দি করে নিয়ে গেছে জলহীন জমিহীন জঙ্গলহীন ঠাণ্ডা পাথরের বড় বড় জনপদে। কখনও আলোমানুষেরা ফিরিয়ে দিয়েছে আঘাত। দলবেঁধে আসা সেইসব বিষদাঁত ভেঙ্গে দিয়ে আবার সাজিয়ে নিয়েছে নিজেদের জনপদ, আবার ঘর তৈরি করেছে, স্কুল তৈরি করেছে; নতুন করে গান লিখেছে ‘গাঁও ছোড়াব নাহি জঙ্গল ছোড়াব নাহি মাএ মাটি ছোড়াব নাহি লড়াই ছোড়াব নাহি’ আর, নতুন করে ভেবে নিয়েছে অমৃতভাণ্ড আগলে রাখার কৌশল। জনপদে আলোমানুষেরা সুখী মুহূর্ত বানিয়ে নেয়। জঙ্গলে ঘেরা জমি থেকে অন্নগন্ধ আসে, জল ঘেরা জঙ্গল থেকে স্থিতিস্বাদ আসে। আর আসে অমৃতভাণ্ডের খোঁজ জেনে যাওয়া গায়ে চাকা চাকা দাগওয়ালা একইরকম বিষদাঁত চেরা জিভের একইরকম সাপমুখ।


ইতিহাস বইয়ের পাতা উড়তে থাকে। উড়ছিলই। ভূগোল বইয়ের মধ্যিখান থেকে কয়েকটা পাতা ছিঁড়ে যায়। ছিঁড়ে নেওয়া হয়। অর্থনীতির বইতে কিছু পাতা স্টেপল করে যোগ করা হয়। ক্রমশঃ পুরনো পাতাগুলোর লেখা ঝাপসা হতে থাকে আর নতুন পাতা স্টেপল করে করে, বইয়ের বাঁধাই আলগা হতে থাকে কিন্তু স্টেপল করা পাতার গাদা বাড়ে। অঙ্ক বইয়ের পাতায় আলোমানুষের সংখ্যা ও হিসহিসানি সাপের ব্যস্তানুপাতী হিসেবের অঙ্ক থাকে। সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে অঙ্কগুলো বদলে যাচ্ছে উদ্বৃত্ত শ্রম ও লুঠপাটের সংখ্যাতত্ত্বে। এইসব বইয়ের অক্ষর শব্দগুলো বাক্য হয়ে, বিবৃতি হয়ে ছড়িয়ে পড়বে- কৃতবর্মা তা জানে। কৃতবর্মা খনিজ খাদানগুলোর মালিকানা পেয়ে গেছে। কৃতবর্মা ওই ট্রাকগুলোর মালিক। কৃতবর্মা সেই রাস্তাগুলোর আগুন নেভাতে চায় কিন্তু নদীকে জাগাবার মন্ত্র জানে না। কৃতবর্মা চায় রাস্তার দু’পাশে গাছ লাগানো থাক আগের মতোই কিন্তু গাছ লাগানোর পদ্ধতি সে জানে না। সে শুধু হিসহিস করে চেরা জিভ বের করে আরও নতুন নতুন জনপদ ন্যাড়া করতে ছুটে যায়। তার গায়ের খোলস খসে গিয়ে সাপের মতো যে চাকা চাকা দাগ ফুটে ওঠে সেই চাকাগুলোর ভেতরে চব্বিশটা নীল দণ্ড গোনা যায় ঠিক। সে ডেকে এনেছে তারই মতো অন্যদের। বিষদাঁতে আরও বিষ ভরে নিয়ে চলে গেছে এক জনপদ থেকে অন্য জনপদে, তাদের সমবেত চলার শব্দে জেগে গেছে দেশ আর রাত হয়ে এসেছে। অমৃতভাণ্ড উজাড় করে নিয়ে যেতে চেয়েছে তারা। আলোমানুষদের লাশ ঝুলিয়ে দিয়েছে সমস্ত জনপদের প্রবেশদ্বারে। উজাড় জনপদের মধ্যে মধ্যে বসিয়ে রেখেছে বরফকল। বসিয়ে রেখেছে রক্ত ধোয়ার যন্ত্র। তৈরি করেছে খনিজের কারখানা। বিষদাঁত তৈরির গবেষণা বাড়িয়েছে। খাবারে বিষ মিশিয়ে অচেতন করে মাঝরাতে হত্যার সব নীতিই তার জানা। তারপরে সেই মৃতদের দেহের পাশে সাজিয়ে রাখা রাইফেল, সাজিয়ে রাখা রকেট লঞ্চার, সাংবাদিক সম্মেলন। সেখানে বাজানো হয় জাতীয়সঙ্গীত আর চেরা জিভের হিসহিসানির ফিউশন। কৃতবর্মার শরীরে সাপের ঠাণ্ডা রক্ত আর চামড়ার ওপরে শরীর জুড়ে একটা বিশাল চাকা, যার মধ্যে চব্বিশটা নীল দণ্ড।

আলোমানুষেরা বিয়ের উৎসব থেকে নিজেদের ঘরদোরে ফিরে এসেছিল রাতে। তাদের সঙ্গে ছিল যে খাবার, তাতে মেশানো হয়ে গেছিল বিষ। ইন্দ্রাবতী নদীর পাড়ে যে আলো জ্বলছিল, তারই আশেপাশে বসেছিল তারা; অমৃতভাণ্ড আগলে রাখার নিয়ত লড়াইয়ের পরবর্তী কৌশল ঠিক করছিল। খাবার খাচ্ছিল। কারণ, তারা জানে কিছুদিনের মধ্যেই ফের সেই ভয়ানক মেঘ থেকে তেরঙ্গা দড়ি বেয়ে বেয়ে নেমে আসতে পারে শত্রুরা। আলোমানুষরা যে স্কুলগুলো তৈরি করেছিল, তার একটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে ওরা কিছুদিন আগেই। আলোমানুষরা যে গ্রামে গিয়ে কিছুদিন জল-জমি-জঙ্গল আগলে রাখার কথা বলেছিল, সেই গ্রাম গুঁড়িয়ে দিয়েছে ওরা। প্রত্যাঘাত ফিরে পেয়েছিল সেই সব সাপ। কয়েকটার ছিল একশো মিটার লম্বা চেরা জিভ আর সেরকমই বড় বিষদাঁত- জিভ কেটে নিয়ে বিষদাঁত ভেঙ্গে দিয়েছিল আলোমানুষেরা। বহু প্রাচীন আত্মরক্ষা ও প্রত্যাঘাতের পদ্ধতি, ভারমার বন্দুক মিথের মতোই ঝলসে ওঠে। আবার ফিরে এসেছিল ওরা। আলোমানুষদের ফসলের জমির ওপর দিয়ে পঞ্চাশ চাকার ট্রাক চালিয়ে দিয়েছিল একটার পর একটা। সেই ট্রাকের ওপরে বসানো থাকত দু’টো সাঙ্ঘাতিক নল। একটা থেকে ব্রাশ ফায়ার হতো আর, অন্যটা থেকে শুকনো খাবার, কোল্ড ড্রিংক ছোঁড়া হতো। আলো মানুষেরা জানে, এ লড়াই বহু বছর আগের, এ লড়াই বহু বছর পরের। নিজেদের পুরাণে এ কথাই বলত তারা। মুখে মুখে যে কবিতা করত, তাতে মানুষের-খোলস-ছাড়া সাপ এবং আলো মানুষদের যুদ্ধের কথা ছড়িয়ে পড়ত। এসব ভয়ের দিন থাকে। উৎসবের দিন থাকে। উৎসবের রাতে নিজেদের আলোভূমিতে বসে খাবার খাচ্ছিল ওরা। কোড়ো সেদ্ধ নয়, উৎসবে মোটা লাল চালের ভাত আর মাংস। এর কিছুক্ষণ পরেই ঘুমিয়ে পড়বে আলো মানুষেরা, অচেতন। উৎসবের সময়, তাই জনপদে অন্য গ্রামের আলোমানুষেরা ব্যস্ত ছিল নিজেদের আয়োজনে। কেউ খেয়ালই করেনি একজন আলোমানুষের ভেক ধরে চেরা জিভ ও গায়ে চাকাদাগওয়ালা সাপ ঢুকে গেছে উৎসবের মধ্যে। খাবারে মিশিয়ে দিয়েছে বিষ।


ঊনচল্লিশটা থেঁৎলানো দেহ ঘিরে ছিল ইন্দ্রাবতী নদীকে। দশজন ভেসে যাচ্ছিল। ঊনত্রিশ জনের ঝাঁঝরা শরীর নদীর পাশে নরম ঘাসে-কাদায় মাখামাখি হয়ে পড়েছিল। দু’দিন পরে আরও আটটা শরীর এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে। সেই উৎসবের রাতে আলোমানুষেরা বিষে অচেতন হয়ে যেতেই জঙ্গলের অনেকগুলো গাছ নড়ে উঠেছিল। আড়াল থেকে বেরিয়ে এসেছিল তাদের খাকি আর জলপাই রঙের খোলস খসে পড়ে থেকেছিল পাশে; ঠাণ্ডা রক্ত, তেরঙে রাঙানো সারা গায়ে চাকা চাকা দাগ, প্রতিটি চাকায় ২৪টা দণ্ড। ব্রাশফায়ারে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল আলোমানুষেরা, ভেসে গেছিল ইন্দ্রাবতী নদীতে। নদীতে সারারাত শুধু লাশের গন্ধ, আলোমানুষের রক্তের ছাপ। সকালে ঝলসে উঠেছিল ফ্ল্যাশ, আলোয় ঝিকিয়ে উঠেছিল জড়ো করা দেহগুলোর পাশে রকেট লঞ্চার, ইনস্যাস, অ্যাসল্ট রাইফেল। সমস্ত লাশ স্তূপাকার করে তার ওপরে চেয়ার পেতে বসেছিল বিষদাঁত বের করে চেরা জিভ বের করে হাসছিল সাপেরা। তখন আবার মানুষের খোলস তাদের, খাকি আর জলপাই রঙ দিয়ে রাঙানো। ওরা বলেছিল অমৃতভাণ্ড ওদের জিভের নাগালে এসি গিয়েছে, আলোমানুষদের নিশ্চিহ্ন করতে আর সামান্যই বাকি। তারপরই আরও গভীর খাদান খুঁড়ে আরও আরও বক্সাইট, আকরিক, কয়লা তোলার কাজ শুরু হবে। তাদের গায়ের চাকা চাকা দাগগুলো তখন বীভৎস বড় হয়ে গেছে সেই ন্যাড়া প্রান্তর আকাশ ছেয়ে ফেলে চাকা ঘুরছে তাতে চব্বিশটা নীল দণ্ড, আটকে আছে তিন রঙের মধ্যে। আবহে জাতীয়সঙ্গীতের সঙ্গে সাপের বিষাক্ত হিসহিসানির ফিউশন।


আলোমানুষেরা যখন এর’ম বুট-থেঁৎলানো দেহ নিয়ে, উপড়ানো চোখ নিয়ে নিশ্চল শুয়ে ছিল তখন বৃষ্টি নেমেছিল সাঙ্ঘাতিক। এত বৃষ্টি যে খাকি আর জলপাই রঙ ধুয়ে যাচ্ছিল সাপের খোলস থেকে। এত ভীষণ বৃষ্টি যে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ কাজ করছিল না। দিনের পর দিন এর’ম ভয়ানক বৃষ্টি একটানা ঝরে পড়তে লাগল জনপদে। এই বৃষ্টি থামার পরেই আগুন জ্বলতে শুরু করেছিল। আগুনগুলো রাস্তার মতো, ফুটন্ত বাষ্প জমে জমে নদীর মতো, কোনও গাছ খুঁজে পাওয়া যায়নি কোথাও। তবে, সে অনেক পরের কথা। তার আগে এই সর্বগ্রাসী বৃষ্টিতে আলোমানুষেরা নিশ্চুপ শুয়েছিল। তারা জানতে পারেনি, তাদের খুবলানো চোখের ভেতরে, মুখের হাঁয়ের ভেতরে পিঁপড়েরা আশ্রয় নিয়েছে। সেই পিঁপড়েরা চোখ থেকে মুখ থেকে দেহের ভেতর থেকে কীসব নিয়ে যাচ্ছিল মাটির অনেক গভীরে। সুড়ঙ্গ ক’রে ক’রে অনেকদূর চলে যাচ্ছিল, জমিয়ে রাখছিল আলোমানুষদের দেহের টুকরো। তাদের ভারমার বন্দুকগুলো রয়ে গেছিল বড় বড় পাতার আড়ালে; বহু প্রাচীন এই অস্ত্র এই পদ্ধতি। অনেক যুগের প্রাচীন প্রবাদের মতো তাদের শরীর মিশে যেতে থাকল নদীতে মাটিতে মেঘে বৃষ্টিতে। কয়েক মাস পরে যখন বৃষ্টি থামল, তখন আলোমানুষদের দেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি কোথাও। অভিমন্যু যখন মায়ের সঙ্গে ওই ন্যাড়াপোড়া প্রান্তরে এসে দাঁড়াবে অনেক যুগ পরে, তখন এই সংলাপহীন বাস্তবগুলো লোকমুখে ফেরা কথকতা, মিথ্‌ হয়ে যাবে। অভিমন্যু খুঁজে পাবে আলোমানুষের আখ্যান। খুঁজে পাবে অমৃতভাণ্ড আর খনিজ আগলানোর নতুন কৌশল। যুদ্ধদিন জারি থাকবে ঠিক। আর, তখন ফের শুরু হবে আলোমানুষের এই গল্পটা।